নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বোকা মানুষের কথায় কিই বা আসে যায়

বোকা মানুষ বলতে চায়

আমি একজন বোকা মানব, সবাই বলে আমার মাথায় কোন ঘিলু নাই। আমি কিছু বলতে নিলেই সবাই থামিয়ে দিয়ে বলে, এই গাধা চুপ কর! তাই আমি ব্লগের সাহায্যে কিছু বলতে চাই। সামু পরিবারে আমার রোল নাম্বারঃ ১৩৩৩৮১

বোকা মানুষ বলতে চায় › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভাল থাকুন আমার ফ্রিল্যান্সার টিচাররা - ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোচিং চলতে বাঁঁধা কোথায়?

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাদের দেশের মানুষের অন্যতম স্বভাব যে কোন বিষয়ে স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে অন্ধের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়া। তা সেটা ডাক্তার আকাশ-মিতু'র ঘটনা হোক, হোক কোচিং সেন্টার বন্ধের বিষয়, অথবা নিকট অতীতের কোটা সংস্কার বা সড়ক পরিবহন আইন বিষয়ে; কোনটাতেই বাদ যায় না তারা। সেই বিষয়ে জানা থাক বা না থাক, মতামত জ্ঞাপন করা চাই ও-ই। অথচ নিজের প্রয়োজনীয় অনেক বিষয়েই তারা থাকে উদাসীন, আগ্রহ যত অন্যের বিষয়ে; আরও স্পষ্ট করে বললে "আজাইরা" বিষয়ে। একই অবস্থা, কোচিং সেন্টার বন্ধের দুদকের অভিযান এরপর; সবাই বিজ্ঞের মত বলছে, ঠিকই তো, কোচিং সেন্টার সব বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কিন্তু কেন রে ভাই? একটু বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ... যাই হোক, যে বিষয়ে কথা বলার জন্য এই পোস্টের অবতারণা, কোচিং সেন্টার বন্ধের সরকারি আদেশের সিদ্ধান্ত বিষয়ে গতকাল একটি নিউজ দেখলাম পত্রিকায়, "বাংলা ট্রিবিউন" হতে নিউজটা প্রথমে আপনাদের জন্য তুলে ধরা যাকঃ

শুধু ফ্রিল্যান্সাররাই কোচিং করাতে পারবেন: হাইকোর্ট

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালের নীতিমালা অনুসারে দেশের সরকারি কিংবা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকগণ কোচিং করাতে পারবেন না। তবে যেসব ব্যক্তি কোনও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত নন, শুধুমাত্র তারাই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোচিং করাতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। পরে তিনি বলেন, “একটি মামলাকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টে উপস্থিত ছিলাম। তখন আদালত আমাকে ডেকে জানান, কোচিং নিয়ে বিচারপতিগণ টেলিভিশনে দেওয়া আমার দুটি টকশো দেখেছেন। তাই কোচিং এর সংজ্ঞা নিয়ে তারা (বিচারপতিগণ) বক্তব্য স্পষ্ট করে আমাকে জানান, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বাইরে যারা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত তারা তাদের কার্যক্রম চালু রাখতে পারবেন’। তবে যারা কোনও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত তাদের ক্ষেত্রে সরকারের করা কোচিং বাণিজ্য বন্ধের ২০১২ সালের নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।”

