নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নানা দেশ কত কথা

শোভন শামস

আমার দেখা নানা দেশের কথা সবার জন্য - পাঠকের ভাল লাগাতেই আনন্দ

শোভন শামস › বিস্তারিত পোস্টঃ

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন রকমের খারাপ তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আপনি কি অনেকের সাথে যোগাযোগ রাখেন। পরিচয় জানতে চাইলাম কিছু তথ্য দিল, মনে হল দেখি কি বলে। বললাম কি করা যায়। জানালো যে আপনার ব্যাংকের একাউন্টে দুইটা বেনিফিসিয়ারি নাম্বার থেকে আপনার নাম্বার হ্যাক হয়েছে এই নাম্বার গুলো একটা একটা করে ডিলিট করতে হবে। একটা ঢাকা ও একটা কুমিল্লা থেকে। কিভাবে সেগুলো বাতিল করতে হবে বলায়, জানালো আপনি আপনার একাউন্টে ঢুকে আমার কথা মত কাজ করলে তা ডিলিট হবে। একাউন্টে গেলাম, সেই সময় আমার বেনিফিসিয়ারির একটা ফলস লিস্ট ও দুটো অপরিচিত নাম্বার আমার মোবাইলে রিয়েল টাইম ছবির মাধ্যমে হাকার দেখালো। আমাকে আমার একাউন্টে গিয়ে টাকার জায়গায় একটা সংখ্যা টাইপ করতে বলল। পরের লাইনে গিফট লিখতে বলল। তারপর বলল সেন্ড করতে। জানালাম টাকা তো একাউন্ট থেকে চলে যাবে। বলল আবার ফেরত দেয়া হবে, এগুলো তাদের সার্ভারে থাকবে। এই ফাঁকে একাউন্ট থেকে টাকা চলে গেল। আবার বলল আরেকটা আছে একই ভাবে এটাকে ও ডিলিট করতে হবে। জানালাম আগের টাকার কি হবে, বলে পাঠিয়ে দিব। এরপর টাকা না থাকায় এইবার তা গেল না।আমার খটকা লাগছে তখন। তখন বলল আপনার বিকাশ থেকে পাঠান। আমার বিকাশে টাকা নেই, বলল এখনি তা ডিলিট করতে হবে কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে পাঠান। আর এই নাম্বারে আপনার ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার দিন। একটু দেরিতে হলেও বুঝে গেলাম প্রতারকের কবলে পড়েছি। আবার রিং করল, বলল আপনার একাউন্ট নাম্বার তো দিলেন না, আমি বললাম এই নাম্বারে মেসেজ যায় না। বলল টেক্সট করেন। বললাম আগের টাকা কই। বিকাশ করে দিচ্ছে জানাল, আর বলল দুই ঘণ্টা ফোন অফ রাখবেন। তারপর টাকা পেয়ে যাবেন। ফোন অফ না করে কিছু কিছু জায়গায় এই তথ্য দিলাম। একটু পর থেকেই একটার পর একটা ফোন। সবাই জানাচ্ছে আমার নাম্বার থেকে টাকা চাচ্ছে, দুই ঘণ্টা ধরে সব কন্টাক্ট থেকে রিং স্রোতের মত আসছেই। এর মাঝে মোবাইল ব্যাংকিং আপ বন্ধ করে দিলাম। হোয়াটসআপ এ ঢুকতে পাড়ছিলাম না। আমার সব কিছু শেয়ার হচ্ছিল মজিলা ফায়ার ফক্স একটা আপ থেকে। সেটা ডিলিট করলাম। অনেক গুলো কন্টাক্ট অটো ব্লক ও আর্কাইভ হয়ে আছে। মেসেজ পাঠাতে পারছি না। দুই ঘণ্টা চরম ঝামেলার মধ্যে দিয়ে কাটল। টাকা ও চলে গেছে, টাকা কম থাকায় বাকী টুকু যায়নি। বেশ বড় দা মারার প্লান ছিল। প্রতারক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, ফোন ক্লোন করেছে, ফোনের ক্যামেরা দিয়ে রিয়েল টাইম মুভ দেখেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভয়েস সিন্থেসাইজ করে টাকার কথা বলেছে যারা বিকাশ নাম্বার চেয়েছে।
এরপর থানায় গেলাম জি ডি করতে। সেখানে জানতে পারলাম এ ধরনের ঘটনা এখন প্রায় ঘটছে, লাখ লাখ টাকা প্রতারকের নানা ধরনের নতুন নতুন কৌশলের কাছে মানুষ হার মেনে দিয়ে দিচ্ছে।
সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবাই ভাল থাকবেন।
একটি সতর্কতা মুলক পোষ্ট।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫৬

নূর আলম হিরণ বলেছেন: এটা অভিনব কৌশল মনে হলো আপনার! যখন টাকার ঘরে সংখ্যা লিখতে বললো আর রেফারেন্স gift লিখতে বললো আপনি লিখে সেন্ড করে দিলেন! এটা অভিনব না, এমন কৌশলে কেউ এখন ধরা খায় না আপনি খেলেন।
এখন আরো ইউনিক কৌশলে এসব করছে অনেক কুচক্রী মহল। আপনাকে খুবই নরমাল একটা কৌশলে বোকা বানিয়ে দিয়েছে তারা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.