| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অবশেষে সাত ঘন্টার
জার্নি শেষে বাড়ি পৌছুলাম আমি।
আমার মা কে পা ছুয়ে সালাম করলাম।
আম্মু প্রতি বারের মত নেই। উনার
চোখ কপালে উঠে গেছে।
-এইটা কে?
আমি চুপ। আম্মু আবারো চিৎকার
দিয়ে বলে উঠলেন,
বলবি তো কে এটা?
আমি কিচ্ছু বললাম না।
আমার পাশে থাকা মেয়েটা আম্মুর
পা ছুতে চাইলো। আম্মু সালাম
নিলেন।
-তুমি কে?
-আমি ই ই ই......
-বল কে?
পাশে কম্পিউটারে গেম
খেলতে ব্যাস্ত আমার ছোট ভাই।
তার কন্ঠস্বর ভারি হয়ে উঠলো।
-ভাইয়া,এটা কি ললনা?
-হ্যা।
আম্মু হতবাক। ছোট ভাই এর
মুখে কথাটা শুনে আম্মুর মাথায়
আকাশ ভেঙে পড়লো।আম্মু
আমাকে জিগেস করলো-
-ললনা মানে?
-ললনা মানে ললনা।
-তুই কি স্পষ্ট
কথা বলা ভুলে গেছিস?
-না।
-তাহলে বলছিস না কেন?
-আম্মু ও কে আমার পছন্দ। তাই
আদর করে ললনা ডাকি।
-তো এখানে আনলি কেন?
-ও চলে আসছে।
তোমাকে দেখতে চেয়েছিল।
-তোর বয়স কত?
-না মানে, ঊনিশ।
-এই
বয়সে একটা মেয়েকে নিয়ে এসেছিস?
-আমার কি দোষ?ও ই তো আসছে।
ললনা চুপ করে আছে। আম্মুর
রক্তচক্ষু দেখে ও কেদেই দিল।
আমার
ভাই বললো-'ভাইয়া তোর
ললনা তো দেখি ছিঁচকাঁদুনী। এই
মেয়েকে তোর পছন্দ হলো কেমনে?
আমি চিল্লানি দিয়ে বললাম,'চুপ কর।
ও তোর ভাবি।
আম্মুর কান ফাটলো।
-তুই বিয়েও করে ফেললি নাকি?
-এক বার করছি।
-মেয়ের বাবা মা জানে?
-না।
-কি বলেছিস এখানে আসার কথা?
-ওদের কলেজ
থেকে পিকনিকে যাচ্ছিল। সেই
সুযোগে........
আমার ভাই আবারো বলে,'খুব
তো ভাব দেখাস।
বাংলা সিনেমা দেখিস না। এখন
তো তুই ই সিনেমা বানিয়ে ফেললি।
আমি চুপ। ললনাও চুপ। কিছুই
বলতে পারছি না। সিনেমার ভিলেন
হিসেবে আসলো,আমার নানু।এই
ভিলেন টা অন্য রোল প্লে করলো।
-কিরে ভাই?বলেই থমকে গেলেন নানু।
চক্ষু চড়ক গাছ করে বললেন,'ভাই
এইটা কে?
মানুষ না পরী?আসার সময়
কি ডানা রেখে এসেছে?
ললনা হেসে দিল।
আমি আম্মুকে যমদূতের মত ভয়
পাই। সেই আমিও হেসে দিলাম।
উঠোনে মুরগী তাড়ানোর ছড়ি ছিল।
আম্মু সেটার মাঝখানে ভেঙেই
আমার পিঠে চড়ালো। ছোট
কালে ক্রিকেট খেলতে গেলে এই
ভাবেই মারতো। আর আমি বলতাম
-'ও আম্মু, আর করবো না। এই
শেষ।' আজ ও বলে দিলাম 'ও আম্মু
আর করবো না বিয়ে, এটাই শেষ। '
আমার কথা শুনে হাসির রোল
পড়ে গেল সবার মাঝে। আম্মু আর
মারতে পারলো না। ললনার
দিকে তাকিয়ে বলে-
-তোমার কি বিবেক বুদ্ধি নাই?
এভাবে কেউ অন্যের বাড়ি আসে?
-আমাকে ও বলেছে।
-কি বলেছে?
-আপনাদের বাড়িতে ছোট্ট
একটা পুকুর আছে। সান বাধানো।
পুকুরে নাকি দুটো রাজ হাস
গলা উচিয়ে সারা দিন সাতার কাটে।
একটা ছোট্ট বাগান আছে। কিছু হাস
মুরগী আছে। আর কিছু কবুতর আছে।
-বাহ!! সাহিত্যিকের
মতো বর্ণণা দেয় আমার ছেলে।
-আরো বলেছে।
-কি কি?
-আমার নাকি ছোট্ট একটা দেবর
আছে। ভালো একজন শ্বাশুড়ি আছে।
আর একটা সতীন আছে।
ওর কথা শুনে আম্মু
মুচকি হেসে দিল।সতীন মানে আমার
নানুও হেসে দিল।
খালি মাড়ি দেখিয়ে হাসছে। দাত নেই
তো।
-তোমার নাম কি?
-** (নাম বললো)
-বেশ সুন্দর নাম তো।
-আমি কি আরেক বার সালাম
করতে পারি?
-বোকা মেয়ে, এটা জিগেস
করা লাগে?
-আমাকে আপনার পছন্দ হয়েছে মা?
-সব কি বলতে হয় মেয়ে?বোঝনা?
ললনা সালাম করলো আম্মুকে আর
নানুকে। আমার ছোট ভাই
হা করে তাকিয়ে আছে। ও কেদে দিল।
-মানবো না। ভাইয়া বড়
হয়েছে দেখে সব সুবিধা ওর?
সারাজীবন সব কিছু আগে পায়।
ফোন, ল্যাপটপ সব আমার
আগে পেয়েছে। এখন বউ ও আমার
আগে পেয়েছে। যাই হউক ভাবি,
আমি তোমাকে ললনা ভাবি নামে ডাকবো।
ছিঁচকাঁদুনী মেয়েটাও হেসে দিল।
আম্মু ও হাসছে।
আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে পিঠ ডলছি।
আম্মুর ছড়ির বাড়িটা একটু জোরেই
লেগেছে। ললনার
সামনে কাদলে প্রেস্টিজ পাংচার।
কাদতেও পারছি না।
©somewhere in net ltd.