| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নাহল তরকারি
আমি ধার্মিক। আমি সব কিছু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী বিচার বিশ্রেশণ করি। আমি সামাজিক রীতিনীতি, সমাজিক কু সংস্কার, আবেগ দিয়ে কোন কিছু বিচার করি না।
অন্ধকার খনির শ্রমিক থেকে পথের ভিক্ষুক
কয়লার খনির গভীরে প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে কাজ করতো রহিম। সকাল হলেই মাথায় হেলমেট, হাতে মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি নিয়ে নেমে যেতো মাটির বহু নিচে। চারদিকে ধুলো, বিষাক্ত গ্যাস, গরম আর মৃত্যুভয়, এটাই ছিল তার প্রতিদিনের পৃথিবী।
দিন শেষে শরীর ভেঙে যেতো, কিন্তু মজুরি ছিল অল্প। তাও আবার সময়মতো মিলতো না। মালিকদের কাছে শ্রমিকরা যেন শুধু সংখ্যা, মানুষের জীবন নয়। তবুও রহিম কাজ করতো, কারণ ঘরে তার বৃদ্ধ মা, স্ত্রী আর ছোট দুই সন্তান ছিল।
একদিন খনির ভেতরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটলো। উপরের অংশ ধসে পড়ে। অনেকেই আহত হলো, কেউ কেউ আর ফিরে এলো না। রহিমও মারাত্মকভাবে আহত হলো। তার পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সে বেঁচে ফিরলেও আর আগের মতো কাজ করতে পারলো না।
খনি কর্তৃপক্ষ প্রথমে কিছু আশ্বাস দিলেও পরে ধীরে ধীরে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলো। ক্ষতিপূরণও ঠিকমতো পেল না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেল। একসময় বাধ্য হয়ে রহিম রাস্তায় বসে ভিক্ষা শুরু করলো।
প্রথমদিকে লজ্জা লাগতো। মাথা নিচু করে বসে থাকতো। কিন্তু কয়েক মাস পর সে এক অদ্ভুত বাস্তবতা দেখলো, যে দিনে খনিতে ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করেও সে সামান্য টাকা পেতো, সেই টাকার চেয়েও বেশি আয় হচ্ছে ভিক্ষা করে। কেউ বকা দেয় না, মালিকের চাপ নেই, দুর্ঘটনার ভয় নেই, সময়মতো হাজিরা দেওয়ার তাড়া নেই।
এই বাস্তবতা তাকে ভিতর থেকে নাড়া দিলো।
একদিন তার পুরোনো সহকর্মী করিম তাকে বলেছিল,
“দেখছিস রহিম? আমরা কাজ করি, তবু সম্মান পাই না। আর তুই ভিক্ষা করে হলেও অন্তত বাঁচতে পারছিস।”
রহিম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল,
“সমস্যা ভিক্ষায় না করিম, সমস্যা হচ্ছে শ্রমের মূল্য না থাকা।”
শ্রমিক কেন কাজ ছেড়ে দেয়?
সমাজে অনেক মানুষ অলস বলে শ্রমিকদের দোষ দেয়। কিন্তু কেউ কি ভেবে দেখে—
একজন মানুষ কেন কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ছেড়ে অনিশ্চিত জীবনের পথে যায়?
কারণ অনেক কর্মক্ষেত্রে এখনো—
* ন্যায্য মজুরি নেই
* সময়মতো বেতন দেওয়া হয় না
* নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল
* দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নেই
* শ্রমিককে মানুষ হিসেবে মূল্য দেওয়া হয় না
যেখানে একজন শ্রমিকের ঘাম সস্তা, সেখানে তার মন ভেঙে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
শ্রমিক কোনো যন্ত্র নয়। তারও পরিবার, স্বপ্ন ও অনুভূতি আছে। তাকে সম্মান দিতে শিখতে হবে।
শেষ কথা
রহিমের গল্প শুধু একজন মানুষের গল্প নয়। এটি হাজারো অবহেলিত শ্রমিকের প্রতিচ্ছবি।
যে সমাজ শ্রমের মূল্য দিতে জানে না, সেই সমাজ একদিন মানবিকতাও হারিয়ে ফেলে।
একজন শ্রমিক যখন ভিক্ষাকে শ্রমের চেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক মনে করে, তখন বুঝতে হবে সমস্যাটা মানুষের নয়— সমস্যাটা ব্যবস্থার।
২|
১৯ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৪০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে একমত ।
৩|
২০ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:৪০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: “সমস্যা ভিক্ষায় না করিম, সমস্যা হচ্ছে শ্রমের মূল্য না থাকা।”
...........................................................................................
অত্যন্ত বাস্তব কথা,
আমাদের দেশে এখনও ন্যায্য শ্রম মুজুরি হয় নাই,
তবে শ্রমিকদের ও সততার অভাব আছে ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৫৬
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- হুম, লেখার ধরন আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে।