নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এইচ. আর. হাবিব

জীবনের পথে আমি, বকুলের মতো যদি ঝরে যায়। রঙিন আলোর মাঝে, নিজেকে হঠাৎ যদি কখনো হারায়। সেদিনও খোদা তুমি, তোমার দিনের পথে ফিরায়ো আমার।

এইচ. আর. হাবিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

"মীরার একলা দূপুর"

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৪৫

মীরা প্রতিদিনের মত আজও

ছাদের ঠিক সেই

জায়গাটায় দাড়িয়ে আছে , এটা যেন

একটা রুটিন

হয়ে গেছে । গত এক মাস

ধরে সে ছাদের এই কোনাটায়

দাড়িয়ে একজনের জন্য

অপেক্ষা করে । মীরা নবম

শ্রেনীতে পড়ে , ভাল

কবিতা লেখে । ঐ নাম

না জানা ছেলেটাকে নিয়েও

ইতিমধ্যে কয়েকটা কবিতা লিখে ফেলেছে সে ।

ছেলেটা প্রতিদিন দুপুরে মীরাদের

দোতলা বাড়ির

সামনের রাস্তাটা দিয়ে সাইকেল

চালিয়ে দ্রুত

বেগে চলে যায় । ছেলেটার

সাইকেলটাও খুব সুন্দর ,

মীরা গতকাল সাইকেলটা নিয়েও

একটা কবিতা লিখে ফেলেছে ।

মীরা বারবার ঘড়ির

দিকে তাকাচ্ছে , সময় যেন

কাটছেই না । ছেলেটার নাম

কি ,কোথায় থাকে ,

কিসে পড়ে মীরা কিছুই জানেনা ,

ছেলেটার

পরনে সাদা শার্ট আর

কালো প্যান্ট থাকে সব সময় ।

তাই মীরা ভাবছে আজ

থেকে ছেলেটাকে "মি.

সাদাকালো " বলেই ডাকবে । মীরার

ধারনা ছেলেটা ইন্টারে পড়ে ।

ধুর ! বৃষ্টি আসার আর সময়

পেলনা বুঝি ? শুরু হল

ঝুম বৃষ্টি . . . .

মীরা . . মীরা . . তাড়িতাড়ি ছাদ

থেকে নেমে আয় ,

বৃষ্টিতে ভিঁজবিনা বলছি !

তাড়াতাড়ি ভিতরে আয় . . . .

মীরার মা অনবরত ডেকে যাচ্ছে ,

মীরার

সে দিকে খেয়াল নেই । তার খেয়াল

"মি. সাদাকালো "র

পথের দিকে , এই বুঝি এল . . এই

বুঝি এল . . ইস !

অপেক্ষা যেন আর শেষই হয়না ।

ছেলেটা যখন দ্রুত বেগে সাইকেল

চালিয়ে যায় তখন

তার

চুলগুলো বাতাসে উড়তে থাকে ,

মীরা মুগ্ধ

দৃষ্টিতে সেই দিকে তাকিয়ে থাকে ।

ইচ্ছে করে হাত

দিয়ে চুলগুলো ছুঁয়ে দেখতে ,

আরও কত

কি যে ইচ্ছে করে মীরার . . . .

মীরার

মাঝেমাঝে ইচ্ছা করে ছেলেটার

সাথে কথা বলতে , ছেলেটার

সাইকেলে চড়ে পাড়ার

অলিগলি দিয়ে ঘুরতে ,

একসাথে আইসক্রিম খেতে . . . .

মীরা মাঝেমাঝে ভাবে এত

ছেলে থাকতে তার এই

ছেলেকেই কেন এত ভাল লাগে ?

ছেলটা দেখতে সুন্দর

বলে ? ওর

চুলগুলো বাতাসে উড়ে বলে ? খুব

দ্রুত

সাইকেল চালায় বলে ?

ছেলেটা ধবধবে সাদা শার্ট

পড়ে বলে . . . .