আদালতের এই বক্তব্যের ফলে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালের নীতিমালা অনুসারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে যুক্ত শিক্ষকগণ কোনোভাবেই কোচিং করাতে পারবেন না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ এর ১ (ক) অনুচ্ছেদে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ বলতে, সরকারি/বেসরকারি স্কুল (নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক), কলেজ (উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতেকোত্তর) মাদ্রাসা (দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল) ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়াও ১ (চ) অনুচ্ছেদে ‘কোচিং’ বলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন শিক্ষকের নির্ধারিত ক্লাসের বাইরে বা এর পূর্বে অথবা পরে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে/বাইরে কোনও স্থানে পাঠদান করাকে বোঝাবে এবং ১ (ছ) অনুচ্ছেদ অনুসারে ‘কোচিং বাণিজ্য’ বলতে, উপানুচ্ছেদ (চ) অনুযায়ী বিভিন্ন জাতীয়/দৈনিক/স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, পোস্টার, লিফলেট, ফেস্টুন, ব্যানার, দেয়াল লিখন অথবা অন্য কোনও প্রচারণার মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করাকে বোঝানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালে সরকার অনুমোদিত নীতিমালা বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত পাঁচটি পৃথক রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজীব আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। তবে এরও আগে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ওই নোটিশ দেয় সরকার। পরে ওই নোটিশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালা-২০১২ নিয়ে শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এরপর আদালত গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই চিঠির কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করার পাশাপাশি রুল জারি করেন।

পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করে। পরে আপিল বিভাগ গত বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে মামলার ওপর জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। পরে আদালত এ রুল নিষ্পত্তির জন্য সাবেক দুই অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফ ও ফিদা এম কামালকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেন। এর দীর্ঘদিন পর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৭ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়।


কয়েকদিন আগে প্রিয় ব্লগার হাসান মাহবুব কোচিং সেন্টার বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন, কোচিং সেন্টার তো বন্ধ করতে চান, কিন্তু তারপর কী? সেই পোস্টে কমেন্টে আমি এই কথাটিই বলেছিলাম, " অন্যান্য মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে যদি মাল্টিপল এবং প্যারালাল সাপ্লাইয়ার থাকতে পারে, শিক্ষা ক্ষেত্রে কেন নয়? একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন একটি বিষয়ে যদি কোয়ালিটি টিচার না থাকে, তার জন্য আউট সাইড সার্ভিস নেয়া যেতেই পারে। কিন্তু কথা হল, যে টিচার স্কুলে ম্যাথ পড়াচ্ছে, সেই টিচারের কাছে সেই স্কুলেরই ছাত্রকে কেন প্রাইভেট টিউশন নিতে হবে?

তাই কোচিং সেন্টার বন্ধ না করে, স্কুল-কলেজের টিচারদের কোয়ালিটি নিশ্চিত করুন এবং তাদের পর্যাপ্ত সম্মান সূচক বেতন-ভাতাদি সহ সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে আইন করুন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রাইভেট টিউশন বা কোচিং সেন্টারে পড়াতে পারবেন না। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নন, এমন কেউ যদি প্রাইভেট টিউশন দেয় কোচিং সেন্টার খুলে সেখানে সমস্যা কোথায়? ধরে নিন, একজন বুয়েট পাশ ছেলে শিক্ষা জীবনে আয়ের জন্য প্রাইভেট টিউশনি করতে করতে উপলব্ধি করল সে ভাল পড়াতে পারে এবং এই কাজটা সে উপভোগ করছে; ফলে সে পেশা হিসেবে প্রাইভেট পড়ানোটাকে বেছে নিতে চায়। এখন সে কোচিং সেন্টার খুললে কোন যুক্তিতে আপনি তাকে বাঁধা দিবেন। প্যারালাল এই এডুকেশন সোর্স থাকতে দিতে হবে, ছাত্রদের প্রয়োজনেই। তবে আবার বলি, বন্ধ করতে হবে, "স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা'দের একই স্কুলের ছাত্রদের প্রাইভেট টিউশন/ব্যাচ/কোচিং এ পড়ানো"টা। এর জন্য তাদের যা যা সুযোগ সুবিধা, ট্রেনিং ইত্যাদি দিতে হবে, তার দায়িত্ব সরকার এবং সংশ্লিষ্ট স্কুল/কলেজ ম্যানেজমেন্টকে নিতে হবে।


