নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিশিরের নির্জনতায়

প্রহরী হয়ে দেবো পাহারা যেথায় তোমার সীমান্ত

নির্জন শিশির

আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, নজরুলের সমাধির সামনে দিয়ে যতবার হেটে যেতাম, প্রতিবার মুগ্ধ বিস্ময়ে নজরুলের নিজের লেখা পংক্তিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতাম "তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিবনা কোলাহল করি সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙ্গিবনা। নিশ্চল-নিশ্চুপ, আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধবিধুর-ধূপ।" বহুদিন আমি সেই পথে হাটিনা; চাইলেও এখন যখন-তখন সে পথে হাটা সম্ভব নয়। ইদানীং রাত যত গভীর হয়, আমার স্মৃতি তত প্রখর হয়। মনে পড়ে বহু বছর আগে লোটাকম্বল উপন্যাসে পড়া সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের লেখা, 'এসেছিস যখন একটা আঁচড় কেটে যা।' কেন যেন আঁচড় কাটতে ইচ্ছে করে।

নির্জন শিশির › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটি নির্লজ্জ, নিরর্থক ও অপ্রয়োজনীয় স্বীকারোক্তি (অণুগল্প)

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:৫৬



মানুষের জন্য সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ কি? সবার জন্য সবচেয়ে বিরক্তিকর না হলেও সবাই অন্তত স্বীকার করবেন বিছানায় নির্ঘুম রজনী কাটানো খুব বিরক্তিকর একটা কাজ। এই গভীর রাতে আমার মাথায় কত কিছু খেলা করে! আমি যদি আর্কিমিডিস হতাম, তাহলে বোধহয় এরকম কোন গভীর রাতেই ইউরেকা ইউরেকা বলে বাড়ি মাথায় তুলতাম। আমার প্রতিবেশীদের ভাগ্য ভাল আমি আর্কিমিডিস না, খুব সাধারণ একজন মানুষ। লোহার তৈরি ক্ষুদ্র বল পানিতে ডুবে যায়, আর বিশাল জাহাজ কেন পানিতে ভেসে থাকে সেটা আমাকে পাঠ্যবই পড়েই জানতে হয়েছে। জীবনের সাতাশটি বছর পার করে এসেও, আপেল কেন গাছের ডাল থেকে সুপারম্যানের মত ঊর্ধ্বাকাশে উড়াল না দিয়ে নিউটন এর মত জ্ঞানী লোকের মাথায় পড়ে, পরীক্ষায় উত্তর লিখার বাইরে সেটা নিয়েও আমার খুব একটা মাথাব্যথা ছিল না। আমি খুব সাধারণ মানুষ, তারাশঙ্করের নিতাই এর মত। নিতাইয়ের তো তবু ঠাকুরঝি ছিল আমার তা’ও নেই। তবু এই গভীর রাত্রি বড্ড বেয়াড়া। যারা এ সময়টা নির্ঘুম নির্জনে একা থাকেন তারা বুঝবেন। এই সময়টাতে নিজের যেন আর কোন আড়াল থাকেনা। সারাদিন যেই মানুষটাকে অনেক সস্তা খেলনার মত বাস্তবতা দিয়ে আড়াল করে রাখা যায়, এই সময়টাতে এসে কেমন যেন সে বাধছাড়া হয়ে যায়।



