| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জ্যাক স্মিথ
লিখতে না পড়তে ভালো লাগে, বলতে না শুনতে ভালোবাসি, সেমি-ইন্ট্রোভার্ট।
হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম সে যা উত্তর দিয়েছে তা হুবহু নিচে তুলে ধরলাম, সিন্ধান্ত এখন আপনার হাতে।
আমি- হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে তোমার কি ধারণা? এটা কি আসলেই বৈজ্ঞানিক কোন চিকিৎসা পদ্ধতি না কবিরাজি ধ্বাপ্পাজি চিকিৎসা পদ্ধতি?
চ্যাটজিপিটি- সংক্ষেপে বললে: বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী হোমিওপ্যাথি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। এটি ভেষজ বা কবিরাজি চিকিৎসাও নয়; বরং এটি ২০০ বছরেরও বেশি পুরনো একটি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি, যার মূল নীতিগুলো আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত নয়।
হোমিওপ্যাথির দুটি মূল ধারণা হলো:
১: "Like cures like" — যে পদার্থ সুস্থ মানুষের মধ্যে কোনো উপসর্গ তৈরি করে, সেটির অত্যন্ত পাতলা (diluted) রূপ সেই উপসর্গের চিকিৎসা করতে পারে।
২: অত্যধিক dilution — অনেক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ এতটাই পাতলা করা হয় যে শেষ পর্যন্ত তাতে মূল পদার্থের একটি অণুও থাকার সম্ভাবনা থাকে না (এটি Avogadro constant-এর সীমারও বাইরে চলে যায়)। হোমিওপ্যাথিতে দাবি করা হয়, পানি সেই পদার্থের "স্মৃতি" ধরে রাখে। কিন্তু এই "water memory" ধারণার পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
গত কয়েক দশকে হাজার হাজার গবেষণা হয়েছে। যখন উচ্চমানের গবেষণাগুলো (যেমন randomized controlled trials এবং systematic reviews) একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়, তখন দেখা যায়:
হোমিওপ্যাথি প্লাসিবোর (placebo) চেয়ে ভালো কাজ করে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কিছু ছোট গবেষণায় ইতিবাচক ফল দেখা গেলেও সেগুলোর মান বা নকশায় সমস্যা ছিল, এবং বড় ও উন্নত গবেষণায় সেই ফল পুনরায় পাওয়া যায়নি। এ কারণেই বিশ্বের অনেক বড় স্বাস্থ্য সংস্থা ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান হোমিওপ্যাথিকে কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে সুপারিশ করে না।
তাহলে অনেক মানুষ কেন বলে তারা ভালো হয়েছে?
এর কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ আছে:
প্লাসিবো প্রভাব — রোগী বিশ্বাস করায় উপসর্গ কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে।
অনেক রোগ স্বাভাবিকভাবেই সময়ের সঙ্গে ভালো হয়ে যায়।
একই সময়ে অন্য কার্যকর চিকিৎসাও চলতে পারে।
মানুষ সাধারণত ভালো হওয়ার ঘটনাই বেশি মনে রাখে, কাজ না করার ঘটনাগুলো কম মনে রাখে।
এটি কি ক্ষতিকর?
হোমিওপ্যাথিক ওষুধে সাধারণত সক্রিয় উপাদান না থাকার কারণে সেগুলো প্রায়ই সরাসরি ক্ষতিকর হয় না। কিন্তু বড় ঝুঁকি হলো:
যদি কেউ ক্যান্সার, নিউমোনিয়া, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, বা গুরুতর সংক্রমণের মতো রোগে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা বাদ দিয়ে শুধু হোমিওপ্যাথির ওপর নির্ভর করেন, তাহলে রোগ মারাত্মকভাবে খারাপ হতে পারে।
আমার মূল্যায়ন
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে:
Evidence-based medicine (প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা): ✔️
হোমিওপ্যাথি: ❌ কার্যকারিতার নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
কবিরাজি/লোকজ চিকিৎসা: আলাদা বিষয়। কিছু ভেষজ উপাদান সত্যিই কার্যকর হতে পারে, কিন্তু সেগুলোকেও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পাস করতে হয়।
তোমার আগের আলোচনাগুলো থেকে বুঝতে পারছি তুমি প্রমাণ-ভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকে গুরুত্ব দাও। সেই মানদণ্ডে বিচার করলে, হোমিওপ্যাথি বর্তমানে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা নয়। যদি কোনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সত্যিই নির্ভরযোগ্যভাবে কোনো রোগ সারাতে পারে, তাহলে সেটি একই ধরনের কঠোর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পাস করে মূলধারার চিকিৎসার অংশ হয়ে যেত। বর্তমানে এমন শক্ত প্রমাণ নেই।
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: Exactly- মূল ঘটনা এটাই। ছোট খাটো রোগ এমনিতেই মস্তিষ্কের অটোম্যাটিক ডাক্তারিতে ভালো হয়ে যায় আর নাম হয় কবিরাজের। তবে হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে অনেকের টিউমার এবং আরও কিছু রোগ ভালো হবার কথা শুনেছি যার বেশিরভাগই গুজব আর কিছুটা প্ল্যাসিবো ইফেক্টের কাজ হতে পারে।
২|
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আর রুকাইয়া ?