গতকাল পত্রিকায় আসা নিউজের সামারি লাইন কিন্তু আমার বক্তব্যেরই প্রতিফলন, যারা সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কর্মরত নন, তারা ফ্রীল্যান্সার হিসেবে কোচিং তথা প্রাইভেট টিচিং সার্ভিস দিতে পারবেন। আর যে বিষয়টি থেকে যায় তা হল প্রশ্ন ফাঁসে কোচিং সেন্টারগুলোর জড়িত থাকার অভিযোগ। সে ব্যাপারে বলবো, প্রশ্ন ফাঁস সহ যে কোন দুর্নীতিতে কোন কোচিং সেন্টার কেন, যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই দেশের প্রচলিত আইনের অধীনে বিচারের আওতায় আসবেন। এটা নিয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়।

এবার আমার কথায় আসি, একে তো বোকা মানুষ, তার উপর ছিলাম না তেমন মেধাবী ছাত্র; ফলে ক্লাস এইট থেকেই " কোচিং সেন্টার" এ যাতায়াত শুরু হয়েছিল। তো এই কোচিং সেন্টার এ পড়েছি অনেকগুলো বছর। আর তাই হয়তো আমার লাইফে পাওয়া বেস্ট টিচারদের প্রায় সবাই কোচিং সেন্টার এর।

আসুন আমার টিচারদের গল্প বলিঃ

(১) তখন ক্লাস নাইনে পড়ি, আমাদের কোচিংটি ছিল এলাকার প্রসিদ্ধ কোচিং। দুই যুগ আগেও প্রতি ব্যাচে ৫০-৭০ জন করে ছাত্রছাত্রী। আমাদের থানা এবং আশেপাশের থানার প্রায় সব স্কুলের প্রথম দিককার সব স্টুডেন্ট সেই কোচিং সেন্টার এর ছাত্রছাত্রী! বুঝেন তাহলে, বিষয়টা অনেক বেশী পুরাতন কিন্তু... তো আমাদের কোচিং এ একজন টিচার ছিলেন, ধরা যাক মিঃ রহমান। উনি সুনিসুনির্দিষ্ট কোন ক্লাস নিতেন না, বেশীরভাগ সময় দেখতাম পত্রিকা পড়ে আর কোচিং এর সামনের মাঠে গিয়ে সিগারেট ফুঁকতে। উনি ছিলেন প্রক্সি টিচার, কোন টিচার অনুপস্থিত থাকলে তিনি প্রক্সি দিতেন। তো একদিন আমাদের নিয়মিত ম্যাথ টিচার এবসেন্ট ছিলেন, মিঃ রহমান এলেন ক্লাস নিতে। ক্লাসে ঢুঁকে তিনি জিজ্ঞাসা করে প্রথমে জেনে নিলেন আমাদের ম্যাথ টিচার কোন চ্যাপ্টার করাচ্ছেন। পরে বললেন, "আমি আর মাঝখানে হাত না দেই। এক কাজ কর, এক এক করে বল তো, ম্যাথের কোন চ্যাপ্টার তোমাদের সবচেয়ে কঠিন মনে হয়?" সবাই ঐক্যমতে পৌঁছে গেলাম, "উপপাদ্যের এক্সট্রা" মনে হয় যা যুগে যুগে সকল ছাত্রছাত্রীদের কঠিনতম ম্যাথম্যাটিকস টপিক ছিল। এরপর ঘটলো ম্যাজিক, পরের দেড়ঘন্টায় উনি পুরো ক্লাসকে নিয়ে গেলেন এক রুপকথার জগতে যেন। দেড়ঘন্টা পরে প্রায় বেশীরভাগ ছাত্রছাত্রী উপপাদ্যর এক্সট্রার ভীতিমুক্ত হয়ে মুখে মুখে অনেক প্রব্লেম সলভ করতে শিখে গিয়েছিলাম। স্যালুট স্যার, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।

