| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গোটা অমুসলিম বিশ্বে তথা চীনে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবর্তে চলছে চরম নিপীড়ন।
বাংলাদেশের বিধর্মীরা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে রামরাজত্ব চালাতে চায় কিন্তু অমুসলিম বিশ্বে মুসলমানরা কতটুকু দলিত-মথিত সে খবর কী তারা রাখে?
মুসলমানদের প্রতি নির্যাতন ও নিপীড়নের ভয়াবহতার প্রকৃত খবর ক’জনে জানে?
অথচ মিডিয়ায়ও এসব খবরের সংখ্যা কম নয়।
ইসলামের তৃতীয় খলীফা আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত উসমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে চীনে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে। হযরত আমীরুল মু’মিনীন আলাইহিস সালাম তিনি চীনা সম্রাটকে ইসলাম গ্রহণের আহবান জানিয়ে হযরত সা'দ ইবনে আবি’ ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনার নেতৃত্বে সেখানে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে পাঠান।
কিন্তু তারও আগে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানাতেই চীনে ইসলামের বার্তা বহন করে নিয়ে আসেন হযরত ছাহাবা-ই কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা। বিশেষ করে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পর চীনের রাজা তাঁইসাং বা তাইসং লোক পাঠান ইসলাম গ্রহণ করার জন্য তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবু কাবশা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সহ এক কাফেলা পাঠান। উনারা ৮ম হিজরীতে ক্যান্টনে পৌঁছান। উনার মাজার শরীফ ক্যান্টনে রয়েছে। পরবর্তীতে আসেন আরব বণিকেরা।
এছাড়া চীনা "তং" রাজবংশের শাসনামলে সিল্ক রোড আর সমুদ্র-পথেও অনেক আরব মুসলমানরা আসেন এ দেশে। তারা চীনের সাথে মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন ও যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। চীনের ৫৬টি গোত্র বা জাতির মধ্যে ১২টি গোত্র বা জাতি মুসলমান। এ জাতিগুলো হলো, উইঘুর, তুর্কি, কাজাক, কিরঘিজ, উজবেক, তাতার, সালার, তাজিক, দুং, শাইয়ং, বাওয়ান ও খুয়ি।
অবশ্য চীনের অন্য জাতিগুলোর মধ্যেও মুসলমান রয়েছে। যেমন, মোঙ্গল, তিব্বতি, দাই ও বাই গোত্রের মধ্যে অনেক মুসলমান রয়েছে। চীনের অনেক মুসলমান বসবাস করেন স্বায়ত্তশাসিত “সিং কিয়াং বা জিনজিয়াং”, “চিং হাই” ও “গানসু” প্রদেশে। আর খুয়ি গোত্রের মুসলমানরা গোটা চীনের প্রায় সব অঞ্চলেই ছড়িয়ে রয়েছেন। খুয়ি গোত্র চীনের মুসলিম গোত্রগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ।
মুসলিম সেনাপতিরা সুদূর গ্রিনিচ থেকে হিমালয় অগ্রাভিযানে বহু দেশ দখল করলেও কখনই চীনা সাম্রাজ্য দখলের জন্য যুদ্ধ করেননি, চেষ্টাও করেননি। বরং ইতিহাস বলে, চীনা সাম্রাজ্যে বিদ্রোহ দমনের জন্য চীনা সম্রাট সুসুং আব্বাসীয় খলীফা আল মনসুরের কাছে সাহায্য চাইলে তিনি ৪০০০ অশ্বারোহী সৈন্য পাঠান (৭৫১ ঈসায়ী)।
মুসলিম সেনারা বিদ্রোহ দমন করার পর সম্রাটের অনুরোধে স্থায়ীভাবে চীনে বসবাস শুরু করেন। সম্রাট মুসলিম সেনাদের জন্য তিনটি প্রদেশে বিনা খাজনায় চাষের জমি ও বাসগৃহ বরাদ্দ করে দেন। চীনা বালিকাদের ধর্মান্তরিত করে বিবাহেরও অনুমতি দেন। ফলে আজকের দিনে দেখা যায়, চীনের ৪টি প্রদেশে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। শুধু তাই নয়, চীনে বর্তমানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি।
কিন্তু অন্যান্য অমুসলিম দেশের মতো চীনের মুসলমানরাও অনেক সমস্যা ও সংকট মোকাবেলা করছে। চীনের মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে বহির্বিশ্বে প্রচারিত হয়না। আর এ থেকেই বোঝা যায় চীন সরকার দেশটির মুসলমানদের উপর কত কঠিন অবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে। আর এ অবস্থা মুসলিম অধ্যুষিত সব প্রদেশে। শুধু ধর্মীয় বা আদর্শিক মতপার্থক্য নয় বরং চীনা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, বৈষম্য ও অবিচারের ফলেই চীন সরকারের সাথে মুসলমানদের দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে এবং এসবের বিরুদ্ধে চীনা মুসলমানরা বারবার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
