নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি জাহিদ। পড়তে ভালোবাসি তাই ব্লগ নেম- সর্বগ্রাসী পাঠক।\nমাঝে মাঝে টুকটাক লিখি। আর শান্ত সকালগুলোয় সবুজ ঘাসের দিকে তাকালে আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করি, সত্যিই তো! \'পৃথিবীর সব রূপ লেগে আছে ঘাসে।\'

সর্বগ্রাসী পাঠক

আমি একজন সর্বভুক পাঠক। অক্ষরের পাড় বোনা প্রতিটি শব্দ উচ্চারণে অদ্ভুত আনন্দ পাই। আনন্দ পাই গান, বই, আর সিনেমায়।

সর্বগ্রাসী পাঠক › বিস্তারিত পোস্টঃ

হিমু এবং মিসির আলির আত্মপ্রকাশ

১১ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০৮



কিশোর হুমায়ূন আহমেদ সদ্য সুবোধ ঘোষ এর "শুন বরনারী" বইটি শেষ করেছেন। গল্পের মূল চরিত্র একজন হোমিওপ্যাথ ডাক্তার, নাম হিমাদ্রী। ডাকনাম হিমু।
খুবই সাদামাটা একটি গল্প কিন্তু বইটা পড়ার পর কিশোর হুমায়ূন কেমন যেন আচ্ছন্নের মতো হয়ে গেলেন। মাঝে মাঝেই তাঁর চোখের সামনে সেই ডাক্তারের কাল্পনিক ছবি ভেসে উঠতে লাগল। রাস্তায় কারো সঙ্গে দেখা হলে তিনি অবাক হয়ে ভাবেন, আরে! ইনিতো অবিকল হিমাদ্রীর মতো!
একদিন সন্ধ্যাবেলা তিনি নিজের তীব্র আবেগ থেকে হিমাদ্রীকে একটি চিঠিও লিখে ফেললেন।
কিন্তু ডাক্তার হিমাদ্রী কিংবা লেখক সুবোধ ঘোষ কারোরই ঠিকানা তাঁর জানা ছিল না। তাই তিনি চিঠিটি পোস্ট করতে পারেন নি। অবশেষে সেই চিঠির জায়গা হলো তাঁর অঙ্ক খাতার ভাঁজে।
পাঠক হিসেবে আমরা অনেকেই হয়ত জানতে চাইবো কী লেখা ছিল হুমায়ূন আহমেদের কিশোর বয়সের সেই চিঠিতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে-- এখন আর তা জানা সম্ভব নয়। একজন মুগ্ধ পাঠকের ভালোবাসায় সিক্ত সেই চিঠিটি হারিয়ে গিয়েছে।

প্রসঙ্গক্রমে বলি, ২০১৩ সালে অন্যপ্রকাশ হুমায়ূন আহমেদের চিঠি সম্বলিত একটি বই বের করে।
বইটির নাম "হুমায়ূন আহমেদের কয়েকটি চিঠি ও একটি ডায়রি"।
বইটির লেখিকা-- শাহানা কায়েস।
আগ্রহীরা তাঁর জলের শব্দে লেখা চিঠিগুলো পড়ে দেখতে পারেন। সাহিত্যের এই ডুবন্ত শাখায় তাঁর লেখাগুলো আপনাকে মুগ্ধ করবে।

যাই হোক, মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই ঘটনার প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর পর লক্ষ্মীপুর থেকে সপ্তম শ্রেণীর একজন ছাত্র হুমায়ূন আহমেদকে 'মিসির আলি'র প্রতি নিজের মুগ্ধতা জানিয়ে একটি চিঠি লিখে পাঠায়। তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন এই চিঠির ভাষা এবং আবেগ অবিকল তাঁর কিশোর বয়সে লেখা সেই অপ্রেরিত চিঠির মতো।
চিঠি পড়ে হুমায়ূন আহমেদ হয়তো তখন ক্ষীণ স্বরে উচ্চারণ করেছিলেন, ''চিরকাল এইসব রহস্য আছে নীরব...''

প্রস্তাবনা শেষ হলো এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক।

ইংরেজি ১৯৯০ সালের মে মাসে হুমায়ূন আহমেদ নিজে একটি চরিত্র তৈরি করলেন। নাম রাখলেন হিমালয়, ডাকনাম হিমু। অনেকের মতে, এই হিমু উঠে এসেছে সুবোধ ঘোষ- এর শুন বরনারী উপন্যাস থেকে।
যদিও নামধাম ছাড়া এই দুই চরিত্রের মধ্যে অন্য কোন মিল নেই।

অনেকসময় দেখা যায় এই "হিমু" চরিত্রটি নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ কতোগুলো বই লিখেছেন তা নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব চলছে।
বলে রাখি, "হিমুর প্রথম প্রেম" কিংবা "হিমু পরিবহন" অবশ্যই এই সিরিজের বই না :p
চলুন একবার হুমায়ূন আহমেদের হিমু সিরিজের বইগুলোর ওপর চোখ বুলিয়ে আসা যাক...

হিমুঃ

১. ময়ূরাক্ষী- ১৯৯০
২. দরজার ওপাশে- ১৯৯২
৩. হিমু- ১৯৯৩
৪. পারাপার- ১৯৯৪
৫. এবং হিমু... ১৯৯৫
৬. হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম- ১৯৯৬
৭. হিমুর দ্বিতীয় প্রহর- ১৯৯৭
৮. হিমুর রূপালী রাত্রি- ১৯৯৮
৯. একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁ ঝিঁ পোকা- ১৯৯৯
১০. তোমাদের এই নগরে- ২০০০
১১. চলে যায় বসন্তের দিন- ২০০২
১২. সে আসে ধীরে- ২০০৩
১৩. আঙ্গুল কাটা জগলু- ২০০৫
১৪. হলুদ হিমু কালো র্যাব- ২০০৬
১৫. আজ হিমুর বিয়ে- ২০০৭
১৬. হিমু রিমান্ডে- ২০০৮
১৭. হিমুর মধ্যদুপুর- ২০০৯
১৮. হিমুর নীল জোছনা- ২০১০
১৯. হিমুর আছে জল- ২০১১
২০. হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী- ২০১১
২১. হিমু এবং হার্ভার্ড পিএইচডি বল্টু ভাই- ২০১১
এছাড়াও হিমু সংক্রান্ত হুমায়ূন আহমেদের লেখা অন্যান্য বইগুলোঃ
২২. হিমু মামা- ২০০৪
২৩. হিমুর একান্ত সাক্ষাতকার ও অন্যান্য- ২০০৮
২৪. হিমুর বাবার কথামালা- ২০০৯
২৫. ময়ূরাক্ষীর তীরে প্রথম হিমু- ২০১১

=====

বাংলা সাহিত্যে বিভিন্ন কাল্পনিক চরিত্র আছে যাদের ঘিরে বিভিন্ন সিরিজ তৈরি হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন সখের গোয়েন্দা, বিজ্ঞানী, স্পাই, অবসর প্রাপ্ত কর্ণেল এছাড়াও বাঘ শিকারী যেমন আছেন তেমনি আছেন আবার ভূত শিকারীও।
এমনসব চরিত্র ছাড়াও বাংলা সাহিত্যের আরেকটি অপূর্ব চরিত্র হচ্ছে-- মিসির আলি। যিনি একজন সখের সাইকিয়াট্রিস্ট।
হুমায়ূন আহমেদের এই ফিকশনাল ক্যারেক্টারকে মাঝে মাঝে আমার রক্তমাংসের মানুষ ভেবে ভ্রম হতো।

