| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মীরা প্রতিদিনের মত আজও
ছাদের ঠিক সেই
জায়গাটায় দাড়িয়ে আছে , এটা যেন
একটা রুটিন
হয়ে গেছে । গত এক মাস
ধরে সে ছাদের এই কোনাটায়
দাড়িয়ে একজনের জন্য
অপেক্ষা করে । মীরা নবম
শ্রেনীতে পড়ে , ভাল
কবিতা লেখে । ঐ নাম
না জানা ছেলেটাকে নিয়েও
ইতিমধ্যে কয়েকটা কবিতা লিখে ফেলেছে সে ।
ছেলেটা প্রতিদিন দুপুরে মীরাদের
দোতলা বাড়ির
সামনের রাস্তাটা দিয়ে সাইকেল
চালিয়ে দ্রুত
বেগে চলে যায় । ছেলেটার
সাইকেলটাও খুব সুন্দর ,
মীরা গতকাল সাইকেলটা নিয়েও
একটা কবিতা লিখে ফেলেছে ।
মীরা বারবার ঘড়ির
দিকে তাকাচ্ছে , সময় যেন
কাটছেই না । ছেলেটার নাম
কি ,কোথায় থাকে ,
কিসে পড়ে মীরা কিছুই জানেনা ,
ছেলেটার
পরনে সাদা শার্ট আর
কালো প্যান্ট থাকে সব সময় ।
তাই মীরা ভাবছে আজ
থেকে ছেলেটাকে "মি.
সাদাকালো " বলেই ডাকবে । মীরার
ধারনা ছেলেটা ইন্টারে পড়ে ।
ধুর ! বৃষ্টি আসার আর সময়
পেলনা বুঝি ? শুরু হল
ঝুম বৃষ্টি . . . .
মীরা . . মীরা . . তাড়িতাড়ি ছাদ
থেকে নেমে আয় ,
বৃষ্টিতে ভিঁজবিনা বলছি !
তাড়াতাড়ি ভিতরে আয় . . . .
মীরার মা অনবরত ডেকে যাচ্ছে ,
মীরার
সে দিকে খেয়াল নেই । তার খেয়াল
"মি. সাদাকালো "র
পথের দিকে , এই বুঝি এল . . এই
বুঝি এল . . ইস !
অপেক্ষা যেন আর শেষই হয়না ।
ছেলেটা যখন দ্রুত বেগে সাইকেল
চালিয়ে যায় তখন
তার
চুলগুলো বাতাসে উড়তে থাকে ,
মীরা মুগ্ধ
দৃষ্টিতে সেই দিকে তাকিয়ে থাকে ।
ইচ্ছে করে হাত
দিয়ে চুলগুলো ছুঁয়ে দেখতে ,
আরও কত
কি যে ইচ্ছে করে মীরার . . . .
মীরার
মাঝেমাঝে ইচ্ছা করে ছেলেটার
সাথে কথা বলতে , ছেলেটার
সাইকেলে চড়ে পাড়ার
অলিগলি দিয়ে ঘুরতে ,
একসাথে আইসক্রিম খেতে . . . .
মীরা মাঝেমাঝে ভাবে এত
ছেলে থাকতে তার এই
ছেলেকেই কেন এত ভাল লাগে ?
ছেলটা দেখতে সুন্দর
বলে ? ওর
চুলগুলো বাতাসে উড়ে বলে ? খুব
দ্রুত
সাইকেল চালায় বলে ?
ছেলেটা ধবধবে সাদা শার্ট
পড়ে বলে . . . .
না , কারনটা মীরা ঠিক
ধরতে পারছেনা ।
তবে ছেলেটাকে একদিন
না দেখলে সারাটা দিন
অস্থিরতায় কাটে তার , রাতে ঘুম
আসেনা , বারবার
ছেলেটাকে দেখতে মন চায় ।
বৃষ্টিটা খুব বেড়েছে । না , আজ
মনে হয়
ছেলেটা আসবে না । মীরার মনটাই
খারাপ হয়ে গেল ,
ছেলেটা মাঝেমাঝেই এমন করে ।
মনের ভিতর খুব রাগ
জমেছে ছেলেটার উপর , আর
বৃষ্টি সেই রাগ
গলিয়ে ক্রমশ অভিমানের
দিকে নিয়ে যাচ্ছে ।
মীরা চলে যাচ্ছে , ঠিক এমন সময়
ছেলেটা ঝড়ের
বেগে এসে সাইকেলটা থামিয়ে সামনের
দোকানটাতে ঢুকে পড়ল ।
ভিঁজে ছেলেটা একাকার
হয়ে গেছে , শার্ট থেকে টপটপ
করে পানি পড়ছে ।
মীরা দ্রুত বাসার ভিতর
থেকে একটা ছাতা নিয়ে আসলো ,
তারপর
ছেলেটাকে হাত দিয়ে ইশারা করল ।
ছেলেটা এই প্রথম
মীরার দিকে তাকাল , মীরার কেন
যেন মনে হল তার
গায়ে বাজ পড়েছে ! লক্ষ
ভোল্টের বিদ্যুত যেন তার
শরীর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে !
