| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজকে আমি আমার একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। আমি পড়াশোনা করি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে, অনেক দিন ধরে আমাদের যাবার কথা একটা পিকনিক করতে। সেটা নিয়ে সবার মধ্যে একটা চাপা উত্তেজনা। কোথায় যাওয়া হবে সেটা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা, কি কি স্পেশাল জিনিস করা হবে সেটা নিয়ে আলোচনা সবই হচ্ছিলো।
অবশেষে সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হবার পর-পরই সিনিয়ররা যখন বলল প্ল্যানিং এর কাজ শুরু হবে, প্রায় সবাই লাফিয়ে উঠলাম। কোথায় যাবো, কিসে যাবো, ওখানে গিয়ে কি কি অ্যারেঞ্জমেন্টএসব নিয়ে রীতিমতো ঝগড়া বেঁধে যায় প্রতিদিন, হুলুস্থুল অবস্থা যাকে বলে। সব কিছু নিয়েই সবারসাথে মতের অমিল।আমার উপর দায়িত্ব পড়লো কোথায় যাওয়া হবে সেটা প্ল্যান করার। মনে মনে একটু দমে গেলাম, কারন দেখা যায় এই ব্যাপারটাতেই সবচেয়ে ক্যাচাল বাঁধে। সবাইকে কখনই খুশি করা যায় না। চিন্তা করেছিলাম একসাথে কক্সবাজার যাবো সবাই মিলে।
প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে ভালো কোন একটা জায়গার বেবস্থা করতেই হবে, অন্তত জায়গার কোয়ালিটি নিয়ে যেন কোন কমপ্লেন না থাকে। একজন বলল একটা রিসোর্ট টাইপ জায়গা হলে সবচেয়ে ভালো হয়, তাই যত রিসোর্ট আছে সবগুলোর রিভিউ পড়া শুরু করে দিলাম। ভালো গুলো শর্টলিস্ট করার পর দেখি বড়সড় একটা সমস্যা, সবকয়টারই খরচ নিয়ে সবাই আপত্তি জানাবে। আবার লিস্টের বাইরে অন্য কোথাও গেলে সমস্যা, হয় যেতে অসুবিধা নয়ত কিছু না কিছু সমস্যা আছেই।
তখনই আমার সাথের প্ল্যানিং এ থাকা একটা ছেলে বলল রাঙ্গামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট রিসোর্টের কথা। শুনেই উড়িয়ে দিতে যাচ্ছিলাম, পিকনিক রাঙ্গামাটিতে? অর্ধেক মানুষ যেতে পারবে না, বাকি অর্ধেকও এত দূর নিয়ে কমপ্লেন করবেই। তখন সে বলে এটা নাকি গাজীপুরে। শুনেই হাসি পেয়ে গেল, তাহলে এই নাম দেওয়ার মানেটা কি?
ছেলেটা আরও জানাল সে নাকি জায়গাটায় গেছে, জায়গাটা নাকি এরকম একটা ফাঙ্কশনের জন্য একদম পারফ্যাক্ট। আরও জানালস্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এর ডেবিট কার্ড হোল্ডারদের জন্য বেশ ভাল ডিসকাউন্টের বেবস্থা রয়েছে। যেকোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড হোল্ডাররা ৩০% ডিসকাউন্ট পেতে পারে যেকোনো সময়।
শুনে বেশ ভালই লাগছিল, অনলাইনে এছাড়া রিভিউ যা পড়লাম, শুনেমনে হচ্ছিল বেশ ভালো হবে। শেষপর্যন্ত এটাই পিক করা হল আর আমি কাজে ইস্তফা দিয়ে মজা করার প্রস্তুতি নিলাম।
কিছুদিন পরেই সবাই গাড়ি করে পৌঁছে গেলাম রিসোর্টে। পৌঁছেই দেখি সবাইকে সুন্দর করে স্বাগত জানালো, জিনিসপত্র রেখেই আশে পাশে ঘুরে দেখলাম। অসম্ভব সুন্দর জায়গাটা, রুম গুলাও ভালো অবস্থায়, সব মিলায় মনে হচ্ছিলো পিকনিকটা বেশ জমজমাট হবে। একটু পরেই যখন স্পেশাল কিছু প্রোগ্রাম এর আয়োজন করতে কাজে লেগে গেলাম, আসলেই মনে হল যে হ্যাঁ, এরকম পিকনিক এর জন্য পারফেক্ট জায়গা বেছে নিয়েছি।
তারপর প্ল্যান অনুযায়ী সবাই হুলুস্থুল শুরু করে দিলাম। যত কিছু করা যায় কিছুই বাদ রাখলাম না, খাওয়া দাওয়াও হল পেট ফাটিয়ে।
দিন শেষে যখন গাড়িতে উঠলাম বাসায় ফিরতে;কারো আর কোন কিছু করবার শক্তি নেই। অনেক সাক্সেসফুল একটা পিকনিক করা হল, সবাই আমার জায়গা পিক করার প্রশংসাও করল। ভবিষ্যতেও যদি এরকম প্ল্যানিং এ থাকতে হয় তাহলে যে কি করবো চিন্তা করছিলাম, সম্ভবত এই জায়গাই আবার রেফার করবো নয়ত অন্য কারো ঘাড়ে দায়িত্ব চাপিয়ে পার হয়ে যাবো।
©somewhere in net ltd.