উইঘুরে যালিম চীনা শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নির্যাতিতদের ভাষ্য :
চীনে সব ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয় ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কঠোর নজরদারির আওতায়। জিনজিয়াংয়ের দক্ষিণাঞ্চলে জুমার নামাযে শামিল কয়েক হাজার মুসল্লির মধ্য থেকে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণ মুসলিম অভিযোগ করেন, স্বাধীনভাবে ধর্মপালনের অধিকার আমাদের দেয়া হয়না। বৈরী পরিবেশে আমাদের জীবনধারণ করতে হয়।
জিনজিয়াংয়ের অধিকাংশ মুসলিমদের অভিযোগ, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়নি অজুহাতে তাদের মসজিদ ও স্কুলগুলো চীনা কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিচ্ছে। মধ্য এশিয়ার পাশে অতি গুরুত্বপূর্ণ রণকৌশলগত অবস্থানের কারণে এবং এর বিশাল তেল ও গ্যাস ভা-ারে কারণে বেইজিংয়ের চোখে জিনজিয়াং হচ্ছে ভীষণ মূল্যবান অঞ্চল। ১৯৫৫ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা ভোগ করলেও জিনজিয়াংয়ের সংখ্যাগুরু মুসলমানরা চীনা কর্তৃপক্ষের দমনপীড়নের লাগাতার শিকার হয়ে এসেছেন।
দমন-নিপীড়নের মাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছায় কথিত মানবাধিকার গ্রুপগুলোও শেষ পর্যন্ত অভিযোগ করে বলেছে, চীনা কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাস প্রতিরোধের নামে জিনজিয়াংয়ের তুর্কী ভাষী উইঘুর মুসলমানের উপর ধর্মীয় নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। উইঘুর অঞ্চলে হান জাতি গোষ্ঠীর লোকদের বসতি প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে উইঘুর মুসলমানদের অসন্তোষে ইন্ধন যুগিয়ে চলেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
উইঘুর মুসলিমরা আরো বলেন, তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব ও স্বকীয়তা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে চীনা কর্তৃপক্ষ ওই উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে ও তাদের হত্যা করা হয় যখন তখন। উইঘুরদের শান্তিপূর্ণ পন্থায় সামান্যতম প্রতিবাদের কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত নিষ্ঠুরতায় মোকাবিলা করছে। অথচ তাদের প্রতিবাদী বক্তব্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিধ্বনিত হতে পারছে না কোনো যোগ্য নেতা তাদের নেতৃত্বে অনুপস্থিত থাকার কারণে।
তিব্বতী মুসলিমদের ভাষ্য:
চীনা সরকারের কমিউনিস্টপন্থী চিন্তা চেতনার কারণে তিব্বতী মুসলমানরাও নির্যাতিত হয়ে আসছেন। তিব্বতের মুসলমানদের ১৯৫৪ সালে সমূলে উৎখাতের চেষ্টা করা হয়েছে। তিব্বতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ছিল । যেমন ২য় বিশ্বযুদ্ধের আগে চীনের এক সপ্তমাংশ মুসলিম ছিল। এখন চীনে দুইটা এলাকা ছাড়া বাকিগুলোতে মুসলিম পরিচয় অবৈধ তিব্বতেও একই অবস্থা।
মাসুদ বাট একজন তিব্বতী নাগরিক। তিনি তিব্বতী রীতি-নীতি, আচরণ মেনে চলেন। তিব্বতী ভাষায় কথা বলেন। তবে একটি মাত্র পার্থক্য আর সবার থেকে তাকে আলাদা করেছে, সেটা হলো, তিনি একজন মুসলিম। ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে বসবাসরত হাজার হাজার তিব্বতী মুসলিমের মধ্যে বাট অন্যতম। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অন্যান্য তিব্বতীদের মত আমাদের কমিউনিটিও এখানে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হচ্ছে এবং মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।” চীনা সৈন্যদের ভয়ে আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে চীনা নিয়ন্ত্রিত এই রাজ্যটি থেকে হাজার হাজার বৌদ্ধের মত মুসলমানরাও তাদের বাড়িঘর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
