| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া
জানতে চাই, জানাতে চাই এবং নিজের ধ্যান-ধারনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই।
বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে গর্ব করার মত অনেক অর্জন যেমন রয়েছে, তেমনি আছে অনেক চিকিৎসক, হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। আছে মানুষের রোগ-ব্যধিকে কিছু হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ব্যবসায়িক পণ্য বানানোর অভিযোগ। রোগীদের সাথে কিছু ডাক্তারদের ভদ্র ও নম্র ব্যবহারের পরিবর্তে অভদ্র ও অশালীন আচরণের অভিযোগ। একজন অসুস্থ রোগী ডাক্তারের নম্র ও সহযোগিতামূলক কথাবার্তায় ও আচরনে সাময়িকভাবে কিছুটা হলেও শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অনুভব করতে পারেন। ডাক্তারের আচরন যদি অভদ্র ও অসহযোগিতামূলক হয়, তা রোগীকে আরও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ও মানসিকভাবে অসুস্থ করে তোলে। ডাক্তারের ব্যক্তিগত টেনশন বা কাজের চাপের প্রতিক্রিয়া কোনভাবেই রোগীর উপর প্রতিফলিত হওয়া কাম্য নয়। ডাক্তারী পেশা হাজার বছর ধরে আদর্শ পেশা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
কিছু হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার সুনামের সাথে রোগীদের সেবা দিয়ে আসছে, অনেক জটিল জটিল অপারেশন সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করছে, যদিও অনেক ক্ষেত্রে তা যথেষ্ঠ ব্যয়বহুল। আবার অনেক হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আছে ব্যবসায়িক ধান্ধা ও প্রতারনার অভিযোগ, ভূল চিকিৎসা ও ল্যাব টেস্টে ভুল রিপোর্টের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের বিলের অভিযোগ, যা বিভিন্ন সময় গনমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। মানুষের রোগ-বালাই তাদের কাছে যেন নিছক পন্য ব্যতীত আর কিছুই নয়।
আমাদের দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যয় এখনও দেশের জনগণের বিশাল একটি অংশের সাধ্যের নাগালের বাইরে। সরকারী হাসপাতালগুলোতে খরচ তুলনামূলকভাবে কম হলেও সেবার মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। সেজন্যে অনেকে সাধ্যের বাইরে হলেও প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী, যা তাদের একটি অংশকে দুর্ণীতি ও অসদুপায় অবলম্বন করতে বাধ্য করে। কারন, কেউ তার প্রিয়জনকে চিকিৎসার অভাবে হারাতে চায় না। প্রিয়জনের সুচিকিৎসার জন্যে সে শত দুর্ণীতি করে হলেও টাকা যোগাড় করবেই।
আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে সরকারী উদ্যােগে বা বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহজ মাসিক কিস্তিতে বীমা চালু করতে পারে, যা মোটামুটি সবাই বহন করতে পারবে। উন্নত দেশসমুহে এরকম একটি ব্যবস্থা অনেক আগে থেকেই চালু আছে, যদিও তাদের আয়ের সাথে আমাদের আয় সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তবে সরকার যদি এ ধরনের কিছু উদ্যােগ নিতে পারে তাহলে ভালই হবে, যাতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অভাবে কোন কষ্ট ভোগ করতে না হয়। আর সরকারী হাসপাতালগুলোর সেবার মান ও রোগী ধারন ক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে, পদে পদে ঘুষ-দূর্ণীতির সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে, কারন নিম্ন আয়ের সাধারন জনগনের জন্যে সরকারী হাসপাতালই শেষ ভরসা।
পরিশেষে বলতে চাই, রোগ-বালাই নিয়ে ব্যবসায়ীক ধান্ধা বন্ধ হোক, রাষ্ট্রের সকল শ্রেনী-পেশার নাগরিকের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক।
০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:১২
মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেছেন: তা সম্ভব করতে পারলে তো ভালই হয়। মৌলিক চাহিদা নিয়ে কোন ধরনের ব্যবসায়ীক ধান্ধা কাম্য নয়, বিলাসী পণ্য বা সেবা নিয়ে যতখুশি বাণিজ্য চলুক।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:০৪
চাঁদগাজী বলেছেন:
মানুষকে 'সামাজিক ব্যবসায়' নামতে হবে, যেখানে হাসপাতাল ও ইুনিভার্সিটির মালিক হবে জনতা।