| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কবি সাহেব
নিজের সম্পর্কে লেখার মত বিশেষ কিছুই নাই
এটাও আমার ছোটবেলার একটা ঘটনা। এ ঘটনাও আমার কোন এক কাজিনকে সাথে নিয়েই কিন্তু সঠিক ভাবে মনে পড়ছে না ঠিক কাকে নিয়ে। তো আপনাদের আর বিরক্ত না করে আসল ঘটনায় আসি। আমার তখন কত বয়স সেটা খেয়াল নেই, তবে বেশি হবে না কারণ তাহলে আর এই ঘটনা ঘটত না। আমি ছোটবেলা থেকেই বই পরার পোকা, আমাকে প্রতি মাসে নতুন নতুন বই কিনে না দিলে কান্নাকাটি শুরু করে দিতাম। আমাদের ফ্যামিলী এর সবাই বই পড়তে ভালবাসত তাই আমার বই পেতে কোন সমস্যা হত না। ডিসেম্বর মাস, আমার কাজিন এসেছে বেড়াতে শীতের ছুটিতে দুজনে মিলে কয়েকদিন এটাসেটা করে মজা করার পর এখন কি করা যায় বুঝতেছিলাম না। বলে রাখা ভালো আমার মেজকাকুর একটা ব্যাক্তিগত লাইব্রেরী ছিল যেটাতে শুধু নাকি বড়দের বই সেকারণে আমাদের পিচ্চিদের পড়া নিষেধ। তো আমাদের দুজনের মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চাপল , আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম মেজ কাকু বাইরে বেরিয়ে গেলে উনার ঘরে হানা দিব, দেখব বড়দের বইয়ে কি এমন লেখা থাকে যে আমাদের পরা মানা। যেই কথা সেই কাজ, উনি বেরিয়ে গেলে উনার ঘরে হানা দিলাম। চুপিচুপি দুজনে দুইটা বই নিয়ে আস্লাম। আমি আনলাম জুলস ভার্ন সমগ্র আর ও নিয়ে আসল সমরেশ মজুমদারের কালবেলা উপন্যাস। বলাই বাহুল্য ও অই বই পড়তে পারে নি কারণ ওই বই বুঝার মত বয়স আমাদের তখনো হয় নি। তো দুজনে জুলস ভার্ন নিয়ে বসলাম। এটাও কঠিন লাগছিল তবুও আমি হাল ছাড়ার পাত্র না, অখানে একটা গল্প দেখলাম মুক্তাশিকারিদের নিয়ে, ঝিনুক থেকে মুক্ত সংগ্রহ এর কথা আছে অখানে। এটা পড়েই আমাদের মাথায় ভুত চাপল আমরা মুক্তো শিকারে বেরুব। যেই ভাবা সেই কাজ ধানখেতের উদ্দেশ্যে মুক্তো শিকারে বেরিয়ে পড়লাম, বার্ষিক পরীক্ষা শেষ আর ক্ষেতে ধান ও নাই তাই কেউ কিছু বলল না, তবে যদি জানত আমরা কি করতে যাচ্ছি । বেরুলাম ঠিকাছে কিন্তু সমস্যা ঝিনুক পাবো কোথায় ? এখানে নদীও নাই, সাগরের তো প্রশ্নই আসে না, সবজান্তা আমি বুদ্ধি দিলাম ঝিনুক লাগবে না শামুক হলেও চলবে । আমরা এটাও জানতাম না যে শামুক কোথায় পাওয়া যায়। পাড়ার অনেক পিচ্চি হাসকে খাওয়ানোর জন্য শামুক তুলতো, ওদের কাছে আসল ঘটনা গোপন রেখে শামুক কোথায় পাওয়া যাবে জেনে নিলাম ।
আমাদের সাথে থাকার জন্য ওদের খুব আগ্রহ ছিল কিন্তু আমি ওদের সাথে নিলাম না, যদি ওরা আমাদের মুক্তোয় ভাগ বসায় ? আমরা জায়গামত গিয়ে মহা মাটি খোড়া শুরু করলাম। অনেকগুলো শামুক পাওয়ার পর ভাবলাম যথেষ্ট হয়েছে এতগুলো শামুক থেকে অন্তত একটা মুক্তো তো পাবই ভাগ্য ভাল হলে বেশিও পেতে পারি। আমরা দুজন তো সাংঘাতিক উত্তেজিত। পাব নাকি পাব না এ নিয়ে নয়, পাব যে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নাই, দু:শ্চিন্তা কয়টা পাবো সেটা নিয়ে। বাড়িতে নিয়ে এসে আমাদের বাগানে বসে ভেঙ্গে দেখতে লাগলাম কিন্তু দুর্ভাগ্য মুক্তো দুরে থাক মুক্তোর কোন নাম নিশানাও নেই।
