| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অথঃপর আমি
পলি এবং ট্রিক্স শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে পলিটিক্স শব্দটি যদি গঠন করা যায় তাহলে এর অর্থ দাড়ায় বহু প্রকার শয়তানি বা ধান্ধাবাজী। আমাদের দেশে চলছেও তাই। অথচ এক আশ্চর্য রকমের সত্য কথা হলো যে আমার এই পলিটিক্স নিয়েই খেলতে ভালো লাগে।
রিংকি ও ইতি দু'বোন। আমার টিউশনি লাইফ শুরু ওদের দিয়ে এবং শেষ ও ওদের দিয়ে। দু'জনই একই শ্রেনীতে পড়তো। প্রচন্ড মেধাবী ও পড়ালেখার প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ। ফলে প্রতি ক্লাশেই ১জন প্রথম তো অন্যজন দ্বিতীয়। মাঝখানে হঠাৎ দূর্ঘটনা। অষ্টম শ্রেনীতে ওঠার পরই মা মারা যায়। স্বভাবতই বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের কারনে ওরা খুব অসহায় হয়ে পড়ে। কিন্তু ওদের অদম্য ইচ্ছেশক্তি ওদেরকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এস,এস,সি এবং এইচ, এস, সি তে এ+ পায়। রিংকি সাউথ-ইষ্ট ইউনিভার্সিটিতে ল তে ও ইতি ভর্তি হয় আইআইইউবিতে বিবিএ। ওরা যখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ছে তখন থেকেই টিউশনি করে নিজেদের পড়ার খরচ নিজেরাই মিটায়। এখনো ওদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্হখরচ ওদেরই যোগার করতে হয়। একজন গ্রামীনফোনে পার্ট টাইম চাকুরী করে আর অন্যজন টিউশনি ও কোচিং পড়িয়ে খরচ চালায়।
আমার চাচাতো বোন যখন দুই দুইবার মেডিকেলে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেলনা তখন সে মুসরে গেল। রুমের দড়জা বন্ধ করে শুধু কাঁদতে থাকতো। আমার কাকা কাকী কোন উপায় বের করতে পারলোনা। অবশেষে বাড়ির কিছু জমি ও কাকীর জমানো গহনা বিক্রি করে ওকে একটি প্রাইভেট মেডিকেলে ভর্তি করিয়ে দেয়। যদিও বোনটি আমার কাকা কাকীকে কথা দেয় তার টিউশন ফি সে নিজেই জোগার করবে। ঠিক তেমনি আমার বন্ধুর বড় ভাই যখন মারা যায় তখন আমার বন্ধুর হাত ধরে বলেছিন "আমার ছেলেটিকে ডাক্টার বানাইস"। প্রচন্ড মেধাবী সেই ভাতিজাটি মেডিকেলে চান্স পায়নি। আমার বন্ধু ঠিকই তাকে প্রাইভেটে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে।
একটি ছেলে/মেয়েকে মেডিকেলে পড়াতে নূন্যতম ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা লাগে। এছাড়াও বিবিএ পড়ার জন্য ৭ থেকে ১২ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। অভিবাবকরা এই অর্থ যোগান দিতে গিয়ে তার জীবনের সকল সুখ বিসর্জন দেয়। স্বভাবত কারনেই অভিভাবকগন এই আশা পোষণ করেন যে, সরকার মহোদয়গন অবশ্যই এই কাবুলিওয়ালাদের নিয়ন্ত্রন করবেন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সহজলভ্য করবেন। সকলের জন্য সমান শিক্ষা নিশ্চিত করবেন।
আমি মূলত: টিভি বা এর খবর খুব একটা দেখিনা। এখন সব টিভিই বিটিভি। তবুও গতকাল্য খাওয়ার সময় অর্থমন্ত্রীর দেয়া সংবাবিকদের সাথে কথোপকথোন চোখে পড়ল। হাস্যোজ্জল অর্থমন্ত্রী তার অভিজ্ঞতা এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়ে তার গবেষণার বর্ননা করতে লাগলেন। তিনি বললেন যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ালেখা করে তারা সমাজের উচ্চশ্রেনীর নাগরিক। এসব শিক্ষার্থিরা মাসে ৩০,০০০/- টাকা এবং দৈনিক গড়ে ১০০০/- করে খরচ করেন। তার থেকে তিনি মাত্র ৭৫ টাকা চেয়েছেন। এসময় তার মুখে স্বভাবসূলব হাসির চেয়ে উচ্চমাত্রার হাসিই চোখে পরে।
আমি সবিনয়ে জানতে চাই, মাননীয় অর্থমন্ত্রী এদেশের উচ্চবিত্তের কতজন এদেশে পড়ালেখা করে তার কি সঠিক কোন পরিসংখ্যান আপনার কাছে আছে? হয়তবা সর্বোচ্চ ৫ কি ৭ পারসেন্ট পাবেন। এর বেশী নয়। উচ্চবিত্তরা আপানাদের তৈরিকৃত কদর্য রাজনৈতিক সমাজে নিজের ছেলেমেয়েদের ভবিষত নষ্ট করতে চাননা। যারা মধ্যবিত্ত অথবা নিম্নমধ্যত্ত শ্রেনীর কিন্তু খায়েশ অনেক বেশী তারাই শুধু তাদের সন্তানদের অনন্যপায় হয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। মাননীয় অর্থমন্ত্রী মাত্র ৭৫ টাকা চাইলেন। যাকে ২০ - ২২ লক্ষ টাকা টিউশন ফি দিতে হবে সে মোট কত টাকা ভ্যাট দিবেন?
রিংকি - ইতির এই ভ্যাটের অতিরিক্ত অর্থ কোথা থেকে আসবে। অথবা আমার কাকা যিনি জমি বিক্রি করে মেয়ের পড়ার খরচ যোগাচ্ছেন তিনি এই টাকা কোথায় পাবেন অথবা আমার বন্ধুটি যে তার ভাতিজাকে পড়াতে গিয়ে এখনো বিয়ে করতে পারেননি তিনি এই অতিরিক্ত অর্থ কোথায় পাবেন মানীয় অর্থমন্ত্রী একটু বলবেন কি?
২|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৫
আমি আবুলের বাপ বলেছেন: জ্বি ভাই,সব ছাত্রদেরকে মালয়শিগামী ট্রলারে উঠিয়ে দিন,যাতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড,ইন্দোনেশিয়ায় গনকবর হতে পারে।তাহলেই সব ল্যাঠা চুকে যায়।
৩|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২২
বাতাস০০০১ বলেছেন: মালের মাথা গরম,, টাকা চাই শুধু টাকা চাই, টাকা ছাড়া কিছু নাই,,
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৪০
বিদ্রোহী সিপাহী বলেছেন: উনার নিজেরই (বাংলা) জ্ঞানের অভাব। জবাব দিতে পারবেন না!!!