নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সময় বদলে যাওয়ার,বদলে দেওয়ার

খুব সাধাসিধে থাকতে ভালবাসি... জীবনের পাওয়া সব চেয়ে প্রিয় কিছু জিনিষের প্রথমেই আসবে আমার বেস্টফ্রেন্ড..পুচকুর কথা... নামটা আমার দেয়া... ^_^ ভালো না জানি...তবুও ভালই লাগে... পুচকুটাই আমাকে ঠিকভাবে বাঁচতে শিখিয়েছে... হাত ধরে ভাল পথে হাটতে হাটতে শিখিয়েছে....

হিমেল হালদার

স্টুডেন্ট... পড়াশুনা করি... পাশাপাশি মাঝেমাঝে ছোটখাটো গল্প লিখি... ^_^

হিমেল হালদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভাল-লাগা ভালবাসার গল্প

২০ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ২:৩১

:এই,তোমার হাতটা একটু ধরি,প্লিজ.........

:না,কোনো হাত ধরাধরি নাই...

:আচ্ছা,লাগবে না,আমি যাই.....

:আহা,রাগ করে না বাবু,চলো হাটি..........

:হুম ,অনেক্ষন হলো নদীর পাড়ে বসে আছি কিন্তু আগে হাত দাও....

:উহহ,তুমি আসলেই একটা পাগল,আমার হাতটা ধরো তো,উঠতে পারছি না।

:হুম,ধরছি,একটা কথা বলি?হাসবা নাতো?

:না,হাসবো কেন! বলো...

:আমার না খুব ইচ্ছা যে,সারাজীবন তোমার হাত ধরে এই নদীর পাড়ে হাটবো............

:তাই! তাহলে চলো হাটি.......

:চলো।





:শুভ্র,এই শুভ্র, ওঠ বলছি.......তোর না সাতটায় প্রাইভেট আছে.........

:উঠছি,মা.....

ধুর!!আজকেও দেখা হলো না...আজকেও নামটা জানা হলো না..

মনেমনে ভাবে শুভ্র।

শুভ্র প্রায় প্রতিসপ্তাহেই এই সপ্নটা দেখে,কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এই যে,শুভ্র মেয়েটাকে চেনে না এমনকি ওর নামও জানে না।

এটাসেটা ভাবতে ভাবতে শুভ্র কলেজের পথে রওনা দেয়।

সে শুধু এটাই ভেবে পায়না যে সে কেন প্রায়প্রতিদিন একই সপ্ন দেখে,আর কেনই বা অচেনা একটা মেয়েকে নিয়ে সপ্ন দেখে..........

:ওই শুভাই.........

:হুম,নীলুই..........

:ওই,তোরে না বলছি যে আমায় ঐ নামটায় আর ডাকবি না।

:বাহ,তুই ডাকলে দোষ নাই আর আমি ডাকলেই দোষ!!!

:যাক বাদ দে। গতকাল রাতে আমার ফোন ধরলি না ক্যান?ভাবিকে নিয়া বিজি ছিলি নাকি? ;)

:হুম,আমার অনেকগুলা বউতো,তাই তাদের সাথে ফুটবল খেলতে ছিলাম।আর তোর ফোন রাতে বন্ধ ছিলো ক্যান?

:কি আর করবো,আমার তো তোর বউদের মতো এতগুলা বর নাই যে ফোন দিবে..... তাই ফোনটা অফ করে রাখছিলাম।

:ও তাই বল।আচ্ছা যাই,স্যার ক্লাসে গেছেন। বাই....

:বাই,শুভাই। ;)

:উহহ,নীলুই........যা ভাগ।



এই হলো নীলাঞ্জনা , শুভ্র এর সবচেয়ে ক্লোজ ফ্রেন্ড। দুজনের মধ্যে সারাদিন এটাসেটা নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকে।তবুও এই ঝগড়াই মনে হয় ওদের এতটা ক্লোজ করছে।

সারাদিন পর শুভ্র একটু ফেবু তে বসলো এই আসায় যে নীলাঞ্জনাকে একটু খেপাবে।

নীলাঞ্জনা আজ কলেজ ছুটি হবার আগেই চলে আসছে,তাই শুভ্রর সাথে দেখা হয় নাই।

ফেবুতে ঢুকেই দেখে নীলাঞ্জনা অনলাইনে।তাই প্রথমে শুভ্র নীলাঞ্জনাকে পোক করলো তারপর নীলাঞ্জনাই প্রথম নক করলো।

:পোক করলি ক্যান?

:ইচ্ছা হইছে তাই করছি.....

:তোর ইচ্ছা হলেই যে আমাকে পোক করতে হবে এমনটা কি কোথাও লেখা আছে নাকি?

:হুম,আছে,আমি প্রমান ছাড়া কিছু করি না।

:কোথায় লেখা, আর কে লিখছে একটু শুনি..........

:আমার খাতায় লেখা ,আর আমার খাতায় অন্যকেউ লিখবে কেন? আমিই লিখছি।

:ফাইজলামি করিস না,মুড নাই....

:ক্যান? মুড কই গেছে?? আর ফাইজলামি করবোই,একবার না হাজারবার করবো,কি করবি তুই???

:এক্কারে ব্লক দিমু কিন্তু.......

:এহহ,আমিও ব্লক দিতে পারি.....

এই মেসেজটা দেবার কিছুক্ষন পরেই নীলাঞ্জনার নামটা আস্তে কালো রংয়ের হয়ে গেলো.........

নীলাঞ্জনা শুভ্রকে ব্লক দিছে,শুভ্র অবশ্য মন খারাপ করলো না

কিছুক্ষন পরে এ একটা নটিফিকেশন আসলো........



নীলাঞ্জনা wants to be your friend......

confirm not now

শুভ্র নট নাউ বাটনটা তে প্রায় ক্লিক করছিলো,কিন্তু শেষে কনফার্ম বাটনটাই বেছে নিল।



:কিরে আবার রিকু দিলি ক্যান?

:যা,তোকে এবারের মতো মাফ করে দিলাম।

:এহহ,আইছে.........

:তোর কাল সকালে প্রাইভেট আছে না?

:হুম,ক্যান?

:এমনি,তাইলে এখন ঘুমা আর তোর সেই সপ্নের নাম না জানা জিএফ কে দেখ।

:কাটাঘায়ে নুনেরছিটে দিচ্ছিস!!

:আরে না।। যা গুমা... গুড নাইট।

:হুম,গুড নাইট।



এই হলো ওদের নিয়মিত চ্যাটের কিছু অংশ।নীলাঞ্জনা প্রায় প্রতিদিনই শুভ্রকে ব্লক দেয়,আবার আনব্লক করে রিকুও দেয়।এভাবেই ওদের দিন কাটছিলো।



আজকাল নীলাঞ্জনা একটু অন্যরকম হয়ে গেছে,শুভ্রকে একটু এড়িয়ে চলে ও।শুভ্রর কাছে ব্যাপারটা অস্বাভাবিক লাগে।

ওদের যোগাযোগটা একটু কমে গেছে আজকাল। আজ অনেকদিন পর ওদের দেখা হলো......

:কিরে,নীলুই.....

:হুম,বল,শুভ্র......

:কেমন আছিস?

:ভালই,তুই?

:ভালো।আচ্ছা, যাই স্যার ক্লাসে যাচ্ছেন।

:ওকে, বাই।

নীলাঞ্জনার কিছু একটা হয়েছে,মনেমনে ভাবে শুভ্র।

পরেরদিন সকালে নীলাঞ্জনার ফোন.........

:শুভ্র....

:বল.....

:বিকালে একটু নদীর পাড়ে আসবি?কিছু কথা ছিলো.......

:হুম,আসবো।

:আচ্ছা,বাই।

:বাই।

নদীর পাড়টা শুভ্রর খুব প্রিয়,ও নীলাঞ্জনাকে জোর করে একবার নিয়ে গেছিলো।।নীলাঞ্জনা নদী পছন্দ করে না কিন্তু আজ শুভ্রকে হঠাত নদীর পাড়ে কেন ডাকলো,সেটা শুভ্র বুঝে উঠতে পারে না।

বিকালে শুভ্র নদীর পাড়ে গিয়া দেখে নীলাঞ্জনা আগেই এসে নদীর পাড়ে পা ঝুলিয়ে বসে আছে।

শুভ্র পিছন থেকে গিয়ে আচমকা নীলাঞ্জনাকে ধাক্কা দেয়,কিন্তু নীলাঞ্জনার চোখে পানি দেখে ছেলেটার হাসিটা মলিন হয়ে যায়।

শুভ্র কখনও নীলাঞ্জনাকে কাঁদতে দেখেনি।কাঁদলেও নীলাঞ্জনাকে কতো সুন্দর লাগে,তা আজ শুভ্র বুঝতে পারলো।

:নীলা,কাঁদছিস কেনো?

:কই নাতো কাঁদছি না ,চোখে কি যেন একটা পড়লো।

:মিথ্যা বলিস না,আমি ঠিক বুঝতে পারছি।

:কচু বুঝতে পারছিস.....

:হুম।

:শুভ্র....

:বল.....

:তোর হাতটা একটু ধরি?

:কেন?

:না,এমনি।থাক বাদ দে।

:তোর হাতটা দে..........

:হুম........

:শুভ্র,চল একটু হাটি.....

:চল...

:আমার হাতটা একটু ধরবি...

উঠতে পারছি না।

:হুম .......

শুভ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,আরে এই তো সেই মেয়ে যাকে সে সপ্নে রোজ দেখে।

:অনেকতো হাটলি,চল একটু বসি...

:চল....

:শুভ্র,তোর কাধে একটু মাথা রাখবো?

:রাখ..........



সাত বছর পরের কথা নদীর পাড়ে বসে আছে আছে তিনজন।

বামপাশে শুভ্র,ডানপাশে নীলাঞ্জনা

আর মাঝখানে তাদের একমাত্র মেয়ে মিথিলা।।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:৪৫

আহসানের ব্লগ বলেছেন: সামহোয়ার ইন ব্লগে আপনাকে স্বাগতম ।
ব্লগিং করুন ,
পড়ুন ।
অন্যের পোস্টে মন্তব্য করে উত্‍সাহিত করুন ।
আর ভাল থাকুন । :)
লেখাটি পড়লাম :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.