নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হারুন ইয়াহিয়ার প্রবন্ধ বাংলায়

হারুন ইয়াহিয়া বাংলা

এই একাউন্টটি তৈরী করা হয়েছে তুরস্কের আলোচিত লেখক জনাব হারুন ইয়াহিয়ার লেখনীর সাথে বাংলা ভাষাভাষীদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে।

হারুন ইয়াহিয়া বাংলা › বিস্তারিত পোস্টঃ

পিপড়ার চোখে কম্পাস

১২ ই অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৬

ভিন্ন কোন দেশে অথবা ভিন্ন কোন শহরে আমরা যখন ভ্রমন করি তখন দিক নির্দেশনার জন্য আমাদের গাইডের দরকার হয়। বস্তুতপক্ষে আমরা যদি কোন অচেনা জায়গায় ভ্রমন করতে চাই তখন আমাদের সাথে একটি কম্পাস এবং একটি ম্যাপ থাকতে হবে। ম্যাপ আমাদেরকে দেখায় আমরা কোথায় আছি এবং কম্পাস বলে দেয় কোনদিকে যেতে হবে। আমরা এই জিনিসগুলো ব্যবহার করে এবং অন্য মানুষের কাছে জিজ্ঞাসা করে সঠিক পথ খুজে পাই।
আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি অন্য জীবজন্তু কিভাবে তাদের পথ খুজে পায়? আপনি কি কখনো চিন্তা করে দেখেছেন কিভাবে একটি পিপড়া মরুভুমিতে খাদ্য খুজে বেড়ায় এবং পুনরায় তার বাসায় ফিরে আসে? তিউনিসিয়ার ভুমধ্যসাগরীয় উপকুলে কৃষœ মরুভুমির একজাতীয় পিপড়া বসবাস করে। তারা তাদের বাসা এখানেই তৈরী করে।
এই বিশাল মরুভুমিতে পিপড়াগুলি খুব ভাল করেই তাদের পথ খুজে পায় এবং কোন কম্পাস অথবা ম্যাপের সাহায্য ছাড়াই তাদের বাসায় পুনরায় ফিরে যায়। মরুভুমিতে সুর্য উদয়ের সাথে সাথে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং সর্বোাচ্চ তাপমাত্রা হতে পারে ৭০“ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। পিপড়াগুলো এই তাপমাত্রার মধ্যেই তাদের খাবার খুজতে বের হয়। ঘনঘন দাড়ানো এবং কিছুক্ষন পরপর ডানে বামে মোড় নিয়ে অসামন্জস্যপুর্ন চলাচল করতে থাকে। এভাবে তারা তাদের বাসা থেকে ২০০ মি ( ৬৫৫ ফিট) পর্যন্ত দুরে চলে আসে।
আপনি তাদের এই পথকে ম্যাপের মত দেখতে পাবেন। কিন্তু ভাববেননা তারা এই আকাবাকা পথে হারিয়ে যাবে। যখনই একটি পিপড়া খাদ্যের সন্ধান পায় তখন সেখান থেকে সোজা বরাবর একটি পথে বাসায় চলে আসে।
এখানে যদি আমরা পিপড়ার দৈহিক অনুপাতে মানুষের সাথে তুলনা করি তাহলে এ কথা বলা যায় যে, একটি মানুষ মরুভুমিতে একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ৩৫- ৪০ কিমি পর্যন্ত আকাবাকা পথে ভ্রমন করল এবং পুনরায় ৩৫- ৪০ কিমি দুর থেকে সোজা বরাবর তার ভ্রমন শুরুর স্থানে এসে আবার উপস্থিত হয়। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে একজন মানুষের পক্ষে এই কাজটি কোন যন্ত্রর সাহায্য ছাড়া সফলভাবে করা অসম্ভব। কিন্তু পিপড়া কি অসাধারন ভাবে এই কাজটি সফল করে।
বিষয়টি কিন্তু এমন নয় যে, পিপড়া কোন বস্তুকে দিক নির্দেশনার জন্য ব্যবহার করছে। পথ চিনতে সাহায্য করে এমন কিছু নিদর্শন যেমন, গাছ, নদী, পাথর, লেক, কিন্তু মরুভুমিতে এইগুলি খুজে পাওয়া খুবই দুস্প্রাপ্য। চারিদিকে শুধু বালি আর বালি। কিন্তু তারপরও যদি ধরে নেই এসব জিনিস মরুভুমিতে আছে কিন্তু তারপরও একটি পিপড়ার পক্ষে এগুলো মনে রেখে পথ খুজে পাওয়া অসম্ভব। আমরা নিশ্চয় বুঝতে পারছি পিপড়ার দিক খুজে পাওয়ার দিকটি কত আশ্চর্য! পিপড়া তার দেহের এক বিশেষ ধরনের কাঠামোর কারনেই এই কাজটি সহজেই করতে পারে।
পিপড়ার চোখে এক বিশেষ ধরনের দিক নির্দেশনা সিস্টেম তৈরী করা হয়েছে। তাদের চোখে আল্লাহর তৈরী এই বিশেষ সিস্টেমটি মানুষের তৈরী যে কোন আধুনিক দিক নির্দেশনা যন্ত্রের চেয়েও উন্নত।
পিপড়া আলোর এক বিশেষ ধরনের রে অনুভব করে যেই রে টা বলে দেয় উত্তর এবং দক্ষিণ দিক কোনটা। এই বিশেষ যোগ্যতার কারনে সে তার বাসা খুব সহজেই খুজে পায়। মানুষ অনেক পরে আলোর এই বিশেষ গুনটাকে আবিষ্কার করেছে।
অথচ পিপড়া তার জন্মের শুরু থেকেই আলোর এই বিশেষ গুনকে কাজে লাগিয়ে আসছে। যা ছিল আমাদের সম্পুর্ন অগোচরে। অবশ্যই আমরা বলতে পারিনা এই পারফেক্ট কাঠামোটি একটি কাকতালীয় ব্যাপার। পিপড়ার অস্তিত্ব আসার পর থেকেই এই গুনটি তাদের বেচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যক ছিল। অন্যথায় এই প্রচন্ড গরমের মাঝে তারা বাসায় ফিরে যেতে পারতোনা এবং বেচেও থাকতে পারতো না। অবশ্যই মরুভুমির পিপড়াগুলির চোখে এই চমৎকার ক্ষমতাটি তাদের আবির্ভাবের শুরু থেকেই তৈরী করে দেয়া হয়েছে। সর্বজ্ঞানী আল্লাহ তাদের জন্য এই চোখ সৃষ্টি করেছেন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.