| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হুমায়রা হারুন
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।
Yanni তার piano তে অজান্তে ইমনের সুর তুলেছে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ।আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল। তখন মনে হয়েছে আমাদের রাগ এর স্টাইল গুলো ওদের ভাষায় (সুরের বাদ্যযন্ত্রে) উপস্থাপন করার কেউ নেই কেন। কারো মাথায় আসে না কেন। আমি তো কোন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে নাই। সরোদ আর এস্রাজ আর সেতার নিয়ে থাকলে ওরা জানবে কিভাবে? ওরা মানে সমগ্র বিশ্ব। তাই এগুলোর সাথে পিয়ানো ,বেহালা প্রয়োজন। ইমন, আশাবরী, মেঘ সব সব কিছু আমি আনতে চেয়েছি ।কিন্তু সুযোগ ছিল না। এখন AI আছে আর আছে তার পিছনে আমাদের দেশের মিউজিক ইঞ্জিনিয়ার।
Yanni -রএই উপস্থাপনায় রাগ ইমন আসবে এই পরিবাশনায়। যদিও তার অজান্তে। অজান্তে এজন্য কারণ পরে সে অন্য সুরের রাজ্যে পাড়ি দেবে।
১ঃ৩৩ এ 'সা' ধরলো।
১ঃ৪৩ এ ইমনের রেশ -এ পড়লো।
১ঃ৪৫ এ কড়ি 'মা' , এবং ইমনে প্রবেশ করলো।
১ঃ৫৫ পর্যন্ত পাক্কা ইমন।
২.০১ এ শেষ।
কিন্তু তখনি ভেবেছি আমি একবার যদি বলে আসতে পারতাম ওনাকে পুরোটাই ইমন করেন!
Yanni পিয়ানো মূর্ছনা
এটা ১৯৯২ সালের কথা।
[রাগ পরিচয়ঃ রাগ ইমন -এর অপর নাম ইমন কল্যাণ , যা কল্যাণ ঠাঁটের অন্তর্ভুক্ত। রাগ ইমনের সুরের কোমলতা অপূর্ব এক মাধুর্য এনে দেয়। রাগ ইমন সাধারণত সন্ধ্যাবেলা পরিবেশন করা হয়। সন্ধ্যার নরম আলোয় রাগ ইমন পরিবেশন শ্রোতাদের মনে এক অনন্য প্রশান্তি ও সৌন্দর্যের অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়।
রাগ ইমন-এর আরোহঃ
নি রে গা মা পা ধা নি র্সা
(এখানে মা কড়ি )
অবরোহঃ
র্সা নি ধা পা, মা গা রে সা
(এখানেও মা কড়ি
পকড়ঃ নি রে গা রে নি গা মা( কড়ি), পা মা গা মা (কড়ি) গা রে সা]
আজ ২০২৬ সালে এসে ৩৪ বছর পর, পিয়ানো তে রাগ ইমন তুলবার সুযোগ পেয়েছি। আমার পিয়ানো বাদনে
রাগ ইমন
সেদিন সেখানে একজন পিয়ানো বাদক ছিলেন। তিনি সুর শুনে জানতে চাইলেন কি সুর। সুরের রূপ কি? আরোহ ও অবরোহ, পকড় শুনালাম। তারপর রাগ মেঘ বাজিয়ে শুনিয়েছি। মেঘের স্টাইল কিভাবে বৃষ্টিকে ডেকে আনে তা বলেছি। তিনি সুর উপলব্ধি করতে পেরেছেন।
পাশে লেক অন্টারিও। তার পাশে দাঁড়িয়ে পিয়ানোতে রাগ মেঘ- 'শ্যামা তন্বী আমি মেঘ বরণা'। লিংক রাগ মেঘ
সহজ সুর হিসাবে মালকোশ -ও দেখিয়ে দিয়েছি। মালকোশ -এর বন্দিস 'শোনো লো বাঁশীতে ডাকে আমার -ই ঘন শ্যাম। পিয়ানোতে আমার বাদন, রাগ মালকোশ
সুরের মাঝে মীর দিতে না পারলে রাগের স্টাইল অক্ষুণ্ণ থাকে না। সেগুলো যদিও পরের ধাপ।
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৩
হুমায়রা হারুন বলেছেন: আপনার ভাবনাটি সত্যিই দারুণ! পিয়ানো বাজাতে না জানলেও, নিজের মনের মতো টুং টাং করে কিছু সুর তৈরি করা একেবারেই অসম্ভব না। কখনো কখনো সহজ সরল সুরই সবচেয়ে বেশি প্রশান্তি ও আনন্দ দিতে পারে। কেউ যদি হৃদয় দিয়ে তা তৈরি করে, সেই সুর নিঃসন্দেহে হিলিং মিউজিক হিসেবে কাজ করবে। নিজের অনুভূতি ও কল্পনা দিয়ে কিছু পাল্টা তৈরি করার ইচ্ছে আছে।
শুভকামনা রইল। আমার সৃষ্টিশীল যাত্রায় উৎসাহ দেবার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
২|
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৩৪
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সেদিন সেখানে একজন পিয়ানো বাদক ছিলেন। তিনি সুর শুনে জানতে চাইলেন কি সুর।
.......................................................................
