নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Kausar_007

সৈাদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশী । নিজ শহর - সিলেট । সর্বক্ষেত্রে নিজেকে আলোকিত করার চেষ্টা করি ইসলামের আলোতে । ব্যাক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে ইসলাম কে প্রাধান্য দিতে পছন্দ করি ।

Kausar_007 › বিস্তারিত পোস্টঃ

“এ জন্যই তুমি আলাদা, এ জন্যই তুমি জান্নাতি”

১৮ ই আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৫:১৪



রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মসজিদে বসে আছেন।





সাহাবীরা তাঁকে ঘিরে আছেন। এমন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এখন যিনি মসজিদে প্রবেশ করবেন,তিনি বেহেশতের অধিবাসী।”





একথা শুনে উপস্থিত সব সাহাবী অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রইলেন মসজিদের প্রবেশ মুখে। সবার মধ্যে জল্পনা কল্পনা চলছে, হয়তো হজরত আবু বকর (রাঃ) বা হজরত উমর (রাঃ) অথবা এমন কেউ আসছেন যাঁদের বেহেশতের সুসংবাদ আল্লাহপাক ঘোষণা করেছেন।





সবাইকে অবাক করে দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলেন একজন সাধারণ আনসার সাহাবী। এমনকি তাঁর নাম পরিচয় পর্যন্ত জানা ছিল না অধিকাংশের।





এরপরের দিনেও সাহাবীরা মসজিদে বসে আছেন নবীজি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ঘিরে। নবীজি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, “এখন যিনি মসজিদে প্রবেশ করবেন,তিনি বেহেশতের অধিবাসী।” সেদিনও মসজিদে প্রবেশ করলেন সেই সাহাবী।





তৃতীয় দিন নবীজি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের লক্ষ্য করে আবার ঘোষণা দিলেন, “এখন যিনি মসজিদে প্রবেশ করবেন, তিনি বেহেশতের অধিবাসী।”এবং সাহাবীরা দেখলেন সেই অতি সাধারণ সাহাবী মসজিদে প্রবেশ করলেন।





পরপর তিনদিন এই ঘটনা ঘটার পর,সাহাবীদের মধ্যে কৌতূহল হলো সেই সাধারণ সাহাবী সম্পর্কে জানার জন্য। তিনি কেন অন্যদের চেয়ে আলাদা তা জানতে হবে।





বিখ্যাত সাহাবী হজরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আল আস (রাঃ) ভাবলেন, এই সাহাবীর বিশেষত্ব কী তা জানতে হলে তাকে নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তিনি সেই



সাহাবীর কাছে গিয়ে বললেন,“আমার বাবার সাথে আমার মনোমালিন্য হয়েছে, তোমার বাড়িতে কি আমাকে তিন দিনের জন্য থাকতে দেবে?’’





সেই সাহাবী রাজী হলেন। হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকলেন,খুঁজতে থাকলেন কী এমন আমল তিনি করেন। সারা দিন তেমন কোন কিছু চোখে পড়ল না। তিনি ভাবলেন হয়তো তিনি রাত জেগে ইবাদত করেন। না, রাতের নামায পড়ে তো তিনি ঘুমাতে চলে গেলেন।





উঠলেন সেই ফজর পড়তে। পরের দুটি দিনও এভাবে কেটে গেল। হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) কোন বিশেষ আমল বা আচরণ আবিষ্কার করতে পারলেন না যা অন্যদের চেয়ে আলাদা।





তাই তিনি সরাসরি সেই সাহাবীকে বললেন, “দেখ আমার বাবার সাথে আমার কোন মনোমালিন্য হয় নি, আমি তোমাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য তোমার বাড়িতে ছিলাম। কারণ নবীজি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন



যে তুমি জান্নাতি। আমাকে বল তুমি আলাদা কী এমন আমল করো?’’





সেই সাহাবী বললেন, “তুমি আমাকে যেমন দেখেছ আমি তেমনই,আলাদা কিছুতো আমার মনে পড়ছে না।”





এ কথা শুনে হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ)তাঁকে বিদায় জানিয়ে চলে যেতে থাকলেন। এমন সময় সেই সাহাবী হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) কে ডেকে বললেন,





‘আমার একটা অভ্যাসের কথা তোমায় বলা হয়নি –





"রোজ রাতে ঘুমাতে যাবার আগে আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দেই, যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছে বা আমার প্রতি অন্যায় করেছে। তাদের প্রতি কোন ক্ষোভ আমার অন্তরে আমি পুষে রাখি না”





হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) এ কথা শুনে বললেন, “এ জন্যই তুমি আলাদা, এ জন্যই তুমি জান্নাতি”। রাসূল (সাঃ)বলেছেন, যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না।





[বুখারী ও মুসলিম]

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৪

অনন্য দায়িত্বশীল আমি বলেছেন: সাহাবীর কাছে গিয়ে বললেন,“আমার বাবার সাথে আমার মনোমালিন্য হয়েছে, তোমার বাড়িতে কি আমাকে তিন দিনের জন্য থাকতে দেবে?’’


এখানে আমার প্রশ্ন হলো --
১) হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) কী তাহলে মিথ্যা কথা বলেছিলেন?

২) সাহাবীরা কী কখনও মিথ্যা কথা বলেছিলেন?


আমার মনে হয় আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।
ভাই দয়া করে সত্য জানালে উপকৃত হতাম।



১৯ শে আগস্ট, ২০১৪ ভোর ৫:২৯

Kausar_007 বলেছেন: ভাই আমার এক বন্ধু ফেইসবুকে আমার সাথ এই হাদিস টি শেয়ার করেছে । এবং আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম মাত্র ..... তবে আমি যাচাই করে দেখার চেষ্টা করব ইনশাহ আল্লাহ ......

২| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৪

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: হে রাসুল সা: আমাদের প্রতি আপনার করুনা অব্যহত রাখুন দুনিয়া এবং রাখেরাতে। এবং আমাদের মুক্তির পথে চালীত করুন। নিশ্চয়ই আপনার করুনাই সর্বোত্তম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.