![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আগ্রহ মোর অধীর অতি—কোথা সে রমণী বীর্যবতী । কোষবিমুক্ত কৃপাণলতা — দারুণ সে , সুন্দর সে উদ্যত বজ্রের রুদ্ররসে , নহে সে ভোগীর লোচনলোভা , ক্ষত্রিয়বাহুর ভীষণ শোভা ।
শোনা কথা, সত্য মিথ্যে জানি না। তবে ভালো মানুষের কাছেই যে শুনেছিলাম, সেটা নিশ্চিত।
আমাদের নবী করিম (সাঃ) যখন তাঁর মায়ের পেটে ছিলেন, তখন আমাদের প্রিয় নবির (সাঃ) আম্মা যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটতেন, তখন যদি তাঁর পায়ের নিচে কোন পাথর পড়তো, তাহলে আল্লাহের হুকুমে সেটা মোমের মতো গলে যেত। আর আকাশের মেঘ তাকে সব সময় ছায়া দিতো। যেন তিনি কষ্ট না পান।
কথাটা আমার মনে ধরেছিল। যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, আম্মাকে এক বেলার জন্যও কষ্ট পেটে দেই নি। তাঁর হ্যাঁ তে হ্যাঁ করেছি, তাঁর না তে না। আমার আম্মা আমার কাছে অনেক বড় একটা ব্যাপার। আম্মাকে দিয়ে উদাহরণ দিলাম মাত্র।
আমি আসলে কখনও চাইনা আমার কাছের মানুষ গুলা আমার কাছ থেকে কষ্ট পাক। আমার চাওয়া অনেক কম। সব সময় চেষ্টা করি সাধ্য মতো দিতে। হোক সেটা টাকা, হোক মেধা হোক কায়িক পরিশ্রম। ফলাফলে যা চেয়েছি তা হচ্ছে ভালোবাসা।
আম্মা যখন ভাত খেতে বসে আমাকে ফোন দিয়ে বলে কি দিয়ে খাবি রাতে? আমি বলি মুরগি দিয়ে খাবো আম্মা, আপনি? আম্মা বলে আজ তরকারি নেই, ডাল আর ভর্তা। বলার একমাত্র কারন, আমি বাড়ির খাবার অনেক পছন্দ করি। রাতে স্মৃতি ফোন দিয়ে বলে ভাইয়া আমরা তো তোর পছন্দের গরুর গোস্ত আর বুটের ডাল দিয়ে খেলাম রে, তুই কি খাইলি? আমি ওর কথা সুনি আর হাসি। কারন ভালোবাসার ফিডব্যাকে আমি সফল।
দুই বোনের কথা বলার দরকার নাই। আমি যাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়ে ভালোবাসার ফিডব্যাক পেয়েছি সেই গার্ল ফ্রেন্ডের কথাও বাদ, কথা বলি বন্ধুদের নিয়ে।
ভার্সিটিতে উঠে আমার বাসা ছিল ক্যাম্পাসের একদম পাশে। আমাদের ওপেন ক্রেডিট হওয়াতে একটা ক্লাস হতো সকালে, আরেকটা ক্লাস হতো বিকেলে। মাঝখানে লম্বা গ্যাপ। যাদের বাসা দূরে, তাঁরা কি করবে এই সময়ে। আমি যখন দূরে থেকে ক্লাস করতাম, আমি জানতাম এই ফাঁকা সময় কাটানো কত কষ্টের।
এই কষ্ট কাটানোর জন্য সব বন্ধু চলে আসতো আমার বাসায়। আমরা যে কি মজা করতাম। সবাই মিলে ভাত ভাগাভাগি করে খাওয়া, কার্ড খেলা, আড্ডা, ঘুম। কি করতাম না আমরা। পরিক্ষার আগের দিন গুলো জমে যেত। আমি দুর্ভাগ্য ক্রমে C++ ভালো পারতাম। আমি সব্বাইকে সেই বুজানি দিতাম। আমার চেয়ে ভালো পারতো রায়হান, সে ও সেই বুজানি দিতো............।। আহারে, কত মজার ই না ছিল দিন গুলো। আজ থেকে চার বছর আগের কথা। সব কথা মনেও নেই।
মাঝে মাঝে পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে। হাহাকার করে ওঠে বুক। যাদুর শহর ঢাকায় যান্ত্রিকতার মাঝে এই সব সরল ঘটনা কেই বা মনে রাখে? কি জানি বলে ইংলিশে, ছিলি ম্যাটার। এই শহরে যে যত তাড়াতাড়ি সব ঘটনা ভুলে যাবে সে তত বেশি খুশি, তত বেশি সুখি।
ভুলে যাও, সব ভুলে যাও। কেউ তোমাকে একটা তাঁর বাগানের গোলাপ দিয়েছে, হুর, ১০ টাকা দাম, তাই ভুলে যাও, তাঁর আবেগ ভুলে যাও। কোন বন্ধু তোমাকে তাঁর পড়া বাদ দিয়ে পড়া বুঝিয়েছে, হুর, নিজের স্বার্থ ছাড়া কেউ কিছু করে? তাই ভুলে যাও, সব ভুলে যাও। কেউ একদিন দুপুরে শুধু পানি খেয়ে থেকে তাঁর খাবার তোমাকে খাইয়েছে, কোন ব্যাপার না ভাইয়া। সে ডায়েট করেছে, সেটা তাঁর শরীরের জন্যই ভালো। তাই ভুলে যাও ভাইয়া, সব ভুলে যাও।
সবচেয়ে বড় কথা, ভালোবাসার ফিডব্যাক দিতে ভুলে যাও। দেখো, তোমার চেয়ে সুখি আর কেউ হবেনা।
ভুলে যাও, সব ভুলে যাও। আমি যে এতো কথা বললাম, সেই সব ও ভুলে যাও। সুখীদের মাঝে তোমাদের বাস, আধারে না হয় হোক, আমার সর্বনাশ।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে মে, ২০১৫ রাত ১২:৩৫
আহসানের ব্লগ বলেছেন: ভাল ছিল লেখাটা ।