নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এইচ. আর. হাবিব

জীবনের পথে আমি, বকুলের মতো যদি ঝরে যায়। রঙিন আলোর মাঝে, নিজেকে হঠাৎ যদি কখনো হারায়। সেদিনও খোদা তুমি, তোমার দিনের পথে ফিরায়ো আমার।

এইচ. আর. হাবিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

***আদমময় খেলা***

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:৪৫

আজ নাকি সত্য-প্রবাহ বইছে।
বাইরে অনেক
ঠান্ডা, বাতাস আজ পাড়ার বড়
ভাইগুলোর
মতোই দাপট দেখাচ্ছে।
আমি বাসার নিচে চায়ের
দোকানে বসে আছি। বাম হাতে চায়ের
কাপ,
ডান হাতে জ্বলন্ত সিগারেট।
এই শিরম ঠান্ডায়, গরমের সাথে গরম
খাওয়ার প্রতিযোগিতা চালাচ্ছি।
প্রতিযোগিতায় কখনো জয় হয়
সিগারেটের,
কখনও বা চায়ের। চারটি খালি কাপের
পাশে পড়ে আছে চারটি মৃত সিগারেট।
আজকের প্রতিযোগিতায় দুইবার
চা জিতল,
এবং বাকি দুই বার সিগারেট। টান টান
উত্তেজনা।
আজকের প্রতিযোগিতা,সর্ বশেষ
বিজয়ী কে হবে? চা নাকি সিগারেট?
-অনি! মামা! আরেক কাপ চা বানামুু?
-হ! মামা, জলদি বানাও! রসিক
নয়া গান
ধরার আগেই, চুমুক দেওন লাগে।
মিষ্টি বাড়াইয়া, দাও দেহি এক কাপ।
এই এলাকাতে এসেছি বেশি দিন
হয়নি।
প্রথম যেদিন মামার দোকান গেলাম,
সেইদিনই মামার দোকানে সাত কাপ
চা খেয়ে, মামার অন্যতম প্রিয়
কাস্টমার
হয়ে গেছি। কেন জানি না, এই
ঘটনাটাকে কেন্দ্র করে আমার
পরিচিতি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে,
চাখোড়
হিসেবে। কিন্তু আমার
চা অথবা সিগারেট
কোনা কিছুরই নেশা নেই। তবুও
এলাকার
মানুষ আমাকে একটি উপাধি দিয়েছে,
সেটাই বা কম কিসের?
সিগারেট টা ধরাতে ধরাতে রসিক
(দাদা)
এর দিকে তাকালাম।
তাকে দেখে আমার
সবসময় একটা ভাব সম্প্রসারণের
কথা মনে পড়ে। 'বৃক্ষ তোমার নাম
কি,
ফলে পরিচয়'। এরকম মনে হওয়ার
কারনটা তেমন যুক্তি সঙ্গত নয়।
তবে একটা যুক্তি মাথায় খেলছে।
মূলত
রসিকের আসল নাম আজিম উদ্দিন
খাঁ। কিন্তু
পাড়ার কেও এই
নামে তাকে চিনবে বলে,
মনে হয় না। কিন্তু এলাকার
ছেলে বুড়ো যে কোন
ব্যক্তিকে রসিক-দরদীর
কথা জিজ্ঞাসা করলে,
হাসতে হাসতে আঙুল
তুলে দেখিয়ে দেবে বাবড়ি চুলের,
গেরুয়া রঙের চাদর পড়া মধ্য-বয়স্ক
মানুষটার দিকে। তবে সবার এই হাসির
রহস্যটা, এখনো উৎঘাটন
করতে পাড়লাম না।
রসিক-দরদী থাকে নন্দনপুর গ্রামে।
প্রায়ই
একটা গেরুয়া চাদর পড়ে, রসিক
চলে আসে আমাদের পাড়ায়। চায়ের
দোকানে বসে এক কাপ
চা হাতে নিয়ে গান
ধরে সে। আধ্যাত্মিক যগতের গান।
কখনও
সে নিজের লেখা গান গায়, কখনও
চায়ের
দোকান মাতিয়ে তোলে লালন
ফকিরের
গানে। তার গানের কন্ঠ
ততোটা সুন্দর
না হলেও লোক জমাতে আর চায়ের
ব্যবসা জমাতে তার গানের
তুলনা করা সম্ভব না। গানের
মাঝে মাঝে হঠাৎ সে থেমে যায়।
উৎসুক
চা-খোড় মানুষগুলো অবলীলায় তার
দিকে তাকিয়ে থাকে। সবার চোখ
জ্বল জ্বল
করে। এই বুঝি রসিক বলবে তার মন
গড়া কোন আধ্যাত্মিক বাণী। আর
তা শুনে উপস্থিত জনতার ফুসফুস
থেকে নর্গত
হবে কিছু হতাশা, কখনো সেটা কিছু
মানুষের
কষ্ট বাড়িয়ে তাকে মন
থেকে ঝেড়ে ফেলার
প্রচেষ্টা, কখনও আবার কারও
মনে বাসা বাধে, চাওয়া-পাওয়ার ছোট
ছোট
স্বপ্ন।
-অনি! বাজান, লেভারটা তো নষ্ট
হইয়া যাইবো। একলগে এতো চা-
সিগিরেট
খাওয়া তো বালা না। (রসিক-দরদী)
-দাদা, আমারে কইতাছো? (অনি)
-হ! বাজান, তোমারেই। পাচঁটা চা-
সিগিরেট তো খাইলা, আর কত,
খাইবা?
-দাদা,
গরমে গরমে প্রতিযোগিতা করতাছি।
-কি 'যোতা' করতাছো?
-কিছু না, দাদা। আরেকটা গান ধর।
-গান তো আর আহে না।
গলা বইয়া গেছে।
গান গলাত লাগে না।
-চা খাইবা? ভাল লাগব।
-হ! এক কাপ চা খাইলে তো ভালাই
অয়।
-গান তো বাইর হয় নায়, একখান
কথা কও
দেখি দামি দেইক্কা।
-কতা আর কি কমু, বাজান, মনে সুখ
পাই না।
-কেন? তোমার মনের কি হইল আবার?
-ছুডু মাইয়াডার জ্বর। বউয়ের
সইলডাও
ভালা না।
-ডাক্তার দেখাইছো? ওষুধ
দিছো কোনো?
-নাগো বাজান, দুই বেলা খাওন
দিতারি না,
আবার ওষুধ......
-চলো, তোমার বাইত যামু আজকা,
দেইক্কা আহি, তোমার মাইয়ার
কি জ্বর
হইছে...
-তুমি কষ্ট কইরা যাইবা? অত দূর?
-হ! যামু... তোমার দুইডা ওষুধ
কিন্না দিমু।
আহো....
আমরা দুজন হাটছি। দুটি পথের
দুটি মানুষ।
কিন্তু আজ দো-পথী মানুষ দুটির
একটি মাটির পথ। প্রচন্ড
খুরধারী বাতাস
আমাদের কিসের
যেনো শাস্তি দিচ্ছে।
মরে হয় বাতাস চটে গেছে এই
দুটো পথিকের
উপর। এতো ঠান্ডার
মাঝে আমি একটি নীল
পাঞ্জাবি পড়ে হাটছি। রসিক
পড়েছে গেরুয়া রঙের পাতলা চাদর।
এটা মনে হয় শীতের
প্রেস্টিজে লেগেছে।
এজন্য বাতাস সত্য-প্রবাহের
আদেশে তীক্ষ্ণ
বেগে বয়ে আসছে আমাদের দিকে।
বাতাসের
দাপটে আমরা দু জন কাপছি।
-বাজান! এই জগৎটা হইলো এক্খান
বড়
মাঠের লাহান।
-তাই নাকি??
-হ! বাজান। এই মাঠে আমরা হগলেই
আমাগো খেলা লইয়া পইড়া থাকি।
কেও
কারও দিকে ফিরা দেহি না।
আমরা হগলেই
মায়ের পেট থেইক্কা বাইর
হইয়া খেলাত
নাইম্মা গেছি। কিন্তু.....
-কিন্তু কি? দাদা?
-কিছু আদম আছে হেরা এই খেলায়
মাতে না।
খেলা দেহে। খেলার মজা লয়। কিন্ত
খেলে না। মজার ব্যাপার
কিতা জানো?
বাজান?
-কি?
-চুপে চুপে থাইক্কা, হেরাই খেলার
নিয়ম
বানায়। হেরাই খেলা খেলায়।
হেরা অনেক
বড় মাপের আদম। হেগো কেও ধরবার
পাড়ে না
-হুমমম।
-বুঝলা বাজান, "কিছু আদম খেলে,
কিছু আদম
দেখে।"
আমি একটা মুচকি হাসি দিলাম।
শীতে কাপতে কাপতে হাটছি দুটি আদম

