নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অবসরের লেখালেখি

অবসরব্লগার

আমার সম্পর্কে আমার তেমন কিছু লেখার নেই

অবসরব্লগার › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রলয়ের হাতছানি-৭ম কিস্তি

১২ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ২:৩৪

পূর্বে যা ঘটেছেঃ রাশিয়ান এক টপ সিক্রেট রিসার্চ ফ্যাসিলিটিতে দশ বছরের গবেষণা সফলের পর ডঃ মিখাইল দব্রোভলস্কির আত্নহত্যা, তবে তিনি সেটাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে সফল হয়েছিলেন।তার মৃত্যুর পর তার ডায়রিগুলো তার ইচ্ছানুযায়ী তার এক বন্ধুর কাছে পাঠানোর আগে ক্রিপ্টোগ্রাফি বিভাগে চেক করা হয়। সব ঠিক দেখে সেগুলো তার গন্তব্যে যাওয়ার ক্লিয়ারেন্স পেয়ে যায়, তবে ক্রিপ্টোগ্রাফার দিমিত্রি মারকভ সেগুলোর এককপি নিজের কাছে রেখে দেয় অবসরে পড়ার জন্য, যা ক্রিপ্টোগ্রাফি বিভাগের এক ক্লিনার আইভানের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।ডায়রিগুলো অবশেষে ইংল্যান্ডের ডেভন কাউন্টির এক রাশিয়ান বংশদ্ভুত গ্রাম্য মহিলার হাতে এসে পৌঁছায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অতি গোপনীয় এক বিমানের নকশা সফলভাবে পাচার করতে সক্ষম হয় ওই বিমানের প্রজেক্টের চিফ সুপারভাইজার।

আর সার্বিয়ার ভেতেরনিকে এক রহস্যময় যুবক নিজের ভুলে যাওয়া অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখছে।
মারকভ ছুটিতে এসেছে ইওহান গ্রামে,ওর উপর নজর রাখছে সাখারভ।