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৫
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আজাকের এই এআই এর যুগেও এইসব তন্ত্র মন্ত্র চলে?
৩|
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৩২
নিমো বলেছেন: আমি একটা হোমিওপ্যাথি সফটওয়্যার পেয়েছিলাম, যেখানে লক্ষণ বলে দিলে ও ওষুধ বলে দেয়। বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথির ধান্দাবাজরা ভালো পরিমাণ অ্যালকোহল পায় যা বাজারে বেচে ভালোই মাল কামানো সম্ভব। ধর্ম, হোমিওপ্যাথি এগুলো বাংলাদেশে বাজার ভালো পায় কারণ ভেড়ার পাল সংখ্যায় বেশি।
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৭
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আর এ জন্যই নোংরা গলির চিপার দোকানগুলাতে লেখা থাকে "এখানে কম্পুটারের মাধ্যমে হোমিও চিকৎসা করা হয়"।
ধর্ম, হোমিওপ্যাথি এগুলো বাংলাদেশে বাজার ভালো পায় কারণ ভেড়ার পাল সংখ্যায় বেশি। - এই সব ভেড়ার পালদের একটু মানুষ করা দরকার।
৪|
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: হোমিওপ্যাথি বর্তমানে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা নয়।
..........................................................................................
এই চিকিৎসা একেবারে ভূঁয়া তা মানিনা ।
এর কিছু কিছু হালকা চিকিৎসা আছে যা ভালো করে ।
আমি একবার পায়ের আঙুলের ব্যথায় জুতা পড়তে পারছিলামনা,
তখন একজনের পরামর্শে নিউ মার্কেটে বসে এমন নামকরা ডাক্তারের কাছে
নিয়ে গেল , তিনি কিছু সাদা মিষ্টি বড়ি দিল এবং ড্রপ দিল । ২ দিনের মধ্যে
আমার ব্যথা সেরে গিয়েছিলো । ঐ কারনে আর কোন ডাক্তারের কাছে যেতে হয়নি ।
উল্লেখ্য যে ,হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় জার্মান ওষুধ আছে যা অত্যন্ত কার্যকর ।
তবে বড় সবধরনের চিকিৎসায় এর কোন খ্যাতি নাই ।
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৩
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় এমন অনেক রোগ ভালো হবার কথা আমিও শুনেছি, এগুলো প্ল্যাসিবো ইফেক্ট হতে পারে। দুই/তিন পর আপনার পায়ের আঙুলের ব্যাথা এমনিতেও ভালো হয়ে যেতে পারতো।
শেষ কথা হচ্ছে- হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বৈজ্ঞানীক ভাবে পরিক্ষিত নয়।
৫|
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: রুকাইয়া নিয়ে লিখুন । দারণ রেসপনস পাবেন সামুতে ......
