| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিলবোর্ডের অনুমোদন দেয়া বন্ধ রেখেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। গত তিন বছর থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে এ অনুমোদন দেয়া। তারপরও নগরীতে ভেঙের ছাতার মতো সেখানে সেখানেই উঠছে বিলবোর্ড। একটু খালি জায়গা থাকলেই সপ্তাহ ঘুরে আসতেই সেখানে দেখা মিলছে বিলবোর্ড। অবৈধ এসব বিলবোর্ডের থাবা থেকে রেহাই পায়নি চসিক নিজেও। চসিক ভবনেই স্থান করে আছে অবৈধ দুটি বিলবোর্ড। অভিযান চলে, কয়েকটি বিলবোর্ড উচ্ছেদ হয়। পত্রিকায় ফলো করে ছাপা হয় সেই খবর। এতেই শেষ। যারা বিলবোর্ড লাগিয়েছে তারা আছে বহাল তবিয়তে। নামেই শুধু অভিযান, কাজে কিছুই না। ৩২৩ বিলবোর্ডের তালিকা ছাড়া, কোনটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ তার কোন হিসাব নেই চসিকের কাছে। আর থাকারও কথা নয়! কারণ বিলবোর্ড অনুমোদনের নামে চসিক পুরো শহরের রাস্তা ইজারা দিয়ে দিয়েছে অনেক আগেই। আর ইজারাকৃত জায়গাতেই বিলবোর্ড স্থাপন করছে বিলবোর্ড ব্যবসায়ীরা। তাই চসিকের বিলবোর্ডের সঠিক হিসাব জানার কথাও না।

বিলবোর্ডের নামে শহরের রাস্তা ইজারা দেয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমেদ পূর্বদেশকে বলেন, বিলবোর্ড নিয়ে বারবার আলোচনা হওয়াতে আমি ফাইলগুলো দেখেছি। এখানে কোন নিয়ম-কানুন কিছু মানা হয়নি। একেকটি বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে একেকটি রাস্তা ২০-২৫ বছরের জন্য ইজারা দিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা সিটি কর্পোরেশনের একতিয়ারে পড়ে না। কিভাবে সেটা দেয়া হয়েছে সেটা আমি বলতে পারবো না।
ইজারা দেয়া রাস্তা থেকে কিভাবে বৈধ-অবৈধ বিলবোর্ড চিহ্নিত করা যাবে চানতে চাইলে আলী আহমদ বলেন, মেয়র মহোদয় আর কাউন্সিলরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে এটা বাতিল করতে পারে। আমরা বিজ্ঞাপনী সংস্থার লোকজনের সাথে কথা বলেছি। তাদের বৈধ বিলবোর্ডে স্টিকার লাগিয়ে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এরপর অবৈধগুলো চিহ্নিত করা যাবে সহজে।
বিলবোর্ড স্থাপনের জন্য চসিক একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে অনেক আগেই। শহরের মধ্যে যে কোন জায়গায় বিলবোর্ড স্থাপনের ক্ষেত্রে কিছু বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়। দূরত্ব, সাইজ, স্থান সম্পর্কে কিছু নির্দেশনা থাকে এই নীতিমালায়। কিন্তু নীতিমালা প্রণয়নের অনেক আগেই পুরো শহরের একেকটি রাস্তা একেকটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার নিকট ইজারা দিয়ে দিয়েছে চসিক। আর এসব ইজারার মেয়াদও ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত। সাবেক মেয়রের আমলে ইজারা নিয়ে এখন সেখানেই বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো বিলবোর্ড স্থাপন করছে। ইজারাকৃত অংশে ইচ্ছেমত বিলবোর্ড তুলছে তারা। আর কার কতটা বিলবোর্ড আছে সেই হিসাবও নেই চসিকের কাছে। ইজারাকৃত অংশে বিলবোর্ড তুলতে চসিকের নিকট থেকে কোন অনুমতির পরোয়া করেন না বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো। যদিও কিছু সংস্থা বিলাবোর্ড স্থাপনের পর সেটা অনুমোদনের জন্য চসিককে জানিয়েছে। তবে নগরীর কোন বিলবোর্ডই নীতিমালা অনুযায়ী গড়ে উঠেনি বলে অভিযোগ আছে।
