নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মনে করো জুতো হাটছে,পা রয়েছে স্থীর

এইচ তালুকদার

I am drunk,officer.punish me when I am sober.(Zahir ud din Muhammad,Babur)

এইচ তালুকদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

সম্রাট আকবর বনাম রানা প্রতাপ এর যুদ্ধ যা সেই ১৫৭৯ থেকে আজ অবধি চলছে।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৪৯


সম্রাট জাহাঙ্গীরের মালিক আম্বর বধ
এই প্রবন্ধটি মনিমুগ্ধ এস শর্মা লিখিত,পার্থিয়ান শট ব্লগ ও টাইমস অফ ইন্ডিয়ায়(২০১৬) প্রকাশিত ‘আকবর ওয়াজ ট্রু লি গ্রেট প্রতাপ অনলি আ ওয়ারিয়র’শীর্ষক প্রবন্ধের আংশিক অনুবাদ।অনুবাদক আমি নিজেই।

মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের একটা পৃথিবী বিখ্যাত ‘ড্রিম পেইন্টিং’ আছে,যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি তার প্রবল শত্রু মালিক আম্বরের বর্শায় বিদ্ধ মাথায় তীর নিক্ষেপে উদ্দত হয়েছেন।যদিও বাস্তবে প্রচন্ড রকমের ব্যায়বহুল,ক্লান্তিকর দীর্ঘ অভিযান চালিয়েও সম্রাট নিজের জীবদ্দশায় মালিক অম্বরকে হারাতে পারেন নি,পুরন হয় নি সম্রাটের আহমেদ নগর দখলের স্বপ্ন।তাই নিজের ফ্যান্টাসিতে মালিক আম্বরকে অপমান করেই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।সম্রাট জাহাঙ্গীরের মতই বিজেপির স্বরাষ্ট্রমত্রী ও সঙ্ঘপরিবারের কিছু নেতাও তাদের অতীতের কিছু শত্রুকে পদদলিত করার ফ্যান্টাসিতে ভুগছে।
গত বছর(২০১৫)সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাতি আওরংজেবের নামের দিল্লির একটি সড়কের নাম মুছে ফেলা হয়েছে এই বছরের(২০১৬) টার্গেট জাহাঙ্গীরের পিতা বাদশা আকবর,আর দাবিটা জানিয়েছেন স্টেট এন্ড এক্সটারনাল এফেয়ার মন্ত্রী ভি কে সিং স্বয়ং।তার মতে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে নয় বরং একজন রাজপুত যোদ্ধাকে সন্মান জানাতেই তার এই দাবি,সিং নিজেই একজন রাজপুত এবং রাজপুত রেজিমেন্ট থেকেই ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান হয়েছিলেন তাই একজন রাজপুত যোদ্ধাকে সন্মান জানানোর তার ইচ্ছা কে আপাত দৃষ্টিতে নির্দোষ মনে হলেও এটাও মাথায় রাখতে হবে যে তিনি ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে অসাম্প্রদায়িক সেনাবাহিনীটির নেতৃত্ব দিয়েছেন তাই এটা হজম করতে অসুবিধা হয় যে তিনি একজন নিচুমনের সাম্রদায়িক ও জাতিভেদ প্রথায় বিশ্বাসী রাজার গুন গাইছেন এমন একজন সম্রাটের বিপক্ষে যিনি জাতিভেদ আর সাম্প্রদায়িকতার উর্ধে উঠে একটা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

সিং হয়তো ভুলে গেছেন আকবর রাজপুতদের মুঘল সম্রাজ্যের প্রাশাসনিক ও সামরিক বাহিনীর অংশ করে নেওয়ার আগ পর্্যকন্ত সর্বভারতীয় রাজনিতীতে তাদের খুব বেশি প্রভাব কখনোই ছিলো না।রাজনীতির এই অবস্থাকে কোন সিনেমার সাথে তুলনা করলে রাজপুতদের ভুমিকা অতিথী শীল্পীর ভুমিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।যদিও ইতিহাসজুড়েই রাজপুতানা অসাধারন সব যোদ্ধারাজা তৈরী করে গেছে যেমন মহারানা কুম্ভা,রানা সাঙ্গা,নিজের নামের মতই যিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছে।



