| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লোকাল বাসের যাত্রী রাব্বি...
প্রতিদিন একই রুটে চলাফেরা করে..
সায়েন্সের ছাত্র সে।গ্রাম থেকে এসেছে।গ্রামের স্কুল থেকে একমাত্র সে-ই গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে শহরের স্বনামধন্য কলেজে ভর্তি হওয়ার চান্স পেয়েছে।তার অন্য বন্ধুরা হয় গ্রামের কলেজে নয়তো পড়ালেখাই ছেড়ে দিয়েছে।
নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে সে।কষ্ট করে হলেও একটা ব্যাচলর রুমে ভাড়া থাকছে।
সকাল বিকাল দুবার বাসে করে প্রাইভেট পড়তে যেতে হয় তার।বাড়ি থেকে যে টাকা দেয় মাসের শেষে দেখা যায় তাতেও কুলোচ্ছেনা...
হরতাল-অবরোধ দিলে তার চিন্তার শেষ থাকেনা।পাঁচ টাকার ভাড়া পনের টাকা দিয়ে গাড়িতে চড়তে হয়।মাসের শেষে তখন প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হয়...
প্রতিদিন প্রাইভেট-কলেজ-প্র্যাক্টিকেলের মাঝে নিজের জন্য একটুও টাইম খুঁজে পায়না রাব্বি...
দেশে যে অবস্থা তৈরী হয়েছে তাতে কবে?কোথায়?কি? হয় বলা যায়না।
তাই প্রাইভেট পড়ে সোজা রুমে চলে আসে...
বৃত্তির টাকায় কেনা EDGE এনাবল ফোনটা দিয়ে নতুন ফেসবুক একাউন্ট খুলেছে রাব্বি।এর মধ্যে অনেক ফ্রেন্ডও জুটে গেছে তার।একটা কলেজ গ্রুপে এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয়।
মেয়েটির নাম মিতা।রাব্বির ক্লাসেরই।কিন্তু অন্য কলেজে।তাই এখনো দেখা হয়নি তাদের।সেও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।তেমন একটা উচ্চাবিলাসী না...
সময় পেলেই তার সাথে চ্যাটে মগ্ন থাকে রাব্বি।ফেসবুকের নীল দুনিয়া ভালই লাগে তার...
চ্যাট করতে করতে একটা সময় তারা দুজনই দুর্বল হয়ে পড়ে একে অপরের প্রতি..কিন্তু তেমন কিছু বলেনা কেউ কাউকে।হয় ফোন নাম্বার দেয়া নেয়াও।
মিতা মেয়েটা খুব কেয়ার করে রাব্বির।খেয়েছে কিনা,প্রাইভেট পড়েছে কিনা,বাড়ির সাথে কথা হয়েছে কিনা ইত্যাদি...জিজ্ঞাসা করে রাব্বির খোঁজখবর নেয়।
একদিন দেখা করার সিদ্ধান্ত নিল তারা...
রাব্বি খুব এক্সাইটেড।এই প্রথম কোন মেয়ের সাথে দেখা করবে।সে ভেবেও নিয়েছে মিতা দেখতে ভাল হলে আজই প্রপোজ করবে সে...
ব্যাগ থেকে নীল রংয়ের ইস্ত্রি দেয়া কাপড়টা বের করে পড়ল সে।মিতার পছন্দের রং নীল ..
মেইনরোডে এসে গাড়িতে উঠল সে।আজ প্রতিদিনকার গাড়ি নয়,অন্য রুটের গাড়ি।একটা পার্কে দেখা করবে তারা।গাড়িটা পার্কের পাশ দিয়েই যায়...
এ রোডে সচারচর আসা হয়না রাব্বির।শুনেছে এই রোডে নাকি মারামারি বেশি হয়...
এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ গাড়িটি ঘুরে গেল।বাইরে চিল্লাচিল্লি,ধুমধাম আওয়াজ...
কিছু খেয়াল করার আগেই গাড়িতে আগুন,সবাই হুডোহুডি করছে,নিজের প্রাণটা বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।
রাব্বির যখন জ্ঞান ফিরল তখন সে হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে আছে।হাতে,পায়ে,মাথায় প্রায় পুরো শরীরে ব্যান্ডেজ।
হাসপাতালে ভর্তির ২য় দিন মিতা আসে তাকে দেখতে।একটু চোখ খুলে রাব্বি দেখতে পায় মিতা কাঁদছে।
রাব্বি চোখের জল এড়িয়ে,মুচকি হাসার চেষ্টা করল আর বলল,"ভাল থাকিও..."
এর পরের দিনই রাব্বিকে রিলিজ দিয়ে দিল ডাক্তার।তাকে নেয়ার জন্য আনা হল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাশের গাড়ি...
©somewhere in net ltd.