| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শফিকের মনটা বিরক্তি তে ভরে উঠল।এই নিয়ে তিনদিন মামার বাসায় এসে বসে থাকতে হচ্ছে।আসার আগে ও প্রতিবার মামা কে ফোন দিয়েই আসে।প্রতিদিনি অনেক রাত পর্যন্ত বাসায় বসে থাকে।কিন্তু মামা কে ওপায় না।এমনিতে এই আলিশান ড্রইং রুমে বসে টিভি দেখতে খারাপ লাগে না,কিন্তু একটু অস্বস্তি হয়।প্রথম যেদিন এল এই বাসব,মামী এসে গরম চোখ করে চিবিয়ে চিবিয়ে দু’ একটা কথা বলে চলে গিয়েছিলেন।তারপর এই দুদিন আর শফিক তার দেখা পায়নি।
কাজের মেয়ের রেখে যাওয়া চিনি ছাড়া চা আর শুকনা টোশট গুলো ও শেষ করল। সারা সকাল ও কোচিং এ ক্লাস নেয়।তারপর দৌড়ে যায় কম্পিউটার কোর্স করতে।সেখান থেকে ও যখন বের হয় তখন দুপুর পেরিয়ে যায়।তাই সারাদিনের খালি পেটে এই চা বিস্কিট অমৃতের মতই লাগল।নানুবাড়ি থেকে কিছু ফসল বেচা টাকা মামার দেয়ার কথা।সেটা নেয়ার জন্যই আসা। টাকাটা মামীর কাছে রেখে গেলেই হয়।কিন্তু মামা কখনই রেখে জান না কেন শফিক বোঝে না।কিছুক্ষন পরেই ও ওই বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ল।গত দুদিন অনেক রাত পর্যন্ত ও বসেছিল।কিন্তু আজ আর দেরি করতে পারল না।বিকেলের আকাশ কেমন কাল হয়ে গিয়েছে।বৃষ্টি আসবে।
তৌফিকের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল দূরে কথাও বাজ পড়ার শব্দে।স্কুল থেকে এসে ভাত না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিল।রাত হয়ে গেল নাকি? বাইরে কেমন অন্ধকার।আরে বৃষ্টি! তৌফিকের হটাৎ মনে পড়ল।দৌড়ে গিয়ে রুমের ওপাশে ভাইয়ার বিছানায় লাফ দিয়ে উঠল।দেয়ালের ভেন্টিলেটরের ফুটো দিয়ে তাকাল।
ভেন্টিলেটরে চড়ুইয়ের বাসা।ছোট ছোট চড়ুইয়ের বাচ্চা সারাদিন কিচমিচ করত।ও কতদিন ভেবেছে খুব জরে বৃষ্টি এলে এগুলার কি হবে?পড়ে যায় যদি?আজ তাকিয়ে দেখল মা আর বাচ্চাগুলো ভিজে কেমন জুবুথুবু হয়ে আছে।
শফিক বাস-ম্যাক্সি কিছুই পেল না।শেষ পর্যন্ত যাও একটা রিকশা পেয়েছিল বৃষ্টির পানি জমা গর্তে পড়ে সেটাও উলটে গেল।ষফিক চার হাত-পা ছড়িয়ে রাস্তায় এসে পড়ল।কেমন কান্না আন্না পেল ওর।জীবনের সব জায়গায় ত ও এভাবে আছাড়ি খেয়ে গেল।রিকশার চাকা বেঁকে গেছে,আশপাশে ওআর কিছুই পেল না।এখন এতদূর যাবে কিভাবে?