১৯ জুলাই,ভেতেরনিক,সার্বিয়া
সকাল ৮টা। নিজের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টের ডাইনিং কাম কিচেনে বসে ব্রেকফাস্ট করছে আন্তনেভ। সামনে টেবিলের একপাশে ধূমায়িত কফির কাপ আর চারটা মধু মাখা পাউরুটি,আর সামনে বিছানো আজকের খবরের কাগজ। আন্তনেভ একটা পাউরুটিতে থেকে থেকে কামড় দিচ্ছে আর কাগজে চোখ বোলাচ্ছে। মাঝেমধ্যে কফিতে চুমুক দিয়ে নিচ্ছে।
বুড়ি রাশিয়া যাবার আগে নিজে এসে ওর ফ্রিজ ভরে শাকসবজি মাংস এমনকি রান্না করা কিছু খাবারও দিয়ে গেছে। একবোতল মধু ও দিয়ে গেছে। আন্তনেভ বাধা দিতে গিয়েছিলো। বুড়ি একটুও পাত্তা দেয়নি।বলে, এ কদিন কি খাবি না খাবি তার ঠিক নেই। এই আমি ফ্রিজ ভরে দিয়ে গেলাম। এসে যেন খালি দেখি।
বুড়োবুড়ির কথা মনে হতেই মুখে একটা হাল্কা হাসি খেলে গেলো আন্তনেভের। নিজের বাবা মার কথা তো কিছুই মনে নেই,কিন্তু এইদুজনকে দেখে আপন বাবা মার মতোই লাগে আন্তনেভের। বিশেষত বুড়ি তো রীতিমতো আপন মায়ের মতোই আদর করে,ধমক দেয় এমনকি একদিন কানমলাও দিয়েছিলো।
এরমধ্যে ঘটে গেছে আরেক ঘটনা। বুড়োর ডায়াবেটিসের জন্য মিষ্টি খাওয়া একদম মানা,কিন্তু সেটা সে মানে একেবারেই নারাজ। রাশিয়াতে আত্মীয়ের বাড়িতে বুড়ো মিষ্টি খাবার জেদ ধরায় বুড়ির সাথে তুমুল ঝগড়া। বুড়ি রেগেমেগে শেষমেষ বলেই বসেছে,বুড়োর সাথে কোথাও যাবে না,এমনকি ফেরতও আসবে না বুড়োর সাথে।
বুড়ির রাগ নামে না দেখে আর ফেরত আসার সময় হয়ে যাওয়ায় বুড়ো একরকম বাধ্য হয়েই ফোন করেছে আন্তনেভকে। রাশিয়া গিয়ে বুড়িকে বুঝিয়েসুঝিয়ে যেন একসাথে আসতে পারে। গত দুদিন রাশিয়া যাওয়ার আনুষঙ্গিক কাজে আর দোকানের কাজে গেছে। আজকে দুপুরে ফ্লাইট। গোছগাছ গত রাতেই করে রেখেছে আন্তনেভ।
খাবার শেষ করে আরো কিছুক্ষণ কাগজ দেখলো আন্তনেভ। খুঁটিয়ে কাগজ পড়া ওর স্বভাব। এরপর ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট তালা দিয়ে নিজের পুরোন ভোক্সওয়াগেন বিটলটায় চড়ে বসলো।দোকানে যাবে। বারোটা পর্যন্ত খোলা রাখবে আজকে। দুইজন ইম্পরট্যান্ট খদ্দের আসার কথা আজকে।
এই বিটলটা ওকে বুড়ো দিয়েছে। টাকার কথা তুলতেই কপট চোখ রাঙানি দিয়ে গম্ভীর গলায় বলেছে, বেতন থেকে আমার মতো করে কেটে নেব।
বেলা ১২টা। দুই খদ্দের বিদেয় করে কিছু হিসেবপত্রে চোখ বোলাচ্ছিল আন্তনেভ,এমন সময় অফিসের কাঁচের দরজায় নক পড়লো।মাথা তুলে দেখলো হাসিমুখে নাতাশা দাঁড়িয়ে আছে। নাতাশার পরিবার বুড়ো ইউজিনের পাশের বাড়িতে থাকে। নাতাশা মেয়েটার হাবভাবে বোঝা যায় আন্তনেভের জন্য দুর্বলতা আছে। আন্তনেভেরও মেয়েটাকে ভালো লাগে। মেয়েটা এমনিতে খুব ভালো, বুড়ো দম্পতি ওকে খুব পছন্দ করে।
নীল একটা টি শার্ট পড়ে আছে মেয়েটা,সাথে কালো প্যান্ট। কানে সুন্দর দুটো দুল,ডানহাতে ব্রেসলেট,বামহাতে ঘড়ি।হাতে এক্নটা বাক্স,সম্ভবত খাবারের। ওর বাবার রেস্টুরেন্টে ম্যানেজারের কাজ করে। বুড়োবুড়ি রাশিয়া যাবার পর তিন চারবার এসেছে দোকানে,দুইদিন জোর করে লাঞ্চ করিয়েছে নিজেদের রেস্টুরেন্টে।
বলে, আন্টি যাওয়ার আগে আমাকে বলে গিয়েছেন যেনো আপনার খেয়াল রাখি। আপনি নাকি ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করবেন না উনি না থাকলে।
আন্তনেভ হেসে ইশারা করতেই দরজা খুলে সামনের চেয়ারে এসে বসলো নাতাশা। বললো, পাবলোকে কাজ গছিয়ে চলে এলাম। আজকে কাজ এমনিতেও কম। ভাবলাম আজ আঙ্কেল আন্টিকে আনতে যাবেন,আপনাকে সি অফ করে দিয়ে আসি।
ব্যাপারটা খারাপ হয়না,ভাবলো আন্তনেভ। মুখে হাসি ফুটিয়ে বললো, বেশতো, চলুন।খাবার নিয়ে এলেন যে?
নাতাশা বললো,বা রে। অনেকক্ষণ থাকা লাগবে যে একসাথে। লাঞ্চ করে ফেললে তো ক্ষতি নেই,তাই না?প্লেনে যদিও খাবার দেবে,কিন্তু আগে একটু খাওয়া দাওয়া করে নিলে তো ক্ষতি নেই,তাই না?
আন্তনেভ হাসল। মেয়েটা একসাথে লাঞ্চ করতে চায়। বললো, তাহলে চলুন। আমি এখন দোকান বন্ধ করে দিচ্ছি।
নিজের গাড়ি দোকানের ভেতরে এক জায়গায় রেখে দোকান বন্ধ করে তালা দিয়ে দিলো আন্তনেভ। এরপর একটা ট্যাক্সি ডেকে উঠে পড়লো দুজনে।
নাতাশা বসে আছে আন্তনেভের পাশে। মেয়েটার গা থেকে একটা সুন্দর মিষ্টি গন্ধ আসছে।আন্তনেভের মনে হচ্ছে ও অন্যকোন জগতে আছে। নাতাশার পাশে এতো কাছাকাছি বসা এই প্রথম। মেয়েটা কথা বলছে,মাঝেমধ্যে হাসছে। আন্তনেভ ওর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।হঠাৎ নাতাশা ওর দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলো,কি দেখছেন অমন করে?আমার কি দুটো শিং গজালো নাকি?
আন্তনেভ লজ্জা পেয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
এরমধ্যে খাবারের বাক্স খুললো নাতাশা।ভেতরে দুপুরের খাবার।
দুজনে খেয়ে নিলো কথা বলতে বলতে।


