নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভ্রমন করতে ভালবাসি আর মাঝে মাঝে কবিতা লেখতে ভাল লাগে।

সবুজের ইবনে বতুতা

আমি ভ্রমন প্রিয় মানুষ, নতুন জায়গা ও নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে বেশ ভাল লাগে। সবুজে বেশ ভক্ত আমি।

সবুজের ইবনে বতুতা › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঈদ স্মৃতি

১৫ ই জুন, ২০১৮ ভোর ৫:৪৭

আজ থেকে ১৫/২০ বছর আগে নদীভাঙ্গনের কারনে বেশ কিছু পরিবার নদীর ৪/৫ কিমি পূর্বে একটি গ্রামে নতুন বাড়ি করি। সেসময় কারও সাথে তেমন পরিচয় ছিল না, ছিলনা তেমন সখ্যতাও। দিন যেতে যেতে আমরা বেশকিছু দামাল ছেলে একসাথে হই, এবং ধীরে ধীরে সখ্যতাও বাড়তে থাকে। একসাথে নদীতে গোসল করা, মাছ ধরা, ফুটবল খেলা ইত্যাদি হাজারো দস্যিপনায় আমরা মেতে থাকতাম। পরে সেই সখ্যতা রুপ নেয় বন্ধুত্বে।

আমরা একসাথে কখনো ক্রিকেট খেলি, বিরান মাঠে চড়ুইভাতি, বিলের জলে হাবুুডুবু খাই ইত্যাদি আরও নানা রকম আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকতাম। আমি তখন ক্লাস সেভেন শেষ করে ক্লাস এইটে উঠব, সেই সময় ঘটল ছন্দ পতন। পড়ালেখার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসতে হলো আমাকে। ওরা থেকে গেল গ্রামে। মেতে থাকল গ্রামের দস্যিপনায়। আমি ঢাকা থেকে শৈশবের ঐ দিন গুলোকে মিস করতে থাকলাম।

বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে, ঈদে ও বিশেষ কোন কাজে আমি গ্রামে যেতাম। তাদের সাথে ক্রিকেট খেলতাম, সময় পেলেই তাদের সাথে মাছ ধরতে যেতাম,সবাই দলবেধে ক্ষেতের আখ চুরি করতাম। ৪/৫ দিন গ্রামের থাকার পর বাধ্য হয়েই ঢাকায় চলে আসতে হতো,মন টা বেশ খারাপ হয়ে যেতো! এভাবেই কাটতে থাকল বেশ কিছু দিন।

তারপর, প্রত্যেক ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়া হতো। বিশেষ করে ঈদুল ফিতর এর কথা বেশ মনে পড়ে। স্কুল বন্ধ দিত ২২/২৩ রমজানে। পরদিনই বাড়ির দিকে রওয়ানা হই। রমজানের ইফতারি থেকে শুরু করে সেহরী পর্যন্ত আমাদের সময় বেশ ভাল কাটত। সবাই মসজিদে ইফতার করতাম। তারাবিহ নামাজ একসাথে পড়তাম, সেহরির সময় দলবেধে পাড়ার সকলকে ডাকতাম, এরপর ফজর নামাজ পড়ে নদীর পাড়দিয়ে হাটাহাটি করতাম। মাঝে মাঝে মামার সাথে কুরআনের আয়াত মুখস্থ করতাম। দুজনে প্রতিযোগিতা করতাম কে আগে মুখস্থ করতে পারে। মামা ছিল মাদ্রাসার স্টুডেন্ট, তাই তার সাথে পারতাম না।

এরপর চাঁদ রাতে আমরা কবি নজরুলের “ও মোর রমজানের ঐ রোজার শেষে” এই গান সমবেত কন্ঠে গাইতাম। আমরা সবাই সুর ধরে গান করতাম, মামা লিড দিত। মামা গানের বেশ ভক্ত ছিল। আর খুটিনাটি অনেক বিষয়ে তার কাছে সঠিক তথ্য পাওয়া যেত। আমি, আমার খালাতো ভাই ও আরও বন্ধু মিলে যত মজা হতো সব মামার সাথেই হতো। ঈদের নামাজ শেষে সবাই মিলে কোমল পানীয় পান করা আমাদের রেওয়াজ ছিল। সে সময় মামার সঙ্গ পেতে আমি খুবই চাইতাম। কিন্তু আমাকে ঈদের ছুটির পর আবার ঢাকায় চলে আসতে হতো। মধুরেন সমাপয়েৎ, পরিদিন আমি ঢাকায়, মন আসতে চাইতো না। কিন্তু করার কিছু ছিল না।

এরপর মামা এইচ এসসি পাশ করে রাজশাহীতে ভর্তি হলো, খালাতো ভাই চলে এলো ঢাকায়, বন্ধু সে চলে গেলো রংপুর, আরও বন্ধুরা কেউ চলে গেল সিলেট কেউ বা পাশের শহরে। এই তখন থেকে আমরা সবাই যার যার মতো হয়ে গেলাম। শুধুমাত্র ঈদে দেখা হতো। এখন, সবাই বিবাহিত। মামা থাকে চায়নায়, খালাতো ভাই চাকরী/ব্যবসা নিয়ে বেশ ব্যস্ত, বন্ধু সে এখন সরকারী চাকুরীজীবি, আর আমিতো চাকরী ও সংসার নিয়ে দম ফেলানোর সময় নাই। এবার পারিবারিক কারনে ঈদ করতে গ্রামে যেতে পারলাম না। বাবা মায়ের সাথে ঈদ টাও করা হলো না।

আগে ওদের সাথে সবসয় যোগাযোগ হতো, আর এখন তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে যোগাযোগ মাধ্যম সহজ হবার ফলেও কেউ আর কাউকে কল তো করেই না, কোন মেসেজ ও করার সময় নাই। ঈদ শুভেচ্ছা তো ফেসবুকের পাতায় পাতায়। এভাবে এতো স্বল্প সময়ে এতো দুরে চলে যাব চিন্তা করতে খেই হারিয়ে ফেলি।

তাই, মান্নাদে’র ঐ গান টা বেশ মনে পড়ে, “কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী দিন গুলো আজ আর নেই...”

যাইহোক, যে যেখানে থাকুক না কেন সবার ঈদ ভাল কাটুক। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।
ঈদ মোবারক!!!

মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫১

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আপনার লেখা ভা‌লো লে‌গে‌ছে। আ‌রো লিখুন।

০৭ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:৫৯

সবুজের ইবনে বতুতা বলেছেন: ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.