| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আল্লাহর দোহাই লাগে আমারে আর
মাইরেন না ! আপনার
দুইটা পায়ে পড়ি আমারে একটু
দয়া করেন ! ও আল্লাহ রে . .
.
চুপ কর হারমজাদী ! আর কত ?
তোরে বিয়া কইরাই আমি ভুল করছি ।
তোর বাপ যে এত বড় চিটার
কে জানত !
.
খবরদার ! আমার বাপেরে নিয়া কিছু
কইবেন না ! ভাল হইবোনা কইলাম !
.
হায় হায় ! . . . . বাচ্চার
দেখি এখনো তেজ কমে নাই !
আজইকা তোরে আমি . .
.
ও বাবাগো . . ও মাগো . .
.
মার ! . . বাচ্চারে আরো মার । . .
বাচ্চার চৌদ্দগুষ্টির কপালে ঝাড়ু
মারি । আমার সহজ সরল
পোলাটারে এমনি কইরা ঠকাইল !
আমার এত সুন্দর পোলারে এই
কালিটা গছাই দিল ! কতা আছিল
চল্লিশ হাজার দিবো !
পুরা টেকা না আইনতি পাইল্লে আইজ
থেইকা তোর ভাত বন্ধ . . বাচ্চা !
তোর বাপ আস্ত একটা শয়তান !
কি লম্বা লম্বা দাড়ি রাখছেরে . .
কি আমার মাওলানারে . . ভন্ড
মাওলানারে আমি . .
.
এসব কি কন আম্মা ! আমার ছোট
ভাইটা আজ একমাস ধরে বিছানায় ! ও
যদি হঠাত্ অসুস্থ না হইত
বাবা আপনাদের সব টাকা দিয়ে দিত
সময় মত ।
.
কি ! তুই আমারে টেকার গরম দেখাস !
হুনছস রে রইসউদ্দী . . তোর বউ
আমারে . .
.
. . বাচ্চা ! . . বাচ্চা ! তোর এত বড়
সাহস ! আমার মায়ের মুখের উপর
কথা কস ! মগুরটা কই গেল রে . .
আজইকা তোরে আমি . . . .
.
আয়েশার শরীরের অবস্থা খুব
একটা ভাল না । ডাক্তার
দেখানো দরকার । শরীরের বিভিন্ন
জায়গায় কালো রক্ত ঝমাট
বেঁধে আছে । কিন্তু ডাক্তার
তো দুরের কথা ,
শাশুড়ি ওকে রাতে খেতেই দেয়নি ! !
.
বিয়ে হয়েছে মাত্র আট মাস । এমন
কোন দিন নাই , রইসউদ্দী আয়েশার
গায়ে হাত তুলেনি । আয়েশার অপরাধ
একটাই , তার বাবা প্রতিশ্রুত যৌতুক
দিতে পারেনি ।
.
গভীর রাত । সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন ।
বিয়ের পর থেকে একটা রাতও ঠিক
মত ঘুমাতে পারেনি আয়েশা । আজ খুব
করে ইচ্ছে করছে লম্বা একটা ঘুম
দিতে । খাটের তলায় বড়
একটা দড়ি আছে । আর জানালার
পাশের ঐ যে আম গাছটা . .
আম গাছটা যেন
হাতছানি দিয়ে ডাকছে আয়েশাকে ।
আয়েশা আজ কিছুতেই
নিজেকে ফেরাতে পারছে না ।
চুপি চুপি খাটের নিচ থেকে রশিটা বের
করে নেয় । নিজের মধ্যে এক ধরনের
মুক্তির স্বাদ পেতে থাকে আয়েশা ।
এইতো আর একটু , তারপরই চির
শান্তির ঘুম . . তারপরই স্বাধীনতা . .
তারপরই মুক্তি . .
.
গাছের সাথে দড়ি ঝুলানো হয়ে গেছে ।
এখন আর কোন ভয় নেই ।
আয়েশা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে জীবনের
ওপারের রাস্তায় । শেষবারের মত মা-
বাবাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে ।
ছোট ভাইটা একমাস
ধরে জন্ডিসে ভুগছে । ভাইটার মলিন
চেহারা বারবার চোখের
সামনে ভেসে উঠছে ।
.