খানুয়ার যুদ্ধ
জনৈক বাবুরের হাতে রানা সাঙ্গার ভারত দখলের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায় যখন খানুয়ার যুদ্ধে সাঙ্গার নেতৃত্বাধীন ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কোয়ালিশন সেনাবাহিনীকে বাবুরের ছোট্ট মুঘল বাহিনী ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেয়,এই যুদ্ধে সাঙ্গার হাতে ছিলো রাজপুত আফগান মিলিয়ে প্রায় ৫৭০০০ সৈন্য অন্যদিকে বাবুরের সঙ্গে ছিলো মাত্র ৮০০০ সৈন্য এদের সবাইকেই বাবুর সেই মধ্য এশিয়া থেকে নিয়ে এসেছিলেন।শুধু যুদ্ধ নয় বাবুর এবং বাবুরের সন্তান হুমায়ুন উভয়েই বহু রাজপুতের হৃদয় ও জিতে নেন যেমন গোয়ালিওরের রাজপুত রাজা তার পরিবারের সন্মান তার অধীনস্ত সৈন্যদের জীবন রক্ষা করায় তরুন শাহজাদা হুমায়ুন কে কোহ-ই-নুর হীরা উপহার দেন।হুমায়ুনের রাজপুত সম্পর্কের এটা ছিলো কেবল শুরু।
কয়েকবছর পরই হুমায়ুন এর প্রথম রাজত্বকালে মন্দ্রায়ালের যুদ্ধে আমের এর রাজপুত রাজা পুর্নমল মুঘল সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করার সময় প্রান দেন,একবছর পরেই রানা সাঙ্গার রাজধানী চিতোর বাহাদুর শাহ কর্তিক আক্রান্ত হলে সাঙ্গার বিধবা স্ত্রী হুমায়ুন কে ভাই ডেকে পত্র লিখে সাহায্য চান,হুমায়ুন সসৈন্য ছুটে এলেও রানী কে বাচাতে পারেননি।তবে বাহাদুর শাহ কে হারিয়ে এর প্রতিশোধ ঠিকই নিয়েছিলেন শুধু তাই নয় সাঙ্গার শিশুপুত্র রানা বিক্রম সিংকেও সিংহাসনে বসান স্বয়ং হুমায়ুন।রাজপুতরাও হুমায়ুনের বদান্যতার প্রতিদান ভালোভাবেই দিয়েছে।রাজ্য হারিয়ে সম্রাট হুমায়ুন যখন সিন্ধের মরুভুমিতে আসহায় হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন উমারকোটের রাজপুত রাজা,এবং এই রাজার আশ্রয়েই হুমায়ুনের ইরানী স্ত্রী হামিদা বানুর গর্ভে জন্ম হয় ভুবন বিখ্যাত আকবর-ই-আজম এর।


আকবর দি গ্রেট
যদিও কুসংস্কার মনে হতে পারে তবে আকবরের জন্মস্থানই হয়তো তার মনে অসাম্প্রদায়িকতার বীজ বুনে দিয়েছিলো তবে আকবরের রাজত্ব কালে চলমান হিন্দু ভক্তি আন্দোলন ও প্রেম মার্গী সুফি আন্দোলনও যে তাকে বিপুলভাবে প্রাভাবিত করেছিলো তা বোঝাই যায়।আর আকবরের এই অসাম্প্রদাইয়িক চেতনার চুড়ান্ত প্রকাশ আমরা দেখি ১৫৬৩ সালে তীর্থ যাত্রা কর এবং এর এক বছর পর জিজিয়া কর সম্পুর্ন্রুপে বিলোপ করার মাদ্ধমে।যা হিন্দুদের সম্রাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে সুফলভোগীতে পরিনত করে।
জেনারেল সিং এবং তার রাজনৈতিক দল সবসময়ই বিশ্বাস করে রানা প্রতাপ আকবরের সমতুল্য এমনকি আকবরের চেয়েও বড় বীরপুরুষ,এবং তাদের এই বিশ্বাস এর একমাত্র মাপকাঠি রানা প্রতাপ এর দশকব্যপী চালানো গেরিলা যুদ্ধ।যদিও মুঘল বিরুদ্ধে এত দীর্ঘদীন ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আসলেই অনেক বীরত্বের নিদর্শন তবে ব্রিটীশদের বিরুদ্ধে একই রকম ঐতিহাসিক যুদ্ধ চালিয়েও টিপু সুলতান বিজেপি বা জেনারেল সিং দের কাছে নায়ক হতে পারেন নি।

কিন্তু যুদ্ধজয়ই কি শ্রেষ্ঠত্ব পরিমাপের একমাত্র মাপকাঠি? এর উত্তর হলো না। কারন যুদ্ধজয় কোন শাসকের সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। বরং যুদ্ধ নয় বরং যুদ্ধের বাইরে একজন শাসক কি করেছেন সেটাই তার সাফল্যের মাপকাঠি। আর এজন্যেই সম্রাট অশোক কে গ্রেট বলে ডাকা হয় যদিও তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে আকবর এবং আওরংজেব এর সন্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশী মানুষ মেরেছেন।
কিন্তু আমদের আলোচ্য মহারানা প্রতাপ আসলে কেমন ছিলেন? লেখক জেমস টোড এর এ্যন্টিকুইটিস অফ রাজপুতানা ভলিউম ওয়ান আমাদের বলছে রাজা মান সিং এবং মহারানা প্রতাপ এর মদ্ধে অনুষ্ঠিত একটা কুটনৈতিক আলোচনার কাহিনী যেখানে আমরা দেখতে পাই মহারানা প্রতাপ এর জন্য দস্তরখান বিছানো হলেও তিনি তার অতিথীর সাথে একসাথে খাবার গ্রহনে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন কারন তার অতিথী রাজপুত টি একজন তুর্কির কাছে তার বোনের বিয়ে দিয়েছে(রাজা মান সিং এর ফুপু সম্রাট আকবরের স্ত্রী যোধাবাই যার সন্তান পরবর্তী সম্রাট জাহাঙ্গীর,আবার মান সিং এর বোন শাহ বেগম এর বিয়ে হয় জাহাঙ্গীর এর সঙ্গে) এই নিয়ে বচসা শুরু হয় এবং এবং মান সিং রানা প্রতাপ এর গর্ব চুরমার করে দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেন।এর জবাবে রানা প্রতাপ যুদ্ধের সময় তার ফুপা(সম্রাট আকবর) কেও নিয়ে আসতে বলেন। এর পরে আমরা জানতে পারি প্রচন্ড অপমানিত হয়ে মান সিং ঐ স্থান ত্যাগ করলে মান সিং এর এর বসার জায়গার মাটি কুপিয়ে উঠিয়ে ফেলা হয় তার স্পর্শ করা সমস্ত বাসন কোশন ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং গঙ্গাজল ছিটিয়ে ঐ স্থান পবিত্র করা হয় এবং মান সিং এর উপস্থিতির সময়ে মহারানা প্রতাপ ও তার সঙ্গীদের শরীরে যে পোশাক ছিলো তাও আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয় কারন ওগুলো মানসিং এর উপস্থিতির কারনে অপবিত্র হয়ে গেছিলো।