কি অদ্ভুত সুন্দর এক
জোড়া চোখ ছেলেটার . . . .
মীরা ছাতাটা ছুড়ে মারল ,
ছেলেটা দ্রুত
ছাতাটা নিয়ে মীরাকে থ্যাংকস দিল
। আর বলল
আগামী কালই ছাতাটা ফেরত
দিয়ে যাবে । তারপর
ছেলেটা চোখের পলকে সাইকেল
নিয়ে হারিয়ে গেল ।
মীরার মনে অসংখ্য কবিতার লাইন
ঘুরছে ,
হারিয়ে যাওয়ার আগেই
সেগুলোকে ডায়রিতে বন্ধী করতে হবে . . . .
আমি বাধা পড়েছি
তার দুটি চোখে ,
এক পলক দেখেছে সে আমায়
শ্রাবনের জল মেখে ।
হৃদয় আকাশে আজ
রংধনু দেয় উঁকি ,
আমি সাতরঙে বেঁধেছি তারে
পারবেনা দিতে আর ফাঁকি . . . .
এতক্ষন আপনারা গল্পের
যে অংশটুকু পড়লেন
সেটা ঠিক এক বছর আগের কথা ,
গত একটা বছর
মীরা ছেলেটার অপেক্ষায়
থেকেছে । কিন্তু
ছেলেটাকে আর সাইকেল
চালিয়ে যেতে দেখেনি মীরা ।
সেই
যে ছেলেটা ছাতা নিয়ে চলে গেল ,
আর আসেনি ।
মীরার খুব ইচ্ছা ছিল "মি.
সাদাকালো " কে তার কিছু
প্রিয় কবিতা পাঠ করে শুনাবে ।
দিন দিন মীরার
ডায়েরিতে কবিতার সংখ্যা বেড়েই
চলেছে , কিন্তু সেই
কবিতা শুনতে আর কেউ আসেনি ।
দুপুর ১.৩০ ।
মীরা দাড়িয়ে আছে ছাদের ঠিক
সেই
জায়গাটায় । আকাশে জমাট
বাধা কালো মেঘ , যেকোন
সময় বৃষ্টি নামবে । বছর
পেরিয়ে ঠিকই আবার
ফিরে এসেছে শ্রাবন , কিন্তু "মি.
সাদাকালো " আজও
ফেরেনি ।
কখনো ফিরবে কিনা তাও
জানেনা মীরা ।
মীরা জানে একটু পরেই
বৃষ্টি নামবে , ভারী হিমেল
বাতাস সে কথাই বলছে । সামনের
রাস্তাটা দিয়ে অনেকেই হয়ত দ্রুত
বেগে সাইকেল
চালিয়ে চলে যাবে , কিন্তু তাদের
মাঝে কি "মি.
সাদাকালো " নামে কেউ একজন
থাকবে ? সেই
দুটি চোখ কি আবার
দেখতে পাবে মীরা ?
মীরা অপলক তাকিয়ে আছে সেই
রাস্তাটার দিকে . . . .
"মি.
সাদাকালো "কে নিয়ে লেখা মীরার
কবিতাগুলো সাদা কাগজে কালো কালি হয়েই
থেকে গেল ,
রঙিন প্রজাপতি হয়ে আর
ঢানা মেলতে পারলো না নীল
আকাশে । কোন দিনই কি আর
পারবেনা ?
হয়ত পারবে . . . . হয়ত
পারবেনা . . . .
মীরা মাঝেমাঝে ভাবে যে ছেলেটার
সর্ম্পকে সে কিছুই
জানেনা এমনকি নামটাও জানেনা ,
তার জন্য দিনের
পর দিন মাসের পর মাস কেন এই
অপেক্ষা ? এই
প্রশ্নের উত্তর মীরার জানা নেই ।
মানুষের যখন কিছুই করার
থাকেনা তখন কেবল
একটা জিনিসই করার থাকে ,
অপেক্ষা . . . . শুধুই
অপেক্ষা . . .
©somewhere in net ltd.