মিসির আলি 'জন্মেছিলেন' ১৯৮৫ সালের জুন মাসে প্রথম বই "দেবী" প্রকাশের মাধ্যমে। তবে তাকে নিয়ে লেখক ভাবতে শুরু করেন আরো আগে। যখন তিনি আমেরিকায় ছিলেন তখন থেকে।
একবার হুমায়ূন আহমেদ তাঁর স্ত্রী এবং বড় মেয়েকে নিয়ে গাড়িতে মন্টানায় যাচ্ছিলেন। গাড়ি ড্রাইভ করছিলেন তাঁর স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদ। গাড়ির রেডিওতে কান্ট্রি মিউজিক বাজছিল। হঠাৎ গানের একটা লাইন শুনে হুমায়ূন আহমেদ চমকে উঠলেন-
"Close your eyes and try to see"
ঠিক তখনই মিসির আলির ধারণাটা তাঁর মাথায় এলো। মিসির আলি হয়ে গেলেন এমন একটি চরিত্র যিনি রহস্য বুঝতে চেষ্টা করেন চোখ বন্ধ রেখে।

এই সিরিজের কি কি বই পড়া হলো চাইলে একবার মিলিয়ে দেখতে পারেনঃ

মিসির আলিঃ

১. দেবী- ১৯৮৫
২. নিশীথিনী- ১৯৮৮
৩. নিষাদ- ১৯৮৯
৪. অন্যভূবন- ১৯৮৯
৫. বৃহন্নলা- ১৯৮৯
৬. ভয়- ১৯৯১
৭. বিপদ- ১৯৯১
৮. অনীশ- ১৯৯২
৯. মিসির আলির অমীমাংসিত রহস্য- ১৯৯৩
১০.আমি এবং আমরা- ১৯৯৬
১১. তন্দ্রাবিলাস- ১৯৯৭
১২. আমিই মিসির আলি- ২০০০
১৩. বাঘবন্দি মিসির আলি- ২০০১
১৪. হরতন ইশকাপন- ২০০৩
১৫. কহেন কবি কালিদাস- ২০০৫
১৬. মিসির আলির চশমা- ২০০৮
১৭. মিসির আলি আপনি কোথায়?- ২০০৯
১৮. মিসির আলি unsolved- ২০০৯
১৯. পুফি- ২০১১
২০. যখন নামিবে আধার- ২০১২

=====

হুমায়ূন আহমেদের এই বিপুল জনপ্রিয় দুটি চরিত্র সহজেই মানুষকে মুগ্ধ করে ফেলে। হুমায়ূন আহমেদের সাবলীল বর্ণনা সবাইকে টানে।
নতুন পাঠকদের একটি কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি।
অনেকে আপনাকে হয়তো বলবে, হিমু খুব হালকা ধরণের চরিত্র..সাহিত্যে এর জায়গা নেই..ব্লা ব্লা ব্লা
(যদিও তারা মোটামুটি সত্যি কথাই বলছে :p তাঁর শুরুর দিকের লেখাগুলোর সঙ্গে হিমু বিষয়ক লেখাগুলো মিলিয়ে দেখলেই এই পার্থক্য বোঝা যায়।) তবু আমি বলবো এইসব কথা যথাসম্ভব ইগনোর করুন।
সাহিত্যের বিচার আপনাকে করতে হবে না। আপাতত আপনি সাহিত্যের রস নিতে থাকুন। আমরা নিছক আনন্দের জন্যেই পড়ি। আর তাছাড়া আমি নিজেও হিমুর মাধ্যমে পাঠক হয়েছিলাম। পড়তে পড়তে আপনিই পাঠাভ্যাস গড়ে উঠবে। তখন দেখবেন সাহিত্যের কী সুবিশাল আয়োজন আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে।
আমার মনে আছে, ক্লাস টেন-এ মিসির আলি সিরিজের "নিষাদ" বইটি পড়ে অদ্ভুত এক ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিলাম। সেই ব্যাধিঘোর আজও কাটেনি আমার। :)

হুমায়ূন আহমেদ হোক কিংবা অন্য যে কোন লেখকের বই, হাতের কাছে যে বই আছে, যে লেখকের বই আপনার ভালো লাগে তাই পড়ুন। আর ঘুমুতে যাবার সময় একটি বই সাথে নিয়ে ঘুমুতে যান। কারণ বই নাক ডাকে না* ;)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.