নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আইন নয়,নিয়ম ভেঙ্গে দিতে চাই

ইফতি বাবলু

ইফতি বাবলু খুব ইমপোরটেন্ট কেউ না।

ইফতি বাবলু › বিস্তারিত পোস্টঃ

shamokaler news

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৬:১০

কিভাবে কিছু ব্লগারের প্রারম্ভ প্রচেষ্টা ,

শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের গণজোয়ার

তৈরি করল তা নিয়ে দৈনিক সমকালের

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দিন

বদলে প্রত্যয়ী হওয়া এই নতুন যুগের

মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট এমন রায়ে মর্মাহত, ব্যথিত ও লজ্জিত।

আশা করেছিলাম, কাদের মোল্লার ফাঁসি হবে।

তা হয়নি। এখন ঘরে বসে থাকতে পারছি না।

রাস্তায় বের হচ্ছি। তোমরাও প্রতিবাদ

জানাতে এখনই ঘরের বাইরে চলে এসো।

জাতীয় জাদুঘরের সামনে সবাই একত্র হও। শুধু ব্লগে আর 'কি বোর্ডে' হাত রেখে প্রতিবাদ

করার সময় পার হয়েছে।" মঙ্গলবার

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল

আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দেওয়ার পর ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা.

ইমরান অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুকে একটি লেখা পোস্ট করেন। ওই লেখায়

তিনি এমন আহ্বান জানান। ওই দিন বিকেলেই

ইমরানের লেখায় সাড়া দিয়ে প্রথমে অল্প

কিছু সংখ্যক ব্লগার শাহবাগে জড়ো হন। এর পর ওই অরাজনৈতিক

সংগঠনের প্লাটফর্মে সমাজের সর্বস্তরের

জনতা একত্র হয়ে কাদের মোল্লার

ফাঁসি দাবি করে। মুহূর্তেই হ্যামিলনের

বাঁশিওয়ালার মতো অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট

ব্লগাররা পরিণত হন 'প্রজন্মের বাঁশিওয়ালা'য়। শাহবাগ মোড়ও ইতিমধ্যে নতুন

নাম পেয়েছে 'প্রজন্ম চত্বর'। গণজোয়ারের অন্যতম প্রধান কারিগর ডা.

ইমরানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার

কথা বলে জানা গেল তাদের আন্দোলন শুরুর

প্রাথমিক পর্বের কথা। একটি 'ক্ষুদ্র' উদ্যোগ

কীভাবে একটি বড় ঘটনার জন্ম দিতে পারে;

তার জীবন্ত উদাহরণ ইমরান ও তার বন্ধুরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগ

থেকে ওঠা গণজোয়ারের ঢেউ

ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সর্বত্র। কয়েক তরুণ

ব্লগারের বুকে লালন করা মুক্তিযুদ্ধের

চেতনার ক্যানভাসের রঙ এখন

ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। গণবিস্ফোরণের ঢেউয়ে উন্মাতাল সারাদেশ। শাহবাগ এখন

তরুণ-তরুণীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের

প্লাটফর্ম।

ব্লগারদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ

করতে মঙ্গলবার মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ

মিছিল নিয়ে দোয়েল চত্বর এলাকায় যান ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র

ফেডারেশন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের

নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগও মিছিল বের

করে ওই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ

করে।

শাহবাগে কথা হয় ব্লগার অনলাইন নেটওয়ার্কের আরেক সদস্য মারুফ রসুলের

সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের

পদার্থবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র

মারুফ সমকালকে জানান, মঙ্গলবার দুপুর

সাড়ে ১২টায় ফেসবুকে 'ইমরান ভাইয়ের' ওই

পোস্টটি দেখে একটি মন্তব্য শেয়ার করি। সেখানে লেখা ছিল_ 'হয় মান না হয় প্রাণ।

রাজাকারের ফাঁসি চাই, ফাঁসি ছাড়া পথ নাই।'

এরপর শাহবাগের দিকে ছুটে যাই। এরপর

সেখানে যা হয়েছে তা বাংলাদেশের জন্য

আরেক নতুন ইতিহাস। মারুফ আরও জানান, মুক্তমনা প্রগতিশীল

ব্লগারদের নিয়ে মাস তিনেক আগে গঠন

করা হয় ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

নেটওয়ার্ক। গঠিত হয় এ সংগঠনের কমিটিও।

এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা সাড়ে পাঁচশ'