রানা প্রতাপ
এই ঘটনা রানা প্রতাপ এর নিচু মন এবং সংকীর্ন চিন্তা ভাবনার পরিচয় যা তাকে সম্রাট আকবর এর সম্পুর্ন বিপরীতে দাড় করিয়ে দেয়।আকবর যে কোন সংকীর্নতার বিরুদ্ধে ছিলেন জাতি ধর্ম বর্নের উর্ধে উঠে তিনি সবসময় মানুষের মেরিট বা গুন এর দিকটিই দেখেছেন তাই মান সিং এর মত হিন্দু রাজপুতকেও তিনি মির্জা(যা শুধুমাত্র তৈমুর এর বংশধরদের উপাধি)উপাধি দিয়েছেন। মান সিং কে তিনি ফারজান্দ(পুত্র) বলে ডাকতেন।পরবর্তীতে মান সিং হলদিঘাটির যুদ্ধে রানা প্রতাপকে পরাজিত করেন এবং এই বিজয় এতটাই ফলপ্রসু ছিলো যে মুঘলদের হাতে ধরা না পড়লেও রানা প্রতাপকে বহুবছর পাহাড়ে পাহাড়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে।

আকবর যেখানে চরম বিদ্রোহীদের ও ক্ষমা করে দিতেন(বৈরাম খান, এবং সৎ ভাই মির্জা হাকিম এমনকি পুত্র জাহাঙ্গীরের বিদ্রোহের অপরাধও তিনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, এমনকি লেখক বাদাউনি এবং নকশবন্দি পীর খাজা বাকি বিল্লাহ তার উদার ধর্মমতের কারনে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করলেও তাদের কোনরকন অত্যাচার বা নির্্যা তনের শিকার হতে হয় নি ) রানা প্রতাপ সেখানে ত্রাস কেই ক্ষমতা জাহির করার একমাত্র উপায় ভাবতেন, হলদিঘাটির যুদ্ধে পরাজয়ের পর রানা প্রতাপ যখন পাহাড়ে পালিয়ে বেরাচ্ছিলেন তখন তার সঙ্গী সাথী এবং চাকরদের প্রতি চরম নির্দেশনা ছিলো যে তারা পাহাড় থেকে নিচে নামতে পারবে না। রানা প্রতাপ এর নিজ ছাগলের পাল এর রাখাল এই নির্দেশনা কিছু সময়ের জন্য অমান্য করে কারন পাহাড়ে ছাগলের খাবার জন্য পর্্যাএপ্ত ঘাস হয় না এবং খাবারের অভাবে প্রানীগুলো ধুকে ধুকে মারা যাচ্ছিলো। তাই ওই রাখাল পাহাড়ের ঠিক নিচেই গজিয়ে ওঠা ঘাস খাওয়ানোর জন্য প্রানী গুলোকে কিছু সময়ের জন্য পাহাড়ের নিচে নিয়ে যায় এবং রানা প্রতাপ এর সেন্ট্রিদের হাতে ধরা পরে এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় অত্যাচার করে তাকে হত্যা করা হয়।শুধু তাই নয় তার মৃতদেহ একটা গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয় অন্য সবাইকে ভয় দেখানোর জন্য।

