নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

জেফরি আর্চারের জগৎ বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Prisoner of Birth’ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে....

২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


ছবিতে আমি, মারুফ জামান এবং লেঃ কর্নেল রাজীব।
জেলে থাকতে জেফরি আর্চারের (Jeffrey Archer) লেখা ‘A Prisoner of Birth’ বইটির পড়ার জন্য বলেছিলেন ক্যাপ্টেন (চাকুরিচ্যুত) খন্দকার রাজীব... বইটি সম্পর্কে বলার আগে ক্যাপ্টেন রাজীব সম্পর্কেও কি বলব।

বইটি কেনার জন্য রকমারি তে যোগাযোগ করি। বইটির দাম ১,০২০ ডেলিভারি চার্জ সহ।
দারাজে পেপারব্যাক সংস্করণ দাম ৮৬০/- । অত্যাধিক দামের জন্য বইটি কেনা হচ্ছিল না। বইটি নিয়ে কথা হচ্ছিলো সাবেক সেনাকর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত এবং সচিব শ্রদ্ধেয় মারুফ জামান ভাইয়ের সাথে। মারুফ জামানও একজন মজলুম। তিনি সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন কিছুদিন জিয়াউর রহমানের বাড়ির সামনে ফিল্ড গোয়েন্দা অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। ক্যাপ্টেন মারুফ জামান ১৯৮২ সালে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনী ছেড়ে তিযান। পরবর্তীতে তিনি ফরেন মিনিস্ট্রিতে চলে যান। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সময় তিনি বেলজিয়াম, লন্ডনে উপ হাইকমিশনার, ভিয়েতনাম এবং কাতারে রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এই অপরাধে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় ২০১২ সালে। তিনি শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী সরকারের ভারতের ক্রীড়নক মনে করতেন এবং সেই বিষয়ে লেখালেখি করতেন। ২০১৬ সালে ডিজিএফআই তাকে অপহরণ করে এবং ষোলো মাস আয়না ঘরে বন্দী রেখে অমানবিক নিষ্ঠুর শারীরিক নির্যাতন চালায়। মুমূর্ষু অবস্থা তাকে বন্দীদশা থেকে বের করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। গুম থেকে মুক্তি পেয়ে তিনিই প্রথম 'আয়না ঘর' সম্পর্কে জানান। মারুফ জামান ভাইয়ের বিদেশী বইয়ের বিরাট সংগ্রহ। তিনি তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরী থেকে 'A Prisoner of Birth' বইটি আমাকে গিফট করেন।

বইটি পড়ার প্রেক্ষাপটঃ
২০০৯ সালে পিলখানা ম্যাচাকারের সময় সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রীগের সাথে দুর্ধর্ষ কমান্ডো ইউনিট প্রস্তুত ছিলো। কমান্ডো অভিযান পরিচালনায় মেজর হেলাল, ক্যাপ্টেন রেজাউল, ক্যাপ্টেন রাজীব, ক্যাপ্টেন ফুয়াদ, ক্যাপ্টেন জুবায়ের সম্পুর্ণ প্রস্তুত থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কোনো প্রকার অভিযান না চালিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল, যা ওপেন সিক্রেট। অভিযান চালানো না হলেও কিলিং মিশন শেষে সেনা কর্মকর্তাদের লাশ বের করে তথাকথিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল- সেখানে উল্লেখ্য পাঁচ কমান্ডো অফিসারও ছিলেন। কমান্ডো অফিসারগন প্রাথমিকভাবেই পিলখানায় এমনকিছু আলামত পেয়ে যায় যাতে প্রমাণিত হয়- কিলিং মিশনে প্রতিবেশী দেশের কমান্ডোদের সরাসরি উপস্থিত ছিল। আলামত সহ বিষয়টা সাথে সাথেই উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলে উক্ত পাঁচ কমান্ডো অফিসারদের তদন্ত কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় করা হয়। তাদেরকে নিষ্ক্রিয় করা হলেও তারা তাদের সহকর্মী অন্যান্য সেনা কর্মকর্তা যারা পিলখানায় তদন্ত এবং ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। তারা নিশ্চিত হন- পিলখানার ঘটনার সাথে ব্যারিস্টার তাপস, শেখ সেলিম, নানক, মির্জা আজম সহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাদের সংশ্লিষ্টতা ছিলো। সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই কতৃক বারবার কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হয়। এক পর্যায়ে তাদেরকে নিজ ইউনিট সিলেটে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

২০০৯ সালের ২১ অক্টোবর ঢাকার মতিঝিলে ব্যারিস্টার তাপসের গাড়ি লক্ষ্য করে দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা হামলার একটা কল্পিত কাহিনী প্রচার করা হয় এবং সেই মামলায় উল্লেখ্য পাঁচ কমান্ডো অফিসারদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গোয়েন্দারা তুলে নিয়ে এক বছর গুম করে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালায় স্বীকারোক্তির জন্য। অত্যন্ত গোপনে ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে এই পাঁচ সেনা কর্মকর্তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় একটি সামরিক আদালত। যথারীতি পাঁচ বছর কারাভোগ করে।
মজার ব্যাপার, কারাভোগ শেষে পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, এই মামলায় সামরিক কর্মকর্তাদের জড়ানোর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বা সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেল থেকে বের হয়ে উপরোক্ত পাঁচ কমান্ডো অফিসারদের মধ্যে মেজর হেলাল, ক্যাপ্টেন রেজাউল, ক্যাপ্টেন জুবায়ের
বিদেশে চলে যান। মেজর হেলাল পিএইচডি শেষ করে আমেরিকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ক্যাপ্টেন রেজাউল পিএইচডি শেষ জাপানে থিতু হয়েছেন। তিনি একজন আইটি স্পেশালিষ্ট। ক্যাপ্টেন জুবায়ের বিদেশে সফল ব্যাবসায়ী। ক্যাপ্টেন রাজীব এবং ক্যাপ্টেন ফুয়াদ এমবিএ দেশের বিখ্যাত গ্রুপ অব কোম্পানি/ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির হেড অব এইচআর। ক্যাপ্টেন রাজীব একজন বিখ্যাত লেখকও বটে। ইতোমধ্যে তার অনেকগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখিত পাঁচ কমান্ডো অফিসারকে বর্তমান সরকার তাদেরকে বরখাস্ত থেকে সকল সুবিধাসহ ভুতাপেক্ষিক প্রমোশন দিয়েছে। মেজর হেলাল এখন কর্নেল অবঃ হেলাল। অন্য চারজন ক্যাপ্টেন এখন লেঃ কর্নেল অবঃ। লেখালেখি এবং আরও বিভিন্ন কারণে অনুজ প্রতীম লেঃ কর্নেল অবঃ রাজীব আমার অত্যন্ত ঘনিষ্টজন।

(ক্যাপ্টেন মারুফ জামান ভাইয়ের এক ব্যাচ সিনিয়র অফিসার ছিলেন সুনামধন্য লেখক, বিশিষ্ট ব্লগার কর্নেল অবঃ খায়রুল আহসান ভাইজান, যা সম্প্রতি জেনেছি)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.