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৬
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আপনি লিখেন আমরা পড়ি, এই ব্লগের কেউ'ই রুকাইয়া ফুকাইয়া'তে বিশ্বাস করে বলে আমার মনে হয় না।
৬|
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি তো ভালো লিখতে পারি না ; আপনার লেখা কড়া হয় ।
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০৩
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: হা হা! ভালো বলেছেন, তবে আমি এখন আর কড়া লেখা লিখি না, লোকে খারাপ বলে।
আপনাকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না- এই ফেসবুক, ইনস্টা, টিকটক, শর্টস, রিলসের যুগেও আপনি নিয়মতি এই ব্লগে লিখে যাচ্ছেন। আমি সামুর কেউ হলে আপনাকে পুরুষ্কৃত করতাম। ![]()
৭|
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৯
নিমো বলেছেন: এসব ভেড়ার পাল মানুষ হবার নয়। গ্রাম চিকিৎসালয়টা কি দেখেছেন? পাঞ্চায়েতের মত না, তবে খারাপও না।
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: একদম তাই।
৮|
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৪৭
আলামিন১০৪ বলেছেন: এআই কি বানান ভুল করে? বৈজ্ঞানিক- বানান ভুল।
হোমিওপ্যাথির নিরামায়- প্লাসিবো এফেক্ট না।
আমার গলায়েএকবার কাটা ফুটল। গেলাম হোমিও ডাক্তএরর কাছে। সাদা টিকটিকির ডিম টাইপ ওষুধ দিল । খেলাম নিয়ম করে। কাটার সমস্যা না গেলে ও অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করলাম আমার হাত-পায়ের কড়াগুলো সব একে একে মিলিয়ে যেতে শুরু করল।
Like cures like- এ সত্যতা আছে। তবে সব সময় কার্যকর নয়। কারণ অনেক কেমিক্যাল বা ওষুধে একই রকম লক্ষণ দেখা দেয়। তাই ঠিক কোন ওষুধে কোন রোগ সারবে তা নিয়ে গবেষণা দরকার।
যদিও বিজ্ঞানে এরকম নিরাময়েরে কোন ব্যাথ্যা নেই- তাই বলে এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে, আমরা সব জেনে বসে আছি।
আরেকটি উদাহরণ দিই। আমার এক বন্ধু যে এখন শিশু বিশেষজ্ঞ- তার বাবার লিভার সেরোসিস ছিল- ডাক্তাররা বহু পূর্বেই তাকে জবাব দিয়ে দিয়েছিলেন- বলেছিলেন তিনি আর কয়েক মাস বাঁচবেন- তারপর হোমিও ওসুধ খেয়ে আরো বিশ বছরের উপর দিব্যি বেঁচে ছিলেন। বলা বাহুল্য আমার বন্ধুটি নিজেও এই রহস্য ভেদ করতে পারে নি।
তবে একটি অসুবিধা আছে, তা হলো সব রোগীর জন্য একই হোমিও ওষুধ কাজ করে না- কারণটা অজানা
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: খেয়াল করলে দেখবেন, এআই এর উত্তরে কোন বানান ভুল নেই, বানান ভুল হয়েছে আমার প্রশ্নে এবং শিরোনামে।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় অনেকের রোগ ভালো হবার কথা আমিও শুনেছি কিন্তু এগুলোর মধ্যে ফঁক রয়েছে, এবং এই চিকিৎসা পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক ভাবে পরিক্ষিত নয়, এগুলোকে অনেক পরিক্ষা নিরিক্ষার মধ্য দিতে যেতে হবে।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে- এর কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া নেই তাই মানুষের ক্ষতিও হয় না এবং উপকারও হয় না এবং এই চিকিৎসায় পদ্ধতি খুবই সস্তা একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩২
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আরেকটি উদাহরণ দিই। আমার এক বন্ধু যে এখন শিশু বিশেষজ্ঞ- তার বাবার লিভার সেরোসিস ছিল- ডাক্তাররা বহু পূর্বেই তাকে জবাব দিয়ে দিয়েছিলেন- বলেছিলেন তিনি আর কয়েক মাস বাঁচবেন- তারপর হোমিও ওসুধ খেয়ে আরো বিশ বছরের উপর দিব্যি বেঁচে ছিলেন। বলা বাহুল্য আমার বন্ধুটি নিজেও এই রহস্য ভেদ করতে পারে নি।
