| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হুমায়রা হারুন
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।
ঝলমলে সকাল। হেমন্তের বাতাস, শরতের নীল আকাশ। শীত আসছে বলে। রাস্তার ওই পাড়ে গাছপালা ছাড়িয়ে,ফুলের ঝাড় পেরিয়ে হলুদ প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে। সময় দেখলাম সকাল ১১ টা। মনে পড়ল কার সাথে যেন দেখা হয়েছিল কাল রাতে? আর সেই কথা মনে করিয়ে দিতে এসেছে হলুদ প্রজপতি? মনে পড়ে গেল কাল রাতের স্বপ্ন।
দৃশ্য -১
চোখের সামনে আমাদের পুরনো বাড়িটা এসে পড়েছে। যে বাড়িটার কথা কখনো ভুলতে পারিনা। তাই বারবার চিন্তার মাঝে আমি ওই বাড়িতে ঘুরে বেড়াই। ঘরগুলো বেশ বড় বড় দেখাচ্ছে । ওই দিকটায় বারান্দায় পাশে আমার ঘর। তারপর একটা হলওয়ে শুরু। সেটা দিয়ে বিস্তৃত বারান্দায় প্রবেশ করা যায়। হলওয়ের আমি যাবার বেলায় দেখলাম তুমি আমার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে দুবার। পাশ ঘেঁষে। কিন্তু একটুও ছোঁয়া লাগেনি। তখন ই উপলব্ধি করলাম তুমি এসেছ আমাদের বাসায়, বা থাকছো অনেকদিন ধরেই।
আমি হয়তো বা চলে গেছি ড্রইং রুমের পাশে, পর্দায় ঘেরা ছোট্ট থাকার জায়গাটায়ে, যাকে বাড়ির ডাইনিং রুম না বানিয়ে পর্দা দিয়ে থাকার ঘর বানিয়েছি। আরব লিভিং স্পেসকে ডাইনিং রুম বানিয়ে খাবার টেবিল পেতেছি।
পাশ দিয়ে যখন হেঁটে গেলাম কথা হয়নি একবারও। খাবার টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে দূর থেকে তোমাকে ঘরের মাঝে বসে থাকতে দেখলাম। ঘরে তখনো বাতি জ্বালানো হয়নি ।অন্ধকার। এবার আমি ঘরে প্রবেশ করে বাতি জ্বালিয়ে দিলাম। তারপর নিজ থেকে বললাম,’ লাইট জ্বালিয়ে দিই। অন্ধকার তো’।
তোমার মুখ স্পষ্ট দেখিনি কিন্তু ভীষণভাবে বুঝতে পারছি -এ যে তুমি! সত্যইই= তুমি, এবং আমাদের বাসায়। থাকছো আমার ঘরে। আমি ঘরে প্রবেশ করলে কথা বললেও তুমি কোন কথা বললে না।
দৃশ্য -২
তিনতলায় আমাদের সেই বাসায় বিস্তৃত বারান্দা ছিল। সম্পূর্ণ বারান্দা নেট দিয়ে আবদ্ধ ছিল। অথচ এবার দেখছি খোলা বারান্দায় ব্যালকনির পাশে আমি দাঁড়িয়ে রাতের তারা ভরা আকাশ দেখছি। সামনে একটা বিশাল বড় গাছ। বহু পুরনো বিশাল উঁচু, ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। অনেক কালের প্রাচীন বৃক্ষ সে। যেন বহু বছরের, বহু শতাব্দীর সময় সাক্ষী, ঘটনার সাক্ষী। অন্তত দশতলা বিল্ডিং এর সামন উঁচু তো হবেই। সামনে দৃষ্টির সীমানায যতদূর যায় কোন বসতি নেই। খালি ফাঁকা মাঠ। রাতের অন্ধকারে ঢাকা। কোথাও কোন আলো নেই। শুধুই অন্ধকারের আলো। গাছের পেছনে মনে হচ্ছে ওই দূরের মাঠের পারে একতলা ব্যারাক আছে। সেখান থেকে একটা মৃদু আলো ভেসে আসছে। ব্যারাকের ওই ঘরে যেন তুমি আছো।
আর আমি?
খুব দূরে, আমার বাড়ির এই খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। তোমায় দেখার জন্য দাঁড়িয়ে আছি আর তোমার খুঁজছি। আকাশের তারাগুলো দেখছি। সামনের সুঠাম দেহের বৃক্ষটির কান্ড ঘেঁষে তোমার ঘরটি খুঁজবার চেষ্টা করছি। এতো অন্ধকার চারিদিকে, মনে হচ্ছে এই পুরো জায়গায় ব্ল্যাক আউট চলছে। হতে পারে জনপদ থেকে কোন বিচ্ছিন্ন এই এলাকা। তাই কোন আলো নেই। আমার বারান্দা ও বাড়ির আশপাশেও কোন আলো নেই। ভীষণ অন্ধকার। কিন্তু আকাশে একটা আভা। সে যেন খবর পাঠিয়ে বলছে, এই অন্ধকার রাতে, তুমি জেগে আছ। তুমিও জানো আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি তোমার জন্য। 
কিন্তু গাছটা যে তোমায় আমায় দেখার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে!
আমি তাই বলেই ফেললাম, ‘গাছের আড়ালে তোমায় দেখতে পাচ্ছি না।’
গাছটি যে তোমাকে আড়াল করে রেখেছে। তুমি আমার খুব কাছে এসে দাঁড়িয়েছ এবার।
বারন্দায় এবার আমি আর তুমি। শুধু আমরা দু’জন। অনেক রাত। শুধু আমরাই জেগে।
তুমি এবার কথা বলে উঠলে। আমায় বললে, ‘গাছটা তাহলে কেটে ফেলতে হয়।’
আমি আঁতকে উঠলাম। বললাম, ‘না এ গাছ কাটা যাবে না। কত পুরোনো গাছ এটা। কিভাবে সম্ভব?’
এবার তুমি আমার আরো কাছ ঘেঁষে দাঁড়ালে। কোমর জড়িয়ে ধরলে। অনুভব করছি তোমার স্পর্শ। তোমার সমস্ত বাহু আমাকে জড়িয়ে আছে।হ্যাচকা টানে আচমকা কাছে টেনে নিলে। একদম তোমার বুকের ভেতর। বললে, ‘চল, বিয়েই করে ফেলি। তাহলে গাছটা আর কাটতে হবে না।’
অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ভোর মাত্র
.।। .।। .।।
©somewhere in net ltd.