আয়েশা ঢুকরে ঢুকরে কাঁদছে । দুরের
ঐ চাঁদটাও বুঝি কাঁদছে আয়েশার মত ।
তাইতো বারবার মেঘের আড়ালে মুখ
লুকাচ্ছে । যাবার বেলায় চাঁদটাকে দু-
চোখ ভরে দেখে নিচ্ছে আয়েশা ।
ঐ চাঁদের সাথে যে তার গভীর
সখ্যতা । ছোট্ট
জানালাটা দিয়ে প্রতি রাতে ঐ চাঁদটার
সাথে কত কথা বলত । সুখের কথা . .
দুখের কথা . . পাথর চাপা কষ্টের
কথা . . বোবা কান্নার বোবা কথা . .
.
আয়েশার হাত দুটো কাঁপছে । মোড়ায়
দাঁড়িয়ে যেইনা মুক্তির মালাটা গলায়
পরবে , অমনি একটা মৃদু কন্ঠস্বর
ভেসে এল . .
.
মা . . ! ও মা . . !
তুমি কি আমাকে মেরে ফেলবে এখন ? ?
.
আয়েশা নিজের অজান্তেই চিত্কার
দিয়ে মোড়া থেকে সরে যায় ।
কি করছি ! এ আমি কি করছি ! হায়
খোদা !
আমি নিজেকে মারতে গিয়ে নিজের
সন্তানকেই মেরে ফেলছি !
.
না , আজও পারলো না । এ নিয়ে গত
একমাসে বেশ কয়েকবার
আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে আয়েশা ।
প্রতিবারই শেষ মুহুর্তে এসে তার
অনাগত সন্তানের কথা মনে পড়ে ।
নিজের মায়া হয়ত ত্যাগ করা যায় ।
কিন্তু সাতটি মাস ধরে নিজের ভেতর
যে প্রানটাকে সে আগলে রেখেছে ,
তার মায়া কি করে ত্যাগ
করবে আয়েশা ।
.
রাত প্রায় শেষের দিকে ।
চারদিকে এখনো কি অদ্ভুত
মায়াবী সাদা জোছনা । পুকুর পাড়ের
জোনাকিগুলোর যেন ক্লান্তি নেই
এতটুকু । খালি জ্বলছে আর নিভছে ।
মাঝে মাঝে আয়েশার
জোনাকি হতে ইচ্ছে করে খুব . . . .
দিনের বেলায় বাবলা গাছের পাতার
নিচে লুকিয়ে থাকবে । আর
রাতে দখিনের নরম
বাতাসে ডানা মেলে জোছনায়
লুটোপুটি খাবে । কেউ
তাকে খুঁজে পাবেনা . . কেউ
তাকে মারতে পারবে না . . কেউ
তাকে "কালি" বলতে পারবে না . . তার
মা-বাবাকে গালি দিতে পারবে না . . . . ।
.
আসসালাতু খাইরুম মিনান্নাউম . . . .
পূবের আকাশটা লাল হয়ে উঠেছে । দুর
থেকে ভেসে আসছে ফজরের আযান ।
একটু পর ই ভোর হবে । সাদা বকের
দল ইতিমধ্যে বাসা ছাড়তে শুরু
করেছে । গন্তব্য তাদের দুরের
জলা . .।
লাল
আকাশে সাদা বকগুলোকে দেখে খুব
কান্না পাচ্ছে আয়েশার । এই
মুহুর্তে আয়েশারও সাদা বক
হতে ইচ্ছে করছে । ভোরের শীতল
বাতাসে ডানা মেলতে ইচ্ছা করছে ।
বুক ভরে নিশ্বাস নিতে ইচ্ছে করছে . .
আয়েশা জানে , কিছুক্ষন পরই ভোর
হবে ।
মুখোমুখি হতে হবে আরেকটি নতুন
সূর্যের , নতুন দিনের । আর নতুন দিন
মানেই কিছু কুত্সিত মানুষের সেই
পুরনো চেহারা । আগের চেয়ে আরও
বেশী কুত্সিত , আরো বেশী ভয়ংকর ।
তাই আরেকটি অপ্রত্যাশিত ভোরের
সামনে দাঁড়িয়ে আয়েশা . . . .
.
আসলেই কি কখনো ভোর
আসবে আয়েশার জীবনে ?
.
সূর্য উঠলেই কি ভোর হয় ? ?
©somewhere in net ltd.