| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হুমায়রা হারুন
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।
১৯৮৪ সাল। স্কুলের অফিস রুমে গিয়েছি বেতন দেবার জন্য। লাইনে অপেক্ষা আমি আর আমার লাল ঝুটি বন্ধুটি। আমাদের খুঁজে খুঁজে ঐ ভীড়ের মাঝে পুষি এলো। আদর করে পুষি ডাকতাম ওকে। বেতন দিতে নয়। ও হাঁটু গেড়ে বসে আমাদের দুজনাকে অডিও ক্যাসেটের কভার পেইজের পেছনে ছাপানো একটি লিরিক দেখালো, Islands in the Stream.
কিশোরী মনে দাগ কেটেছিল প্রথম এই ভালবাসার গানটি শুনে।
এটি একটি বিখ্যাত ইংরেজি গান, যা ডলি পার্টন (Dolly Parton) এবং কেনি রজার্স (Kenny Rogers) দ্বৈতকণ্ঠে গেয়েছেন। গানটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি রচনা ও সুর দিয়েছিলেন বিখ্যাত সংগীতশিল্পী Bee Gees-এর সদস্যরা।
গানটিতে এক ধরনের মধুর ভালোবাসার গল্প বলা হয়েছে, যেখানে দুটি মানুষ নিজেদের ভালোবাসার জগতে একে অপরের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে—তারা যেন স্রোতের মাঝে ভাসতে থাকা দ্বীপের মতো, যাদের মাঝে আর কেউ নেই। গানটির কথায় আছে একান্ত ভালোবাসা, একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরতাবোধ, এবং একসঙ্গে নতুন পৃথিবীর খোঁজে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত।
“Islands in the Stream” মুক্তির পরপরই বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং এটি আজও ক্লাসিক লাভ সং 'classic love song' হিসেবে বিবেচিত হয়। গায়ক দু'জনার কন্ঠ ও অনবদ্য সুরের জন্য এই গানটি এখনো মানুষের হৃদয়ে স্থান করে আছে।
গানের কিছু পঙক্তির ভাবানুবাদ করলে যেমন শোনায় —
দুই নদীর মাঝে দ্বীপের মতো
এটাই তো আমরা
মাঝখানে কেউ নেই
তবে ভুল কীভাবে হতে পারে আমাদের?
চলো, ভেসে যাই দূর অন্য জগতে
সকল নির্ভরতা নিয়ে, একে অপরের সাথে,
এক প্রিয় থেকে আরেক প্রিয়ার কাছে।।
আজ গানটি আবার শুনতে ইচ্ছে করছিল, আর তখন ভাবছিলাম কোথাও যদি চলে এতে পারতাম যেখানে সেই দ্বীপের দেখা মিলবে।
পঙতিমালার ইউটিউব লিংক
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৬
হুমায়রা হারুন বলেছেন: দুর্দান্ত লেখা।
অসম্ভব সুন্দর হয়েছে।
ডলি পার্টন যদি তার জীবদ্দশায় পেতেন এই লিরিক, তার জীবনটা আরো সুন্দর হয়ে উঠতো।
২|
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০০
খায়রুল আহসান বলেছেন: পাখিরা যেমন মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়ায়, গানও আমাদেরকে তেমনি এক স্বপ্নরাজ্য থেকে অপর স্বপ্নরাজ্যে হাল্কা মেঘের ভেলার মত ভেসে বেড়াতে সাহায্য করে। তরুণ বয়সে তো কল্পনা থাকে সীমাহীন, রঙিন! গানের কথা তো এ বয়স থেকেই তরুণ তরুণীদেরকে ভালোবাসতে শেখায়, বলতে না পারা অনুভূতিগুলো প্রকাশের জন্য তাদের ঠোঁটে বা কলমে যথোপযুক্ত শব্দসম্ভার তুলে দেয়। আর দেহে-মনে দোলা দিয়ে যাবার জন্য সুরের ভূমিকা তো রয়েছেই!
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭
হুমায়রা হারুন বলেছেন: গান আমাদের মনের গভীরে জমে থাকা অনুভূতিগুলোর চুপিচুপি প্রকাশ, জীবনের নানা বাঁকে সাহচর্য ও অনুপ্রেরণা।
আপনার ভাবনার সঙ্গে এই সুরের মুগ্ধতায় আমিও ডুবে আছি সেই সময় থেকে।
৩|
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২১
শায়মা বলেছেন: আহা গানটি শুনে আমার একটা কবিতার লাইন মনে পড়ে গেলো!!
মানে না লেখা কবিতা!!!
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮
হুমায়রা হারুন বলেছেন: সোনামণি, দাও না কবিতা খানি।।
৪|
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩
মেহবুবা বলেছেন: গান তো গানই ! কতবার ভাবি দূরে থাকি গানের কিন্তু কিছু কিছু গান কোথায় গেঁথে যায়!
শায়মা, কবিতাটা দাও দেখি!
