| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জেমসবন্ড
।জ্ঞানের প্রতি বিপুল আগ্রহ । সংগ্রাম মুখর আমার জীবন ।
![]()
প্রথম অধ্যায়ঃ
নরাশংস শব্দের অর্থঃ
'নরাশংস' শব্দ 'নর' এবং 'আশংস' এই দুই শব্দের সমন্বয়ে গঠিত । নরের অর্থ মানুষ এবং আশংস শব্দের অর্থ প্রশংসিত । ইহা স্মরণীয় থাকে যে, 'আশংস' লৌকিক ভাষায় কোন শব্দ নয়, বরং শুদ্ধ বৈদিক শব্দ । কতিপয় ব্যক্তি নরাশংসের অর্থ 'মানুষের প্রশংসা' বলেন । অন্যান্যের মতে নরাশংসের অর্থ হইতেছে- মানুষের দ্বারা প্রশংসিত । প্রথম অর্থ ষষ্টি তৎপুরূষ সমাস হইতে উদ্ভুত এবং দ্বিতীয় অর্থ তৃতীয় তৎপুরূষ সমাস হইতে উৎপন্ন । এখানে বিচার্য যে, নরাশংস শব্দের প্রকৃত অর্থ কি হইবে ? প্রকৃতপক্ষে এখানে তৃতীয় বা ষষ্টি তৎপুরূষ সমাস হইতে উৎপন্ন দু্ইটি অর্থের কোনটিই নয় । বরং 'নরাশংস' শব্দ দ্বারা বিশেষ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হইয়াছে । বেদে নরাশংস বিষয়ক অধ্যায়ে যে ব্যাক্তির প্রশংসা গীত হইয়াছে, নরাশংস শব্দ দ্বারা সেই ব্যাক্তিকে বুঝাইয়াছে ।
অতএব নরাশংস শব্দ কর্মকারক সমাস । ইহা 'নরাশ্বাসৌ আশংসঃ' শব্দ কোন দেবতার উপর প্রযোজ্য হইবেনা । নরাশংস শব্দ সুষ্পষ্টরৃপে প্রমাণ করে যে, "প্রশংসিত" যাহার বিশেষণ হইবে, তিনি অবশ্যই মানুষ জাতির অন্তভূক্ত হইবেন । যদি কেহ 'নর' শব্দটি দেব-বাচক বলিয়া মনে করেন , তাহা হইলে আমি উহার সমাধান করিয়া দিতেছি যে, নর শব্দ দেবতার পর্যায় বাচ্য নয় এবং দেবতাগণের অন্তর্গত কোন বিশেষ জাতি-বাচকও নয় ।
দেবতাগণের জাতিঃ
বিদ্যাধর, অপসরস, যক্ষ,রাক্ষস, গন্ধর্ব, কিণ্নর, পিশাচ, গুহ্যক, সিদ্ধ ও ভুত ।
উৎসঃ
বিদ্যাধরো সরোযক্ষ রক্ষোগর্ন্ধ কিন্নরঃ ।
পিশাচো গুহ্যকঃ সিনেধা ভুত্যামী দেবযোনয়ঃ ।। --অমরকোষ স্বর্গ বর্গ ১১শ শ্লোক
নরাশংসের ব্যাপকতা
লৌকিক সংস্কৃত গ্রন্হ সমূহের কোন স্হানে নরাশংস বিষয়ের কোন উল্লেখ পরিদৃষ্ট হয় না । একমাত্র বৈদিক গ্রন্হ সমূহের বিভিন্ন মন্ত্রে নরাশংস বিষয়ের উল্লেখ রহিয়াছে । বিশেষ করিয়া সংহিতা গ্রন্হাবলীতে নরাশংসের বিষয়-যক্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে মন্ত্র ও লিখিত হইয়াছে । অথর্ববেদ সংহিতার বিংশতি কান্ডের একশত সাতইশতম সুক্তে নরাশংসের প্রশস্তি উপলক্ষে চৌদ্দটি মন্ত্র নিবদ্ধ আছে ।
১.
সকল বেদের মধ্যে প্রাচীনতম হইতেছে ঋগ্বেদ । ঋগ্বেদ অসংখ্য স্হানে নরাশংসের উল্লেখ রহিয়াছে । এমন কি ঋগ্বেদের আটটি মন্ত্রই 'নরাশংস' শব্দ দ্বারা আরম্ভ হইয়াছে । ঋগ্বেদের প্রথম (মন্ডল) অধ্যায়ে, (১) ত্রয়োদশ সুক্ত, তৃতীয় মন্ত্র ; (২) অষ্টাদশ সুক্ত; নবম মন্ত্র ; (৩) একশত ছয় সুক্ত, চতুর্থ মন্ত্র সমূহে নরাশংসের বর্ণনা রহিয়াছে ।
ঋগ্বেদের দ্বিতীয় অধ্যায়ে- (৪) তৃতীয় সুক্ত, দ্বিতীয় মন্ত্র ; পন্চম অধ্যায়ে (৫) পন্চম সুক্ত, দ্বিতীয় মন্ত্র ; সপ্তম অধ্যায়ে- (৬) দ্বিতীয় সুক্ত,দ্বিতীয় মন্ত্র ; দশম অধ্যায়ে- (৭) চৌষট্টিতম সুক্ত, তৃতীয় মন্ত্র (৮) একশত বিরাশিতম সুক্ত, দ্বিতীয় মন্ত্রসমূহে নরাশংসের প্রশস্তি গীত হইয়াছে ।
২.
এতদ্ব্যতীত সামবেদ সংহিতার তেরশত উনপন্চাশতম মন্ত্রে এবং বাজসনেয়ী সংহিতার উনত্রিশ অধ্যায়ে সাতাশতম মন্ত্রেও নরাশংসের বিষয় উল্লেখিত হইয়াছে । অনন্তর তৈত্তিরীয় আরণ্যকেও (৩/৬/৩/১) নরাশংসের প্রশংসা উল্লেখিত আছে । অধিকন্তু শতপথ ব্রাক্ষণের প্রথম কান্ডে দর্শপোর্ণ মাসেষ্টি বিষয়ক অনুষ্ঠানের অর্ন্তগত পন্চ প্রয়াগ সমূহে "নরাশংস-প্রয়াগ ভাগ" উল্লেখিত হইয়াছে ।
অতএব এইভাবে ইহা সুষ্পষ্ট যে, নরাশংসের বিষয় কেবল মাত্র একটি বেদে নহে, বরং ঋগ্বেদ, যর্জুবেদ, সামবেদ এবং অথর্ববেদ সমূহের সর্বত্রই পরিব্যাপ্ত হইয়াছে ।
যেমন আমরা যদি এ ভাবে অনুবাদ করি,
------- নরাশংসং সুধুষ্টমমপশ্য সপ্রথস্তমং ।
------- দিবো ন সষ্পমসখসম (ঋগ্বেদ ১-১৮-৯)
অর্থাৎ কন্বের পুত্র মেধাতিথি ঋিষি বলেন,
------- বিক্রমশালী সুবিখ্যাত ও আকাশের ন্যায় প্রাপ্ত তেজ
-------- নরাশংস (মোহাম্মদ সা.) কে আমি দেখিয়াছি ।
আরও জানতে দেখুন.....বেদ - পুরাণে আল্লাহ ও হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) - ধর্মাচার্য অধ্যাপক ড. বেদপ্রকাশ উপাধ্যায়, ইসলামী সাহিত্য প্রকাশনালয়, ৪৫, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০.
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৩
েশখসাদী বলেছেন:
ভালো লেখা ।