এদিকে বিলবোর্ড নিয়ে যখন তুমুল আলোচনা তখন চসিক মেয়রের কক্ষে বিজ্ঞাপনী সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে বসেন মেয়র মনজুর আলম। গতকাল দুপুরে সেই বৈঠকে বিজ্ঞাপনী নীতিমালা অনুসরণ করে বিলবোর্ড সার্ভে করা এবং অবৈধ বিলবোর্ড চিহ্নিত করার জন্য বিজ্ঞাপনী সংস্থার ৫জন এবং সিটি কর্পোরেশনের ৫জন সদস্য নিয়ে ১০জনের একটি সার্ভে টীম গঠন করা হয়। ১৫ অক্টোবর বহদ্দারহাট থেকে এয়ারপোর্ট এলাকায় প্রথম সার্ভে শুরু করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে সার্ভে শেষ করে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। বৈঠকে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা, ফুটপাতে স্থাপিত সকল অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ এবং বৈধ বিল বোর্ডের গায়ে প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা সম্বলিত ষ্টিকার লাগানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। একই সাথে বকেয়া বিজ্ঞাপন কর আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত করে।
বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, বিজ্ঞাপন নীতিমালার বাহিরে নগরীতে কোন ধরনের বিলবোর্ড থাকবে না। কয়েকটি অবৈধ বিলবোর্ডর কারণে সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে দেয়া যাবে না। বিজ্ঞাপনী সংস্থা মালিক সমিতি আন্তরিক হলে নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় সিটি কর্পোরেশন সফল হবে। কতিপয় অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারণে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে, যা কাম্য নয়।
বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজ্ঞাপনী সংস্থা স্কাই আর্টের স্বত্তাধীকারি ফরিদ মাহমুদ পূর্বদেশকে বলেন, সিটি কর্পোরেশন অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদের কথা বলেছে। আমরা সেটা সমর্থন জানিয়েছি। তবে তাদের তালিকায় অনেকগুলো অবৈধ বিলবোর্ড বাইরে রাখা হয়েছে। সেগুলো তালিকাভুক্তির কথা বলি আমরা। ৪ দিনের মধ্যে বৈধগুলোতে স্টিকার লাগানোর জন্য সময় নির্ধারন করা হয়েছে।
সূত্র মতে, ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে চসিক। উচ্ছেদ কার্যক্রমে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয় প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয় শুধু নামকাওয়াস্তে। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৩১টি বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। ২০১৩ সালের ১২ জুন থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৯টি বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত গত দুই বছর আট মাস অভিযান চালিয়ে তালিকাকৃত ৩২৩টি অবৈধ বিলবোর্ডের মধ্যে সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ করেছে মাত্র ৬২টি। অবশ্য এই সময়ের মধ্যে নগরীতে অন্তত পাঁচ শতাধিক অবৈধ বিলবোর্ড উঠেছে বলে অভিযোগ আছে। আর উচ্ছেদ কার্যক্রমের গতিহীনতার জন্য কর্পোরেশনের সর্ষের ভূতকেই দায়ি করা হচ্ছে। সদ্য অপসারিত সাইনবোর্ড পরিদর্শক আবুল মনসুর নিজেই এসব অবৈধ বিলবোর্ডের পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে। কয়েকটি সংস্থার সাথে নিজেও জড়িত থেকে বিলবোর্ড নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাবেক মেয়রের আমলে বহিস্কৃত আবুল মনসুর কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলেও অভিযোগ আছে।
অবৈধ বিলবোর্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযানের কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমেদ পূর্বদেশকে বলেন, মেয়র মহোদয়সহ বিজ্ঞাপনী সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে কথা হয়েছে। তারা অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদে সমর্থন দিয়েছেন। তারা কিছু অভিযোগও দিয়েছেন। আমরা সেগুলো বিবেচনায় রেখেছি। দুই‘একটি করে নয়, শিঘ্রই আমরা বড় ধরণের অভিযানে যাবো।
#১৪/১০/১৪#
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৮:৪৯
ঢাকাবাসী বলেছেন: চসিকের লোকদের গোপনে টু কােটি করে বানাবার সুন্দর চান্স, মারছেও, সো, চুপচাপ দেখে যান। টাকার ভাগ তো মন্ত্রী পর্যন্ত যায়!