গান ভালো লাগে,
তাকে যে সব সুত্র দিয়ে গাঁথা হয়
তার মাঝে নাইবা গেলাম ।
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭
হুমায়রা হারুন বলেছেন: গানের আসল সৌন্দর্য তো অনুভবেই—সব সূত্র বা ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে গান আমাদের মন ছুঁয়ে যায়।
কখনো কখনো শুধু শুনে ভালো লাগাটাই যথেষ্ট, বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় না।
অনুভূতির এই সরলতাই গানকে আরও বিশেষ করে তোলে।
৩|
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:০০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ভারতীয় রাগসংগীতকে পাশ্চাত্যের বাদ্যযন্ত্রের ভাষায় উপস্থাপন করে বিশ্বসংগীতের পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস
খুবই সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।
লিংকে গিয়ে ইয়ানী পিয়ানো মুর্ছনা , রাগ ইমন ,রাগ মেঘ, পিয়ানোতে রাগ মালকোশের মুর্ছনা শুনলাম ।
লেখাটিতে ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রশ্ন উঠে এসেছে ভারতীয় রাগসংগীতের
সূক্ষ্ম সৌন্দর্য ও স্বরভাষাকে পাশ্চাত্যের বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে বৃহত্তর বিশ্বশ্রোতার কাছে কীভাবে উপস্থাপন করা
যায়। পিয়ানোতে রাগ ইমন, মেঘ বা মালকোশের স্বররূপ তুলে ধরার এই প্রয়াস সেই দিক থেকে নিঃসন্দেহে
আগ্রহের বিষয়।
তবে পিয়ানোতে কোনো নির্দিষ্ট স্বরক্রম বা কয়েক সেকেন্ডের সুরাংশ রাগের সঙ্গে মিলে গেলেই সেটিকে সম্পূর্ণ
রাগের পরিবেশনা বলা যায় কী না তা ভাবার বিষয়। রাগের স্বরসংগঠন ছাড়াও তার চলন, পকড়, অলংকার,
মীর, সময়ভাব, ন্যাস ও সামগ্রিক রাগধর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেখাটির শেষাংশে মীর প্রসঙ্গটি তাই
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
একই সঙ্গে, পাশ্চাত্যের যন্ত্রে ভারতীয় রাগের রূপান্তরকে কেবল মূল রাগকে অন্য যন্ত্রে বাজানো হিসেবে না দেখে দুই ভিন্ন সংগীতভাষার মধ্যে একটি সৃজনশীল সংলাপ হিসেবেও দেখা যায়। পিয়ানোর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রাগের আবহ, স্বরচরিত্র ও নান্দনিকতা কতটা বিশ্বস্তভাবে প্রকাশ করা সম্ভব এই অনুসন্ধানই হয়তো এই উদ্যোগের একটি আকর্ষণীয় দিক।
ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে শুরু হওয়া এই প্রয়াস যদি স্বরলিপি, রাগের ব্যাকরণ, বাদ্যযন্ত্রের সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরও বিস্তৃতভাবে এগিয়ে যায়, তাহলে তা ভারতীয় রাগসংগীতকে নতুন শ্রোতাদের কাছে পরিচিত করার একটি সম্ভাবনাময় পথ হতে পারে।সে জন্য এই উদ্যোগের প্রতি রইল প্রাণডালা অভিনন্দন ।
শুভেচ্ছা রইল
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮
হুমায়রা হারুন বলেছেন: পকড় দিয়ে শুধুই পরিচিতি দিয়েছি।
তবে বিস্তারিত পরিবেশনাও সম্ভব।
আমি পিয়ানো সঠিক ভাবে জানি না। শেখার সুযোগ ছিল না। আর এখন সুযোগ আছে কিন্তু মাথা আর কাজ করে না।
বাদ্য যন্ত্র বিশারদ গণ সেতার -কে গীটারে নিয়ে এসেছেন। সেতারে ঝংকার সৃষ্টির জন্য 'তার' সংখ্যা বেশী। তাই গিটারে ঐরকম ঝঙকার আসে না । কিন্তু যতটুকু সম্মভব তা তুলে ধরে যায়।
আদনান সামীর পিয়ানোতে রাগ সংগীত সবিস্তারে এসেছে। লিংকে ওনার বাজানো রাগ বাগেশ্রীর পরিবেশনা। আদনান সামী ১৯৮৯, রাগ বাগেশ্রী
৪|
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার স্বীকারোক্তির পাশাপাশি সেতার ও গিটারের বাদনগত পার্থক্য এবং রাগসংগীতকে