এ ধরনের ঘটনা আমিও অনেক শুনেছি, কিন্তু এখানে অনেক ফাঁক ফোকর রয়েছে। এখন হয়ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয় শুধু এতটুকু বলি- হোমিও অষুধ না খেলেও ওই লোক আরও বিশ বছর বাঁচতেন। বাংলাদেশের ডাক্তাররা কিন্তু আরেক ডাকাত, বিষয়টা আপনাকে বুঝতে হবে। মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এরা বহু কাহিনী করে যা আপনার অজানা নয়।
ব্যক্তিগতভাবে আমি বাংলাদেশের ডাক্তার এবং কবিরাজের মধ্যে খুব একটা পর্থ্যক্য দেখি না।
৯|
০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৩১
নতুন বলেছেন: দেশে পীর মাজার হোমিওপ্যাথী ব্যবসা করে যাবে কারন এখানে অন্ধঅনুসারীর সংখ্যা অনেক।
যারা হোমিওর পক্ষে তারা বিজ্ঞানিক পদ্বত্বী জানেনা, বুঝেনা।
বিবিসি একটা ডকুমেন্টরি দেখতে পারেন।
https://www.dailymotion.com/video/x7o8s5w
০৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২২
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আপনার ডকুমেন্টারিটা এই পোস্টের জন্য খুবি উপযোগী, সময় করে দেখতে হবে।
ধন্যবাদ।
১০|
০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২
রাজীব নুর বলেছেন: সহমত।
০৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২২
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: ধন্যবাদ।
১১|
০৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৯
শেরজা তপন বলেছেন: ভুয়া ভুয়া বলে এবং বৈজ্ঞানিক বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ হোমিওপ্যাথির ওপর আস্থা রাখেন।
কেন?
কারন এ ঔষধের কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই (No Side Effects)
হোমিওপ্যাথিতে শুধু রোগের বাহ্যিক লক্ষণের চিকিৎসা করা হয় না, বরং রোগীর শারীরিক, মানসিক, আবেগগত অবস্থা এবং জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে ওষুধ নির্বাচন করা হয়। একে বলা হয় "Treat the patient, not the disease" (রোগীর চিকিৎসা করুন, রোগের নয়)।
অ্যালার্জি, অ্যাজমা, মাইগ্রেন, চর্মরোগ (যেমন- একজিমা, সোরিয়াসিস), বাতের ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিকের মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগে অনেকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে সুফল পান। যেখানে প্রচলিত ওষুধ আজীবন খেয়ে যেতে হয়, সেখানে হোমিওপ্যাথি রোগকে মূল থেকে নির্মূল করার দাবি করে।
হোমিওপ্যাথির মূল লক্ষ্য হলো শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলা, যাতে শরীর নিজেই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
০৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আপনি যে যুক্তি দেখিয়েছেন তা এক অর্থে ঠিক।
কিন্তু সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ এমনকি লক্ষ কোটি মানুষও যদি কোন একটি বিষয় ব্যবহার করে বা তার উপর আস্থা রাখে তবুও উক্ত বিষয়টি বিজ্ঞান ভিত্তিক যাচই বাছাই এর কাছে হেরে যেতে পারে বা ভুল প্রমাণ হতে পারে। কত মানুষ একটি বিষয়ের প্রতি আস্থা রাখলো বা না রাখলো তার উপর নির্ভর করে বৈজ্ঞানিক যাচাই করণ পদ্ধতি কাজ করে না, কত মানুষের হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেয়ে রোগ নিরাময় হয়েছে এমন দাবির উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা বিজ্ঞান চলে না, যা আপনিও জানেন।
