| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রুদ্র প্রতিদিন
পায়ে হেঁটে কলেজেযায়।
পথ ভাড়া হিসেবে যে কয়
টাকা দেয়া হয়
তা সে জমিয়ে রাখে। তার স্বপ্ন
দামী দেখে একটা মোবাইল সেট
কিনবে।
তার বন্ধুরা সবাই ভালো ভালো সেট
চালায়। তারও ইচ্ছা হয় ওদের মত সেট
কিনতে। বাবাকে বলেলাভ নেই, তার
ক্ষমতা কোথায় রুদ্রকে অত দামী সেট
কিনে দেবার? তাই সে তার
বাবাকে কিছুই জানায় না। দুপুরের
অমন
কাঠফাঁটা রোদে হেঁটে হেঁটে সে কলেজে য
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা জমায়।
রুদ্রর বাবা এলাকার
ছোটোখাটো একটি কে.জি স্কুলের
হেডমাস্টার। কত টাকাই বাআয় করেন।
যে বাড়িটাতে রুদ্ররা থাকে সেটা একট
বাড়ি। বাড়িটা নেহায়েৎ নিজেদের
বলে রক্ষা। ভাড়া বাসায়
থাকতে হলে ওদের আর
খেয়ে পরে বেঁচে থাকা লাগতনা। রুদ্রর
মা টুকটাক সেলইয়ের কাজ করেন।
বাবা মা মিলে যা আয় করেন
তা দিয়েই
রুদ্রদের দিন গুজরান করতে হয়। রুদ্রর
ছোট বোন ক্লাস সেভেনে পড়ে। সে আজ
কিছুদিন যাবৎ জ্বরে পড়েছে।
তাকে ডাক্তারের কাছে নেব নেব
করে নেয়া হচ্ছে না। সবাই
ভাবছে সামান্য জ্বর;
কয়েকটা প্যারাসিটামল
খেলে এমনিতেই
সেরে যাবে। কিন্তু, জ্বর কমছেই না।
অবশেষে না পেরে রুদ্রের
বোনকে নিয়ে বাবা ডাক্তারের
কাছে যান। ডাক্তার কয়েকটি টেস্ট
করতে বলেন। টেস্ট নিয়ে ডাক্তারের
কাছে যাওয়ার
পর ডাক্তার সাহেব সব
দেখেশুনে বললেন, “আপনার মেয়ের
তো টাইফয়েড হয়েছে।”
রুদ্রর বাবার মাথায় আকাশ
ভেঙে পড়ে।
ডাক্তার সাহেব যত দ্রুত সম্ভব
চিকিৎসা শুরু করতে বলেন।
তিনি আরো বলেন,
চিকিৎসা করাতে দশ
হাজার টাকার মত লাগবে। রুদ্রর
বাবার মুখ কালো হয়ে যায়। এই
সময়ে এতগুলো টাকা কিভাবে জোগাড়
করবে সে? চিন্তিত হয়ে রুদ্রর
বাবা বাসায়
ফিরে আসেন। সবাইকে রুদ্রর বোনের
অসুস্থতার কথা জানান। সবাই
চিন্তিত হয়ে পড়ে।
টাকাগুলো জোগাড়করাও
চাট্টিখানি কথা নয়। রুদ্রর বাবার
ঘাড়ে এখন এমনিতেই ঋনের
বোঝা চেপে আছে। তার ওপর আবার
এত্তগুলো টাকার চিন্তা মড়ার ওপর
খাড়ার ঘার মতোই চেপে বসে। .....
রুদ্রের কাছে এখন প্রায় দশ হাজার
টাকার মত আছে।
সে বাবাকে টাকাটা ধরিয়ে দেয়। রুদ্র
বলে, “বাবা পথ ভাড়ার
টাকা জমিয়ে এতটা হয়েছে। আমার
কাছে আর নেই।” চোখ
জলে ভরে ওঠে তার বাবার। বাধ্য
ছেলের মত টাকাটা নেয়
সে। তার তো এছাড়া আর পথ
খোলা নেই।
বাবা ডুকরে কেঁদে ওঠেন। আর
অভিশাপ
দেন তার কপালের লিখনকে। শেষমেশ
ছেলের এত কষ্টের
টাকা তাকে নিতে হল।
আর এভাবেই অনেক স্বপ্নের
বলি দিতে হয় নতুন
স্বপ্নকে কাছে পাবার আকুল প্রত্যয়ে।
রুদ্রের মতমধ্যবিত্ত পরিবারেরম
ছেলেরা এভাবেই তাদের
স্বপ্নকে বিলিয়ে যায়। নতুন
স্বপ্নকে লালন করে বুকের মাঝে।
তবে কি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম
নেয়া একটি অভিশাপ?
©somewhere in net ltd.