নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জহির_জুয়েল

আমার কিছু জানা নেই।

জহির_জুয়েল › বিস্তারিত পোস্টঃ

১৯৮১ সালে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা : বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি

১৭ ই মে, ২০১১ দুপুর ২:২৫

ঢাকা, ১৬ মে (বাসস) : বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।

শেখ হাসিনা দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে ঢাকায় ফিরে তৎকালীন কুর্মিটোলা বিমান বন্দরে তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসার জবাবে এসব কথা বলেছিলেন।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। এ সময় তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান।

পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্র“য়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

একই বছরে ১৭ মে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ার লাইন্সের ৭৩৭ বোয়িং বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমান বন্দরে এসে পৌঁছেন।

শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে সমগ্র ঢাকা মহানগরী এবং পার্শ্ববর্তী শহর ও জনপদ থেকে আসা উপচেপড়া মানুষের ভিড়ে ভরে ওঠে কুর্মিটোলা বিমান বন্দর এলাকা। সকাল থেকেই ঢাকার পরিবেশ ও আলো বাতাস সবই যেন ছিল নতুন সাজে ও আমেজে। সকালের স্নিগ্ধ হাওয়ায় মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় জাতির জনকের কন্যার আগমন বার্তা।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে পরদিন ১৯৮১ সালের ১৮ মে ‘দৈনিক সংবাদ’ ‘লাখো জনতার অকৃপণ প্রাণঢালা অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয় তাদের নেত্রীকে’ শিরোনামে লিখেছে- রাজধানী ঢাকা গতকাল (১৭ মে) মিছিলের শহরে পরিণত হয়েছিল। প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টিও মিছিলের গতিরোধ করতে পারেনি। শ্লোগানেও ভাটা পড়েনি। লাখো কণ্ঠের শ্লোগান নগরীকে প্রকম্পিত করেছে।’

সংবাদ আরো লিখেছেÑ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখার জন্য ঢাকায় মানুষের ঢল নেমেছিল। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে।

সংবাদের অপর এক রিপোর্টে বলা হয়, ‘কখন শেখ হাসিনাকে বহনকারী ইন্ডিয়ান এয়ার লাইন্সের বিমান অবতরণ করবে সে দিকে নজর রেখে মানুষ মধ্যাহ্ন থেকে কুর্মিটোলা বিমান বন্দর এলাকায় অধীর আগ্রহে অপো করতে থাকে। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিমানবন্দরে কোন নিয়ম শৃংখলা রা করা সম্ভব হয়নি।

বিকেল সাড়ে ৪টায় আকাশে যখন শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি দেখা যায়, তখন সমস্ত নিয়ন্ত্রণ আর অনুরোধ-আবেদন অগ্রাহ্য করে হাজার হাজার মানুষ বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকে যায়। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বিমানটি অবতরণ করে। জনতা একেবারেই বিমানের কাছে চলে যায়।

বহু চেষ্টার পর জনতার স্রোতকে কিছুটা সরিয়ে ট্রাকটি ককপির্টের দরজায় একেবারে সামনে নেয়া হয়। এই সময়ে শেখ হাসিনা ভেতর থেকে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন।

বেলা ৪টা ৩২ মিনিটে শেখ হাসিনা কাঠের সিঁড়ি দিয়ে ট্রাকে নেমে আসেন। এই সময় লাখো জনতার কণ্ঠে ছিল গগন বিদারী শ্লোগানÑ ‘শেখ হাসিনা তোমায় কথা দিলামÑ মুজিব হত্যার বদলা নেব।’ এ সময় অনেকের চোখে ছিল অশ্র“ধারা। আবদুর রাজ্জাক যখন মালা পরিয়ে দেন তাঁকে, তখন শেখ হাসিনাও অঝোর ধারায় কান্না করছিলেন।

প্রতিবেদনের আর এক অংশে লেখা হয়েছেÑ বিমান থেকে ভিআইপি লাউঞ্জ পর্যন্ত হাসিনাকে নিয়ে আসতে ট্রাকটির ১৫ মিনিট সময় লাগে। এ সময় শেখ হাসিনার পরনে ছিল সাদা রঙের উপর কালো ডোরাকাটা তাঁতের মোটা শাড়ি। মাথা ঘোমটা ঢাকা।

পৌনে পাঁচটায় শেখ হাসিনাকে নিয়ে মিছিল শুরু হওয়ার পর পরই চারদিক অন্ধকার করে বৃষ্টি শুরু হয়। মুষলধারে বৃষ্টি ঝরে একটানা রাত ৮টা পর্যন্ত। কুর্মিটোলা থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত ৮ মাইল রাস্তা পৌঁছতে সচরাচর সময় লাগে ৩০ মিনিট। কিন্তু প্রায় ৩ ঘণ্টায় শেখ হাসিনা শেরেবাংলা নগরে এসে পৌঁছেন। ঝড় বৃষ্টিতে নগরজীবন তখন প্রায় বিপন্ন। রাস্তাঘাটে স্বাভাবিক জীবন যখন ব্যাহত তখনও এখানে অপো করে কয়েক লাখ মানুষ। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তিনি গণসংবর্ধনা মঞ্চে আসেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আজকের জনসভায় লাখো লাখো চেনামুখ আমি দেখছি। শুধু নেই আমার প্রিয় পিতা বঙ্গবন্ধু, মা আর ভাইয়েরা এবং আরো অনেক প্রিয়জন।

তিনি বলেন, ভাই রাসেল আর কোন দিন ফিরে আসবে না, আপা বলে ডাকবে না। সব হারিয়ে আজ আপনারাই আমার আপনজন।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই মে, ২০১১ বিকাল ৪:০০

তির্থক আহসান রুবেল বলেছেন: আজ শেখ হাসিনার সরকার বিরোধীদের কর্মসূচিতে বেশীরভাগ সময় লাঠি পুলিশ পাঠায়। অথচ তাকে নিজ দেশে মাথা উচুঁ করে বাঁচতে সমর্থন দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। কারণ তার দেশে ফেরা ও রাজনীতি এবং সম্মেলন করার সুযোগ দিয়েছিলন তিনি।
আর তাঁর জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছিল আ.লীগ। কারণ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর যে সরকার গঠিত হয়, তা ছিল আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নিয়ে গঠিত সরকার।
অন্য দলের প্রতি এই সমর্থন প্রদানের জন্য শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩০ বছর উপলক্ষে শহীদ জিয়ার প্রতি রইল শ্রদ্ধা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.