পিয়ানোতে উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। হ বিশেষ করে সেতারের অধিক তারের কারণে যে
স্বাভাবিক ঝংকার তৈরি হয়, গিটারে তা হুবহু পুনর্নির্মাণ করা কঠিন ,এটি বাদ্যযন্ত্রের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে
সম্পর্কিত একটি যথার্থ পর্যবেক্ষণ। তবে একই সঙ্গে গিটারের নিজস্ব টিম্বার ও বাজানোর কৌশল ব্যবহার করে
রাগের আবহ কতটা সফলভাবে প্রকাশ করা যায়, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
লিংকসহ আদনান সামীর পিয়ানোয় রাগ বাগেশ্রীর পরিবেশনার উল্লেখটি আলোচনাটিকে আরও আকর্ষণীয়
করেছে। কারণ, রাগসংগীত সাধারণত মীড়, গমক ও স্বরের সূক্ষ্ম অলংকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, পিয়ানোর
মতো নির্দিষ্ট-স্বরের যন্ত্রে সেগুলো অন্যভাবে রূপ দিতে হয়। তাই এখানে সঠিক বা ভুল এর চেয়ে কোন
বাদ্যযন্ত্রে রাগের স্বরভাষা কীভাবে নতুনভাবে প্রকাশ পাচ্ছে সেই দৃষ্টিতে শুনলে আলোচনাটি আরও সমৃদ্ধ
হতে পারে।
ভাল লাগল বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত দাবি না করে নিজের সাধ্য ও সীমারেখার মধ্যে একটি সংগীত-অভিজ্ঞতা
ভাগ করে নেওয়ার প্রবনতা দেখে ।
শুভেচ্ছা রইল
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯
হুমায়রা হারুন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আলী ভাই।
আমার ইচ্ছা আছে ইমন দিয়ে প্রথমে কাজ করা।
যেহেতু ইমন একটু বিস্তারিত শিখেছিলাম।
এর ওপর ৮ টি স্টাইলের গীত, গজল, রাগ সঙ্গীতের ধরণ জানি। আমি তা পিয়ানোতে তুলে ধরবো । হারমোনিয়ামে কিছু করেছিলাম। এবার পিয়ানোতে আনতে চাই।
৫|
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার এই উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ইমনকে ভিত্তি করে আগে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে
লাগিয়ে গীত, গজল ও রাগসংগীতের বিভিন্ন ধারা পিয়ানোতে তুলে ধরার পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সুন্দর ও সৃজনশীল
একটি প্রয়াস। হারমোনিয়ামে যে কাজের সূচনা করেছিলেন, এবার সেটিকে পিয়ানোর মতো ভিন্ন প্রকৃতির বাদ্যযন্ত্রে
নতুনভাবে প্রকাশ করার ইচ্ছা আপনার সংগীতচর্চার প্রতি গভীর নিষ্ঠারই পরিচয় দেয়।
আপনার সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই এই কাজে আপনাকে পথ দেখাবে। ইমনকে কেন্দ্র করে আপনার এই নতুন
যাত্রা সফল হোক, আর আপনার হাতে পিয়ানোয় গীত, গজল ও রাগসংগীতের সেই পরিচিত সুরগুলো নতুন এক
মাত্রা লাভ করুক এই আন্তরিক শুভকামনা রইল।
মন থেকে সমর্থন ও শুভেচ্ছা জানাই।
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৫
হুমায়রা হারুন বলেছেন: পিয়ানো বাজাতে না জানলেও, নিজের মনের মতো টুং টাং করে কিছু সুর তৈরি করা একেবারেই অসম্ভব না।
কখনো কখনো সহজ সরল সুরই সবচেয়ে বেশি প্রশান্তি ও আনন্দ দিতে পারে।
কেউ যদি হৃদয় দিয়ে তা তৈরি করে, সেই সুর নিঃসন্দেহে হিলিং মিউজিক হিসেবে কাজ করবে।
আমি হিলিং মিউজিক (সুর) তৈরি করার ইচ্ছা রাখি।
আমার সৃষ্টিশীল যাত্রায় উৎসাহ দেবার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
অনেক ধন্যবাদ আলী ভাই ।
৬|
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
রাজীব নুর বলেছেন: সুর থেকেই ঈশ্বরের সৃষ্টি। অর্থ্যাত শব্দ থেকে।
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৬
হুমায়রা হারুন বলেছেন: রাজীব ভাই আজকাল আপনার মন্তব্যগুলো খুব দার্শনিক লেভে্লের হচ্ছে।
৭|
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩১
শায়মা বলেছেন: বাহ আপুনি!!!!!!!!!