বর্তমানে প্রায় ২ হাজার মুসলমান ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে বসবাস করছে। তাদের অনেকের আবার ভারতীয় নাগরিকত্বও রয়েছে। তাদের অনেকেরই জন্ম হয়েছে নির্বাসিত অবস্থায় এবং অনেকেই হয়তো কখনো তিব্বতকে চোখেও দেখেনি, কিন্তু তারপরও পিতৃভূমি তিব্বত তাদের মনে একটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
পার্বত্যভূমি তিব্বতকে বলা হয় পৃথিবীর ছাদ।। তিব্বতে ইসলামের আবির্ভাব হয় আজ থেকে প্রায় এক হাজার বছর আগে, কাশ্মীরের এক দল মুসলিম ব্যবসায়ীর মাধ্যমে। এই ব্যবসায়ীদের অনেকেই আবার তিব্বতী মেয়েদের বিয়ে করে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসত গড়ে তোলেন। এভাবে ধীরে ধীরে সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তিব্বতের রাজধানী লাসায় মুসলমানদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
তিনি আরো বলেন, মুসলিম সম্প্রদায় একই সাথে ধর্মীয় ও আঞ্চলিক স্বকীয়তা ও স্বীকৃতি বজায় রাখতে পারছে। তিব্বতে মুসলমানরা একটি সম্প্রদায় হিসেবে বিকাশ লাভ করে সপ্তদশ শতাব্দীতে। তিব্বতের সমাজ ও সংস্কৃতিতেও মুসলমানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
কিন্তু ১৯৫০ দশকে তিব্বতে চীনের সামরিক আগ্রাসন মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ জীবনের অবসান ঘটায়। চীনের মুসলিম নিধনযজ্ঞের হাত থেকে বাঁচার জন্য বেশির ভাগ মুসলমানই তাদের বাড়িঘর ছেড়ে কাশ্মীরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু বিদেশ-বিভূঁইয়ে নানামুখী সংকট ও দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও তিব্বতের মুসলমানরা এখনও আশা করছে তাদের দেশ আবার একদিন স্বাধীন হবে সে স্বপ্ন বুকে নিয়েই তারা বেঁচে আছে। (ইসলাম অনলাইন)
এ নির্যাতনের অব্যাহত ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের মার্চে তিব্বতের রাজধানী লাসায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথে চীনা পুলিশের সংঘর্ষের সময় একটি মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এ সময় মসজিদের ভেতরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে বহু মুসল্লি নিহত হয়। চীনা সরকারি বার্তা সংস্থা শিনহুয়া মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়ার খবর দিলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেনি। পুলিশ মসজিদটিতে আগুন দিয়েছে কি না তাও স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তিব্বতের রাজধানী লাসায় মুসলিমদের এ বিক্ষোভে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে চীন সরকারিভাবে স্বীকার করলেও 'রেডিও ফ্রি এশিয়া' নামক একটি বেতার মৃতের সংখ্যা ৮০ জন বলে উল্লেখ করেছে। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
২|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:১০
সকাল>সন্ধা বলেছেন: আনেক তথ্য দিলেন। ধন্যবাদ! আসলে আমাদের অনেক কিছুই জানা নাই।
৩|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:১৭
মাস্টার৭১ বলেছেন: চীনে বর্তমানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। - সুত্র উল্লেখ করলে বাধিত হব।
ধন্যবাদ।
৪|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৩৯
রাসেল মাহদুদ বলেছেন: চীনে মুসলিমদের সংখ্যা ২০ মিলিওনের মতো। মানে দুই কোটি। সুত্র এখানে
আপনার দেয়া তথ্য ঠিক করুন।
৫|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:১৯
দরিয়ানগর বলেছেন: ভাল লাগল।
৬|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:১০
সম্রাট হুমায়ুন বলেছেন: ছাগল কোথাকার!
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:০১
জানতেএলাম বলেছেন: নিজের পরিচয় দেবার জন্য ধন্যবাদ।
৭|
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:০১
জানতেএলাম বলেছেন: নিজের পরিচয় দেবার জন্য ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:০৩
ছায়ানী১৯ বলেছেন: thanks , want to know more