(২) দ্বিতীয় যে স্যারের কথা বলবো, উনি ছিলেন প্রথম ঘটনার কোচিং সেন্টার এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। উনি ক্লাস নিতেন এইচএসসি'র ম্যাথম্যাটিকস এর। পুরাতন ঢাকার এদিকে ঐ সময়ে উনি ছিলেন প্রখ্যাত ম্যাথ টিচার। স্কুল কলেজে যে সমস্যা হয়, দুর্বল স্টুডেন্ট অবহেলিত থাকে, উনি ছিলেন সেই অবহেলিতদের ত্রাণকর্তা। যে মেয়েটি এইচএসসি পড়াকালীন সময়ে ম্যাথ এর নানান টার্ম উচ্চারণ করতে পারতো না, সে ছিল স্যারের ক্লাসের স্ট্যান্ডার্ড সেটিং স্টুডেন্ট। স্যার খুব মায়া মাখা গলায় বলতেন, "আমার এই মামনি যখন বলবে বুঝতে পেরেছে, তখন আমরা নেক্সট টপিকে যাব।" স্যারের এই স্ট্যান্ডার্ড সেটার এর কারনে অনেক সময় আমরা বিরক্ত হতাম, একই বিষয়ে বারংবার আলোচনা শুনে। কিন্তু বছর ঘুরতে একদিন আবিষ্কার করলাম পুরো ক্লাস মুখে মুখে জটিল সব ডিফারেন্সিয়াল আর ইন্ট্রিগাল ক্যালকুলাস প্রব্লেম সলভ করছে, খাতা কলম ছাড়াই।

(৩) নতুন কোচিং, নতুন টিচার, তাও আবার প্রিয় সাবজেক্ট ফিজিক্স পড়াবেন। ক্লাসে ঢুঁকলেন খুব গম্ভীর নাদুস নুদুস গড়নের স্টাইলিশ বেশভূষায় বছর ত্রিশ পয়ত্রিশ এর ভদ্রলোক। পরিস্কার বোর্ড আরেকবার মুছলেন ডাস্টার দিয়ে, নিজের নাম, সাব্জেক্ট, তারিখ এসব লিখে সাঁই করে ডাস্টার ছূড়ে মারলেন উপরের দিকে। অল্পের জন্য ক্লাস রুমের সিলিং এ ঠোক্কর না খেয়ে ঠাস করে মাটিতে পড়লো। এরপর তিনি বলা শুরু করলেন, "আমার হাতে যখন ডাস্টারটি ছিল সে ছিল পারিপার্শ্বিক এর সাপেক্ষ এ স্থির। যখন বল প্রয়োগ করে উপরে ছূড়ে দিলাম, সে গতি প্রাপ্ত হল। আর এই গতি সুনির্দিষ্ট দিকে ছিল বলে তা বেগ হিসেবে গন্য হবে। কিন্তু অভিকর্ষ বলের বিপরীতে গতিশীল থাকার কারনে এই গতি কমতে লাগলো, আর এই গতি কমার হারকে বলা হয় মন্দন। একসময় ডাস্টারটি নীচে নামা শুরু করল, তখন অভিকর্ষ বলের দিকে গতিশীল হাওয়ায় এর বেগ বাড়তে থাকে, এই বেগ বাড়ার হারকে বলে ত্বরণ...." ঝাড়া একঘন্টার লেকচারে তখনকার ইন্টারমিডিয়েট ফিজিক্সের গতি থেকে ধাপে ধাপে চলে এলেন ভেক্টর এনালাইসিস এ... আমি তো মনে মনে সারাক্ষণ ওয়াও, ও মাই গড... বলে বলে অস্থির। সেদিন একটি বিষয় বুঝেছিলাম, "think differently, make differences"