বিজেপির ঘার ওয়াপসি সারা বিশ্বে ভারতকে অসহিষনু রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে বিজেপির কর্তা ব্যাক্তিরা হয়তো এটা জেনে চমকে ঊঠবে যে এই ঘার ওয়াপসি সুচনা করেছিলেন সম্রাট আকবর। সম্রাট এক ফরমানের মাদ্ধমে জোরপুর্বক ধর্মান্তরিত সকল হিন্দু কে তাদের নিজের ধর্মে ফেরত যাবার সুযোগ করে দেন এবং এর জন্য যেন কাউকে হেনস্থার শিকার হতে না হয় সেটাও তিনি নিশ্চিত করেছিলেন।জিজিয়া কর এর বিলোপ এবং পরধর্ম সহিষ্ণুতা সম্রাট আকবর কে তার হিন্দু প্রজাদের কাছে আপন করে তোলে এমনকি অনেক হিন্দু তো তাকে বিষ্ণুর অবতার ভেবে নেয়। তার স্তুতি করে রচিত গান গুলো রাজপুতানার গ্রাম্য কবিদের মুখে মুখে ফিরতে থাকে।
যদিও হোয়াটস এ্যপ ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েটরা আকবরের নেয়া সমস্ত পদক্ষেপকেই রাজনৈতিক চাল বলে বাতিল করে দিতে চান,হয়তো আকবরের অনেক পদক্ষেপই হয়তো তাকে রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছে কিন্তু তিনি তার প্রচার করা মতবাদ ব্যাক্তিজীবনেও পালন করে গেছেন। যেখানে বর্তমান রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকারা নির্বাচনের সময় নাগাল্যান্ডের ঐতিহ্য বাহী ধনেশ পাখির পালক দিয়ে তৈরী মুকুট এবং পাঞ্জাবী শিখদের দাস্তার মাথায় পড়ে মুখে ধর্ম নিরপেক্ষতা কথা বললেও মুসলিমদের টুপি পড়তে বেমালুম ভুলে যান,
আকবরের বৈপ্লবিক চিন্তাধারার মুল উৎস সুলহ-ই-কুল নামক এক ধারনা যা চিশতি তরিকার সুফি সাধক রা প্রচার করতেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মদ্ধে শান্তিপুর্ন সহাবস্থান ছিলো এই মতবাদের মুল উদ্দ্যেশ্য। আমাদের সময়ের সমাজবিজ্ঞানীরা ও এই ব্যাপারে একমত হবেন যে এমনকি এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা আকবরের রাজত্ব কালের সামাজিকসহাবস্থান উদাহরন কে পার হয়ে যেতে পারি নি।
যদিও বিজেপি মুখপাত্র শাইনা এনসি সম্প্রতি এক টুইট বার্তায় দাবি করেছেন আকবরের সুলহ-ই-কুল এবং হিটলারের ফাইনাল সলিউশন আসলে একই। যদিও নেটিজেনদের হাস্যরস সৃষ্টি এবং ডানপন্থিদের বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াপনা প্রকাশ করা ছাড়া এই টূইট কোন কাজে আসে নি।
স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে বিজেপির রাজপুত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার মুঘলদের ইতিহাস থেকেই মুছে ফেলতে চাইছে, এটা খুবই কৌতুক কর যে এরা সেই রাজপুত যাদের প্রত্যক্ষ সাহায্যেই মুঘল শাসন ভারতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিনিময়ে রাজপুতরা ভারতের রাজনিতীর কেন্দ্রে ঊঠে আসে।

মন্তব্য ২২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৩৫

অধীতি বলেছেন: অনেক তথ্যহুল আলোচনা। ধন্যবাদ আপনাকে। এখন অসাম্প্রদায়িকতা নেই।মুসলমানদের মাঝেও নেই। মুঘল শাসকদের সময়ের ভারতে বর্তমান মানসিকতা থাকলে মুসলমানরাই আকবরের বিরুদ্ধে ধর্মানুভুতিতে আঘাত হানার দোষ দিত। ভারতে বিজেপি বাংলাদেশে জামায়াত,হেফাজত সব একই ঘারাণার।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪৪

এইচ তালুকদার বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, আসলে সত্যি কথা বলতে মুসলমানরাই আকবরের সময়ের সবচেয়ে বড় বিদ্রোহগুল করেছে।এমনকি আকবরের শাসনের বিরুদ্ধে আকবরের সেনাবাহিনীর মধ্য এশিয়ান(তুর্কি,কাজাখ,কিরঘিজ,উজবেক) সৈন্য ও অফিসাররা আকবরের সৎ ভাই মির্জা হাকিম এর প্ররচনায় বিদ্রোহ করে বসেন,তবে রাজপুত,শিয়া এবং আকবরের অনুগত সুন্নী সৈন্য ও অফিসারদের সহায়তায় সেই বিদ্রোহ দমন করেন।
আর বিজেপি এই উপমহাদেশের একটা দুষ্টক্ষত তারা সামান্য কয়েকটা ভোট এর জন্য যেভাবে বাংলাদেশ এর বিষোদ্গার করা শুরু করেছে এবং বাংলাদেশ কে টার্গেট করে সি এ এ,এন আর সি ধরনের আইন করলো সেটা যে কোন বাংলাদেশী কে ক্রোধান্বিত করবে। তবে বাংলাদেশ সরকার কিন্তু মুদি কে ভালোই টাইট দিয়েছে

২| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০০

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: আকবরের নিজস্ব একটা ধর্ম ছিল,তিনি সেটাই পালন করতেন।এমনকি তার স্ত্রী তার ধর্ম গ্রহন করে নাই।শেষ দিন পর্যন্ত তিনি হিন্দু ছিলেন।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪৯

এইচ তালুকদার বলেছেন: দীন ই ইলাহি আকবরের প্রচলিত ধর্ম তবে তিনি কাউকে এই ধর্ম গ্রহন করতে চাপ দেন নি,আর তুজুক ই জাহাঙ্গীরি তে জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন সম্রাট আকবর শেষ বয়সে নিজেই এই ধর্মের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। আর আকবর হিন্দু হয়ে গেছে এটা নিছক রটনা। আমার পর্‍্যবেক্ষন হচ্ছে আকবর আর তার পুলা জাহাঙ্গীর দুইজনেই নাস্তিক ছিলো

৩| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪৭

রাজীব নুর বলেছেন: কিছু বুঝলাম না।
আর একটু সহজ ভাবে লিখলে ভালো হতো।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫৩

এইচ তালুকদার বলেছেন: সর‍্যি রাজীব ভাই

৪| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৫৯

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: আমি আকবরের কথা বলিনি যে তিনি হিন্দু হয়ে গেছেন।তার প্রিয় স্ত্রী জোধাবাই এর কথা বলেছি।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৯

এইচ তালুকদার বলেছেন: সর‍্যি বুঝতে ভুল হয়েছে

৫| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২০ ভোর ৪:৪৭

অনল চৌধুরী বলেছেন: ১১৯১ থেকে না, এর শুরু হয়েছিলো আরো অনেক আগে, ৭১১ সালে বিন কাসেম রাজা দাহিরকে আক্রমণ করার সময় থেকে।
ঘোরীর নেতৃত্বে আফগানরা প্রথম ভারতের রাজপূত রাজা পৃথ্বিরাজকে আক্রমণ করে ১৯৯১ সালে।
আকবর যা কিছু করেছে, সবই ভারতে মোগল সাম্রাজ্য স্থায়ী করার জন্য। সুতরাং তাকে মহান বলার কেোন সুযোগ নাই। এই বদ দখল করার আগে পর্যন্ত বাংলা মোটামুটি স্বাধীন ছিলো, কারণ বাংলা শাসন করতো সোনারগার সুলতান,স্থানীয় বারো ভূইয়া আর পাঠানরা।
ভারত নামের বিচিত্র দেশটা গঠিত হয়েছে এবং টিকেই আছে মুসলিম বিরোধিতার উপর ভিত্তি করে।
সুতরাং জঙ্গী বজরঙ্গীদের অত্যাচার চলবেই।
* প্রথমটা বাদ দেবেন।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৮

এইচ তালুকদার বলেছেন: বাদ দিয়েছি, তবে কি আকবর দি গ্রেট কে এত সহযে বিচার করা যাবে না। মহান এই মানুষটি শুধু রাজনৈতিক শার্থে এতকিছু করেছে এটা মেনে নিতে কষ্ট হয়।কারন তার আন্তরিকতার ঘাটতি থাকলে তিনি হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবার শ্রদ্ধা ও আনুগত্য আদায় করে নিতে পারতেন না। আকবরের প্রজারা তাকে জিল্লে ইলাহী বা শ্যাডো অফ গড বলে ডাকতো
আকবরের বাংলা বিজয় এবং ইশা খান ও বারো ভূঁইয়া দের প্রতিরোধ দুটোই সমান বীরত্বপুর্ন।

৬| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ৭:২৬

সোহানী বলেছেন: ইতিহাস কম জানি। তারপরও আকবর নিয়ে অনেক আগ্রহ আছে। পুরোটা পড়িনি কারন আরো মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। ছেলেকে নিয়ে পড়বো, ওর অনেক আগ্রহ হিস্ট্রি নিয়ে।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪০

এইচ তালুকদার বলেছেন: অসাধারন, ইতিহাস আসলেই চমৎকার বিষয়।

৭| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:২৭

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ভাল বিশ্লেষন।
অনুবাদ ভাল হয়েছে।

হিপোক্রসি তখনো ছিল এখনো আছে।
আর স্বার্থের উর্ধে ওঠে সত্য অনুধাবন অবগাহনতো অল্প মানুষই অনুভব করতে পারে।

+++

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

এইচ তালুকদার বলেছেন: অসাধারন মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
হিপোক্রসি তখনো ছিল এখনো আছে।
আর স্বার্থের উর্ধে ওঠে সত্য অনুধাবন অবগাহনতো অল্প মানুষই অনুভব করতে পারে। এটাই চরম সত্য