স্কুলে থাকতে বরাবরই আমি অংকে ভাল নাম্বার পেতাম। কেন পেতাম তা অবশ্য নিজেও মনে করতে পারি না, বোধহয় বদভ্যাস। তাতে আমার স্নেহময়ী বোকা মা সবসময় ভাবতেন আমি ইঞ্জিনিয়ার হব। আর আমার বাবা, সমাজহিতৈষী, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তা সবসময় চাইতেন যেন আমি ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করি। আমি ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে পারিনি। একটা আধুনিক বাংলা কবিতা পড়েছিলাম অনেক আগে, সেখানে কিছু কথা ছিল এরকম, ‘অমল কান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল, এখন সে একটা অন্ধকার ছাপাখানায় কাজ করে।’ আমি সে অর্থে অমল কান্তির চেয়েও হতভাগা, আমি রোদ্দুরও হতে চাইনি। সরকারী মেডিক্যাল ও বুয়েটে চান্স না পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যখন পড়াশুনা শেষ করে বের হলাম, বাবার কাছে গিয়ে বলেছিলাম, ‘আমি নিজে কিছু একটা করতে চাই, নয়টা-পাঁচটা চাকরি করতে আমার ভাল লাগে না, আমার পক্ষে সেটা সম্ভব না।’ কেন বলেছিলাম কে যানে! বোধহয় সেই পুরনো বদভ্যাস। বাবা ততদিনে রিটায়ার করেছেন। হয়ত আশায় ছিলেন ছেলে পড়াশুনা শেষ করে একটা ভাল চাকরি করে সংসারের হাল ধরবে। সেই ছেলের মুখে এমন ‘বদভ্যাস-জনিত’ কথা শুনে বাবা হয়ত অবাক হয়েছিলেন। তবে আমার মিতভাষী বাবা তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি। বরঞ্চ কিছুদিন পর আমাদের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সবটুকু সঞ্চয় আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন নিজের উদ্যোগে কিছু করার জন্য, আমাকে বিশ্বাস করেছিলেন। আমার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে বছর-খানেক ধরে স্টক এক্সচেঞ্জে আমার যাওয়া আসা ছিল, ও আমার নামে মাঝে মধ্যে আই.পি.ও আবেদন করত। ভাবলাম যতদিননা অন্য কিছু মাথায় আসে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করি। বছর খানেক ভালই চলছিল, তারপর হঠাৎ করেই সব বদলাতে লাগলো, আমি ভাবলাম হয়ত এই খারাপ আবহাওয়া খুব সাময়িক সময়ের জন্য হয়েছে, ধৈর্য ধরে থাকলাম। ছোটবেলা থেকেই আমার ধৈর্য বেশী, বন্ধুরা সেজন্য মাঝে মধ্যে আমাকে গোয়ার ডাকত। হয়ত সবাই মিলে খেলা দেখতে গিয়েছি, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। শেষ ওভারে বাংলাদেশের ৩০ রান দরকার, হাতে রয়েছে মাত্র একটি উইকেট। তবুও আমি আশায় থাকতাম। স্বপ্ন দেখতাম তাপস বৈশ্য অথবা হাসিবুল হোসেন শান্ত ব্রেট লী’র শেষ পাঁচ বলে পাঁচটি ছক্কা মারবে। হাল ছেঁড়ে দিতে বরাবরই আমার বড্ড লজ্জা। সেই আমি দিনের পর দিন চোখের সামনে মৃত্যুর মত অন্ধকার দেখতে দেখতে আজ হাল ছেঁড়ে দিয়ে আসলাম। আমি আর কখনো স্টক মার্কেটে যাবনা। আমার নামে কোন এক্সচেঞ্জে আর কোন বেনেফিসিয়ারি নাম্বার থাকবে না। কোন লাভ ক্ষতির ধ্বংসের রেজিস্টারে আর আমাকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা।



আমার কারো প্রতি কোন ক্ষোভ নেই, শুধু বাবার সামনে দাঁড়াতে পারিনা, খুব লজ্জা হয়। এখন এই নিস্তব্ধ রাত্রির শেষ প্রহরে পাশের ঘরে আমার বাবা ঘুমচ্ছেন। কতবার গভীর রাতে ভেবেছি যাই, বাবার পা ধরে একবার ক্ষমা চাই। একবার বলি ‘বাবা, আমায় ক্ষমা করে দাও, আমি হেরে গেছি।’ এই হেরে যাওয়া খুবই ব্যক্তিগত, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক দু’হাজার পয়েন্ট নেমে যাওয়ার মত না। মূল্য সূচকের মত এই হেরে যাওয়া প্রতিনিয়ত রুগ্ন, জরাগ্রস্ত, গলিত-স্থবির গিরগিটির শ্বাস নেয়ার মত ওঠানামা করেনা। এই হেরে যাওয়া অনেক বেশী শাশ্বত কিছুর পরাজয়, অংকের হিসেবে, লিনিয়ার গ্রাফে এটাকে মাপা যায়না।



পূর্ব আকাশ রাঙ্গা হচ্ছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়ত বাবা উঠবেন। অজু করে ফজরের নামাজ পরবেন। এই নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সকল খরচ মিটিয়ে গত তিন দশকে তিল তিল করে তিনি যা সঞ্চয় করেছিলেন, তার প্রায় সবটুকু আমি বছর দু’য়েকের মধ্যে শেষ করে দিয়ে এসেছি। সেই সঞ্চয়ের পরিমাণ টাকার অংকে বললে হয়ত অনেক নব্য-ধনী’র কাছেই মনে হবে ‘এ আর এমন কি!’ তবু কেন যেন সেই সঞ্চয়টুকু আস্থা, স্নেহ, বিশ্বাস, ভালবাসা এগুলোর বিচারে আমার কাছে অনেক বেশী মনে হয়। মনে হয় এত বেশী আমি হয়ত সারা জীবনে অর্জনও করতে পারবনা। কেন যেন মনে হয় এই দায় থেকে আমি কোনদিন মুক্তি পাবনা, হয়ত সেই পুরনো বদভ্যাস; আমার বোধহয় অনেক বেশী’ই বদভ্যাস।

মন্তব্য ২৯ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (২৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:০৪

লাবনী আক্তার বলেছেন: ভালোলাগা দিলাম।

চাপা একটা ব্যথা আছে গল্পটাতে।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:০৮

নির্জন শিশির বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য। ভাল থাকবেন

২| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:০৫

রাফা বলেছেন: চমৎকার! ভালোবাসা পরিমাপ করার মত কোন যন্ত্র এখনও আবিস্কার হয় নাই।স্নেহ ,মায়া, মমতার যে সঞ্চয় তা শোধ করা যায়না।

অনুগল্প ভালো লাগলো।ধন্যবাদ

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:০৯

নির্জন শিশির বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য। শুভকামনা রইল

৩| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:১০

বিকেল বলেছেন: অনেক ভালো লিখেছেন . ... আপনার জীবন থেকে নেয়া হয়ে থাকলে সমবেদনা জানাচ্ছি ...

