নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাংলাদেশ

রাজারাকারদের বিচার চাই.......

মন মাতাল

বাদন দিনে

মন মাতাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

এক গ্রুপের নেতার হাতে আর এক গ্রুপের নেতা ছুরিকাহত

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:১৩

দীর্ঘ দিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মাঝে আহ্বায়ক কমিটি থাকায় তাদের গ্রুপিং এখন চরমে। কবে এই কমিটির ঘোষণা হয়েছে তার কোন নির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারেননি আহ্বায়ক আরাফাত রেজা আশিক।



বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ১৪ জন যুগ্ম-আহবায়কদের অনেকই এখন ক্যাম্পাসে নেই। যারা এখন রাজনীতিতে সািক্রয় তাদের প্রত্যেকের রয়েছে একটি একটি গ্রুপ। এভাবে বেশী গ্রুপিং থাকায় তাদের মাঝে প্রায়ই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বিষয় নিয়ে তাদের মাঝে মারা মারিরও ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্বদ্যিালয়ের টুকিটাকি চত্বরে এক গ্রুপের নেতার হাতে অন্য গ্রুপের নেতার জখমের ঘটনা ঘটেছে। এতে যুগ্ম-আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ গ্ররুতর আহত হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।



এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও ইমতিয়াজ আহমেদ তার গ্রুপের ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় টুকিটাকি চত্বরে আসেন। সেখানে তারা যুদ্ধাপরাধিদের ফাঁসির দাবিতে করা গণমঞ্চের পাশে চায়ের দোকানে বসে আলাপ করছিল।



এ সময় ছাত্রদলের আর এক গ্রুপের নেতা এরকামুল হক হিরা তার গ্রুপের কর্মীদের নিয়ে একই জায়গায় বসে ইমতিয়াজের সাথে কথা বলতে থাকে। কথা বলার এক পর্যায়ে দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা একমত না হওয়ায় তাদের মাঝে বাক বিতন্ডা শুরু হয়। এ সময় হিরা উত্তেজিত হয়ে ১০-১২জন কর্মী মিলে ক্ষুর, ছুড়ি ও হাতুরি দিয়ে ইমতিয়াজকে আঘাত করতে থাকে। এতে তার দুই হাতে ও গলায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ক্ষুরের আঘাতে ইমতিয়াজ মাটিতে পরে গেলে অন্যান্য নেতাকর্মীরা এসে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে প্রেরণ করে। তিনি এখন সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

এর আগে গত বছর ১লা আগস্ট ইফতার মাহফিল নিয়ে তাদের এক গ্রুপের সাথে অন্য মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মাসুদ নামের এক কর্মী গুরুতর আহত হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় ৮ জনকে বহিস্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়।



ছাত্রদলের গ্রুপিং

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কোন নিয়মিত কমিটি না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে তাদের রাজনীতি ক্ষুড়িয়ে ক্ষুড়িয়ে চলছে। তবে ১৪জন যুগ্ম-আহ্বায়কদের অনেকেই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। এখন সক্রিয় যুগ্ম-আহ্বায়কদের মাঝে দলের বিভিন্ন বিষয়ে একমত না থাকায় তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন গ্রুপিং। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক কামরুলের (অছাত্র) সাথে আহ্বায়ক আরাফাত রেজা আশিকের মধ্যে প্রধান গ্রুপিং দেখা দিয়েছে দীর্ঘ দিন থেকে। এছাড়াও তাদের মাঝে রয়েছে উপগ্রুপিং।



বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী জানান, সক্রিয় যুগ্ম-আহ্বায়কদের সবাই তাদের মাঝে গ্রুপের সৃষ্টি করেছেন। কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তোজাম্মেল হক তোজা, সালাউদ্দির রানা, একরামুল হক হিরা, জহুরুল হক রোজ, অলিন ও ইমতিয়াজ আহমেদের প্রত্যেকের রয়েছে একটি করে গ্রুপ। তারা প্রত্যেকেই তাদের কর্মীদের বিভিন্ন লোভ ও পদ দেওয়ার কথা বলে নিজেদের গ্রুপে রাখছেন। আর তাদের মাঝে কোন সমস্যা হলেই তারা প্রত্যেকেই নিজ গ্রুপের কর্মীদের কাজে লাগান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এভাবেই তাদের এক গ্রুপের সাথে দলের কোন বিষয় নিয়ে মতের মিল না হলেই মারা মারির সৃষ্টি হয়।



আজকের ঘটনায় কমিটির ৪নম্বর যুগ্ম-আহ্বায়ক একরামুল হক হিরা বলেন, ক্যাম্পাসে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায় তাদের আর এখানে স্থান নেই। ইমতিয়াজ আমাদের মাঝে গ্রুপের সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল তাই তাকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।



কমিটির ৭নম্বর যুগ্ম-আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ বলন, ‘আমাকে কোন কারণে মারা হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে আজকে (সোমবার) আমাকে যেভাবে মারা হয়েছে সেটা পরিকল্পিত।



ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আরাফাত রেজা আশিক কমিটির গ্রুপ নিয়ে বলেন, সাংগঠনিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এমন হতে পারে। তবে স্থানীয়দের মাঝে এই বিষয়টি বেশী লক্ষ্য করা গেছে।

আজকের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, দলের কোনো বিষয়ে মতের মিল না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে না শত্রুতার কারণে ঘটেছে তা আমার জানা নেই। তারা দুজনে একই মেসে থাকার পরও এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনায় যে দোষি তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নেতার হাতে

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.