| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া
জানতে চাই, জানাতে চাই এবং নিজের ধ্যান-ধারনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই।
দিনে দিনে আমরা কেমন জানি অসহিষ্ণু এবং বেপরোয়া হয়ে উঠছি। কেউ কারো মত সহ্য করতে পারছি না। সবাই এক অদ্ভুত ধরনের মুখোশ পড়ে আছি। আমাদের সব কিছুই চলে গেছে Extreme level এ। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে নিঃশেষ করে দিতে চায়। সব পক্ষই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানে সর্বদা ব্যতিব্যস্ত। এর জন্যে প্রয়োজনে আগ্রাসী ভুমিকা নিতেও পিছপা হচ্ছি না। বিশেষ করে আজ থেকে ৫ বছর আগেও সমাজিক প্রেক্ষাপট এই রকম ছিল না। বর্তমানে ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার হওয়ায় আমাদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত মতামত ও বিশ্বাস আমরা খুব সহজেই ব্লগ কিংবা Social network এ প্রকাশ করতে পারছি। সমস্যা হল, মত প্রকাশ করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় নিজেদের নিরপেক্ষতাকে ধরে রাখতে পারছি না, নানান ভাবে সেটা নিজের মতের সাথে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তা রাজনৈতিকভাবেই হোক, ধর্মীয়ভাবেই হোক কিংবা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের দিক থেকে হোক।
আমাদের নিজেদের মধ্যে বিভক্তি এখন চরম আকার ধারন করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধর্মীয় দল-উপদলের মধ্যে চরমপন্থা এখন প্রকট আকার ধারন করেছে। হতে পারে তা বিভিন্ন দেশে চলমান মুসলিম চরমপন্থা, ভারতের হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থা, মায়ানমারের বুদ্ধিস্ট চরমপন্থা কিংবা ইহুদি-খ্রিস্টান চরমপন্থা। ধর্মীয় চরমপন্থা কোন ধর্মেরই সঠিক পরিচয় বহন করে না, বরং তা নিজ নিজ ধর্মকেই প্রতিনিয়ত কলুষিত করছে। সময়ে অসময়ে আন্তঃধর্মীয় বিরোধ বাদেও আবার ইসলাম ধর্মের মধ্যে সুন্নি, ওয়াহাবি, শিয়া, জামাতি, বিভিন্ন মাজারপন্থী, বিভিন্ন পীরপন্থী, তাবলিগ, আহলে হাদিস, সালাফী, জিহাদী ইত্যাদি নানান দল-উপদলে বিভক্তি প্রচলিত আছে। এরকম বিভক্তি অন্যান্য ধর্মের মধ্যেও দেখা যায়। এদের সব দলই নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে থাকে। এরপর আবার আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-উপদলে নিজেদের বিভক্তি, তারপর আঞ্চলিক বিভক্তি, সামাজিক বিভক্তি, আস্তিক-নাস্তিক বিভক্তি, আরও কত কি। একটি দেশে যখন এত বিভক্তি প্রকাশ্য আকার ধারন করে, তখন তা জাতি হিসেবে আমাদের অগ্রযাত্রাকে মারাত্নকভাবে ব্যহত করবে। দেশ ও জাতীয় স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারব না। সহিংসতার মাত্রা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে।
তবে আমার মতে, আমরা একটি সামাজিক পট পরিবর্তনের Transition period এ আছি। এই Period এর পর হয়ত সামাজিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে যেতে পারে। ভিন্নমত সহ্য করার পটভূমি তৈরী হতে পারে।আমার মনে হয়, সব সমাজই এভাবে ধাক্কা খেতে খেতে বিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যেতে থাকে। সমাজের মধ্যে বিভিন্ন সময় নতুন নতুন ইস্যু আসতে থাকবে, আর তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে তা নতুন একটি রূপ পাবে। সবার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার মানসিকতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়তে থাকবে।
আমি আশাবাদি মানুষ। আশা করি আমরা ভবিষ্যতে সমস্ত বিভক্তির উর্ধে থেকে নিজেদের উন্নত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।
০৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৯
মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেছেন: তবুও স্বপ্ন দেখি, একদিন সমস্ত বৈরীতার অবসান ঘটবে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:২৩
চাঁদগাজী বলেছেন:
জমির তুলনায় মানুষ বেশী, শিক্ষা নেই, সম্পদ দখল, বিচারহীনতা ও জাতির কোন স্বপ্ন নেই।