| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
ফ্যাসিবাদের দোসর কোনো সাংবাদিককে এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শাস্তি দিচ্ছে না কেন?
মানবাধিকার সংস্থা Odhikar আয়োজিত Human Rights Abuses and Access to Justice for Victims বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আইন মন্ত্রী জনাব Md. Asaduzzaman। বিশেষ অতিথি এবং বক্তা ছিলেন- বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আমার দেশ সম্পাদক মাহামুদুর রহমান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর এডভোকেট আমিনুল ইসলাম, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর এডভোকেট Tajul Islam, বিবিসি বাংলা বিভাগের সাবেক রিপোর্টার Akbar Hossain, মানবাধিকার কর্মী Asm Nasiruddin Elan সাবেক সেনাকর্মকর্তা কর্নেল অবঃ Hasinur Rahman, সাবেক সেনাকর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূত Zaman M Zaman, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল এর সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়েজুল হাকিম লালা, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, আবদুল্লাহ আল আমীন এমপি ছাড়াও আরো কয়েকজন।
মূল বক্তৃতা পর্বের পর উন্মুক্ত প্রশ্নত্তর পর্বে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানতে চান-
★ফ্যাসিবাদের দোসর সাংবাদিকদের কারোর বিরুদ্ধে এখনো চার্জশিট না দেওয়া এবং বিচার করা হচ্ছেনা কেন?
★কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁকে কোন আইনের অধীনে বিচার করা উচিত?
এবং সকলেরই অভিযোগ / ইংগিত ছিলো- "বিএনপি সরকার বিচার করতে চায়না!"
প্রশ্ন পর্বের আগেই আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আমার দেশ সম্পাদক মাহামুদুর রহমান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর এডভোকেট আমিনুল ইসলাম চলে যান।
সাংবাদিক আকবর হোসেন জবাবে বলেছেন (জনাব আকবর হোসেন এবং এডভোকেট তাজুল ইসলাম সাহেবের বক্তব্য আমি আমার ভাষায় ব্যাখ্যা দিচ্ছি)-
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল এখতিয়ার হলো গণহত্যা (Genocide), মানবতাবিরোধী অপরাধ (Crimes Against Humanity), যুদ্ধাপরাধ (War Crimes) এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করা। এসব অপরাধের elements of the offence আইন অনুযায়ী প্রমাণ করতে হয়; শুধু কোনো রাজনৈতিক অবস্থান বা পেশাগত ভূমিকা থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধে পরিণত হয় না।
এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, 'যদি অভিযোগ হয় যে কেউ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো অপরাধ করেছেন- যেমন ডিজিটাল মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন, উসকানি বা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অন্য কোনো অপরাধ- তাহলে সেই অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রচলিত প্রাসঙ্গিক আইনেই বিচার হওয়া উচিত। এটাই Rule of Law-এর মৌলিক নীতি- "Charge according to the offence, and prosecute under the law that creates that offence."
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩৫ অনুচ্ছেদ নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং আইনানুগ বিচারপ্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। একইভাবে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো- সঠিক অভিযোগ, সঠিক আইন এবং সঠিক আদালত নিশ্চিত করা- "Justice is not only about punishing the guilty; it is about applying the right law to the right offence through a fair process."
জনাব আকবর হোসেন বলেন- রুয়ান্ডার গণহত্যার সময় ঘৃণামূলক প্রচার ও গণহত্যায় উসকানির সঙ্গে জড়িত একজন সাংবাদিককে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে শাস্তি দিয়েছে(আমি নামটা ভুলে গিয়েছি)।
জাতিসংঘের International Criminal Tribunal for Rwanda (ICTR) ২০০৩ সালে তার বিরুদ্ধে রায় দেয়। আদালতে প্রমাণিত হয় যে, তিনি কেবল সংবাদ প্রকাশ করেননি; বরং ধারাবাহিকভাবে গণহত্যার জন্য প্রত্যক্ষ ও প্রকাশ্য উসকানি (direct and public incitement to commit genocide) দিয়েছেন এবং তার প্রচারে তুতসি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার বিরুদ্ধে গণহত্যা, গণহত্যায় উসকানি এবং কিছু ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
UN International Criminal Tribunal Rwanda-1
এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো-
কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী শুধু সরকারের পক্ষে লেখা লিখেছেন বা প্রচার চালিয়েছেন- এ কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধে দোষী হন না।
আন্তর্জাতিক আইনে দায় তৈরি হয় তখনই, যখন প্রমাণ করা যায় যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে (intent) এবং প্রত্যক্ষভাবে (directly) এমন বক্তব্য বা প্রচার করেছেন, যা গণহত্যা বা আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটনে উসকানি দিয়েছে বা তা সংঘটনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
UN International Criminal Tribunal Rwanda- 1
এই কারণেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে প্রতিটি মামলায় ব্যক্তির নির্দিষ্ট ভূমিকা, উদ্দেশ্য, বক্তব্যের প্রকৃতি এবং অপরাধের সঙ্গে তার কার্যকারণ সম্পর্ক আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয়। কোনো পেশার সদস্য হওয়া বা কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া মাত্রেই কাউকে আন্তর্জাতিক অপরাধে দোষী বলা যায় না।
পুনশ্চঃ এই পোস্টে আলোচ্য দুই বক্তার বক্তব্যে কোনো ভুল ব্যাখ্যা হয়ে থাকলে সেটার দায় একান্তই আমার- আমি সঠিকভাবে লিখতে না পারায়।
২|
২৭ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সাংবাদিকের শাস্তি দেয়া কঠিন ; সবগুলোর বিদেশি কানেকশন আছে বলে মনে হয় । আবার এখন সিনিয়র সাংবাদিক জ্বরে ভুগছে দেশ ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২১
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
সবগুলো সরকারী চাকরিজীবী তো ফ্যাসিস্ট এর দোসর।
তিসোরও বলতে পারেন।