৮| ২০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৩:০৫

অনল চৌধুরী বলেছেন: রাজনীতি আন্তরিকতা বলে কিছু নাই। সবই নিকৃষ্ট স্বার্থ। রাজপূতদের সাথে বিয়ে কূটনীতি চালু করে তাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে বিরত রাখাও ছিলো তার ধুরন্ধর কূটনীতি।
আকবরের লাম্পট্যের প্রমাণ তার হেরেমে বন্দী করে রাখা ৫০০০ এর বেশী নারী, যাদের প্রত্যেকের কাছে বছরে ১ বার গেলেও ১৩.৪ বছরের আগে এই না্রীর কাছে দ্বিতীয়বার যাওয়ার সুযোগ ছিলো না।
সবচেয়ে অবাক ব্যাপার , ঈসা খা'র ছবি ব্যাবহার করে আপনি তার শত্রু আকবরের প্রশংসা কিভাবে করলেন? একইসাথে কি জেনারেল ওসমানী আর ইয়াহিয়া-নিয়াজীর প্রসংসা করা যায়?
ঈসা খান বাংলার স্বাধীনতার জন্য প্রবল পরাক্রমশালী মোগল আকবরের সেনাপতি মানসিংহের বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, যেটা বাঙ্গালীর জন্য গর্বের।
*** আবারো প্রথমটাতে অনেক বানান ভুল হয়েছে।

২০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৩৬

এইচ তালুকদার বলেছেন: প্রথমটা ডিলিট করে দিয়েছি , আকবর মুঘল সম্রাজ্যের সম্রাট ছিলেন। 'সম্রাজ্য' মানেই সেটা অনেকটা জীবন্ত প্রানীর মত যার জন্ম, বৃদ্ধি , ক্ষয় ইত্যাদি ব্যাপার গুলোর ভেতর দিয়ে যেতে হয়। সম্রাজ্য মানেই সেটা সম্প্রসারিত হবে। আর রাজপুতদের স্বাধীনতা আন্দোলন এর ব্যাপারটা অনেকটা ঘোলাটে কারন রাজপুত রা একটা কনফেডারেসি ছিলো একক সম্রাজ্য না। তাদের ঐক্য বলতেও কিছু ছিলো না বরং এক রাজপুত রাজা অন্য রাজপুত রাজার বন্ধুর চেয়ে প্রবল শত্রু হিসেবেই ইতিহাসে বেশী দেখেছি।আর যেখানে রাজপুত রাজারাই মুঘল ভ্যাসাল/ওভারলর্ড এর হয়ে নিজ নিজ রাজ্য শাসন করতেন(মানসিং এর বংশধররা জয়পুর/জয়সলমির রানা প্রতাপ এর বংশধররা উদয়পুর এ এখনো কাগজে কলমে রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন) সেখানে স্বাধীনতা হরন এর প্রসঙ্গটা তো আসেই না। রাজপুত দের স্বাধীনতা যদি কেউ হরন করে থাকে সেটা নেহেরু সরকার মুঘল রা না। আর ব্যাক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি যার যতটুকু সন্মান প্রাপ্য তাকে সেটা দেয়া উচিৎ সেই হিসেবে আকবর ও ইসা খান দুজনেই সন্মানের দাবিদার। আর বাঙ্গালীর স্বাধীনতা ব্যাপারটা আমলে নিলে বলতে হয় ইসা খান নিজেই বাঙ্গালী ছিলেন না, হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত রাজপুত বাবা আর মুসলিম মামলুক/তুর্কি মা এর সন্তান ইসা খান এর সঙ্গে আকবরের বিরোধ রাজনৈতিক জাতিগত না। আমার পুর্ববর্তী একটা লেখার লিঙ্ক দিচ্ছি নিচে সেখানে মুঘল সেনাবাহিনীর হয়ে চট্টগ্রাম বিজয়ের অভিযানে অংশ নেয়া জেনারেল মুনাওয়ার খান এর উল্লেখ পাবেন যিনি ইসা খান এর প্রপৌত্র। আর ইশা খান কিন্তু আকবরের বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছিলেন যার বিনিময়ে তিনি ১৮ টা পরগনা লাভ করেন বাংলা মুলত জাহাঙ্গীর এর আমলে ইসলাম খান এর সুবাদারির সময় মুঘলদের পুর্ন দখলে আসে। আর বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদ এর উদ্ভব ইসা খান প্রায় ৪০০ বছর পরে তখন কার রাজা শাসক রা শুধু একটা জিনিষই চিনতেন সেটা হচ্ছে টাকা,বরিশাল এর রাজা (১২ ভুইয়াদের একজন ) মগ পর্তুগীজদের দক্ষনাঞ্চলে ডাকাতি করার লাইসেন্স দিতেন(সময় স্বল্পতার জন্য বিশদ দলিল ও লিঙ্ক দিতে পারলাম না, আপনি নিজেই খুজে দেখুন আশা করি পেয়ে যাবেন)
আর মর্কট নিয়াজীর সঙ্গে সিংহ পুরুষ জেনারেল ওসমানীর তুলনা! আপনি তো আমাকে বিশাল লজ্জায় ফেলে দিলেন। ৭১ সালে ঢাকা পৌছেই মর্কট নিয়াজী খুব সম্ভবত কোন এক জেসিও এর কাছে তার বাঙ্গালী গার্লফ্রেন্ডদের নাম্বার চেয়েছিলো(মর্কট টা ধরেই নিয়েছিলো বাঙ্গালী মেনস আর নট মেনলি এনাফ এন্ড দেয়ারফোর বাঙ্গালী উইমেন্স আর মোর দেন ইগার টু স্লিপ উইথ পাকিস্থানী আর্মি মেনস) মর্কট টার আত্নজীবনী বিট্রেয়াল অফ ইস্টঁ পাকিস্থান পড়ে আমার মনে হয়েছে শা** মাথায় গোবরও নেই পুরোটাই ফাকা। অন্য দিকে সিংহপুরুষ ওসমানী কে জেনারেল জ্যাকব,জেনারেল আরোরা রা প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।এমঙ্কি আয়রন জেনারেল হিসেবে খ্যাত জ্যাকব ও ওসমানীকে যুদ্ধের নয় মাস ক্যাম্পখাটে (যদিও তার জন্য নিজ বাড়ি ও আসবাপত্রের ব্যাবস্থা ছিলো) ঘুমাতে দেখে আশ্চর্‍্য হয়েছেন।

