| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঘুম থেকে ওঠার পরে বুকটা কেমন লাগছিল।কেন তা জানি না। ডা. মিখাইলের লেকচারে বসেও ছটফট করছিলাম। পাশের জাপানি বুড়ো কিম বলে বসলো , “কোন সমস্যা ইয়াংম্যান?”
-ঠিক জানি না,ঘুম থেকে উঠেই বুকটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে
কিম বলল, “রাতে উপুড় হয়ে ঘুমিয়েছ?তাহলে এমন লাগতে পারে” তারপর একটা অশ্লীল রসিকতাও করল।
আমি মুচকি হেসে লেকচারে মন দিলাম।
লাঞ্চে ক্যাফেটেরিয়া থেকে বার্গার-কফি নিয়ে খেতে খেতে ফিরছিলাম।আর একটা টিউটরিয়াল বাকি লাঞ্চের পর।পথে মালয়েশিয়ার হানার সাথে দেখা। ও বলল, “তুমি রোজা রাখ না তাই না?”
-রোজা?
কিছু না বলে হাঁটা দিলাম। মস্কোর এই নিউক্লিয়ার ইন্সটিটিউট এ পিএইচডি তে আসার পর নামাজ-রোজা-ঈদ কোন
টাই তেমন আর করা হয় না।মা মারা যাবার পর তো আর কেউ এগুলা নিয়ে তাগাদাও দেয় না।আজ কয় তারিখ? কয়টা রোজা হল?
ভাবতে ভাবতে কফি আর একটু হলে পরেই যাচ্ছিল হাত থেকে।আজ ২৭ জুলাই ...মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী।এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলাম দিনটা?এত অল্প সময়েই সব ফিকে হয়ে যায়?
দৌড়ে ডর্মে ফিরলাম।প্রচন্ড খারাপ লাগা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল।সটান শুয়ে পড়লাম সেভাবেই।ঘুম ভাঙল সন্ধ্যায়।শুয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি ...
আবার মার কথা মনে পড়ল,মনে পড়ল দেশের কথা।রোজার সময় এই সন্ধ্যায় মা,আমি আর ছোট বোন শেফু একসাথে ইফতার করতে বসতাম।তারপর মা বসত কুরআন শরিফ নিয়ে।রুম থেকেই সেই পড়া শুনতাম।পুরো রোজার মাসে মা একবার কুরান খতম দিতেন।আমরাও পড়তাম মাঝে মাঝে বাবার কথা মনে করে।আজ খুব মনে পড়ছে সব।শেফুটা বিয়ে করে কানাডা চলে গেল।ওর সাথে ও কথা হয় না ২ মাস হয়ে গেল।মা মারা যাবার পর দেশের কারো সাথেই আর কথা হয় না।বাবাকে তো এখন আর মনেই পড়ে না। সেই ছোট বেলাতেই হারাইয়েছি
আজ কতদিন পর মাগরিবের নামাজ পড়লাম।এক রকম ঘোরের মধ্যেই বের হলাম বইয়ের স্টোরের খোজে।কেন জানি ইচ্ছে হল আজ মার মত করে একটু কুরান তিলাওয়াত করি।ডর্মের কোন মুসলমান এর কাছে আছে কিনা খোঁজ নিতে ইচ্ছে হল না।
খোজাখুজি করে ১টা কুরান শরীফ কিনে ফেললাম,নামজের টুপিও কিনলাম।বাইরে খেয়ে হাটতে হাটতে ফিরছিলাম পার্কের পাশ দিয়ে।এই পার্কে দ্বিতীয় বিশযুদ্ধের মৃত সৈন্যদের সম্মানে একটা স্তম্ভ আছে।এই রাশিয়া তেই হিটলার পরাজিত হয় না? রাতে শেফুকে ফোন করতে হবে।এখান থেকে কানাডার সময়ের পার্থক্য টা কত যেন?
থমকে যেতে হল।ভূতের মত টাকমাথাওয়ালা কয়জন সামনে এসে দাঁড়াল।শিড়শিড়ে একটা কিছু নেমে গেল ঘাড় বেয়ে। কুখ্যাত skin headed এরা। একটু রাত হলেই হটাৎ এদের দেখা পাওয়া যায়।একলা অন্য দেশ-ধর্ম-চামড়ার কাউকে পেলেই এরা উন্মাদের মত আক্রমণ করে।
একজন এসে আমার পকেট থেকে মানিব্যাগ,সেলফোন আর নামাযের জন্য কেনা টুপি টা নিয়ে নিল।আরেকজন হাতের প্যাকেট টা টেনে ছিঁড়ে উল্টে পাল্টে দেখতে লাগল।একটু পরে মার খেয়ে পড়ে যেতে যেতে দেখলাম ছেঁড়া কুরান শরীফ টা রাস্তায় পড়ে আছে।
সব উধাও হয়ে গেল চোখের সামনে থেকে। খালি এক জোড়া চোখ ভেসে উঠল আমার চোখের সামনে।এটা কি মা র চোখ? নাহ...।
হটাৎ মনে পড়ল অনন্ত র কথা।ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে পড়ার সময় একদিন জগন্নাথ হলে দুর্গা পূজার সময় দুর্গার ১০ হাত নিয়ে মজা করেছিলাম।অনন্ত সেদিন ব্যথা ভরা চোখে আমাকে বলেছিল, ‘ দোস্ত বাদ দে না, দূর্গা কে আমারা মা ডাকি’
আজ ওর সেই চোখ দুটোর কথা কেন মনে পড়ে গেল??
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৩ রাত ১১:২২
কালের খেয়া বলেছেন: thanx AlwaysDream
২|
০৫ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ২:১২
না পারভীন বলেছেন: +++ ভাল লাগলো ।
০৫ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ৩:৩১
কালের খেয়া বলেছেন: ধন্যবাদ আপু ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৩ রাত ১১:০৭
অলওয়েজ ড্রিম বলেছেন: Valo hoyece. Lekhar hat asha jaganiya.