যতক্ষণ পর্যন্ত হোমিওপ্যাথির বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা আলাদা ভাবে যথাযথ প্রকৃিয়ায় ক্রস চেকিং করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত একে বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি বলা যায় না, কত মানুষ এই হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগ নিরাময়ের দাবী করলো উহা মুখ্য বিষয় নয়।
যেমন- ছোট খাটো রোগে আক্রান্ত ১ হাজার জন মানুষকে আপনি প্রতিদিন সাকালে ১ গ্লাস করে পানি খেতে বলবেন, ১ মাস পরে দেখবেন বহু মানুষের রোগ নির্মূল হয়ে গেছে প্রকৃতিক ভাবেই, কিন্তু নাম হয়েছে আপনার ওই ১ গ্লাস পানির। আপনার অতি উৎসাহী কোন ভক্ত হয়তো চারিদিকে চাউর করবে- "আমার ঘনিষ্ট একজনের ক্যান্সার রোগ ভালো হয়ে গেছে উক্ত পানি খেয়ে" আর এই গুজব রকেট বেগে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে, আপনার বাড়ির চারপাশে হাজার হাজার মানুষ ভীড় জামাবে শুধু আপনাকে এক নজড় দেখার জন্য। বিষয়গুলো আসলে এভাবেই কাজ করে।
ইহাকেই বলে ঝাড়ে বক মারা, আর এভাবেই দেশের হাজার হাজার মানুষ এখনো, ঝাড় ফুঁক চিকিৎসা গ্রহণ করছে। দেশের কোন এক পীর হাজার হাজার লোকের পানি ধরা হতে মাইকে এক সাথে ফুঁ দিতো, উক্ত পানি খেয়ে বহু মানুষের বহু রোগ নির্মূলের ঘটনা শুনা যায়।
দেশে হাজার হাজার ওঝা রয়েছে যারা সাপের বিষ নামায় বলে দাবী করে, কিন্তু এসবের ফাঁক ফোকর আপনার অজানা নয়।
আফ্রিকায় কোন এক পাদ্রী স্টেডিয়ামে এক সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য এক ধরণের জুস পান করায় যা খেয়ে হাজার হাজার মানুষের রোগ নিরাময়ের কথা শুনা যায়। কিন্তু এগুলোর সবই হচ্ছে বুজুর্কি- মানে ঝড়ে বক মরে আর ফকিরের কেরামতি বারের মত অবস্থা।
এই ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতি এক ধরণের এমএলএম ব্যবসার মত, ১০০ জনের মধ্যে কোন এক কারণে দুই জনের ছোট কোন এক রোগ ভালো হয়ে গেছে কিন্তু চারিদিকে চাউর হবে- আমার খুব ঘনিষ্ট একজনের জটিল এক ক্যন্সার ভালো হয়ে গেছে উক্ত ওষুধ খেয়ে।
শেষ কথা হচ্ছে- যদি কোনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সত্যিই নির্ভরযোগ্যভাবে কোনো রোগ সারাতে পারে, তাহলে সেটি একই ধরনের কঠোর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পাস করে মূলধারার চিকিৎসায় আসতে হবে।
আপনার অনুসন্ধানী মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
১২|
০৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০২
নতুন বলেছেন: https://www.dailymotion.com/video/x7o8s5w
এই ডকুমেন্টরিটা সবার দেখা উচিত। তাহলে হোমিওর উপরে কন্সেপ্ট ক্লিয়ার হবে।
শেষ কথা হচ্ছে- যদি কোনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সত্যিই নির্ভরযোগ্যভাবে কোনো রোগ সারাতে পারে, তাহলে সেটি একই ধরনের কঠোর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পাস করে মূলধারার চিকিৎসায় আসতে হবে।
বাংলাদেশে এখনো মানুষ সাপে কামড়ালে ওঝার কাছে যায়। মৃত্যুকে নিয়েও তারা অবহেলা করে কারন বিশ্বাস আছে যে ওঝার মন্ত্রে সাপের বিষ নামে।
বাস্তবতা হইলো বাংলাদেশের বেশির ভাগ সাপেই বিষ থাকেনা, অনেক সময় সাপ বিষ ঢালেনা। সেইসব মানুষ ওঝার কাছে ভালো হয়। বাকীরা মারা যায়। তখন ওঝা বিভিন্ন কারন দেখায়।
যেখানে সাপের কামড়ের মতন জিনিসের উপরে মানুষ এখনো অন্ধ বিশ্বাসের মাঝে আছে, সেখানে হামলেস হোমিওপ্যাথীর উপরে কেন বিশ্বাস করবেনা।
০৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আর এভাবেই ওঝাড়া ঝড়ে বক মারে। প্রকৃত পক্ষে ওঝাদের দ্বারা সাপের বিষ নামানো তো সম্ভব নয়ই বরং তাদের ঝাড় ফুঁকের কারণে দেশে প্রতি বছর বহু সাপে কামড়ানো রোগী মারা যায়।
লাইভ উদাহারণ হচ্ছে- মাত্র কিছুদিন আগে কুমিল্লার এক গ্রামে ১৮ বছরের এক ছেলেকে বিষধর সাপে কামড় দেয় তার পরিবার তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যেতে চাইলে ওই ছেলের এক বন্ধু তার পরিবারের লোকজনদের হাতে পারে ধরে অনুরোধ করে যেন ওঝার কাছে না নিয়ে হাসপাতালে নেয়, কিন্তু গ্রাম্য লোকজন তাকে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে ঝাড় ফুঁক দিয়ে বিষ নামিয়ে বাসায় আসার ঘন্টাখানেক পর উক্ত ছেলে আসুস্থ হয়ে পারে, পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যায়।
এখন এই ছলেটির মারা যাওয়ার পিছনে দায়ী কে? অবশ্যই ওই ওঝা।
এভাবেই ওঝাদের কারণে দেশে প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়, তারা মুলত রোগী মারে, ভালো করার ক্ষমতা নেই। তারপরেও ওঝাদের নিয়ে না না কল্পকাহনী প্রচলিত আছে এই দেশের অজ্ঞ জনোগোষ্ঠীর মাঝে।
উক্ত ছেলেটিকে যদি বিষধর সাপে কামড় না দিতো, অথবা ড্রাই বাইট বা খুব বেশি বিষ ঢালতে না পারতো তাহলে ছেলেটি মারা পরতো না, এমনিতেই ভালো হয়ে যেতো- সেক্ষেত্রে উঝার কেরামতি বাড়তো, গ্রামের পর গ্রাম ওই ওঝার নাম ছড়িয়ে পরতো।
এভাবেই গুজব রকেট বেগে ছড়ায়।
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
১৩|
০৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪
নতুন বলেছেন: এই সাধারন জিনিসটাই দেশের বিরাট জনগস্ঠির মানুষ বোঝেনা।
দেশের মানুষের মাঝে এখনো কেন জানি সত্য যাচাই করার প্রবনতা নাই। তারা বিশ্শাস করতে আগ্রহী।
এই কারনেই, হোমিওপ্যাথী, চেতনা বিক্রির ব্যবসা, ধর্মীয় মাজার, পীর মাজার, ওলী আউলিয়া, মাদ্রসার ব্যবসার প্রসার ঘটছে।
আশা করেছিলাম, বিজ্ঞানের আলোতে আসলে মানুষ বুঝতে পারবে। কিন্তু মোবাইল ফোন আশার পরে জীনের বাদশা মানুষকে ফোন দিয়ে গুপ্তধন দেবার নাম করে প্রতারানা করেছে।
সামনে এআই বাবার প্রতারনার কাহিনির জন্য অপেক্ষা করছি। ![]()
০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:১৭
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: এক হুজুরের বায়ানে শুনেছি জ্বিনও নাকি আজকাল এআই ব্যবহার করছে।
এআই বাবা আসার আর বেশিদিন বাকি নেই মনে হচ্ছে।
১৪|
০৭ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬
আলামিন১০৪ বলেছেন: বিজ্ঞান, বিজ্ঞান নিয়ে মানুষ চিল্লা-ফাল্লা করে কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিজ্ঞানের ছাত্র না।
হোমিওপ্যাথি নিয়ে শেরজা তপন এর ব্যাখ্যাটি ভালো লেগেছে- ভাইরাস-ব্যাকটিরিয়া কে দুর্বল করে টিকা দেওয়া হয় যেন মানুষের দেহে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জেগে উঠে। ঠিক তেমনি হোমিও চিকিৎসায় এমন ওষুধ ব্যবহার করা হয় যেন রোগাক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রোগের অনুূরূপ লক্ষণ সামান্য দেখা দেয় আর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে উঠে।
তবে এ নিয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন- কেননা সব রোগীদের সম্ভবত একই ওষুধে কাজ হয় না- এজন্য ডাক্তাররা ওষুধ দেয়ার আগে শরীরের প্রবণতা (এক এক মানুষের শরীর এক এক ভাবে রিয়্যাক্ট করে) নিয়ে জিজ্ঞাসা করে ।
বাই দ্যা ওয়ে, বিজ্ঞানের আবিস্কার পরিবর্তনশীল- আজকের অনুমান কালকে সত্য হয়ে ধরা দিতে পারে।
০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৩৮
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: বিজ্ঞান নিয়ে কে চিল্লাপাল্লা করে? বিজ্ঞান কি চিল্লাপাল্লা করার বিষয়? যাদের কমন সেন্স আছে তারাই বিজ্ঞান বুঝে, এখনে চিল্লাপাল্লা করার কিছু নেই।
ওষুধ যত কম সেবন করা যাবে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তত শক্তিশালী হবে- হোমিওপ্যাথি যেহেতু রোগীকে ১ ফোঁটা পানি ছাড়া আর কিছুই দেয় না তাই এই ওষুধ খাওয়া আর না খাওয়া সমান কথা, সেক্ষেত্রে রোগীর স্বাভাবিক ভাবেই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা- সে দিক দিয়ে তপন দা ঠিকই বলেছেন।
আমি হোমিওপ্যাথি, এলোপ্যাথি কোন ধরণের ওষুধ সেবন করি না কিন্তু তাই বলে আমি কনভেনশনাল মেডিসিন এর বিপক্ষে নই আমি জানি কনভেনশনাল মেডিসিন এ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কিন্তু এক একটি কনভেনশনাল মেডিসিন তৈরীর পিছনে দীর্ঘ বছরের গবেষণা এবং ট্রায়াল থাকে ও পরিক্ষিত তাই এখানে ভুলের পরিমাণ খুবই কম।
আজকের অনুমান কালকে সত্য হয়ে ধরা দিতে পারে। - হুমম... আর তাই আপনিও অনুমান নির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে থাকুন একদিন না একদিন ইহা সত্য হইলে হইতেও পারে।
আর হোমিওপ্যাথির হেকিম ও তার পরিবারের লোকজন কিন্তু সামন্য সর্দি কাশি হলেই ডাক্তার/হাসপাতালে দৌঁড়ায়, সুতরাং একটু খেয়াল কাইরা।
১৫|
১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯
খায়রুল আহসান বলেছেন: এলোপ্যাথি চিকিৎসা করে কোন উপকার না পেয়ে হোমিওপ্যাথি ধরে উপকার পেয়েছেন, এমন অনেক রোগীর কথা আমি জানি। আবার উল্টো উদাহরণও রয়েছে। বিজ্ঞান যাই বলুক, যে যেভাবে রোগের উপশম লাভ করবে, এবং যে পথে গমন সহজতর হবে, সে পথেই রোগী হাঁটবে, এটাই স্বাভাবিক। সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোন ঔষধপাতি না খেয়ে ভালো থাকা যায়, অন্ততঃ বছর পঞ্চাশেক। কিন্তু ভেজাল খাদ্যের এই দেশে তো সেটা মোটেই সম্ভব নয়। মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের এগ্রেসিভ মার্কেটিং এর উন্মাদনায় ও প্রলোভনে অনেক সময় অনেক ডাক্তারই অনাবশ্যক ঔষধ প্রেসক্রাইব করার প্রবণতার দ্বারা ধাবিত হন। রোগীর স্বাস্থ্যে এবং চিকিৎসা বাজেটে এর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৫
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: যথার্থই বলেছেন, দ্বিমত করার কোন সুযাাগ নেই।
এলোপ্যাথি বলেন আর হোমিওপ্যাথি বলেন পুরো চিকিৎসা সেক্টরটা বাংলাদেশে খুবই লাভজনক একটি বিজনেস আর এটি এতটা লাভজনক হওয়ার পিছনে মূল কারণ হচ্ছে মানুষের অজ্ঞতা। এই দেশের মানুষ মুড়ির মত ওষুধ খায় আর ডাক্তারও পাতা ভরে ওষুধ লিখে দেয়; অথচ খাবার দাবার এবং লাইফ স্ট্যাইল চেঞ্জের মাধ্যমে ৯০% রোগ সারিয়ে তোলা সম্ভব।
আমি নিজেই আমার চিকিৎসক আমি কোন ধরণের কোন ওষুধ গ্রহণ করি না।
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১৩
কাছের-মানুষ বলেছেন: হোমিওপ্যাথি ভূয়া সেটা অনেক আগেই জানি।
মানুষ এই ঐষুধ খেয়ে ভালও হয়না আবার অসুস্থও হয়না! অনেক মানুষ খেয়ে উপরকার পেয়েছি বলে, আসলে সেটা ঔষুধের ফলাফল নয়, মানুষের সাধারন খাদ্যগুন যেমন ভাত মাছ, মাংস ইত্যাদির যে পুষ্টিগুন সেগুলো খেয়ে ভাল হয় কারন সব রোগ খতরনাক নয়, কিছু সময়ের সাথে এমনিতেই ভাল হয়ে যায়!