| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নাহল তরকারি
আমি ধার্মিক। আমি সব কিছু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী বিচার বিশ্রেশণ করি। আমি সামাজিক রীতিনীতি, সমাজিক কু সংস্কার, আবেগ দিয়ে কোন কিছু বিচার করি না।
আড্ডার সেই বেঞ্চটা আজও অপেক্ষায়
২০০৫ সাল।
বিকেলের শেষ আলোটা ধীরে ধীরে গাছের পাতায় এসে পড়তো। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, নির্ধারিত সেই জায়গাটায় প্রতিদিন জড়ো হতো ১০ জন বন্ধু। কারো হাতে চায়ের কাপ, কারো হাতে সস্তা মোবাইল ফোন, কেউ আবার শুধু গল্প শোনাতো।
সেখানে কোনো ধনী-গরিব ছিল না, কোনো পদ-পদবি ছিল না।
ছিল শুধু বন্ধুত্ব।
হাসির শব্দে জায়গাটা মুখর হয়ে উঠতো। কেউ স্বপ্ন দেখতো বড় চাকরির, কেউ ব্যবসার, কেউ বিদেশ যাওয়ার। আবার কেউ শুধু বলতো—
“আমরা কিন্তু কখনো আলাদা হবো না!”
তখন কে জানতো, সময় নামের অদৃশ্য শক্তি একদিন সবাইকে আলাদা করে দেবে?
---
২০১০ সাল
বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজনের চাকরি হয়ে গেল।
কারো অফিস সকাল ৯টায়, কারো নাইট শিফট।
আগের মতো প্রতিদিন আর দেখা হতো না।
তবুও সপ্তাহে একদিন হলেও সবাই চেষ্টা করতো সেই পুরোনো জায়গায় আসতে।
তখনও বেঞ্চটা হাসতো।
তখনও চায়ের দোকানদার জিজ্ঞেস করতো—
“বাকি সবাই কই?”
---
২০১৪ সাল
সময় আরও বদলে গেল।
কেউ বিয়ে করলো, কেউ অন্য শহরে চলে গেল, কেউ সংসারের দায়িত্বে ডুবে গেল।
এখন আর ১০ জন নয়।
মাত্র ৩ জন বন্ধু নিয়মিত আড্ডা দেয়।
তাদের গল্পেও পরিবর্তন এসেছে।
আগে যেখানে প্রেম, সিনেমা আর স্বপ্নের কথা হতো, এখন সেখানে চাকরির চাপ, টাকার হিসাব আর জীবনের ক্লান্তি।
তবুও মাঝে মাঝে তারা পুরোনো দিনের কথা মনে করে হেসে উঠতো।
---
২০১৫ সাল
এখন শুধু ২ জন।
একজন এসে বসে থাকে, আরেকজন একটু দেরিতে আসে।
চায়ের কাপ দুইটা টেবিলে রাখা হয়।
চারপাশ আগের মতোই আছে, কিন্তু কিছু যেন নেই।
হয়তো সেই শব্দগুলো নেই।
হয়তো সেই মানুষগুলো নেই।
কথা কমে গেছে।
নীরবতা বেড়ে গেছে।
---
২০১৮ সাল
এখন শুধু একজন বন্ধু আসে।
সে চুপচাপ বসে থাকে।
মাঝে মাঝে মোবাইল বের করে পুরোনো ছবিগুলো দেখে।
কখনো বেঞ্চটার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।
কখনো দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
তার মনে পড়ে—
এই জায়গাটাতেই একদিন ১০ জন বন্ধু একসাথে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল।
আজ সেখানে শুধু স্মৃতি বসে আছে।
---
২০২৬ সাল
এখন সবাই ব্যস্ত।
কেউ কর্পোরেট অফিসে, কেউ বিদেশে, কেউ সংসারে, কেউ নিজের জীবনের যুদ্ধ নিয়ে ক্লান্ত।
সেই জায়গাটা আজও আছে।
গাছটা হয়তো আরও বড় হয়েছে।
বেঞ্চটা হয়তো পুরোনো হয়ে গেছে।
কিন্তু সেখানে আর কেউ বসে না।
কেউ কাউকে স্মরণও করে না।
আড্ডা নামের ছোট্ট পৃথিবীটা সময়ের ভিড়ে হারিয়ে গেছে।
---
জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো হয়তো তখনই ছিল, যখন পকেটে টাকা কম ছিল কিন্তু সময় ছিল অনেক।
যখন ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছিল, কিন্তু বন্ধুত্ব নিশ্চিত ছিল।
আজ সব আছে—
চাকরি আছে, ব্যস্ততা আছে, দায়িত্ব আছে।
শুধু নেই সেই বিকেলগুলো।
নেই সেই ১০ জন বন্ধু একসাথে হাসার শব্দ।
সময় মানুষকে বড় করে দেয়,
কিন্তু অনেক সময় দূরেও সরিয়ে দেয়।
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:৩০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: “আমরা কিন্তু কখনো আলাদা হবো না!”
.................................................................
স্কুল জীবনের আবেগ প্রবন কথা,
তখন তা বিশ্বাস ও করতাম ।
বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন ।
সময় মানুষকে বড় করে দেয়,
কিন্তু অনেক সময় দূরেও সরিয়ে দেয়।
.........................................................................
সময় শেখায় বড় হতে,
কঠিন পৃথিবীর পথে,
নতুন স্বপ্ন বুনে দেয় জীবনের রথে।
অভিজ্ঞতার আলোয় মন পরিপক্ব হয়,
ধীরে ধীরে কেটে যায় সব পিছুটান, ভয়।
কিন্তু সেই সময় আবার এক অদ্ভুত চাদর,
ধুয়ে মুছে নিয়ে যায় চেনা মানুষের আদর।
ব্যস্ততার চোরাবালিতে হারিয়ে যায় গান,
কাছের মানুষও হঠাৎ হয়ে যায় আনচান।
নদীর দুই পাড়ের মতো বেড়ে চলে দূরত্ব,
স্মৃতির পাতায় পড়ে থাকে ফেলে আসা মুহূর্ত।
সময় যেমন বড় করে, চেনায় নতুন আলো,
তেমনি আপনজনকেও দূরে সরিয়ে দিল ভালো।