| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এই ভাইয়া ঔষধ খেয়েছিস?
--নারে ইচ্ছে করছেনা।
--তুই যে গাধা সেটা জানিস?
--হুম আমার
লক্ষ্মী বোনটা মিথ্যে বলতে পারেনা।
--এই ন্যাকামু না করে যা ঔষধ
খেয়ে নে আর
আমি কলেজে যাচ্ছি তাই কল
দিতে পারবো না দুপুরে খেয়ে নিস
নাহলে দেখবি।
--ওকে পেত্নী আমার মাও এত শাসন
করেনি।
--সেজন্যই তো গোল্লায় গেছো।
আমি জানি পাগলীটা আবার কল
দেবে দুপুরে খাওয়ার জন্য।আমার আপন
বোন না হওয়া সত্ত্বেও
মেয়েটি অনেকবেশী আপন হয়ে যায়
অল্প দিনের ব্যবধানে তার বকুনি শাসন
আমার সব ঠিকঠাক রাখে।
সেদিন সারাদেশ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
দুটি মোবাইলে চার্জের
অবস্থা যায়যায় বেলা বারোটার
আগেই অফ হয়ে গেলো দুটি মোবাইল।
মেজাজ খারাপ কেউ কল
করলে পাবেনা তাছাড়া সবচেয়ে বড়
কথা এফবিতে ডুকা হবেনা।খুব
অস্থিরতায় সময় কাঁটছিলো কারন
বোনটি কি সব
জরুরী কথা বলেছিলো যেহেতু
মোবাইল
অফ তাই যোগাযোগ পসিবল না।
কারেন্ট আসলো প্রায় সন্ধ্যা সাতটায়
তাড়াহুড়ো করে মোবাইলে চার্জে লাগিয়ে মোবাইল
অন করে এফবিতে ডুকলাম ডুকেই
দেখি বোনটির অনেক মেসেজ।
--ভাইয়া আমি খুব
বিপদে আছি আগামী পরশু আমার
বিয়ে।
--প্লিজ ভাইয়া কথা বল তোর মোবাইল
অফ কেন আমি এখন কি করবো?
--ভাইয়া ছেলেটিকে আমার পছন্দ নয়
প্লিজ বলনা কি করবো?
--এই ভাইয়া তুই আমার সাথে একটু
কথা বল
প্লিজ।
--ও আমার বিপদের সময় তুইও পর
হয়ে গেলি আচ্ছা আমি বিয়ে করবো কিন্তু
দেখিস আর
কক্ষনো কথা বলবোনা কক্ষনো না।
আমি চলে যাচ্ছি তুই ভালো থাকিস।।
মেসেজের
রিপ্লে দিতে গিয়ে দেখি আইডি অফ
মোবাইলে কল দিলাম তাও বন্ধ খুব
কান্না পাচ্ছিলো বোনটি আমায় ভুল
বুঝে চলে গেলো দুনীর্তির ফলে সব
স্থানে ত্রুটি আর এর শিকার সবসময়
আমরা সাধারণ পাবলিকরাই।
কয়েকদিন আগে বোনটা ফোন দিলো।
--ভাইয়া কেমন আছিস তুই?
--এইতো তুই কেমন আছিস?
--এখনো ঘুমাচ্ছিস সেই গাধাই
রয়ে গেলি?
--এখনতো আর তোর মত কেউ শাসন
করেনা তাই।
--আমি খুব
কষ্টে আছিরে ভাইয়া সুইসাইড
করতে গিয়ে বেঁচে গেছি মরণও আমার
সাথে প্রতারণা করলো।
--এই কি বলিস কি হইছে তোর?
--আম্মু জোর করে ওর বান্ধবীর ছেলের
সাথে বিয়ে দিয়েছিল এই
ছেলেটিকে আমার মোটেও পছন্দ নয়
জানিস ভাইয়া ছেলেটি আমার ইচ্ছের
বিরুদ্ধে প্রতিদিন আমাকে ধর্ষণ
করতো তারপর ঘুমের ট্যাবলেট
খাওয়া শুরু
করি ভাবলাম রেহাই পাব কিন্তু
না সকালে উঠে দেখতাম আমি নগ্ন
অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছি।জানিস
ভাইয়া আমি প্রতিদিন কাঁদি ও বিকৃত
যৌনাচারে অভ্যস্ত ছিলো শেষমেশ
বাধ্য হয়ে সুইসাইড করতে যাই।
আম্মুকে বলেছি যদি ওর বাসায়
যেতে হয় তবে আবার সুইসাইড
করবো আম্মু
ডিভোর্স এর কথা ভাবছে।
--তুই আমাকে এইসব কেন বললি না?
--তুই কষ্ট পাবি তাই।
--তুই একটা স্টুপিড গাধি তুই তুই...
--এই বোকা ভাইয়ামনি তুই কাঁদিস
কেন?
--না ম্যাডাম
কাঁদিনা চোখে পোকা পড়েছে।
--চোখে পোকা পড়লে কন্ঠে কান্নার
স্বর বুঝা যায়না।
--আচ্ছা একটু পর কল করছি মোবাইল আর
অফ
করবিনা।
--আচ্ছা ভাইয়া রাখ তুই মনে হয় আরও
কাঁদবি সেই পিচ্চিই রয়ে গেলি।
মোবাইল রেখে দিলাম
অশ্রুতে ভেসে যাচ্ছিল চোখ
আসলে আমাদের দেশের
মেয়েরা বিয়ের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যর
স্বীকার হয়।একজন ছেলে তার পছন্দ
অনুযায়ী বিয়ে করতে পারলেও
মেয়েরা যতই শিক্ষিত হোক
পরিবারের
পছন্দেই তাকে বিয়ে করতে হবেই।
কিন্তু তাদেরও পছন্দ আছে অধিকার
আছে কাউকে ভালবাসার কিন্তু
আমাদের পরিবার
গুলো তা বুঝেনা বুঝিনা আমরা আমাদের
উচিত নয়
কি বিয়ে করতে যাওয়া মেয়েটিকে একটিবার
জিজ্ঞেস করা তার কোন পছন্দ
বা ভালবাসার মানুষ আছে কিনা?
অথবা যাকে বিয়ে করবে তাকে মেয়েটির
পছন্দ কিনা?জোর করে দেহ ভোগ
করা যায় কিন্তু মন
ভালবাসা পাওয়া যায়না।
আসুন আমরা মেয়েদের পছন্দের মুল্য দিই
তাদের মানুষ
ভাবি না হলে সারাজীবন এমন
একজনের
সাথে সংসার
করতে হবে যে কখনো ভালবাসতে পারবেনা।
©somewhere in net ltd.