রেহানা বানু মাগ্রিবের নাজের জন্য ওযু করলেন।বাইরে কি বৃষ্টি! শফিটা এখনও এল না।আজও ওর ফিরতে দেরি হবে?ফারুক সাহেব বিছানায় বসে ছিলেন।তিনি ডেকে বললেন, ‘রে...রে... রেহানা...বি...বি...বৃষ্টি,খিচুরি খাব’ রেহানা তার স্বামীর দিকে তাকিয়ে রইলেন।কেমন শিশুর মত হয়ে গেছে লোকটা।দুই ছেলে শফিক আর তৌফিকের মাঝে আর একটা মেয়ে ছিল তাদের।দেখতে ঠিক পুতুলের মত।তৌফিক তখন পেটে।একদিন কিভাবে যে চার বছরের মেয়ে টা ছাদে উঠে গিয়েছিল কেউ খেয়াল করে নি। গোলির লোকজনের হৈ চৈ, রাস্তাজুড়ে লাল রক্ত এগুলাই খালি মনে আছে রেহানার।মেয়েটা মারা যাওয়ার কিছুদিন পরেই ফারুক সাহেব স্ট্রোক করেন।পুড়ো ডান পাশ টা অবশ এখন।ঠিক মত হাটা-চলার ক্ষমতা,বোধ-বুদ্ধি সবই হারি্য়ে ফেলেছেন।এখন সারাদিন তার একটাই চিন্তা-খাবারের চিন্তা।তারপর থেকে গ্রামের জমিগুলই ছিল উনাদের আয়ের সম্বল।তখন রেহানা খালি দিন গুন তেন কখন ছেলেগুলা বড় হবে।
ঘরে কি আদা আছে?খিচুরি বসাতে হবে।একজন ত সেই আশায় বসে থাকবে ও’ঘরে।
শফিক বৃষ্টির মাঝে হাটতে হাটতে অবাক হয়ে গেল।বৃষ্টি বোধয় মানুষের শরীরের সাথে সাথে মন টাকেও ভেজায়।ওর মনে এতক্ষন জমে থাকা সব ক্ষোভ-দুঃখ-হতাশা-ক্লান্তি বৃষ্টির ফোঁটায় চুয়ে চুয়ে কোথায় যেন ধুয়ে মুছে গেছে।শফিক আকাশের দিকে তাকাল,পুরো আকাশ জুড়ে ভারী ভারী মেঘ।ওর এক বন্ধু ছিল আজাদ, সে এই রকম মেঘ গুলাকে বলত রুই-কাতলা মেঘ।আর এক ধরনের মেঘ আছে-কাচকি পুটি মেঘ।কাচকি পুটি মেঘে বৃষ্টি হইয় গুড়ি গুড়ি,রুই কাতলা মেঘের মত থৈ থৈ করা বৃষ্টি না।চোরাই পথে বিদেশ যেতে গিয়ে কোথায় যেন বেচারা নিজেই বৃষ্টির মত ভেসে গেছে।ওর বাবা মা এখনও ওর আশায় বেঁচে আছেন।
রাতটা দিন শেষ হওয়ার অপেক্ষাতেই ছিল।তাই মেঘের আড়ালে আড়ালে কখন যে ঝুপ করে রাত নামল বোঝাই যায় নি।
রেহানা নামাজ শেষে বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন।মনটা কেমন যেন করছে।বড় ছেলে টা কখন আসবে?ঘরে যে একটা মোবাইল সেটাও ওর কাছেই থাকে।অন্য কার বাসা থেকে একটু ফোন দিয়ে দেখবেন নাকি?লাম্পপোস্টের আলোয় গলির এমাথা থেকে ওমাথা দেখা জাচ্ছে।কেউ নেই।তখনি দেখলেন গলির বাঁকের ও পাশ থেকে শফিক বের হল।বৃষ্টি তে ভিজতে ভিজতে কেমন হেলে দুলে হাৎছে।এই ছেলেটা বৃষ্টি কে ছোট বেলায় খুব ভয় পেত।মেঘ ডাকলেই দৌড়ে এসে লাফ দিয়ে পড়ত কোলে।একদিন ওড় বাবা জোর করে নিয়ে গেলেন বৃষ্টির মাঝে ছাদে।প্রথম প্রথম শফিকের সে কী কান্না।তারপর ফিক ফিক হাসতে লাগল।বৃষ্টির পানি চুলে পড়ছে, আর ও জোরে জোরে মাথা ঝাকি্য়ে সেই পানি ফেলতে চাইছে।এই ত সেদিনের কথা মনে হয় সব।
রেহানা আশপাশের বাড়িগুলার দিকে তাকালেন।সব জালার লাইট জবলছে ।সব মানুষই কি অপেক্ষায় আছে? হয়ত...।
বৃষ্টির ফোটার মত এই ছোট জীবনটা অপেক্ষা ছাড়া আর কি।
২|
০৮ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১১:৪৯
অদ্ভুত_আমি বলেছেন: ভালো লাগল গল্পটা । আমাদের মধ্যবিত্ত জীবনের প্রতিচ্ছবি ।
০৯ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১:০৪
কালের খেয়া বলেছেন: ধন্যবাদ। ঈদ মুবারাক
৩|
১১ ই আগস্ট, ২০১৩ দুপুর ২:৪০
ইমরাজ কবির মুন বলেছেন:
ভাল লিখসেন।
ঈদের শুভেচ্ছা ||
১১ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১১:৪৯
কালের খেয়া বলেছেন: ধন্নবাদ। ঈদের শুভেচ্ছা
৪|
১১ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১০:৪৪
মামুন রশিদ বলেছেন: ভালো । আশা করি নিয়মিত লিখে যাবেন ।
৫|
১১ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১১:৫০
কালের খেয়া বলেছেন: ধন্যবাদ। চেষ্টা চালিয়ে যাব
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৫:০৩
কালের খেয়া বলেছেন: মেডিকেলে থাকতে মেগাজিনের জন্য লেখা