(৪) শেষে যার কথা বলব, উনি হলেন আমার দেখা ফিজিক্স হাব। অনার্স-মাস্টার্স লেভেল এর ফিজিক্স প্রাইভেট পড়াতেন, ছোট্ট একটা এক কামড়ার রুমে। দশজন প্রতি ব্যাচে, ৫০ মিনিট এর ক্লাস। এক ব্যাচ শেষ করে একটা গোল্ডলিফ সিগারেট ধরাতেন, সবাই রুম থেকে বের হয়ে গেলে। সিগারেট শেষ করে ফের পরবর্তী ব্যাচ। যে কোন ব্যাচ যে কোনদিন যে কোন টপিক পড়তে পারতো। ব্যাচ লিডার সবার সাথে কথা বলে ঠিক করে ঢুকতেন কোন টপিক পড়বে আজ। স্যারকে বললে, শুরু হত লেকচার। কি সুন্দর এবং সাবলীলভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে অনর্গল বলে যেতেন আর সাথে লিখে যেতেন সাদা কাগজে দোয়াত কলমে৷কখনো কোন বিষয়ে পড়াতে গিয়ে উনাকে কোন কিছু ভাবতে দেখি নাই, যেন ঠোঁটের আগায় শব্দেরা লেগে থাকতো। কোন বই, শিট কিছুতে চোখ বুলিয়ে নিতে দেখি নাই; তা সে কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সের জটিল থিওরি হোক, হোক থিওরি অব রিলেটিভিটি। ফ্রীল্যান্সার টিচার এর জ্ঞানের পরিধি এবং গভীরতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম, আর হয়েছিল হিংসে। কারণ? সেই বয়সে যে স্বপ্ন ছিল উনার মত হব বলে....!

তো, হয়নি আমার ফিজিক্স বা ম্যাথম্যাটিকস এ গ্রাজুয়েশন, হয় নাই ডবল মাস্টার্স। হয়তো সেই কারণেই আমি এখন ছাপোষা হিসাবরক্ষক, কোথায় গেল সেই ডবল মাস্টার্স এর স্বপ্ন... =p~ কিন্তু কোচিং সেন্টার এর এই টিচারদের কাছ থেকে বিদ্যা আহরণ এর যে নানান কৌশল দেখেছিলাম, তা কোন একাডেমিক ইন্সটিটিউশন এর টিচারদের কাছ থেকে কিন্তু পাই নাই। সেই কলাকৌশল খুব বিশালাকারে কাজে লেগেছে পরবর্তী জীবনে, আজও কাজে দিচ্ছে। তাই আজ কৃতজ্ঞ চিত্তে শ্রদ্ধার সাথে তাদের স্মরণ করছি। ভাল থাকুন আমার ফ্রিল্যান্সার টিচাররা।

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২১

রাজীব নুর বলেছেন: দেশে শিক্ষিত বেকারের অভাব নেই।
তারা যদি ভালো চাকরি পেত তাহলে পাড়া-মহল্লায় কোচিং সেন্টার খুলতো না।
কোচিং সেন্টার বন্ধ করবেন ভালো কথা। তার আগে তাদের চাকরির ব্যবস্থা করেন।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:৪৮

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব নুর।

২| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৯

রাকু হাসান বলেছেন:


আপনার সমস্যা কি ? কি মনে করছেন ? X( X(( :|

কি অবাক হলেন? ;) =p~ আসলে এত ভালো যুক্তি বিশ্লেষণ দাঁড় করান মুগ্ধ না হয়ে পারি না । ইদানীং নিশ্চয় কম লিখেন তাই অভিমান । :P
কোয়ালিটি টিচারের জন্যই কোচিং বাণিজ্য । আমার সন্তান যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সমস্যা সমাধান হতে পারে তাহলে কিসের কোচিং দরকার ! সরকার মানব সম্পদ উন্নয়ন করলে এমনিতেই বন্ধ হয়ে আসবে । আর ঘর না গুছিয়ে বন্ধ করলে হবে হিতে বিপরীত । ব্যাপক একটা ধ্বস নামবে পড়াশোনার মানে । আপনার সাথে সহমত । সুন্দর । দুর্দান্ত লিখেছেন । সালাম রইলো । বোকা মানুষ খুব ভালো কথা বলতে পারে । ;)

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৭

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: হা হা হা, মজা পেলাম মন্তব্যের শুরুতেই।
পাঠ এবং মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা জানবেন। ভালো থাকুন সবসময়।

৩| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৭

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: জয়তু ফ্রিল্যান্সার!!!! :)

আগে কোচং গুলো খালি উচ্চমানের শিক্ষকদের কোন ভাবে ম্যানেজের ধান্দায় থাকতো। স্কুল বেইজ ছাত্রছাত্রী টার্গেট করে।
শিক্ষকরাও ধুমায়া মজা নিত! ক্লাশ কে করােত চায় বাইরে এত কাড়ি কাড়ি টাকার গন্ধ পেলে!

