| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাহবাগের বর্তমান অবস্থাকে মৌমাছির মৌচাকের সাথে তুলনা করা যায়। এই মৌচাকের দিকে সরকারী বা বেসরকারী- কোনো দলই ঢিল মারার সাহস করবে না। আর সরকার যদি এই ভুল করেও, তাহলে সরকার পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র, হোক তা আগামী নির্বাচনের সময়ে বা বর্তমানে।
এখন প্রশ্ন এই যে, তাহলে শাহবাগের এই আন্দোলনকারীদের মনে সরকারী, বেসরকারীসহ যেকোনো দলের সব রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধীদের নাম মুখে নিতে এত ভয় কেন!!?? এতে এটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে সরিষা ক্ষেতেই ভূত আছে! শাহবাগ আন্দোলনের ফলে বাংলা অভিধানে ইদানিং নতুন একটি শব্দ যোগ হয়েছে- ‘ছাগু’। আর এই শব্দটির প্রয়োগ শুরু হয়েছে যত্রতত্রভাবে। শুধুমাত্র যদি জামাতের রাজাকারদের ফাঁসী চান, তাহলেই আপনি বীর তরুণ প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি! কিন্তু সরকারী বা অন্যান্য দলের রাজাকারের ফাঁসী চাইলে বা তাদের ব্যাপারে মুখ খুললেন কি আপনি ‘ছাগু’ হয়ে গেলেন!!
রাজাকারদের নামের সাথে যোগ হয়েছে কিছু দৈনিক সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির নাম। সাধারণ মানুষকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যেকোনোভাবে যুক্ত না হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। সোজা বাংলায় জামাত-শিবিরের দ্বারা পরিচালিত যেকোনো ধরণের সংগঠন বর্জন করার জন্য ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং এই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্নভাবে প্রচার চালানোও হচ্ছে মানুষকে সচেতন করতে। খুবই ভালো উদ্যোগরে ভাই!! রাজাকারদের প্রতিষ্ঠান বলে কথা!!
কিন্তু এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করার আগে একটু ভেবে দেখেন, যেখানে আমাদের দেশের স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে একজন বিশাল মাপের রাজাকার, সেখানে আমরা সবাই কি রাজাকার না!!?? আমরাই তো নির্বাচনের মাধ্যমে তাকে লাইমলাইটে এনেছি!! বা তিনি যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে বহাল হলেন, তখন কই, আমাদের ‘সচেতন সাধারণ নাগরিক’দের কাউকে তো মুখ খুলতে দেখা যায়নি!! একইভাবে, দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন অথচ একাত্তরে রাজাকারের ভূমিকা পালন করেছেন এইরকম কিছু মানুষ, তথা যুদ্ধাপরাধীরা, বর্তমানে বিশেষ ব্যক্তিবর্গের পদমর্যাদা পাচ্ছেন!!
তাই অনুরোধ থাকলো, প্রকৃত রাজাকারদের লিস্ট লম্বা করুন। আর ক্ষেতের ভূতেরা যদি তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে খেলা করতেই চান, তবে ভালো কথা, এই প্রজন্ম পলিটিক্স খুব একটা ভালো বোঝে না বা বোঝেই না বলে মনে করবেন না যে তারা ঘাস খায়!! যে তরুণেরা আপনাদের ‘হিরো’ বানিয়েছে তারাই আপনাদের ছুঁড়ে ফেলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। অপেক্ষা শুধুমাত্র সঠিক সময়ের।
জামাতের রাজনীতি বন্ধ করতে চান, করুন। কিন্তু তাই বলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের নামে ইসলামী মূল্যবোধ নষ্ট করার চিন্তা না করাই ভালো। শাহবাগ আন্দোলনে অংশ নেয়া জনগণের মধ্যে নাস্তিকরা যেমন আছেন, তেমনি অন্যান্য ধর্মের মানুষও আছেন যার একটা বড় অংশ হলো মুসলমান।
তাই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর জামাতের রাজনীতি গুলিয়ে না ফেলাই মঙ্গল।
©somewhere in net ltd.