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: শায়মা তো রবিঠাকুর পাগল। কিন্তু এ লেখা তার নিজেরই হবে নির্ঘাত।
৫|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৪
কিরকুট বলেছেন: দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা
বন্ধু চিরকাল ।
রেল লাইন বহে সমান্তরাল ।
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯
হুমায়রা হারুন বলেছেন: একদম ঠিক।
৬|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
কিছু গান শুধু শোনা হয় না তারা জীবনের কোনো এক বিশেষ মুহূর্তে এসে আমাদের ভেতরে চিরদিনের জন্য
বাসা বাঁধে। ১৯৮৪-এর সেই স্কুলের অফিস রুম, বেতন দেওয়ার ভিড়, আর প্রিয় বন্ধুর হাঁটু গেড়ে বসে ক্যাসেটের
কভারের পেছন থেকে লিরিক দেখানো স্মৃতির পাতায় যেন আজও তেমনি জীবন্ত।
Islands in the Stream তাই আপনার কাছে শুধু একটি প্রেমের গান নয়; এটি হয়ে উঠেছে কৈশোরের নির্মল
বিস্ময়, বন্ধুত্ব, প্রথম ভালোবাসার অনুভব এবং হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের দরজা। নদীর স্রোতের মাঝে ভাসমান
দ্বীপের উপমাটিও যেন জীবনের এক গভীর সত্য বলে স্রোত আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়, সময় আমাদের দূরে
সরিয়ে দেয়, তবু কিছু মানুষ আর কিছু গান আমাদের হৃদয়ের নিজস্ব দ্বীপ হয়ে থেকে যায়।
শেষের আকাঙ্ক্ষাটিই সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে যায় কোথাও যদি চলে যেতে পারতাম, যেখানে সেই দ্বীপের দেখা মিলবে। হয়তো সেই দ্বীপ কোনো ভৌগোলিক স্থান নয়; সেটি আমাদের স্মৃতির ভেতরেই আছে যেখানে বয়স থেমে
থাকে, প্রিয় মানুষগুলো হারিয়ে যায় না, আর একটি পুরোনো গান বাজলেই আমরা আবার ফিরে যাই সেই কিশোরী
বিকেলে।
স্মৃতি আসলে এমনই জীবন স্রোতের মতো বয়ে যায়, কিন্তু কিছু গান আমাদের ভাসমান দ্বীপ হয়ে চিরকাল পাশে থাকে।
শুভেচ্ছা রইল
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫
হুমায়রা হারুন বলেছেন: সেই ছোটবেলার শোনা সুরের গান হয়ে ওঠে শৈশব-কৈশোরের অনুপম ভাষ্য। জীবনের সাথে অজান্তেই মিশে যায়। পরবর্তীতে আমাদের জীবনের গল্পকে নীরবে রচনা করে চলে। এখন পিছনে ফিরে তাকালে দেখি এই গানগুলো আমাদের জীবনযাপনের নানান বাঁকে ফিরে এসেছে—কখনো একাকিত্বে, কখনো আনন্দে, কখনো বিষণ্নতায়। কত স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। তারা বারবার মনে করিয়ে দেয়, সে সব কথা যা, প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। আসলে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিগুলো মুছে যায় না; চাপা পড়ে থাকে। তারপর কোনো না কোনো গানের সুরে, কোনো লিরিকের ছোঁয়ায়, তারা আমাদের সঙ্গে সঙ্গে হেঁটে চলে—অদৃশ্য ভাবে। যখন গভীরভাবে অনুভূত হয় (মনের ভেতরে) তখন পুরোনো টাইম লাইনে চলে যাই।
ডিমেনশিয়া রোগীদের ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রেও এই টেকনিক কাজে দিয়েছে।
সাউন্ড ট্রিটমেন্ট/ থেরাপি অচিরেই সব রোগের মহা ঔষধ হিসাবে কাজ করবে বলে।
৭|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
গানের কথাগুলো খুব সুন্দর।
একদম অন্য জগতে নিয়ে যায়।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭
হুমায়রা হারুন বলেছেন: জীবনের কোনো এক অনির্দিষ্ট সন্ধিক্ষণে, কোনো গান হঠাৎ এসে আমাদের অন্তর্লোকের গোপন কোনো দ্বারে নক করে।
সে সময়ে এই গান এমন এক মূর্ছনা তুলেছিল যা সবার জীবনবোধকে গভীরতর করে তোলে। সেই মুহূর্তে সুর আর লিরিক কেবল শ্রুতির বিষয় ছিল না; বরং তারা জেগে উঠেছিল মনের ভাল লাগার অলিতে গলিতে।
সময় ১৯৮৪।
৮|
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৪
রাজীব নুর বলেছেন: আমার জন্মের এক বছর আগের ঘটনা।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯
হুমায়রা হারুন বলেছেন: তার পর পরই আপনি এই রিয়্যালিটি তে প্রবেশ করলেন।
দেখলেন জীবনের আরেকটি দিক আছে যা, সুন্দর, মধুর ও গীতময় ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
এসো তবে অভিসারে .... ... ... ... :
...................................................................
চলো তবে ভেসে যাই দূর কোনো অন্য লোকে,
যেখানে জাগবে না কেউ মৃদু কোনো সংশয়ে বা শোকে।
সকল নির্ভরতা নিয়ে এই ব্যাকুল দু-হাতে,
মেতে উঠি শেষহীন এক পরম নিশুতি রাতে।
এক প্রিয় বুক থেকে অন্য এক প্রিয়ার হৃদয়ে,
মিশে যাবো নিঃশব্দে, সবটুকু নীরবতা সয়ে।
কোনো দাবি থাকবে না, থাকবে না কোনো অভিমান,
শুধু রয়ে যাবে এক অন্তহীন ভালোবাসার গান।
নির্বাক স্পর্শেরা ছুঁয়ে যাবে আমাদের কায়া,
পৃথিবী ভুলে যাবে আমাদের অবিনশ্বর ছায়া।
তুমি আর আমি মিলে একাকার হয়ে যাবো শেষে,
যেন দুই নদী আজ মিশে গেছে সাগরের দেশে।