৯| ২০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৩৮

এইচ তালুকদার বলেছেন: এনেকডোটস অফ আওরঙ্গজেব-৪

১০| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৩:৪৭

অনল চৌধুরী বলেছেন:
আপনি ইতিহাস নিয়ে যথেষ্ট পড়েন দেখে ভালো লাগলো। আমি নিজেও ইতিহাস গবেষক এবং ইতিহাসেও এমএ ডিগ্রীধারী।
স্বাধীনতা বলতে সাধারণভাবে একটা জাতির নিজেরাই নিজেদের শাসন করা বোঝায়। তবে বাংলার ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যাতিক্রম অনুসরণ করা হয়। এদেশে বিদেশী বংশোদ্ভেূাদ কিন্ত বাংলায় জন্ম নেয়া সোনারগার সুলতান,ঈসা খা এবং সিরাজউদ্দৌলার অধীনে শাসিত হওয়ার সময়কেও স্বাধীন বলে ধরা হয়। কারণ জন্মগত গোলামের জাতি বাঙ্গালীদের এই ২০২০ সালেও হিংসা-নীচতা দেখে বোঝা যায়, ৫০০-১০০ বছর আওে তারা কতোটা নীচ ছিলো।
এরা একে অন্যের সাথে হিংসা-পরশ্রীকাতরতা করতেই তো জীবন শেষ করতো। ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেরা দেশ শাসন করবে কি?

কিন্ত রাজপূতদের ক্ষেত্রে একথা বলা যাবে না। ভারতীয় মাতার গর্ভে জন্ম নিয়ে জাহাঙ্গীর এবং পরের মোগল সম্রাটরা ভারতীয় হওয়ার আগে পর্যন্ত রাজপূতদের কাছে তারা যুক্তিসঙ্গতভাবেই বিদেশী ছিলো। কারণ তারা মাত্র বাবরের আমলে এসেছিলো মধ্য এশিয়া থেকে। কিন্ত রাজপূতরা হাজার বছর ধরে রাজপূতনার (রাজস্থান) ভূমিপুত্র। তখনও ভারত বলে তারা একক রাষ্ট্র গঠন করেনি কিন্ত আলাদা আলাভাবে সুযোগ পেলেই দেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করতো।
মোগলদের সাথে তাদের মিত্রতা হয়েছিলো বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে।
তাদের স্বাধীনতা হরণ করা চেষ্টা না করলে তারা কেনো বিদেশী আফগান ঘোরীর বিরুদ্ধে পৃথ্বিরাজ আর বাবরের বিরুদ্ধে রানা সংগ্রাম সিং যুুদ্ধ করবেন???
আর ঈসা খান জন্মেছিলেন বাংলায়। সিরাজউদ্দৌলার বাংলা ভাষা জানার সম্ভবনা যতো কম, তার ততোই বেশী। তার কামানের গায়ে এখনো বাংলা তারিখ লেথা আছে, যেটা শাহবাগের যাদুঘরে গেলে কালই দেখতে পাবেন।
সুতরাং মোগলদের চেয়ে তাকেই সন্মান করা বাঙ্গালীর দায়িত্ব। তার মুত্যুর পরই বাংলা মোগলদের দখলে যায়।
তবে মোগল আমলে হিংসুটে আর নীচ বাঙ্গালী গরুগলি তাদের শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলো, এমন কোনো ঘটনা পাইনি।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৩