দেড়ঘন্টা পর নিকোলা টেসলা এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেলো ট্যাক্সি। সেখানে নেমে কিছুক্ষণ কথা বললো দুজন। তারপর নাতাশা বিদায় নিলো। যাবার আগে বলে গেলো, আঙ্কেল আন্টিকে নিয়ে ভালোমতো ফিরে আসুন। বাড়িতে দাওয়াত দেবো আপনাদের।
আন্তনেভের কি হলো জানে না,চট করে নাতাশার হাত ধরে ফেললো। বলল, ভাল থাকবেন।
নাতাশা একটু অবাক হলো।লজ্জাও পেলো একটু। তারপর ট্যাক্সিতে উঠে চলে গেলো।
ট্যাক্সি দৃষ্টির আড়ালে যাওয়া পর্যন্ত সেদিকে তাকিয়ে থাকলো আন্তনেভ। তারপর একটা শ্বাস ফেলে এয়ারপোর্টে ঢুকে গেলো। সেখানে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে লাউঞ্জে গিয়ে বসলো। ফ্লাইট আড়াইটায়।
বসে বসে নাতাশার ব্যাপারে ভাবতে লাগলো আন্তনেভ। মোটামুটি প্রায় তিনবছর ধরে চেনে মেয়েটাকে। কথা বলে ভালো লেগে গিয়েছিলো আন্তনেভের। মেয়েটার ওর প্রতি দুর্বলতা ধরতে পারে দুইবছর আগে। কিন্তু নিজের পরিচয় সহ নানা অনিশ্চয়তা আর দ্বিধার কারণে মেয়েটার সাথে একটা দূরত্ব বজায় রেখেছে অনেকদিন। পরে আস্তে আস্তে সহজ হয়ে এসেছে। এখন সম্পর্ক বেশ ভাল। এখন কিছু একটা করা দরকার,ভাবলো আন্তনেভ।অনেক দেরি করা হয়ে গেছে,আর না।এবার ফিরেই নিজের অনুভূতির কথা জানাবে নাতাশাকে। আগের জীবন নিয়ে ভেবে লাভ নেই। নতুন জীবন শুরু করবে সে।
ভাবতে ভাবতে প্লেনে ওঠার সময় হয়ে গেলো। নিজের ব্যাগটা নিয়ে হাঁটা দিলো আন্তনেভ। প্লেনে উঠে এক খাটোমতো লোকের সাথে ধাক্কা লেগে গেলো ওর। একজন আরেকজনের দিকে তাকালো ওরা। তাড়াতাড়ি সরি বলে পাশ কাটিয়ে চলে এলো আন্তনেভ। তবে ওই একমুহুর্তের চাহনিতে লোকটার চোখের নগ্ন বিস্ময় চোখ এড়ায়নি আন্তনেভের। ব্যাপারটা ওর মাথাক থেকে সাথে সাথেই চলে গেলো। মন জুড়ে আছে নাতাশার চিন্তা।
এদিকে লোকটা তাড়াতাড়ি নিজের সিট এ এসে বসলো। বসে নিজের মোবাইলটা বের করলো। দ্রুত একটা সাঙ্কেতিক মেসেজ টাইপ করে বিশেষ একটা নম্বরে পাঠিয়ে দিলো। মেসেজটা এমনিতে খুব সাধারণ মেসেজ,কিন্তু ভেতরের অর্থ কিছু বিশেষ লোকই বুঝতে পারবে। আর মেসেজটা মোবাইল নেটওয়ার্ক দিয়ে যায়নি। তারবিহীনভাবে সেটা প্রথমে গিয়েছে ওর হাতের ঘড়িতে,সেখান থেকে গোপনীয় একটা স্যাটেলাইটে। কারো কিছু বোঝার উপায় নেই।
মস্কোর কোন এক ভবনের কোন এক রুমে মুখে চুরুট নিয়ে বসে থাকা এক বয়স্ক লোকের মোবাইল বেজে উঠলো। ফোনটা বের করে একটা গোপন পাসকোড এন্টার করে মেসেজটা দেখলো লোকটা। কপালে কুঁচকে গেলো তাঁর। এরপর মেসেজটা মুছে দিয়ে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে রাখলো সে। তারপর চুরুটটা অ্যাশট্রেতে রেখে চেয়ার থেকে উঠে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। জানালা দিয়ে রেড স্কোয়ার দেখা যাচ্ছে। মনে মনে ভাবলো, ভালো থেকো বাছা। আর যেন তোমার কোন বিপদ না হয়।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ১১:০৩

অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: পুরা এক বছর নয় মাস পরে সিরিজ পোস্ট দিলেন ভ্রাতা ! কাহিনীই তো ভুইলা গেসি !!!

শুভেচ্ছা অনেক :)

২| ১২ ই অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১:০৪

অবসরব্লগার বলেছেন: এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে দেয়ার চেষ্টা করবো :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.