| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচরের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ফাঁদ পেতে বুনো মহিষ ধরে কষাইদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত দুই সপ্তাহে ওই বনাঞ্চলে ফাঁদ পেতে আটটি বুনোমহিষ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মহিষ ভোলার কচ্ছপিয়া এলাকার কসাইদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। একটি বাচ্চা মহিষ ফাঁদে আটকা পড়ে অসুস্থ হয়ে যায়। সেটিকে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রামে নিয়ে রাখা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বনবিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জের সোনারচর বিটের কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদের সহযোগিতায় চরআন্ডা গ্রামের বাসিন্দা সেলিম বেপারীর নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি দল ফাঁদ পেতে বুনো মহিষ ধরার কাজ করছেন। এ চক্রের সঙ্গে ভোলা জেলার চর কুকরি-মুকরি এবং কচ্ছপিয়া এলাকার কিছু লোকও জড়িত রয়েছেন। তাঁরাই প্রথম ফাঁদ তৈরির কৌশল শিখিয়েছেন।
চরমোন্তাজ স্লুইস বাজারের ব্যবসায়ী মোশরেফ খান জানান, সেলিম বেপারী তাঁর লোকজন নিয়ে সোনার চরের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ঢুকে পায়ের দাগ দেখে বুনো মহিষের চকের (দল) চলাচলের পথ খুঁজে বের করেন। এরপর গভীর রাতে ওই পথে মোটা রশি দিয়ে তৈরি করা ফাঁদ পেতে রাখেন। ওই ফাঁদে একাধিক বুনোমহিষ আটকা পড়ে যায়। সুযোগ বুঝে কোনো এক সময় মহিষগুলো কসাইদের নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। তিনি জানান, সোনারচরের জঙ্গলে এক হাজারেরও বেশি বুনো মহিষ রয়েছে।
একই এলাকার মো. সবুজ খলিফা জানান, একেকটি বুনো মহিষ কষাইদের কাছে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাচার টাকায় বিক্রি করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন বিভাগের চরমোন্তাজ বিটের কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, কয়েকদিন আগে বনাঞ্চলে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ একটি বাচ্চা মহিষ খালের পাড়ে পড়ে থাকতে দেখেন বন বিভাগের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সরদার সেলিম বোপারী। তিনি লোকজন নিয়ে ওই বচ্চাটিকে উদ্ধার করে চরআন্ডায় নিয়ে যান। বন বিভাগের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ সরেজমিনে এসে মহিষের বাচ্চাটি দেখেছেন। আর বনো মহিষ ফাঁদ পেতে ধরা সম্ভব নয়। ফাঁদ পেতে বুনো মহিষ ধরে বিক্রি করার অভিযোগ সঠিক নয়।’
চরমোন্তাজ রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘ফাঁদ পেতে বুনো মহিষ ধরার বিষয়টি আমাদের জানা নাই। তবে সোনারচর থেকে বুনো মহিষের একটি বাচ্চা উদ্ধার করে চর আন্ডায় নেওয়া হয়েছে শুনে আমি সেখানে গিয়ে বাচ্চাটি দেখে এসেছি। মহিষের ওই বাচ্চটির শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া উঠে গেছে। সামনের দিকের ডান পায়ের নিচে একটি ক্ষতে পোকা হয়ে গেছে। ওটির চিকিৎসা করানো হচ্ছে। বাচ্চাটি সুস্থ হলে আবার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর জঙ্গলে ফাঁদ পাতার বিষয়টি আমরা তদন্ত করব।’
এ বিষয় নিয়ে সেলিম বেপারীর সঙ্গে কথা বলার জন্য বারবার চেষ্টা করে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ প্রসঙ্গে রাঙ্গাবালী থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, চলতি দায়িত্বে) উপপরিদর্শক মো. খলিলুর রহমান জানান, ‘ফাঁদ পেতে বুনো মহিষ ধরে বিক্রি করার ঘটনা আমাদের জানা নেই। এটি একটি দ-নীয় অপরাধ। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’
©somewhere in net ltd.