যাক বাবা বাঁচা গেল।

তোমরা বাপু শিক্ষকরা এবার ক্লাশে মন দাও।
আর দুর্বল যারা বাড়তি জ্ঞানের দরকার নিজের পছন্দ মতো কোচিংয়ে তা আহরন করতে পারবে।

দিবো নাকি একটা কোচিং সেন্টার খুলে ;)

পোষ্টে ++++++

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:১৩

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: অপেক্ষায় আছি ভৃগু দা'র কোচিং এর জন্য। এডমিশন কনফার্ম করে রাখলাম কিন্তু। আর হ্যাঁ, কোচিং এর নাম হবে VABS (Vriguda's Academy for Basic Studies) বাংলায় বলবো "ভাবজ"। ;)

৪| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:২৮

ইব্‌রাহীম আই কে বলেছেন: সুন্দর উপস্থাপনা।
এই ব্যাপারে একটা কথাই বলতে চাই দিনশেষে অনেক মতামত পড়ার পরঃ বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো মানের কর্মজীবি (তাত্ত্বিক কর্মজীবি :|) তৈরি করতে হলে কোচিং সেন্টার এর বিকল্প নেই।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:০৪

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: ধন্যবাদ পাঠ এবং মন্তব্যের জন্য। তবে, আপনার মন্তব্যের ব্যাখ্যা কি? কোচিং সেন্টার কিভাবে ভালো মানের তাত্ত্বিক কর্মজীবী তৈরি করতে পারে? আমার তো মনে হয়, ব্যাপারটা উল্টো হচ্ছে...

৫| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৩:৫৩

মন্জুরুল আলম বলেছেন: ভাললাগলো আপনার এই বিশ্লেষণী লেখাটা...

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৪৭

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই। ভালো থাকুন সবসময়।

৬| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ভোর ৫:৫৯

বলেছেন: Make a positive change -- Time for freelance teachers

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৫২

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: Thank you LAW....

৭| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ভোর ৬:৫২

Redwine বলেছেন: আপনার লেখাটি পড়ে বল বেগ মন্দন তরণ নিয়ে রিভাইজ হয়ে গেেল, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৩

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: ধন্যবাদ লালমদিরা... অথবা লাল মদিরা ;)

পাঠ এবং মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা জানবেন।

৮| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:০৮

টারজান০০০০৭ বলেছেন: সরকার ভাত দেওয়ার ভাতার না হইয়া কিল মারার গোসাই হইতে চাইতেছে ! শিক্ষকের বেতন পিয়নের সমান রাখিয়া কোচিং বন্ধ করা, শিক্ষকরে ভাতে মারা , পানিতে মারা ছাড়া আর কিছু হইবে না !

শিক্ষকের সম্মানী সম্মানজনক করিয়া কিল মারিলে কাহারও আপত্তি থাকিবে না !

ফ্রীলান্সার কোচিংয়ের দরকার আছে। চলুক !

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:৩৪

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: ধন্যবাদ টারজান ভাই, আপনি বনের পশুদের পাশাপাশি শহরের মানুষজনকে নিয়েও ভাবছেন দেখে =p~

৯| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:০৮

আখেনাটেন বলেছেন: আমাদের পলিসি নিয়ে যারা কাজ করেন ইনারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনেক দূরের জগতে বাস করেন। কেন'র, কীভাবে'র উত্তর না খুঁজে যখন নিজের খেয়াল খুশিমতো পলিসি অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন কংক্রিট কোনো সমাধানে আসা দূরূহ।

শিক্ষকের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি না করে এ ধরণের সিদ্ধান্ত কতটুকু বাস্তব সম্মত তা সময় বলে দেবে। ঢাকাতে একজন বেসরকারী স্কুল-কলেজের শিক্ষক কীভাবে টিকে থাকবে ঐ সামান্য বেতনে? এগুলো নিয়ে ভাবা দরকার।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৬

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: ধন্যবাদ আখেনাটেন, আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য। পাঠ এবং মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা জানবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.