অনেক অনেক ভালো লাগা আর ভালোবাসা!!!!!!!
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৬
হুমায়রা হারুন বলেছেন: অনেক অনেক আদর তোমাকে সোনামণি।
৮|
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪
হুমায়রা হারুন বলেছেন:
রাগ - ইমন কল্যাণ
এই রাগ উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত মধুর ও জনপ্রিয় রাগ, যা সাধারণ ইমন রাগের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। দক্ষিণ ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতিতে এই রাগের নাম যমুনা কল্যাণী। কিন্তু প্রাচীন ভারতীয় যমুনা কল্যাণী থেকে ইয়ামন<ইমন কল্যাণ নামটি এসেছিল কিনা, এই সন্দেহ থেকেই যায়। অনেকের মতে, পারস্যের ইয়ামন রাগটিকে আমির হযরত আমির খসরু, ভারতীয় রাগে পরিণত করেছিলেন।এই রাগটি কালক্রমে ইমন নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। পরে বিলাবল রাগের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছিল ইমন কল্যাণ। বিলাবলের সংমিশ্রণের কারণে এই রাগে শুদ্ধ মধ্যম যুক্ত হয়েছিল। এর মুখ্য সাঙ্গীতিক স্বরগুচ্ছ
হ্ম গ গমগ র স।
এই স্বরগুচ্ছ রাগটিকে ইমন থেকে স্বতন্ত্র রূপ প্রদান করে।
এই রাগের এই রাগে উভয় মধ্যম ব্যবহৃত হয়। এর চলন অনেকটাই কল্যাণ রাগের মতো। শুদ্ধ মধ্যমের কৌশলী ব্যবহারের সূত্রে এই রাগ কল্যাণ থেকে পৃথক সুরশৈলী হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
আরোহণ: স র গ হ্ম প ধ ন র্স
অবরোহণ: র্স ন ধ প হ্মগ মগ রস
ঠাট: কল্যাণ
জাতি: সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ।
বাদীস্বর: গ
সমবাদী স্বর: ন
অঙ্গ: পূর্বাঙ্গ বাদী।
সময়: রাত্রি প্রথম প্রহর।
প্রকৃতি: শান্ত
পকড় : ন্ রগ রস, পহ্মগ রগ মগ র স।
রাগ - ইমন
ইমন রাগের শাস্ত্রীয় পরিচয়
ঠাটঃ কল্যাণ
জাতিঃ সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ (আরোহণ ও অবরোহণ উভয় ক্ষেত্রেই ৭টি করে স্বর ব্যবহৃত হয়)
বাদী স্বরঃ গান্ধার (গ)
সমবাদী স্বরঃ নিষাদ (নি)
বর্জিত স্বরঃ কোনো স্বর বর্জিত নয়।
সময়ঃ রাত্রির প্রথম প্রহর (সন্ধ্যা ৬:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা)
প্রকৃতি বা রসঃ ভক্তি ও প্রেমের রস।
১.স্বরবিন্যাস ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য -
মধ্যমের ব্যবহারঃ ইমন রাগে কেবল তীব্র মধ্যম বা কড়ি মধ্যম ব্যবহৃত হয়। তবে ইমন কল্যাণ রাগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে তীব্র মধ্যমের আধিপত্যের পাশাপাশি অত্যন্ত সংগোপনে ও কৌশলে খুব সামান্য পরিমাণে শুদ্ধ মধ্যম (ম)-এর ব্যবহার করা হয় (বিশেষ করে দুটি গান্ধারের মাঝখানের প্রয়োগে)।
আরোহণ: র্নি রে গা হ্ম প ধ নি র্সা (এখানে কড়ি মধ্যম হ্ম বা শুদ্ধ মধ্যমের মৃদু ছোঁয়া থাকে)
