নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সময় যেন ঘোড়ায় ছুটে যাচ্ছে দুরন্ত..

ইলিয়াছ রাইয়ান

আমি অতি সাধারন নিরীহ প্রকৃতির অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ। অনেক কিছুই করতে ভাল লাগে। আড্ডা দেওয়া গান শুনা বই পড়া এবং সংগ্রহ করা মুভি দেখা ইত্যাদি। সমরেশ,সুনীল,শীর্ষেন্দু,আনিসুল হক,ইমদাদুল হকদের বই বেশী পড়া হয়। ডায়েরী লেখে খুব আনন্দ পাই। ফেলে আসা অতীতের আয়নায় নিজেকে ফিরে পেতে ভালই লাগে। প্রকৃতি আমাকে খুব টানে। দেখতে চাই বাংলার অপরূপ।

ইলিয়াছ রাইয়ান › বিস্তারিত পোস্টঃ

কষ্ট

২১ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২০

(এটি আমার লেখা প্রথম গল্প ০৭/০৭/২০০৬)



বাসা থেকে বের হতে আজ একটু দেরি হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে নাস্তাটাও করা হয় নি। একটা দোকানে গিয়ে নাস্তাটা সেরে নিল আজাদ।

আজ আজাদের ডিউটি পড়ছে কারওয়ান বাজার মোড়ে। প্রতিদিনের মত আজ ও রাস্তায় অনেক গাড়ি। বাস গুলো যত্রতত্র থামায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে না। যদিও বা এসবের মধ্যে আজাদদের প্রশ্রয়ই বেশী।

সামান্য একটু অনিয়ম পেয়ে আজাদ একটি গাড়ি থামাল। চালক কে বলল এই তোর কাগজ দেখা। অশহায়ের মত ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে চালক বলল স্যার, মাফ কইরা দেন স্যার। ...স্যার... স্যার...স্যার...... ধুর শালা কাগজ পত্রে ঝামেলা আবার স্যার স্যার মারাও, দিমু মামলা ডুকাইয়া সর সামনে থেইকা। চালকের কাকুতি মিনতি থামেনা। স্যার...স্যার বলে পায়ে ধরে মাফ চাচ্ছে। আজাদের কোন পরিবর্তন নাই সে গালাগালি করেই যাচ্ছে। চালক বলল স্যার মামলা দিয়েন না, মাত্রই গাড়িডা বার করলাম ইনকাম হয়নাই। উপায় নাই তাই সুযোগ বুঝে চালক আজাদের হাতে ১০০ টাকার তিনটি নোট গুজে দিল। আজাদের মুখ উজ্জল হল। মৃদ ধমক দিয়ে সে গাড়িটি ছেড়ে দিল। হঠাৎ তার আর চোখ পড়ল গাড়ির পিছনের দিকে যেখানে বসা তার ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে। দিকবিদিকশূন্য আজাদ হাহাকার করে উঠল। খুটী ধরে বসে পড়ল রাস্তার পাশে।।

বেশ কয়েক বছর আগের কথা। লেখা পড়া শেষ করে চাকুরির জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিল আজাদ। কোথাও কোন কিছু হচ্ছে না। হতাশায় চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে। বাবা মা ছোট ভাই বোন তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। কি করলে চাকুরি পাওয়া যায় উপায় জানা নাই আজাদের। মানুষের বস্ত্রের চাহিদার মত এখন তার চাকুরির চাহিদাটা ঠিক তাই। একদিন দূরসম্পর্কের এক আত্নীয় বলল টাকা পয়সা নিয়ে চলে আয়, চাকুরির এক ব্যবস্তা হবেই।

আজাদ আশার আলো দেখল। উওেজনায় রাতে গুমাতে পারেনি। বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার দেনা করে ৩,০০,০০০ টাকা যোগাড় করল। অবশেষে হাতে এসে ধরা দিল এই সার্জেন এর চাকুরি। তারপর বিয়ে, বাড়ি, গাড়ি করল ঘরে সন্তান এল। আজ সে সমাজে প্রতিষ্ঠিত।

তার একমাত্র ছেলে পড়ছে নামকরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছেলের কথা মনে হতেই চোখ ছল ছল করে ভিজে উঠল।

আজ ছেলে জানবে তঁদের এই বাড়ি,গাড়ি রাশি রাশি টাকার উৎস কী!!!তার বাবা কী তাহলে এ ভাবেই টাকার পাহাড় গড়ছে???আজ থেকে সে ছেলের কাছে ঘৃনার পাত্র। ভাবতেই ভিতরটা হুহু রে উঠল।

চোখ খুলে দেখল গাড়ির বিশাল লাইন পড়ে গেছে। ফুৎ ফুৎ করে বাঁশি বাজিয়ে যানযট কমানোর চেষ্টা করতে লাগল আজাদ।



মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৭

সজিব তৌহিদ বলেছেন: উপায় নাই তাই সুযোগ বুঝে চালক আজাদের হাতে ১০০ টাকার তিনটি নোট গুজে দিল। আজাদের মুখ উজ্জল হল।
এবাবেই দেশটা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। লেখাটি ভালো লাগলো।

২২ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:১১

ইলিয়াছ রাইয়ান বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনাকে

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.