| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নূরুজ্জামান: অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি রাজধানীতে। পেশাদার সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি অস্ত্র সংগ্রহে নেমেছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারাও। জাতীয় সংসদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে পাড়ায়-মহল্লায় সন্ত্রাসীদের হাতে হাতে যাচ্ছে অস্ত্র। ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক সূত্রও দাবি করেছে, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলের নেতারা অস্ত্র সংগ্রহ করছেন। তাদের লোকজন পাশের একটি দেশ থেকে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আসছে। সূত্রমতে, অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহকারী সরকারি
দলের প্রভাবশালী ১২ নেতা সম্পর্কেও তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। ২৩শে মে ৬ পিস্তলসহ ৭ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এর পরপরই গত শুক্রবার রাতে সরকারি দলের তিন নেতার বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে কোন অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি অভিযান পরিচালনাকারী দল। গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্র ব্যবসায়ী অপু ও সুমন জানায়, সর্বশেষ তারা প্রতিবেশী দেশ থেকে ২২টি অস্ত্র এনেছে। ১২টি অস্ত্র সরকারি দলের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার কাছে সরবরাহ করেছে। ৪টি অস্ত্র পেশাদার সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রি করেছে। বাকি ৬টি অস্ত্র গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন ডিসি বলেন, অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগে রাজধানীসহ সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের মজুত বাড়ছে। প্রভাবশালী নেতারা অস্ত্র সংগ্রহের জন্য পেশাদার অস্ত্র কারবারিদের ব্যবহার করছে। তাদের চাহিদার যোগান দিতেই অস্ত্র আমদানি করছে অবৈধ কারবারিরা। গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্র ব্যবসায়ী অপু জানায়, তাদের কাছে রাজনৈতিক নেতা ও ক্যাডাররাই বেশির ভাগ অস্ত্রের অর্ডার দিয়েছিল। এর বাইরে বেশ কয়েকজন পেশাদার সন্ত্রাসীরও অস্ত্রের চাহিদা ছিল। তাদের ডিমান্ড পাওয়ার পরপরই অস্ত্র আমদানি করা হয়। এভাবে গত তিন মাসে অন্তত ৬টি অস্ত্রের চালান নিয়ে এসেছে তারা। সর্বশেষ এসেছে ২২টি অস্ত্র। এসবের বেশির ভাগই বিক্রি করে দিয়েছে। ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। সমপ্রতি গোয়েন্দা পুলিশ অবৈধ অস্ত্রধারী আরও ৪০ ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছিল। তবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় তাদের গ্রেপ্তার এড়িয়ে যায় পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুর ও মোহাম্মদপুর থেকে ৭ অস্ত্র ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন ওরফে মাসুদ, শহিদুল ইসলাম খোকন, ফখরুল ইসলাম ওরফে অপু, সুমন হোসেন, কামরুজ্জামান ইমরান, হালিমা আক্তার লিজা ও ভারতীয় নাগরিক সুচন্দা মান্না ওরফে রাবেয়া গ্রেপ্তার হয়। পরের দিন তাদের আদালতে হাজির করে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয় গোয়েন্দারা। এদের মধ্যে অপু ও সুমনকে ৭ দিন, মাসুদ ও খোকনকে ৩ দিন, ইমরান, লিজা ও সুচন্দাকে একদিন করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় আদালত। গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান ও সুচন্দা জানায়, তারা মূলত ভারতের অস্ত্র সরবরাহকারী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। ভারতীয় অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাঠিয়ে দেয়। ভারত ছাড়াও চেকোশ্লোভাকিয়া, ইতালি ও ব্রাজিল থেকে অস্ত্রের চালান অবাধে দেশে ঢুকে পড়ছে। সূত্রমতে, ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের সহযোগী ইমরান। সে দীর্ঘদিন ভারতে ছিল। ওই সময় ভারতীয় অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী সুচন্দা মান্না ওরফে রাবেয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়। তার মাধ্যমেই ভারতীয় অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে যুক্ত হয়। ব্যবসার সম্পর্কের পাশাপাশি ইমরান ও সুচন্দার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে শাহাদতের নির্দেশে তারা ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে আসে। রাজধানীর আজিজ মহল্লার চিনু মিয়া রোডের একটি বাড়িতে তারা বসবাস করতে থাকে। সুচন্দা জানায়, তার বাড়ি কলকাতার হাওড়া জেলার বেহালা থানার এসএন রায় রোডে। পিতার নাম প্রহলাদ মান্না। মাধ্যমিক পাস করে কলকাতার একটি শপিং মলে চাকরি নেয়। বছর তিনেক আগে ওই শপিং মলে কেনাকাটা করতে আসে ইমরান। প্রথম পরিচয়েই বন্ধুত্ব। এরপর সুচন্দার সঙ্গে পরিচয় হয় বাংলাদেশের আরও একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর। তারা কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় নিয়মিত আড্ডা দিতো। এক পর্যায়ে ওই আড্ডা থেকেই অস্ত্র ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে ইমরান ও সুচন্দা। চলতি বছরের প্রথম মাসেই তারা বিয়ে করে। এরপর বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রথম দিকে সাভারে বসবাস শুরু করলেও সমপ্রতি রাজধানীতে বাসা ভাড়া নেয় তারা। সেখান থেকেই অস্ত্র ও মাদক বহন করছিল।
যে পথে ঢুকছে ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র: আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অস্ত্র কারবারিরা অভিনব কৌশল গ্রহণ করে। মাঝে-মধ্যেই বদল করে অস্ত্র আমদানির রুট। সূত্রমতে, বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বেছে নিয়েছে অস্ত্র কারবারিরা। ট্রাকবোঝাই পণ্যের ভাঁজে ভাঁজে অস্ত্রের চালান নিয়ে আসে তারা। সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে যশোর ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় অস্ত্র ব্যবসায়ী মাসুদের তত্ত্বাবধানে। গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ জানায়, সে সীমান্তবর্তী অঞ্চলেই বেশি অবস্থান করে। দেশীয় এজেন্ট হিসেবে অস্ত্র আমদানি করে থাকে। পরে পণ্যবোঝাই ট্রাকে অস্ত্রের চালান তুলে দিয়ে তার গতিপথ অনুসরণ করতে থাকে।
সক্রিয় আন্তঃদেশীয় চক্র: অস্ত্র আমদানি থেকে শুরু করে বিক্রয় পর্যন্ত সক্রিয় থাকে আন্তঃদেশীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। অস্ত্র কারবারি এই চক্রে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও দু’দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার দুর্ধর্ষ তিনটি সিন্ডিকেট দায়িত্ব পালন করে থাকে। ভারতের সিন্ডিকেট সদস্য ইমরান ও সুচন্দা, সীমান্তবর্তী এলাকার সিন্ডিকেট সদস্য মাসুদও রাজধানী ঢাকার অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে। তারা নিয়ন্ত্রণে ডজনখানেক অস্ত্র ব্যবসায়ী রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে। অবৈধ অস্ত্রের বেচাকেনা ও সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে অপরাধীরা সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে। তারা পিস্তল ও রিভলবারকে বলে থাকে ‘বই’। কখনও ‘মাল’, আবার কখনও ‘গাড়ি’ নামও ব্যবহার করে। তাদের ভাষায় গুলির নাম ‘খাওন’ ও ‘বিচি’।
অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি ছানোয়ার হোসেন জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও তৎপরতা বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
Click This Link
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে মে, ২০১৩ রাত ১:৫৮
নীল জানালা বলেছেন: আশা করবো আমাদের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বিভাগের কর্মীগন প্রভাবশালী মহলের সকল প্রভাবমুক্ত হয়ে দেশকে অবৈধ অস্ত্রের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত রাখতে সচেস্ট থাকবেন। দেশটা যেন তাদের সন্তানদের বসবাসের যোগ্য থাকে। তথাকথিত প্রভাবশালীদের কারোর সন্তানই দেশে থাকেনা। সুতরাং দেশ ডাস্টবিন বা খুনীদের অভয়ারন্ন হয়ে গেলেও তাদের কিছু যায় আসেনা। তারা তাদের প্রভাব কুপথে খাটিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করবেন আর একদিন দেশ ফেলে চম্পট দিবেন। তাদের সাথে হাত মিলালে হয়তো সাময়িক কিছু সুবিধা এবং নগদ কিছু টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু বৃহৎ অর্থে এসব আমাদের ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর।