| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাদা মনের মানুষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র মনজুর আলম। ২০০৮ সালে সাদা মনের মানুষ হিসাবে তিনি পুরস্কৃত হন। শুধু পুরস্কারই নয়, নিজের সততা আর যোগ্যতা তিনি বজায় রেখেছেন সব সময়। রাজনৈতিকভাবে চসিকে কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও সততা আর আর্দশের কারণে মেয়র মনজুর আলমের প্রতি রয়েছে সবার শ্রদ্ধা। অপর দিকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ন সচিব) আলী আহমদের প্রতিও আছে সবার একই শ্রদ্ধা। সৎ, যোগ্য আর আদর্শের প্রতি চসিকের প্রধান দুই ব্যক্তি অটল থাকলেও বাকি কর্মকর্তাদের অনেককে নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। গত চার বছরে এই বিতর্কের কোন অবসান হয়নি, বরং আরো বেড়েছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজস্ব, প্রকৌশল, হিসাব, পরিচ্ছন্নতা, জনসংযোগ এই ৭টি বিভাগ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। শিক্ষা ছাড়া বাকি ৬টি বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা সবাই পালন করছেন অতিরিক্ত দায়িত্ব। দীর্ঘদিন থেকে এসব বিভাগের কর্মকর্তারা ভারপ্রাপ্ত হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব¡ পালন করলেও সীল স্বাক্ষরসহ যাবতীয় অফিসিয়াল কাজে তারা নিজেকে প্রধান হিসাবে প্রচার করেন। কোথাও ভারপ্রাপ্ত শব্দটা ব্যবহার করা হয় না। অবশ্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ শব্দটা ব্যবহার করেন। তবে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আহমুদুল হক, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান পরিছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী এখনো ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করে নিজেদের প্রধান বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে পূনরায় নিয়োগ নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। তাছাড়া প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আহমুদুল হকের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে দায়িত্ব নেয়াসহ প্রায় সবগুলো বিভাগের প্রধানদের নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। একই সাথে মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষনে আসা চসিকের সচিব রশিদ আহমদ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিনের কার্যক্রমের সচ্চতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরো কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা যখন বিতর্কিত তখন মেয়র আর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেই কর্পোরেশনকে কতটা সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে পেষনে ভারপ্রাপ্ত পদগুলো পূরণ করলে দক্ষতা আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে সেক্ষেত্রেও সুফল আসবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
জানতে চাইলে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমেদ বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে লোক আসলে যে প্রতিষ্ঠান ভাল চলবে সেটা বলা যাবে না। চেয়ারে যে লোকটি বসেছে তার সততার উপর প্রতিষ্ঠানের সততা নির্ভর করবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেই হোক, সৎ আর যোগ্য হলে সফলতার সাথে কাজ করতে পারে। যদি তিনি অসৎ হন তবে প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস হবে।
চসিকের প্রতিটি বিভাগের নানা সমস্যা থাকলেও চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর মেয়র। পদে পদে যখন অনিয়ম আর অব্যস্থাপনার প্রশ্ন উঠছে, তখনো কর্পোরেশনের সাধারণ কর্মচারীরা আশার দিকে চেয়ে আছে এই দুই ব্যক্তির দিকে। অবশ্য এর আগে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া আনোয়ারা বেগমের প্রতিও আস্থা ছিল চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তবে শেষ সময়ে এসে কয়েকজন কর্মকর্তার প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হওয়াতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম একজন সফল ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক। সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সমাজকল্যাণ পরিষদ প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ সমাজসেবী স্বর্ণপদক, ২০০৮ সালে ৭ জুলাই বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত সাদা মনের মানুষ, ২০০৯ সালের ৩১ মে সাউথ এশিয়ান কালচারাল সোসাইটি প্রদত্ত মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক এবং ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর দৈনিক পূর্বকোণ ও গ্রামীণফোন প্রদত্ত চট্টগ্রামের অহংকার সম্মাননা পদকসহ অনেক পদক লাভ করেন। অন্যদিকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমেদ ছিলেন মুক্তিযোদ্ধের সাহসী সৈনিক। বিসিএস ক্যাডার হিসাবে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। আর এ পর্যন্ত একজন সফল, সাহসী ও সৎ কর্মকর্তা হিসাবে নিজের অবস্থান অক্ষুর্ন রেখেছেন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:০৬
আহসানের ব্লগ বলেছেন: সামহোয়ার ইন ব্লগে আপনাকে আমন্ত্রন।
এখানে লিখুন পড়ুন আর প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে থাকুন।
এটাই হউক আপনার ঠিকানা।