| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ চত্বরে যখন হুট
করে সমাবেশ শুরু হয়, তখন আমি যাইনি।
না যাওয়াটা আলস্য নয়, হতাশা আর ক্ষোভ।
আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল, এসব ফালতু নাটক-
সাড়ে ৪শ লোক খুন হওয়ার পরেও যদি কাদের
মোল্লার যাবজ্জীবন হয়, তাহলে বিচারে কোথাও একটা বড় 'কিন্তু' আছে।
সেই কিন্তুটা কী, সেটা বুঝতে পারছিলাম না।
প্রসিকিউশনের দোষ, তদন্তকারীদের দোষ,
বোঝার অগম্য অন্য কোনো পদ্ধতি? ভাবছিলাম
আর কী হবে এত মানববন্ধন, মিছিল, সমাবেশ
করে। সব শালাই আপোষকামী, কার উপরে বিশ্বাস রাখা যায়?
পরদিন সকালে শাহবাগে মূলত 'ঘটনাটা কী?'
দেখার জন্য যখন গেলাম, তখন
দেখি সেখানে আসলে প্রায় একই ক্ষোভ কাজ
করছে অসংখ্য মানুষের মাঝে। উল্লেখযোগ্য
স্লোগানগুলোর বড়টি হচ্ছে, 'পক্ষ নিলে রক্ষা নাই/রাজাকারের বিচার চাই।'
এর বাইরে আরেকটি স্লোগান হচ্ছে 'কোন
আঁতাতে এমন রায়/ দেশের মানুষ জানতে চায়?'
স্লোগানের ভাষাতেই ইঙিত পরিস্কার।
বাকি ইতিহাসের পত্যক্ষদর্শী আমরা সবাই।
সুতরাং সে ইতিহাস আলোচনা এখানে জরুরী নয়।
তবে সত্যি কথা, সাধারণ মানুষের এমন ক্ষোভ
দেখে সবকয়টি রাজনৈতিক দলই
প্রথমে হচকচিয়ে গেছে।
রাজনীতিবিদরা যাদেরকে গৃহপালিত কুকুর
বেড়াল গন্য করেন, এরকম নিতান্তই সাধারণ এলেবেলের
মানুষেরা এভাবে একাট্টা হয়ে রাতদিন
রাস্তায় পড়ে থাকবে, এরকম
অভিজ্ঞতা এদেশের রাজনীতির
ইতিহাসে এবারই প্রথম।
কে কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটি ঠিক করতেই সময় লেগেছে।
তবে আওয়ামী লীগ প্রথমেই এই
জনতাকে নিজেদের
দিকে টেনে আনতে চেষ্টা করেছে।
সংহতি জানাতে উদগ্রীব নেতাদের সারি,
আইনশৃংখলা বাহিনী আক্রমনে না গিয়ে ঘিরে রাখা, সংসদের বক্তৃতায় সমর্থন দেয়া- এভাবে দ্রুতই
তাঁরা আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত
করে নেয় এবং জনমনে ধারণা দিতে সক্ষম হয়
যে তাঁরাও এই জনস্রোতের সঙ্গে একমত।
ধীরে ধীরে তাঁদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এখন
তো এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে যে বিরোধী দল এটাকে আওয়ামী লীগেরই সাজানো নাটক
বলে দাবি করা শুরু করেছে!
আন্দোলনের উদ্যোক্তা ও সংগঠকরা বিভিন্ন
ধাপের অনেক শুদ্ধ ও ভুল পদক্ষেপের
মাধ্যমে গিয়ে কিছু দাবিতে স্থিতু হয়েছেন।
আসুন, বড় বড় দাবিগুলোর বর্তমান
অবস্থা দেখি।
১. ট্রাইবুনালে সরকার পক্ষের আপীলের সুযোগ
সৃষ্টি: এটি সরকার করেছে।
২. যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামায়াতের
সাংগঠনিক ভাবে বিচার শুরু করা : আইন পাশ হয়েছে, কিন্তু মামলা দায়েরের
কোনো প্রস্তুতিরও কোনো খবর নাই।
৩. যুদ্ধাপরাধী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা : কোনো খবর নাই।
বরং হাইকোর্টে একটা রীটের দোহাই
মাঝে মাঝে শুনতে পাই,
যেটি আসলে কোনভাবেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ
করবে না, বড়জোর তাঁদেরকে ধানের শীষ
মার্কা নেয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই হাইকোর্ট দেখিয়া বাঙাল কী করিবে?
৪. জঙ্গী অর্থের উৎস খুঁজে বের করতে কমিশন
করা : গ্রামীন ব্যাংকের বেলায় যত দ্রুততায় করা হয়েছে, জামায়াতের বেলা ততোটাই
ধীরস্থির মনে হচ্ছে।
৫. উস্কানি দেয়া মিডিয়াগুলোর
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া: কোনো খবর নাই। এককালে চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করার
ক্ষেত্রে আইনকানুন পেলেও এখন আর আইন
খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মনে হচ্ছে। উল্টো এসব
মিডিয়া তাঁদের মিথ্যাচার
বাড়িয়ে নিজেদের লোকদেরকে নৈতিক সমর্থন
দিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা পর্যন্ত করিয়েছে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত মূলকাজ
কোনটারই তেমন কোনো অগ্রগতি নেই, অথচ
মুভমেন্ট বান্ধব হিসেবে সরকার নিজের
চেহারা ঠিকই সামলে রেখেছেন।
এদিকে মুভমেন্ট ব্যস্ত আছে ধর্ম পরীক্ষায়
পাশ করতে। রহস্যজনক সংগঠন 'হেফাজতে ইসলাম' এর আবির্ভাব হয়েছে,
যাঁরা গণজাগরণ মঞ্চে ছাত্র সংগঠনের
নেতাদের বক্তৃতা শুনতে ভালোবাসে কিন্তু
ব্লগারদেরকে কথা বলতে দিলেই
রক্তগঙা বইয়ে দিতে চায়। সবমিলিয়ে বেশ
কৌতুককর অবস্থা।
আমরা ক্ষুদ্র ব্লগার।
আমাদেরকে যদি হেফাজতে ইসলাম
বক্তৃতা করতে না দেয়, আমার সমস্যা নেই।
কারণ আমরা মঞ্চে বক্তৃতা করার লোক না।
আমরা ঘরে বসে কীবোর্ড চালানোর লোক,
আমরা আমাদের কাজ ঠিকই বজায় রাখব। তবে ৫ তারিখের সেই স্লোগানগুলো যেন
সরকার ভুলে না যান।
সময় বয়ে যাচ্ছে। ৬ তারিখ সকালে দেখা সেই
দৃশ্য চোখে রেখে আমি তাই
বিনীতভাবে বলতে চাই, শুধু
মুখে সংহতি সংহতি করলে লাভ হবে না, কাজ করে দেখান। আওয়ামী লীগ, এবার
দয়াকরে ঝেড়ে কাশেন।
©somewhere in net ltd.