তখন মনে পড়ল ঝিনুক এর ভিতর মুক্তো কিভাবে হয়। তাই আমরা কয়েকটা শামুকের মুখ হালকা করে খুলে বালু ঢুকিয়ে দিলাম। কোন সন্দেহ নাই বিকেল হওয়ার আগেই শামুকটা একটা মুক্তা বানিয়ে ফেলবে। সেদিন আম্মু আমার প্রিয় খাবার পোলাও রান্না করেছে। মুক্তোর চিন্তায় পোলাও এর লোভও ত্যাগ করলাম। ঘন্টা দুই-তিন পর আরো কিছু বাদরামি করে এসে বসলাম শামুকের পাশে। নাহ মুক্তোর কোন খবরই নাই। দুজন তো মহা দু:শ্চিন্তায়, এদিকে বাড়ি থেকে খেতে ডাকাডাকি করছে খাওয়ার জন্য, কিন্তু একটা মুক্তো না নিয়ে গেলে অন্যদের কাছে মুখ দেখাবো কিভাবে। হঠাত মনে হল কান জ্বলছে তাকিয়ে দেখি বড় ফুপি আমাদের দুজনের দুকানে ধরে টানাটানি করছেন। এটা মহা অন্যায় আমার কান আমার অধিকার এ জাতীয় একটা শ্লোগান দিব কিন্তু ফুপি আমার দিকে ভয়ানক চোখে তাকিয়ে আছে দেখে শ্লোগানটা মাঝপথেই গিলে ফেললাম। ফুপি আমাদের দুজনকে কান ধরে হিরহির করে টানতে টানতে বাড়ির ভিতর নিয়ে গেল। আমরা খুব একটা আশ্চর্য হলাম না কারণ ফুপির মতে আমার কান ধরে টানাটানি করা উনার পবিত্র দায়িত্ব এর মধ্যে পড়ে। আমার এমন দিন খুব কমই গেছে যে ফুপির কানেডলা খাই নি। না খেলেই মনে হত কি যেন বাদ করে গেছে। তাই বলে ভাববেন না আমি পাজির হাড্ডি ছিলাম। একবারে ধোয়া তুলসীপাতা ছিলাম সেটা বলব না তবে তুলনামূলক ভাবে শান্তশিষ্টই ছিলাম কিন্তু এমন সব বোকামি করতাম যে আমার কান না ধরে ফুপিরও উপায় থাকত না। তো ফুপি আমাকে ধরে আব্বুর কাছে নিয়ে গেলেন। কি এমন গুরুতর অপরাধ করেছি যে আব্বুর কাছে নিয়ে আসল ? অপরাধ যে গুরুতর তাতে কোন সন্দেহ নাই নইলে আব্বুর কাছে নিয়ে আসবে কেন ? কিন্তু অপরাধটা কি সেটা আমরা দুজন বহু গবেষণা করেও বের করতে পারলাম না, বিজ্ঞানী আইনস্টাইন ও যে পারতেন না এ বিষয়ে আমরা দুজন প্রায় একমতএসময় আব্বু বেরিয়ে আসলেন। আমাদের দেখেই আব্বু থ, আব্বু ডাকলেন আম্মুকে তোমার সুপুত্র এর কান্ড দেখে যাও। আমাদের তো অবস্থা খারাপ অপরাধ নিশ্চয়ই মহাগুরুতর নইলে আম্মুকে ডাকে কেন দুজনে মিলে বেঞ্চ গঠন করবে নাকি ? দুজনেই ফুপির হাত থেকে পালানোর রাস্তা খুজতেছি । কিন্তু ভাগ্য সদয় না হলে যা হয়, পালানোর আগেই আম্মু হাজির্। আম্মুর ধমক শুনতে শুনতে বুঝতে পারলাম আমাদের অপরাধ হল সাদা নতুন সোয়েটারভর্তি কালো দাগ, আর আমাদের শরীর থেকে নাকি পাঠা থেকেও বিকট গন্ধ আসছে, হাত শুকে দেখি ঘটনা সত্যি, দুর্গন্ধে হাতই খুলে ফেলতে ইচ্ছা হল। শামুক হাতিয়ে সাথে সাথে কাপড় আর হাত ধুয়ে ফেললে কিছুই হত না। কিন্তু আমরা তো জানতাম না শামুক কি চীজ ! কয়েকঘন্টা ধরে এভাবেই থাকার ফলে কাপড়ের দাগ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে নিয়েছে, আর হাতের গন্ধ কয়েকবার সাবান দিয়েও কিছু করা যায় নি।
ফলাফল:
১। আমাদের শামুকের ভিতর মুক্তো খোজার কথা একে একে পুরা মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ল আমি তো রীতিমত সেলেব্রেটি হয়ে গেলাম। আমাকে আগে সায়েন্টিস্ট বলে ডাকত, সাথে নতুন এক উপাধি যুক্ত হল শামুক সায়েন্টিস্ট।
২। বই চুরির দায়ে মেজকাকুর রাম দাবড়ানি খাওয়ার বিরল সম্মান লাভ করলাম।
৩। আমাদের দুজনের সোয়েটারই ফেলে দিতে হয়েছিল এবং আমরা তিনদিন নিজের হাতে খেতে পারিনি, হাত মুখের কাছে আসলেই বমি আসত। আর হ্যা শামুকের পেটে শেষ পর্যন্ত মুক্তো হয়েছিল কিনা সেটা আর খোজ নেই নি
২|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪৪
মাক্স বলেছেন:
![]()
snail scientist
৩|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৫৪
কবি সাহেব বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া, চেষ্টা করব নিয়মিত লিখতে। @শিব্বির আহমেদ
দু:খের কথা ভাইয়া @মাক্স
৪|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:২৬
অড়বরই বলেছেন: শামুক বিজ্ঞানীর লেখার হাত খানাও খাসা, মানতেই হচ্চে। লিখুন আছি। আমার ব্লগেও আসবেন। ধন্যবাদ।
৫|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০০
প্রিন্স হেক্টর বলেছেন: হাহাহা
ছোটবেলায় (ফোরে পড়ি) একবার পুকুরের একটা ঝিনুক থেকে মুক্তো পেয়েছিলাম, একদম ছোট সাইজের। স্কুলে নিয়ে বন্ধুদের দেখিয়েছিলাম। ফলাফল বোর্ডিংয়ের ছেলেদের দাড়া স্কুলের পুকুরের ঝিনুক শিকার।
আমার সব বন্ধুরাই মুক্তো পেয়েছিল, কাচের বোতলে সরিষার তেলে জমিয়েছিল।
মনে পড়ে গেল
+, ভাল লিখেছেন, কিপিটাপ
৬|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৩৪
কবি সাহেব বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া, অবশ্যই যাবো @অড়বরই
হা হা, ভাইয়া আপনাদের কপাল ভাল ছিল, আমাদের ভাগ্যটা অত ভালো ছিল না। শামুকগুলি ফাঁকি দিয়েছিল। @প্রিন্স হেক্টর
৭|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:১৭
আশিক মাসুম বলেছেন: হাহহা ভাল হয়েছে।
৮|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:১৭
কবি সাহেব বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া @আশিক মাসুম
৯|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৩৬
জনৈক গণ্ডমূর্খ বলেছেন: চরম লিখেছেন শামুক বিজ্ঞানী। ভালো লাগা রেখে গেলাম+++
১০|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৫২
ৎঁৎঁৎঁ বলেছেন: দারুণ লিখেছেন! মুগ্ধ হাস্যরসে মাতলাম!
![]()
শুভকামনা রইলো। আরও আরও লেখা চাই। পোস্ট প্রিয়তে।
১১|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৪০
কবি সাহেব বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া, আমাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য। @জনৈক গণ্ডমূর্খ ও ইফতি
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪১
শিব্বির আহমেদ বলেছেন: ভাল লেগেছে ।আশাকরি নিয়মিত আপনার লেখা পাব ।