অবরোহণ: র্সা নি ধ প হ্ম গা রে সা
পকড় বা মুখ্যাঙ্গঃ নি রে গা হ্ম প হ্ম গা রে সা
২. আলাপ বিস্তারের নিয়ম
আলাপ হলো রাগের শান্ত ও ধীরগতির বিস্তার। ইমন কল্যাণে আলাপ করার সময় নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করা হয়।
মন্দ্রে বিস্তার ও মন্দ্র নিষাদের (নি) গুরুত্বঃ
এই রাগের আলাপ সাধারণত মন্দ্র সপ্তকের 'নি' (নিষাদ) থেকে শুরু হয়। যেমন: র্নি রে গা, রে সা বা র্নি রে গা হ্ম গা, রে সা।
৩.বাদী-সমবাদী ব্যবহারঃ আলাপের সময় গান্ধার (গা) এবং নিষাদ (নি) স্বর দুটির ওপর বেশি সময় ধরে অবস্থান করা হয় (ন্যাস করা হয়), কারণ এগুলো রাগের প্রধান স্বর।
৪.শুদ্ধ মধ্যমের (ম) সূক্ষ্ম প্রয়োগঃ
আলাপ করার সময় অবরোহী গতিতে খুব সাবধানে শুদ্ধ মধ্যম প্রয়োগ হয়। সাধারণত দুটি গান্ধারের মাঝে এটি লুকায়িত থাকে (যেমন: প ম' গা ম গা রে সা)। মনে রাখতে হবে, শুদ্ধ মধ্যমের ব্যবহার যেন খুব বেশি স্পষ্ট না হয়, তা কেবল রাগের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য একটি ছোঁয়ার মতো ব্যবহৃত হয়।
৫. পঞ্চম (প) বর্জন করে আরোহণঃ আলাপে ওপরের দিকে ওঠার সময় প্রায়ই পঞ্চম স্বরটি এড়িয়ে যাওয়া হয়, যা এই রাগের চলনকে আরও মধুর করে। যেমন: নি রে গা ধ নি র্সা।
৬. তান -
তান হলো দ্রুত গতিতে স্বরের বিস্তার। ইমন কল্যাণে তান তৈরি এবং গাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা চলন রয়েছে।
i)বক্র গতি (Zig-zag patterns): এই রাগের তান সোজা বা সরল গতিতে না গিয়ে কিছুটা বক্র গতিতে চলে।
যেমন: সা রে গা রে, গা হ্ম প হ্ম, প ধ নি ধ, নি র্সা।
ii)সাপাট তান (Straight Taans): সম্পূর্ণ জাতির রাগ হওয়ায় এতে দ্রুত গতিতে সাতটি স্বরই পরপর গেয়ে বা বাজিয়ে সাপাট তান নেওয়া যায়।
যেমন আরোহণে: সা রে গা হ্ম প ধ নি র্সা এবং
অবরোহণে: র্সা নি ধ প হ্ম গা রে সা।
iii) ছুট ও গমক তান: রাগটির গম্ভীর প্রকৃতির কারণে এতে 'গমক' (গভীর কম্পনযুক্ত স্বর) এবং 'ছুট' (এক স্বর থেকে দূরবর্তী অন্য স্বরে লাফিয়ে যাওয়া) তানের ব্যবহার খুব জনপ্রিয়।
৭. আলাপ ও তানের জন্য কিছু বিশেষ স্বর-সঙ্গতিঃ অনুশীলনের সময় এই স্বরগুচ্ছগুলো ব্যবহার করলে ইমন কল্যাণ রাগের আসল রূপটি ফুটে ওঠে-
র্নি রে গা, রে সা (শুরু করার জন্য)
গা ম' প, হ্ম গা রে সা (তীব্র মধ্যমের চলন)
প ধ নি র্সা, র্সা নি ধ প (তার সপ্তকে বিস্তার)
গা হ্ম প ধ, প হ্ম গা ম গা, রে সা (এখানে তীব্র ও শুদ্ধ—উভয় মধ্যমের সুন্দর সমন্বয় রয়েছে)
সূত্র আন্তর্জাল
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২৭
খায়রুল আহসান বলেছেন: শিরোনামের মাত্র একটি শব্দই শিরোনাম ও সুরকে একই গ্রন্থিতে গেঁথে দিলঃ 'তৃৃষ্ণা'।
পোস্টে দেয়া লিঙ্কগুলোর জন্য ধন্যবাদ। ভালো লেগেছে।