থেকে ছয়শ'। এর আগেও ব্লগারদের উদ্যোগে দেশে বেশ কয়েকটি প্রতিবাদ

কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তা ছিল স্বল্প

পরিসরে। ১ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে পাবলিক

লাইব্রেরিতে জাতীয়ভাবে 'ব্লগার দিবস'

পালিত হয়। মারুফ বলেন, ব্লগার ও

ফেসবুকভিত্তিক ব্যতিক্রমী আন্দোলনের নজির দেশের তরুণ সমাজকে আরও উদ্বুদ্ধ করবে। মারুফ জানান, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান

নেওয়ার কারণে তুর্কি দূতাবাসের

বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তারা।

তবে ওই সময় এত মানুষের সাড়া মেলেনি।

এবারের সাড়া তাদের

কল্পনাকে ছাড়িয়ে গেছে। এটা এখন আর কোনো দল বা সংগঠনের আন্দোলন নয়। দেশের

১৬ কোটি মানুষের প্রতিবাদের আন্দোলন।

শাহবাগের এ গণজোয়ার বিশ্বের অনেক

দেশে বাংলা ভাষাভাষী নাগরিকের

মধ্যে ছড়িয়ে গেছে।

আরেক ব্লগার তৌহিদুল আলম রিয়াদ সমকালকে বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার

দিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখে অনেক ব্লগার

ফোন করে জানান, দ্রুত আমাদের কিছু

করতে হবে। এরপরই আমরা শাহবাগে জড়ো হই। অস্ট্রেলিয়া থেকে পড়াশোনা শেষ করে ইয়ুথ

ফর পিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসিতে কাজ করছেন

ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

নেটওয়ার্কের প্রকাশনা সম্পাদক অমিত

বিক্রম ত্রিপুরা। তিনি গতকাল

সমকালকে জানান, মঙ্গলবার রায়ের পরপরই প্রথমে ফেসবুকে ইমরান ভাইয়ের এক স্ট্যাটাস

দেখি। সেটা দেখার পর অনেক ব্লগার

সেখানে 'লাইক কমেন্টস'

করে শাহবাগে হাজির হতে নির্দেশ দেন।

এরপর ব্লগাররা নিজেদের মধ্যে মোবাইল

ফোনে যোগাযোগ করেন। হরতালের মধ্যেই অনেক ব্লগার সেখানে হাজির হয়ে প্রতিবাদ

জানাতে থাকেন। ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র সেই

প্রয়াস বিশাল আকার ধারণ করে।

ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট

নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক মাহমুদুর হকও বলেন,

ব্লগারদের উদ্যোগে এভাবে জনজোয়ার সৃষ্টি হবে, কল্পনা করিনি। জনগণের বিপুল

অংশগ্রহণ আমাদের দায়িত্ব

বাড়িয়ে দিয়েছে।

আন্দোলনকারী একাধিক তরুণের

সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেক বন্ধু

গত তিন দিন সার্বক্ষণিক শাহবাগ এলাকায় অবস্থান করছেন। অনেকেই এক-দু'ঘণ্টার জন্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত ছাত্রদের

রুমে গিয়ে গোসল সেরে আসেন। শাহবাগ

এলাকায় উপস্থিত লোকজনের কাছ

থেকে টাকা তুলে একটি ফান্ড গঠন

করা হয়েছে। অনেকের খাবার খরচ ওই ফান্ড থেকে ব্যয় হয়। মঙ্গলবার

মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর ওই ফান্ডে প্রায়

৪৩ হাজার টাকা জমা পড়ে। এছাড়াও বিভিন্ন

প্রতিষ্ঠান খাবারের জন্য

সহযোগিতা দিচ্ছে।

ব্লগার শাহীন জানান, যারা পুরো সময় শাহবাগে অবস্থান করছেন, তাদের খাবার

নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। কেউ

স্বেচ্ছায় টাকা ও খাবার দিচ্ছেন।

http://www.shamokal.com/?a8f298e0

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.