না , কারনটা মীরা ঠিক

ধরতে পারছেনা ।

তবে ছেলেটাকে একদিন

না দেখলে সারাটা দিন

অস্থিরতায় কাটে তার , রাতে ঘুম

আসেনা , বারবার

ছেলেটাকে দেখতে মন চায় ।

বৃষ্টিটা খুব বেড়েছে । না , আজ

মনে হয়

ছেলেটা আসবে না । মীরার মনটাই

খারাপ হয়ে গেল ,

ছেলেটা মাঝেমাঝেই এমন করে ।

মনের ভিতর খুব রাগ

জমেছে ছেলেটার উপর , আর

বৃষ্টি সেই রাগ

গলিয়ে ক্রমশ অভিমানের

দিকে নিয়ে যাচ্ছে ।

মীরা চলে যাচ্ছে , ঠিক এমন সময়

ছেলেটা ঝড়ের

বেগে এসে সাইকেলটা থামিয়ে সামনের

দোকানটাতে ঢুকে পড়ল ।

ভিঁজে ছেলেটা একাকার

হয়ে গেছে , শার্ট থেকে টপটপ

করে পানি পড়ছে ।

মীরা দ্রুত বাসার ভিতর

থেকে একটা ছাতা নিয়ে আসলো ,

তারপর

ছেলেটাকে হাত দিয়ে ইশারা করল ।

ছেলেটা এই প্রথম

মীরার দিকে তাকাল , মীরার কেন

যেন মনে হল তার

গায়ে বাজ পড়েছে ! লক্ষ

ভোল্টের বিদ্যুত যেন তার

শরীর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে !

কি অদ্ভুত সুন্দর এক

জোড়া চোখ ছেলেটার . . . .

মীরা ছাতাটা ছুড়ে মারল ,

ছেলেটা দ্রুত

ছাতাটা নিয়ে মীরাকে থ্যাংকস দিল

। আর বলল

আগামী কালই ছাতাটা ফেরত

দিয়ে যাবে । তারপর

ছেলেটা চোখের পলকে সাইকেল

নিয়ে হারিয়ে গেল ।

মীরার মনে অসংখ্য কবিতার লাইন

ঘুরছে ,

হারিয়ে যাওয়ার আগেই

সেগুলোকে ডায়রিতে বন্ধী করতে হবে . . . .

আমি বাধা পড়েছি

তার দুটি চোখে ,

এক পলক দেখেছে সে আমায়

শ্রাবনের জল মেখে ।

হৃদয় আকাশে আজ

রংধনু দেয় উঁকি ,

আমি সাতরঙে বেঁধেছি তারে

পারবেনা দিতে আর ফাঁকি . . . .

এতক্ষন আপনারা গল্পের

যে অংশটুকু পড়লেন

সেটা ঠিক এক বছর আগের কথা ,

গত একটা বছর

মীরা ছেলেটার অপেক্ষায়

থেকেছে । কিন্তু

ছেলেটাকে আর সাইকেল

চালিয়ে যেতে দেখেনি মীরা ।

সেই

যে ছেলেটা ছাতা নিয়ে চলে গেল ,

আর আসেনি ।

মীরার খুব ইচ্ছা ছিল "মি.

সাদাকালো " কে তার কিছু

প্রিয় কবিতা পাঠ করে শুনাবে ।

দিন দিন মীরার

ডায়েরিতে কবিতার সংখ্যা বেড়েই

চলেছে , কিন্তু সেই

কবিতা শুনতে আর কেউ আসেনি ।

দুপুর ১.৩০ ।

মীরা দাড়িয়ে আছে ছাদের ঠিক

সেই

জায়গাটায় । আকাশে জমাট

বাধা কালো মেঘ , যেকোন

সময় বৃষ্টি নামবে । বছর

পেরিয়ে ঠিকই আবার

ফিরে এসেছে শ্রাবন , কিন্তু "মি.

সাদাকালো " আজও

ফেরেনি ।

কখনো ফিরবে কিনা তাও

জানেনা মীরা ।

মীরা জানে একটু পরেই

বৃষ্টি নামবে , ভারী হিমেল

বাতাস সে কথাই বলছে । সামনের

রাস্তাটা দিয়ে অনেকেই হয়ত দ্রুত

বেগে সাইকেল

চালিয়ে চলে যাবে , কিন্তু তাদের

মাঝে কি "মি.

সাদাকালো " নামে কেউ একজন

থাকবে ? সেই

দুটি চোখ কি আবার

দেখতে পাবে মীরা ?

মীরা অপলক তাকিয়ে আছে সেই

রাস্তাটার দিকে . . . .

"মি.

সাদাকালো "কে নিয়ে লেখা মীরার

কবিতাগুলো সাদা কাগজে কালো কালি হয়েই

থেকে গেল ,

রঙিন প্রজাপতি হয়ে আর

ঢানা মেলতে পারলো না নীল

আকাশে । কোন দিনই কি আর

পারবেনা ?

হয়ত পারবে . . . . হয়ত

পারবেনা . . . .

মীরা মাঝেমাঝে ভাবে যে ছেলেটার

সর্ম্পকে সে কিছুই

জানেনা এমনকি নামটাও জানেনা ,

তার জন্য দিনের

পর দিন মাসের পর মাস কেন এই

অপেক্ষা ? এই

প্রশ্নের উত্তর মীরার জানা নেই ।

মানুষের যখন কিছুই করার

থাকেনা তখন কেবল

একটা জিনিসই করার থাকে ,

অপেক্ষা . . . . শুধুই

অপেক্ষা . . .

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.