নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

.

মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া

জানতে চাই, জানাতে চাই এবং নিজের ধ্যান-ধারনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই।

মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার স্বাত্যন্ত্রতা

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৪২

আমরা কেউ নিজের মত হতে চাই না। পরের মত হতে চাই। পরের মত হতে গিয়ে আমাদের নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলি। একজন প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবি বা ব্যবসায়ীকে অনুকরন অনুসরন করাটা দোষের কিছু নয়। আমাদের প্রত্যেকের মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তায় স্বাত্যন্ত্রতা আছে। এই মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার একক স্বতন্ত্র বিন্যাসে আমরা এক একজন স্বতন্ত্র মানুষ। আমার মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার বিন্যাস যদি আমার অনুকরনীয় ব্যক্তির চেয়ে ভাল হয়, তবে আমিও তার মত বা তার চেয়ে বেশি সফলতা বা দক্ষতা অর্জন করতে পারি। কাছাকাছি মানের হলে চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থা উন্নতির মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌছাতে পারি।

সমস্যা হয় যখন আমরা অনেক সময় নিজের মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার বিন্যাস বিবেচনা না করে এমন কারো মত হতে চাই যে তার মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তাকে নিজের পেশায় আমার চেয়ে বেশি ব্যবহার করতে সক্ষম। তার মত হতে গিয়ে যখন ব্যর্থ হই, তখন জীবনে হতাশা চলে আসে। অহেতুক চাহিদা প্রত্যাশা বাড়িয়ে নিজের জীবনকে গুলিয়ে ফেলি। তবে এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম ও আছে, যারা চেষ্টার জোরে অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম হয়েছে।

আসল কথা হচ্ছে আমরা প্রত্যেকে নিজের মেধাশক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও ধীশক্তির বিন্যাসে এক একজন স্বতন্ত্র মানুষ। আমার স্বাত্যন্ত্রতা অনুযায়ী আমার জন্যে হয়ত এমন কিছু পেশা আছে যেখানে আমি আমার মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে পারি। কিন্তু পরের মত হতে গিয়ে আমরা নিজেদের সেই সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে ফেলি। উল্টো নিজেদেরকে হতাশায় নিমজ্জিত করি।

রাজনীতিবিদ, গবেষক-বিজ্ঞানী, কবি-সাহিত্যিক,খেলোয়ার, বহুজাতীক শিল্পপতি, ডিটেকটিভ, সৈনিক বা বিভিন্ন পেশার কথাই ধরা যাক, এখানে প্রত্যেকটি পেশা তার নিজস্ব আঙ্গিকে স্বতন্ত্র। এক পেশার সাথে অন্য পেশার যেমন মৌলিকভাবে কোন মিল নেই, তেমনি এ সমস্ত পেশার বিভিন্ন সফল পেশাজীবিদের মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার গুনেও আছে বিস্তর ফারাক। তবে অনেক সময় একই ব্যক্তির মধ্যে কয়েকটি পেশার গুন থাকতে পারে। সাকিব আল হাসানকে যদি তার পিতা-মাতা জোর করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানানোর জন্যে চাপ দিত, তার পক্ষে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সম্ভব হত কিনা জানি না, তবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ক্রিকেটার হওয়া কখনই সম্ভব হত না।

তাই পরের মত হতে চাওয়ার বাসনা বাদ দিয়ে আমাদেরকে নিজের স্বাত্যন্ত্রতা বিচার করে পেশাগত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:১৭

রক্তিম দিগন্ত বলেছেন: কথাগুলো সত্য বলেছেন। আমাদের মাঝে একটা প্রবণতা আছে, অন্যের মত হতে চাওয়ার। সেটাও আবার শুধু বিখ্যাত ব্যক্তিদের মত হতে চাওয়ারই। কারো মাঝেই আমি একজন সাধারণ মানুষের মত হতে চাওয়ার লক্ষণ দেখিনি।

আর নিজের মত করে বড় হয়ে উঠতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা নেই বললেই চলে। সবসময়ই অন্যের মত চাওয়ার কারণে নিজেদের উপর একটা চাপ পড়ে যায়। এতে ফলস্বরূপ দেখা যায়, আমরা কেউ ই হতে পারি না। স্বকীয়তা হারিয়ে হয়ে যাই মেরুদন্ডহীন মানুষ। যার পরবর্তীতে সামর্থ্যও থাকে না নিজের পায়ে ভর করে দাঁড়ানোরও।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৯

মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেছেন: "অন্যের মত" হতে চাওয়ার জন্যে পারিবারিক চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। সবসময় নিজের সামনে অন্যের তুলনা করলে নিজেকে হেয় মনে হয়। ফলস্বরুপ পরিবার বা আত্নীয়-স্বজনের চাহিদার চাপে নিজের স্বপ্ন বিলীন হয়ে যায়। নিজের মত আর হয়ে উঠা হয় না।

২| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:২৩

অনিন্দ নিন্দা বলেছেন: আমাদের পারিবারিক শিক্ষাই হলো অপরকে /গুরুজনকে অনুসরন করার পক্ষে । ছেলে বেলা থেকে বলা হয় মুরুব্বী যেটা বলছে সেটা বিনা বাক্যে মেনে নেয়াই মার্জিত আচরন । আমরা যে একজন সতন্ত্র মানুষ সে বোধ আমাদের বাল্যবেলাতেই ভেঙে দেয়া হয়।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৩

মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেছেন: ঠিক বলেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.