আমি হারিয়ে যাচ্ছি আমার কল্পনায়।
সত্যিই তো, এই পৃথিবীতে আদম
খেলার ছলেই
এসেছিল। আমরা এখনও
খেলে যাচ্ছি ।
আদমের আদমময় খেলা।
নিজকে প্রশ্ন করলাম,
আমি কি এই খেলার খেলোয়াড়,
নাকি দর্শক??
মাথায় কেমন যেনো একটা ব্যাথা।
আদমময়
খেলার আদমময় ব্যাথা। রসিক
সত্যিই
আধ্যাত্মিক আদম। কিন্তুু
সে কি খেলার
খেলোয়াড়? নাকি দর্শক? কে আছে,
এই
মাপদন্ড বিচার করার? আর যে এই
মাপ দন্ড
বিচার করে, সেই বা তাহলে কি??
অনেকগুলো প্রশ্নের জ্যাম
লেগে গেছে মস্তিষ্কে। নিউরনের
প্রবাহ
বনধ। শুধু টের পাচ্ছি,
নিউরনগুলো বিদ্রহ
করছে, রহস্য উৎঘাটনের বিদ্রোহ।
মনের দ্বারে কান পেতে দিলাম।
ঘন্টা বাজছে, সথে একটি সূত্রের
প্রতিপাদন। কেও যেনো অনবরত
বলে যাচ্ছে কঠিন একটি কথা.....
"কিছু আদম খেলে, কিছু আদম দেখে"

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.