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:১০

নির্জন শিশির বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, সমবেদনা জানানোর জন্য। গল্পটি কাল্পনিক, আমার জীবনের সাথে সম্পর্কিত নয়।

শুভকামনা রইল আপনার জন্য

৪| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:২৩

অলস ঘুঘু বলেছেন: অসাধারন!!!!

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০২

নির্জন শিশির বলেছেন: ধন্যবাদ, শুভকামনা জানবেন

৫| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:০৪

নুর ফ্য়জুর রেজা বলেছেন: ++++++++


(আমার জীবনেই এটা ঘটছে। ব্যথাটা হাড়ে হাড়ে টের পাই)

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০৩

নির্জন শিশির বলেছেন: আপনার জন্য সমবেদনা রইল, ভাল থাকবেন সবসময়

৬| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৩০

আদিম পুরুষ বলেছেন: এধরণের ঘটনাগুলো আমাদের মধ্যবিত্তদের নিত্য স্বাভাবিক। হৃদয় ছুঁয়ে গেল। ব্লগ লিখছেন মাত্র চার দিন। চারদিনের মাথায় জেনারেল হলেন এবং আপনার প্রথম পোস্ট সরাসরি নির্বাচিত পাতায় গেল। আপনি সত্যিই ভাগ্যবান। হ্যাপি ব্লগিং। আপনার লেখার হাত ভালো। চালিয়ে যান।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০৫

নির্জন শিশির বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য। আমিও অবাক হলাম যখন দেখলাম প্রথম পোস্ট নির্বাচিত পাতায়, ভাল লেগেছে।

আপনার জন্য শুভকামনা রইল

৭| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৩২

জ্যাক রুশো বলেছেন: আদিম পুরুষ বলেছেন: এধরণের ঘটনাগুলো আমাদের মধ্যবিত্তদের নিত্য স্বাভাবিক। হৃদয় ছুঁয়ে গেল। ব্লগ লিখছেন মাত্র চার দিন। চারদিনের মাথায় জেনারেল হলেন এবং আপনার প্রথম পোস্ট সরাসরি নির্বাচিত পাতায় গেল। আপনি সত্যিই ভাগ্যবান। হ্যাপি ব্লগিং। আপনার লেখার হাত ভালো। চালিয়ে যান।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০৬

নির্জন শিশির বলেছেন: আমিও অবাক হলাম যখন দেখলাম প্রথম পোস্ট নির্বাচিত পাতায়, ভাল লেগেছে।

আপনার জন্য শুভকামনা রইল

৮| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৫১

বটবৃক্ষ~ বলেছেন: অনুগল্প ভালো লাগলো...

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০৬

নির্জন শিশির বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য। শুভকামনা রইল

৯| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:০৮

এস এম লুৎফুল্লাহ মাহমুদ বলেছেন: অনেক ভাল লাগল।
ভাললাগা থাকল।
অনেক সুন্দর লিখেন আপনি।
আপনি বাস্তব জীবনে কি তা জানিনা, তবে, আপনার গল্পের কথক আর আপনার জন্য অনেক শুভ কামনা রইল। স্বপ্ন দেখতে থাকুন, ভাল থাকুন সবসময়।

১০| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:১০

এস এম লুৎফুল্লাহ মাহমুদ বলেছেন: আর একটা কথা বলব আপনের উদ্দেশ্যে-

'এসেছিস যখন একটা আঁচড় কেটে যা।'

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০৮

নির্জন শিশির বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য, ভাল থাকবেন নিরন্তর।

শুভকামনা সতত

১১| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:২৪

মনিরা সুলতানা বলেছেন: বিষণ্ণ অনু কাব্য ...।

ভাল লেগাছে :)

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০৯

নির্জন শিশির বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য

শুভকামনা রইল

১২| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:৪৩

হািলম মামা বলেছেন: আর কে দেবে আমি ছারা
আসল শোভন কষ্ট !
কার পুরেছে কপাল এমন
আমার মত কজনের আর
সব হয়েছে নষ্ট।
কষ্ট নেবে, কষ্ট !!!

ভাল লাগল...........

কেউ একজন পেলাম .........

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:১১

নির্জন শিশির বলেছেন: ধন্যবাদ, সব হারিয়েও মানুষ বেঁচে থাকে, আর সেটাই বোধহয় সবচেয়ে কঠিন।

ভাল থাকবেন নিরন্তর, শুভকামনা রইল

১৩| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:৪৯

আজমান আন্দালিব বলেছেন: ভালো

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:১১

নির্জন শিশির বলেছেন: ধন্যবাদ

১৪| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:৫৮

মুক্তবন্দী বলেছেন: অসাধারন..............

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:১২

নির্জন শিশির বলেছেন: ধন্যবাদ

১৫| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৬:০২

এম এম ইসলাম বলেছেন: ভাল। ব্লগিং চালিয়ে যান। নতুন হিসেবে অসাধারন লিখেছেন।

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:১০

নির্জন শিশির বলেছেন: ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.