এইচ তালুকদার বলেছেন: আপনি ইতিহাস গবেষনা করেন জেনে খুব ভালো লাগলো,ইতিহাস আমারও খুব পছন্দের বিষয়।যদিও পড়াশোনার করেছি ফিন্যান্স নিয়ে।
যাই হোক আপনার কথার সুত্র ধরেই বলছি বাঙ্গালির সৃষ্টি করা নন্দ সম্রাজ্য একসময় ভারত শাসন করেছে তাদের যোদ্ধা হাতির ভয়ে আলেকজান্ডার এর সৈন্যরা পর্যন্ত বাংলায় প্রবেশ এর সাহস করে নি, তাই বাঙ্গালীকে ভীরু বলতে আমি রাজী নই আর দিল্লী তে বাংলা হাজার বছর ধরেই বিদ্রোহের রাজধানী হিসাবে পরিচীত।মুঘলদের বিরুদ্ধে কখনোই লার্জ স্কেলে বিদ্রোহ হয় নি কারন বাঙ্গালীরা মুঘল এ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর উপকার ভোগী ছিলো, ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দশটা শহরের একটা ছিলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পৃথিবীর বহু উন্নত এবং নামী দেশ এর সাথে ব্যাবসা বানিজ্য হত। তাই বাঙ্গালী কখনোই বিদ্রোহ করার প্রয়োজন বোধ করে নি ।আর ঐতিহাসিক ভাবেই ধর্ম আর জাতীয়তার ভিত্তিতে বিভক্ত ভারত কে একটা রাজনৈতিক পরিচয়ের মাদ্ধমে এক করেছে মুঘল রা পরবর্তী ব্রিটীশ শাসন(শোষন) মুঘলদের দেখানো রাজনৈতিক পথেই হেটেছে।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫০

এইচ তালুকদার বলেছেন: রাজপুতরা কত ভাবে বিভক্ত সেটা গুনতে শুরু করলে শেষ করতে পারবেন না। ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গিমিক এই রাজপুতরা।

১১| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০২০ ভোর ৪:১৬

অনল চৌধুরী বলেছেন: বাঙ্গালীদের ভীরু-কাপুরুষ বলিনি। তাদের সবসময় হিংসুট আর পরশ্রীকাতর বলেছি।কারণ যুদ্ধ করতে নেমে তারা খুব কমই হেরেছে। আলেকসান্ডারেরও আগে আর্যরা তাদের প্রতিরোধের কারণে বাংলা দখল করতে না পেরে নিজেদের ধর্মগ্রন্থে বাঙ্গালীদের বারবার দস্যু, অসুর, ম্লেচ্ছ এবং তাদের ভাষাকে পাখিদের ভাষা বলেছে।
তাদের ভাষায় ধর্মগ্রন্থ পড়লে রৌরব নরকে ডেতে হবে বলেও ভয় দেখিয়েছে। পাল বংশকে বাংলার ভূমিপূত্র বলা হয়েছে।কিন্ত সেসব হাজার বছর আগের কথাভ বাংলায় যতো বিদেশী জাতি এসে স্থায়ীভাবে থেকেছে, বাঙ্গালীদের মধ্যে অনৈক্য ততোই বেড়েছে, যার ফল এখনো দেখা যাচ্ছে।
একটা শ্রেণী অবশ্যই সুবিধাভোগী ছিলো্ কিন্ত পুরো বাঙ্গালী জাতি মোগলদের সুবিধাভোগী-একথা কোনোভাবেই বলা যায় না।
ইংরেজ আমলেও কোলকাতা পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী শহরগুলির মধ্যে একটা ছিলো। কিন্ত শহরবাসী সাধারণ ভারতীয়রা ছিলো চরম দরিদ্র।
রাজপূতরা যতোই বিভক্ত থাক, ৭৪০ সালে প্রথম আরব আক্রমণকারীদের পরাজিত করা থেকে মুহম্মদ ঘোরী-বাবর সবার বিরুদ্ধেই তারা নিজেদের দেশের স্বাধীনতার জন্য বীরের মতো লড়েছিলো, যেটা বাঙ্গালীরা সেই সময় না পারায় বিদেশী তুর্কি-মোগল-পাঠানদের অধীনে শাসিত হতো।
সুতরাং তাদের সাথে বাঙ্গালীদের তুলনা করা যাবে না।থেকে

২২ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৩

এইচ তালুকদার বলেছেন: ভালো বলেছেন। আসলে মুঘলদের সুবিধাভোগী বলতে আমি সার্বিক রাজনৈতিক স্থিরতা বুঝিয়েছি কারন মুঘল আমলে টাকায় আট মন চাল এর গল্প শুনি সেই চাল তো কৃষক দেরি উৎপাদন করতে হয়েছে মোগল সুবেদার নিজে তো আর করেননি আর কৃষক এই বাম্পার ফলনের সু্যোগ পেয়েছে নতুন ভুমি সংস্কার আর সেচ ব্যাবস্থার উন্নতির ফলে। দেশে চুরি ডাকাতি কমে যাবার ফলে কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকার ফলে, এমনকি ধুরন্দর ব্রিটিশ রা পর্যন্ত আকবর এর প্রবর্তিত ভুমি আইন সচল রেখেছে এমনকি বাংলাদেশ, ভারতে বর্তমানে প্রচলিত ভুমি আইনও আকবরের আইনেরই ঈষৎ পরিবর্তিত রূপ। তবে এটাও ঠিক যুপঐ আমলে এক টাকায় আট মন চাল কেনার মত পয়সা অধিকাংশ লোকের কাছেই ছিলো না।
আর ভারতে উমাইয়া খিলাফতের সময় আরব আক্রমন আসে এবং তাদের প্রতিহত করে গুর্জার প্রতিহারা রা এরা রাজপুত্ + জাট এদের পুর্বপুরুষ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.