| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কবি কাজী
জন্ম হতে এখনো আমি অতৃপ্ত, কবে আমি তৃপ্ত হব- সন্দিহান আজও। তবে আশা ছাড়িনি। পড়ালেখা করছি, চালিয়ে যেতে চাই ভালোমতোই। আল্লাহর উপর সম্পূর্ণরূপে আস্থাশীল। গিটার বাজাতে ভালোবাসি। Still finding satisfaction. When I"ll get it, I don't know. But, I don't loose hope. Besides, I wanna do study well. Hope Allah will help me.
রাইন এর যখন প্রচন্ড রকমের মন খারাপ হয় সে তখন খুব করে হুমায়ূন স্যারের বই পড়ে মনের সব কষ্টকে দূর করার জন্য।
তিনিই একমাত্র লেখক যার লেখাগুলো রাইন খুব গভীর হতে উপলব্ধি করতে পারে।
হুমায়ূন স্যার যেন রাইনের জন্যই সব লিখা লিখেছে এমনটা তার মনে হয়।
আজ রাইনের খুব মন খারাপ সে সন্ধ্যা থেকেই রুমের দরজা বন্ধ করে স্যারের লেখা হিমু চরিত্রের বই পড়ছে।
রাইনের স্বপ্নের পুরুষ হল হিমু।রাইন মাঝে মাঝে নিজেকে যেন হিমুর মাঝে খুঁজে পায়।
রাইন রাঁত এগারটায় বই পড়া শেষ করে রাস্তায় বেরিয়ে এল।শীতের রাঁতে সব কিছু নিস্তব্ধ,রাস্তায় তেমন একটা লোকজন নেই।ফুটপাতে কয়েকজন পথমানুষ ঘুমানোর বন্দোবস্ত করছে।
রাইন খালি পায়ে বের হয়েছে ঠিকই কিন্তু হলুদ পান্জাবি তার পড়া হয়নি।
হলুদ পান্জাবি ছাড়া আসলে নিজেকে হিমু মনে হয় না।তাই রাইন মার্কেটে গিয়ে সাতশ টাকায় একটা হলুদ পান্জাবি কিনল।হলুদ পান্জাবির পকেট থাকলেও কিন্তু নিজেকে হিমু ভাবা যায় না।
সোজা দর্জির কাছে গিয়ে পান্জাবির পকেটগুলো সেলাই করে পকেটবিহীন পান্জাবিটা গাঁয়ে দিয়ে উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাঁটা শুরু করল।হিমুর হাঁটার কোন গন্ত্যব থাকে না।রাইনের ও কোন গন্ত্যব নেই।
রাস্তায় যদিও কয়েকজন মানুষ দেখা যাচ্ছে তারা রাইনের দিকে অবাক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে।
রাইন যখনই নিজেকে হিমুরূপে পুরোপুরি আবিষ্কার করল।হঠাত্ তখনই রাইন পেছন হতে চিত্কার শুনতে পায় যে কেউ একজন তাকে ডাকছে হিমালয় হিমালয় . . . .
রাইন পেছন ফিরে দেখতেই খুব আশ্চর্যিত হল।সে তখন চিন্তা করছে এটাও কি সম্ভব,আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাতো।
পরমুহূর্তেই রাইন নিজেকে হিমুর স্রষ্টা হুমায়ূন স্যারের সামনে নিজেকে আবিষ্কার করল।
স্যার রাইনকে মার্কেট থেকেই নোটিস করে তার পেছন পেছন হাঁটছিল। দুনিয়া কি বিচিত্র রাঁতের আধারে রাইন এবং স্যারের অদ্ভূত মিলন ঘটাল।রাইন খুব কাছ থেকেই হিমু ও হিমুর স্রষ্টা দুটো মানুষকেই একজনের মাঝে দেখতে পেল যারা দুজনই আসলে হুমায়ূন স্যারের ভেতরে বাস করে।
আর তিনিই সে স্বপ্নের কারিগর যিনি সাদাসিধে এই রাইনকে হিমুর দ্বারা এক অসাধারন জীবন দিয়ে গেছেন।
সে রাঁতে স্যার তার চরিত্রের হিমুর হাঁটার সঙ্গী হয়েছিল।
কিন্তু আজ স্যার তার চরিত্রের হিমুকে একা করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সেখানে হিমু আজও একলা হাঁটে তার স্বপ্নের স্রষ্টাকে চিরতরে হারিয়ে।
©somewhere in net ltd.