নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আইন নয়,নিয়ম ভেঙ্গে দিতে চাই

ইফতি বাবলু

ইফতি বাবলু খুব ইমপোরটেন্ট কেউ না।

ইফতি বাবলু › বিস্তারিত পোস্টঃ

জনতার আন্দোলন যে কতোটা ভালোবাসার তা যারা করে, তারা জানে। সিলেটে আন্দোলন করে যাওয়া আমাদের বন্ধু Ablaze Tamim এই চোখ ভিজে যাওয়া অভিজ্ঞতার কথা লিখে পাঠিয়েছেন।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:৩৩

বাবা, এই যে বাবা শুনছো?? এক কাপ চা খাবে না। আমি হেটেই চলেছি। একদিকে বন্ধুকে খুজেঁ চলেছি? আর অন্যদিকে শ্লোগান দিচ্ছিলাম। তাই খেয়াল করি নি। হঠাৎ আবার একটা কর্কশ কন্ঠ ভেসে এলো। এই যে বাবা এক কাপ চা খেয়ে যাও। আমি বললাম? না চাচা এখন চা খাবো না। বৃদ্ধ লোকটি বলে উঠলো? বাবা বেশি করে দুধ দিয়ে বানিয়েছি। খেয়েই দেখেন ?? আরাম পাবেন।



তারপরে আবার শ্লোগান দিবেন। ভাবলাম ,এতো করে যখ্ন বলছে খেয়েই নেই। আসলেই গলাটা শুকিয়ে গেছে। কিছুটা ব্যাথাও করছে! চা খাওয়ার এক ফাকেঁ বৃদ্ধ লোকটি বলে উঠলো? বাবা একটা কথা বলি? বলেন চাচা। বাবা আমার বড় ইচ্ছে আমি একটা শ্লোগান দেবো? কিন্তু কি করে দেই? আমি বললাম -এটা সবার জন্য উন্মুক্ত। আপনাকে কেউ বাধা দিবে না ! সাথেই সাথেই চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো- তুই, তুই ,তুই রাজাকার ।আমার চা শেষ, এইবার উঠবো ঠিক এমন সময় বন্ধুকে পেয়ে গেলাম। চাচাকে কিছু বলার আগেই আরো ২ কাপ চা। আমি বললাম চাচা আর চা খাব না। এক কাপ দেন ? না বাবা আরেক কাপ খেলে কিচ্ছু হবে না। আপনেরা দেশের ভবিষ্যৎ ।বাবা জানো ? আমার ছেলেটা কাল চা বিক্রি করতে এসেছিল এখানে।



একেবারেই রোজগার কম। আমি তাকে অনেক গাল-মন্দ করেছি। তাই আজ নিজেই এসেছি। এখন বুঝতে পারছি সে কেন কাল রোজগার এত কম করেছে? আমার সাধ্য থাকলে আমি আজ এখানের সবাইকে ফ্রি চা বিতরণ করতাম!! আমি আমার বন্ধুর দিকে থাকালাম, সেও হতবাক! একজন চায়ের দোকানদার! হয়তোবা কাউকে কিছু দেয়ার ক্ষমতা তার নেই। তবে তার এই একটি কথায় আমার চোখের কোণে জল এসে গেছে! আমি জানি এই বৃদ্ধ লোকের এই কথাটার পেছনে কতটা দেশপ্রেম ছিলো? কতটা শ্রদ্ধাবোধ ছিলো?? বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই কোটি জনতার দাবি এটি। রাজাকার, তুই, তুই, তুই, রাজাকার, বাংলার মাটি, বাংলার বায়ু, সব আমার। কাদের মোল্লা? সে তো কোন ছার?? এইবার তুই বাংলা ছাড়। সেই বৃদ্ধ লোক আমার চায়ের দাম রাখে নি? এই জীবনে অনেকের জন্যে অনেক কাজ করেছি। আজ পর্যন্ত বিনিময় ছাড়া কিছুই পাই নি!! অথচ আজ দু'দিনের মাথায় আমি শুধু একটি শ্লোগানের সুর গেয়েছি বলে বিনিময় হীন যে ভালবাসা পেয়েছি? তা মনে থাকবে আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। বাসায় আসার সময় বার বার কানের কোণে যেন ভেসে আসছিলো একটি কথা। বাবা কিছুই তো আমার দেয়ার নেই তোমাদের, আর এই দেশকে?



বাবা চায়ের দামটা না হয় নাই দিলেন? ভাববো আমি আমার দেশের এক সৈনিক কে চা খাইয়ে তুষ্ট করেছি। এই তুচ্ছ জীবনের সেরা পাওনা আমার। মনে মনে তাই বললাম - কেউ জানে না? কেউ জানবে না। এই আবদাল চাচার চোখে দেখা দেশপ্রেম। তাতে কি? রাজাকারের ফাসিঁর দাবিতে তার অবদানটা আর কেউ না জানুক। এই দেশ , দেশের বায়ু, আশেপাশের গাছগুলো তো সাক্ষী। স্যালুট আবদাল চাচা। স্যালুট তোমায়। কই গেলি রে রাজাকার? এইবার আর রেহায় নাই। গর্জে উঠেছে বাংলার জোয়ান। করবো তোকে শব। শাহবাগ থেকে চৌহাট্রা বিছিয়েছি চাদঁরের জাল। এইবার কোথায় পালাবি বল। সবার মুখে আজ একই শ্লোগান -তুই, তুই, তুই রাজাকার। এইবার তুই বাংলা ছাড়।



ঘটনার স্থান: কেন্দ্রীয শহীদ মিনার, চৌহাট্টা, সিলেট

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.