| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জেমসবন্ড
।জ্ঞানের প্রতি বিপুল আগ্রহ । সংগ্রাম মুখর আমার জীবন ।
বণী ইসরাঈলের বাদশাহ তালুত এবার ঘোষনা করলেন পবিত্র ফিলিস্তিন ভূমিই আমাদের পিতৃভূমি । আমরা জর্দান থেকে নদী পার হয়ে ফিলিস্তিন আক্রমণ করব । বিজেয়ের আগ পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে । জালেম বাদশাহ জালুতকে পবিত্র ভূমি থেকে নির্মূল করতে হবে । হযরত শামভীল (আঃ) বললেন, ইতিঃপূর্বে বণী ইসরাঈলীরা প্রতিজ্ঞা করেও যুদ্ধ না করায় তীহ প্রান্তরে ৪০ বছর নজরবন্দী ছিলো । এরা বলার সময় আগে আগে বলে কিন্তু পরে পিছু হটে যায়। তাই তাদের আগে পরীক্ষা করা দরকার । এসময় আল্লাহপাকের তরফ থেকে নবীকে ওহী ও তালুতকে ইলহাম দিয়ে জানানো হল যে, ফিলিস্তিনে ঢুকতে পড়বে জর্দান নদী । সেই নদীর কাছে যাওয়ার পর যারা পরিমিত পানি পান করবে বা করবেনা তারই সঠিক সৈনিক । আর যারা অধিক পনিমাণ তৃপ্তি মিটিয়ে পানি পান করবে ও সাথে নেবে তারা পেছনে ভাগবে ।
প্রচন্ড খরতাপ ও অগ্নিদাহের মধ্যে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে সৈন্য দল জর্দান নদীর কূলে এসে থামলো ।আল্লাহপাকের ভাষায়, 'অনন্তর যখন তালুত সৈন্যবাহিনী নিয়ে রওনা হলো, তখন সে তাদেরকে বললো, আল্লাহ তোমাদের একটা নদী দিয়ে পরীক্ষা করবেন । যে ব্যাক্তি তা থেকে পানি পান করবে সে আমার দলভুক্ত নয় । আর যে ব্যাক্তি পানি মুখেও নিবেনা সে আমার দলভুক্ত । তবে এই ব্যাক্তির জন্য অনুমতি আছে যে স্বীয় হাতে মাত্র এক অন্জলী পান করে ।" (সূরা -বাকারা )
কিন্তু বণী ইসরাঈলীরা বাকা স্বভাবের । তাদের মধ্যে আসল লোক খুবই কম । জর্দান নদীতে পানি পানের পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হলেন মাত্র ৩১৩ জন মর্দে মুমিন । (বদর যুদ্ধেও এই পরিমাণ সৈন্যই আল্লাহপাক হুজুর (সঃ) এর
সাথী করেছিলেন ।) যারা নবীর নির্দেশ ও বাদশাহ তালুতের পরামর্শ মেনেছেন , তারা পানি পান না করে বা এক অন্জলী পান করেই সতেজ-সবল হয়ে যান । আর তৃপ্তি মিটিয়ে অধিক পানকারীরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নদী পার হতেও তাদের কষ্ট হয় ।বাদশাহ তালুত বুঝলেন যে এসব লোক দিয়ে যুদ্ধ যাত্রা ঠিক হবে না । তিনি ৩১৩ জন নিয়েই যাত্রা শুরু করলেন । বাকীরা বললো , বেদ্বীন বাদশাহ জালুতের একলাখ সৈন্যের সামনে এই স্বল্প সৈন্য নিয়ে না যাওয়াই ভালো । তালুত বললেন, আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন ।
জালুত এক লাখ সৈন্য নিয়ে জেরুজালেমের বাইরে জেরিকো ময়দানে সমবেত হয় । বণী ইসরাঈলীদের মধ্যে ছিলেন, ঈমানদার ছয় ভাই যোদ্ধা ।। তাদের খোজে তাদেন সপ্তম ভাইকে ওদের বাবা খোজ নিতে পাঠান । এই ভাই কনিষ্ঠ এবং বালক ছিলো । সে আসার সময় ছোট ছোট তিনটি পাথর পথের মধ্যে কথা বলে ওঠে । বলে যে, আমাদের তোমার সাথে নাও । আমাদের নিক্ষেপ করে তুমি জালেম বাদশাহ জালুতকে হত্যা করতে পারবে । বালক থলেতে তিনটি পাথরই নিলেন ।
যুদ্ধের ময়দানে বিকট শরীর ও চেহারার জালুত বললো, ৩১৩ তো এক লাখের কাছে মাছির মতো । তার চেয়ে কার হিম্মত আছে আমার সাথে একা লড়তে ? তখন এই বালক বললেন, আমি যাবো । তালুত দেখলেন, সে নিতান্তই একজন বালক মাত্র । সবাই না করলেও তার বার বার অনুরোধে তাকেই পাঠানো হলো জালুতের মোকাবেলায় । ঢাল তলোয়ার ছাড়া তিনটি পাথর নিয়ে একটা বালক তালুতের সামনে । মহবীর জালুত বললো, হে বালক ! তিনটি পাথর নিয়ে তুমি কি কুকুর মারতে এসেছো ? বালক বললো, তুমি তো কুকুরেরও চেয়েও অধম । তোমর জন্য তো এই পাথরই যথেষ্ট । অতঃপর বালক তিনটি পাথর একে একে নিক্ষেপ করা শুরু করলেন । পাথর গিয়ে জালুতের মাথায় পড়ে । তার মাথা ফেটে চৈাচির হয়ে যায় । এই বালকই হল হযরত দাউদ (আঃ) ।
সূরা বাকারায় আল্লাহ এরশাদ করেন, "আল্লাহর হুকুমে (বণী ইসরাঈলীরা) তাদের পরাজিত করলো এবং দাউদ হত্যা করলেন জালুতকে ।" জালুত মারা যাবার পর ৩১৩ জন জিহাদীকে প্রতিমা পূজারীদের মনে হলো লাখো লাখো তলোয়ার ও বর্শাধারী সৈনিক । ফেরেশ্তারা নেমে এসেছিলেন, যেমনি এসেছিলেন বদরের যুদ্ধে । ফয়সালা হয়ে গেলো । দখল হলো ফিলিস্তিন ।
২|
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:০৬
বেতাল বলেছেন: "অতঃপর বালক তিনটি পাথর একে একে নিক্ষেপ করা শুরো করলেন । পাথর গিয়ে জালুতের মাথায় পড়ে । তার মাথা ফেটে চৈাচির হয়ে যায় । এই বালকই হল হযরত দাউদ (আঃ)। "
- পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা কনসেপ্টটা দেখি অনেক পুরাতন। ভালো!!!
৩|
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:১২
মনির হাসান বলেছেন: ... মধ্যপ্রাচ্যের এই উপকথা গুলি আমাদের বঙ্গীয় ঠাকুরমার ঝুলি হইতে'ও অতি নিকৃষ্ট মানের অখাদ্য ...
... ভালো কিছু ভুতূড়ে গল্পের অপেক্ষায় থাক্লাম বলে ... +
২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৬
জেমসবন্ড বলেছেন:
ঠাকুরমার ঝূলি হল গাল-গল্প আর এগুলো হল- ইতিহাস । বুচছেন ।
৪|
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:২১
এস এম শাখওয়াত আহমেদ বলেছেন: ভাল লাগল
ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৫২
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: ইহুদীদের দেখি অতি পুরান আমল থেকেই ফিলিস্তিনের প্রতি লোভ?