নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

ইংরেজি প্রবাদ “Out of the frying pan into the fire”- অর্থাৎ এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরও বড় বিপদের মধ্যে পড়ে যাওয়া।
২০০১ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিএনপি যেন সেই জলন্ত কড়াইয়ের মধ্যেই ছিল। মামলা, হামলা, নির্যাতন, দমন-পীড়ন, রাজনৈতিক নিপ- দীর্ঘ সময় ধরে দলটি রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থেকে কঠিন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গেছে।
কিন্তু জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে Bangladesh Nationalist Party-BNP ক্ষমতায় ফিরে আসার পর বিএনপির সামনে পরিস্থিতি কি সত্যিই সহজ হয়েছে?
আমার চোখে বরং বিপদের ধরন বদলেছে।
আগে বিপদ ছিল দৃশ্যমান- ক্ষমতার রাষ্ট্রযন্ত্রের চাপ। এখন বিপদ অনেক বেশি জটিল- রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব, জনগণের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক উত্তরাধিকার, অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কৌশল এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র জনপর্যবেক্ষণ।

অর্থাৎ বিএনপি কড়াই থেকে বেরিয়ে এসেছে ঠিকই, কিন্তু এসে পড়েছে যেন জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডের সামনে।
আর সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়- এই অগ্নিকুণ্ডের উত্তাপের আলামত নির্বাচনের পরপরই Tarique Rahman সরকার গঠন করার সাথে সাথেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য ও বডি ল্যাংগুয়েজ (একাত্তরের সেই রক্তাক্ত লকলকে জিহবা হাতে রক্তমাখা তরবারির প্রতিচ্ছবি) এবং তাদের একাধিক অনির্বাচিত নেতাদের বক্তব্য সেই উত্তাপকে আরও প্রকাশ্য করে দিয়েছে এবং একই সাথে সকল মিডিয়ার স্বরুপ ফিরে আসা- যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে, সে সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে।


আর একটি বিষয় বিশেষভাবে উদ্বেগের- মিডিয়ার ভূমিকা।
হাসিনা আমলে ‘War on Terror’ ও ‘Islamophobia’-র বয়ানের সঙ্গে দেশের একাংশের মিডিয়া যেভাবে যুক্ত হয়েছিল, আজও কি তার নতুন সংস্করণ দেখা যাচ্ছে?

ধর্মীয় উন্মাদনা ও অসহিষ্ণুতা তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত রাজনৈতিক শক্তিকে ঘিরে মিডিয়ার ভূমিকাও লক্ষণীয়। সংবাদ পরিবেশন আর কোনো পক্ষের রাজনৈতিক narrative প্রতিষ্ঠা- এক বিষয় নয়।

মিডিয়ার কাজ ঘটনা তুলে ধরা, সত্য যাচাই করা ও জনগণকে তথ্য দেওয়া; জনমত উত্তপ্ত করা নয়। কারণ উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে একটি শব্দ, শিরোনাম বা ভিডিও ক্লিপও আগুনে ঘি ঢালতে পারে। When the media becomes part of the narrative, it can no longer claim to be merely reporting the story.

তাই শুধু রাজনীতিবিদদের বক্তব্য নয়- কে কীভাবে তা প্রচার করছে, কোন বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ঘটনাগুলো কীভাবে উপস্থাপন করছে- সেটাও পর্যবেক্ষণ জরুরি। আগুন নেভানোর দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; মিডিয়ারও দায়িত্ব আগুন জ্বালানোর অংশ না হওয়া।

এখন প্রয়োজন সতর্ক, দূরদর্শী ও হিসাবি রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা। কারণ ক্ষমতায় আসা যতটা কঠিন, ক্ষমতা ধরে রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা তার চেয়েও কঠিন।
এই মুহূর্তে বিএনপির সবচেয়ে বড় শত্রু কোনো একক রাজনৈতিক দল নয়; সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে ভুল সিদ্ধান্ত, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং আত্মতুষ্টি।

বিরোধীদের উসকানিকে অজুহাত বানিয়ে ব্যর্থতা ঢাকার সুযোগ নেই। আবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপকে হালকাভাবে নেওয়ারও সুযোগ নেই।
অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে হলে আবেগ দিয়ে নয়- ঠান্ডা মাথায় আগুনের গতিপথ বুঝতে হবে।
কারণ,
ক্ষমতায় আসা বিজয় হতে পারে, কিন্তু ক্ষমতাকে সফলভাবে জনকল্যাণে রূপান্তর করাই আসল পরীক্ষা।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.